পাগলিটাকে ছেঁড়ে যাবো না

পাগলিটাকে ছেঁড়ে যাবো না

পকেটে হাত দিয়ে দেখি এক টাকা ও নাই বাড়িতে এমনিতেই দুই সন্ধা খেতে দেই তাঁর উপরে যদি আবার দুপুরে খাবার জন্য টাকা চাই তাহলে ওখান থেকে ও এক সন্ধা বাদ পড়ে যাবে। আকাশের দিকে তাঁকিয়ে জোরে চিৎকার করে বলতে  ইচ্ছে করছে মা কেন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে শুনতে কী পাচ্ছো আমার কথা হ্যা আমি ভালোই আছি হয়তো দেখতেই পাচ্ছো আমি কেমন ভালো আছি জানো মা পড়ের বিয়ের পড়ে বাবা ও কেমন পড় হয়ে গেছে এই যে হ্যালো সাহরিয়া এমন আকাশের দিকে তাঁকিয়ে কী করছো। কিছু না এমনি ভাবছি দিনের বেলা তাঁরা গুলো কোথাই লুকিয়ে পড়ে একটা কে ও দেখতে পাওয়া যায় না হি হি হি। তুমি এতো হাঁসি খুঁশি কেমন করে থাকো মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার সাথে মনটা পাল্টিয়ে ফেলি।

আমার ও মনে হয় তবে  তুমি আমার মতো করে হাঁসতে পারবে না সেই জন্যই মনটা পাল্টানো সম্ভব না। আচ্ছা আমি এখন গেলাম কেমন। আরে দাঁড়াও আর একটু তো কথা বলা যেতে পারে। না না আমার একটু কাজ আছে বলেই চলে আসলাম। কথা হচ্ছিলো নীলার সাথে, ও আর আমি একই সাথে পড়ি এক দিন দিয়ে ভালই বন্ধু, তবে সে হয়তো আমাকে তাঁর থেকে বেশি কিছু ভাবে। আমি তো জানি আমি কেমন, তাই ওর সাথে তেমন কথা বলি না একটুতেই এরিয়ে চলি। আর মাঝে মাঝে আমি ভাঁবি মানুষ কতোই না অদ্ভুদ একটু কষ্ট  পেলেই ভাবে সে কতটা দুখী আর কাউকে হাঁসি মুখে দেখলেই ভাবে তাঁর মনে সুখের কোন অভাব নেই যাই হোক আমি আমার মতো করে তো সুখিই আছি দোকানে গেলাম ভাই এই দুইটা রুটি আর কলার দাম কত। ২০ টাকা। আমি যদি কালকে দেই কোন কী ক্ষতি হবে। আরে ভাই জানতো পকেটে টাকা নাই আর বাঁকী নিতে আসছে। ঠিক আছে মনে হয় আজকে না খেয়েই থাকতে হবে। গরীবের জন্য আর একটা জিনিস ফ্রি আছে সেটা হলো পানি সেটা খেয়েই হয়ে যাবে।

ক্লাসের বাহিরে একটা ব্রেঞ্চ আছে, সেখানে একা একা বসে আছি সবাই এই সময় কান্টিনে বসে বসে খাচ্ছে আমার পকেটে যেহেতু কোন টাকা নাই সেহেতু যাওয়াটা শুধু শুধু বৃথা। এমন সময় নীলা আসলো ওই এখানে একা একা কী করো। আচ্ছা কী করছি..দাঁড়াও ভেঁবে বলছি। ওহহহহহহ বসে আছো কেনো খাইছো। হুমমমমমমম মাত্র খেয়ে এসেই এখানে বসলাম। ওকে তুমি থাকো আমি ও খেয়ে আসছি। হুমমমমমমমমমমমম। ক্লাসে বসে আছি ক্লাস ও শুরু হয়ে গেছে। এমন সময় কলেজের দারোয়ান এসে বললো সাহরিয়া তোরে দেখলাম না খেয়েই বসে ছিলি এই প্যাকেটে বিরিয়ানি আছে খেয়ে নিস। দেখলাম সবাই কেমন আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে বিশেষ করে নীলা তো কেমন অবাক চোখে তাঁকাই আছে। এখানে আমি সামান্য ও অবাক হই নাই কারণ দারোয়ানটা আমাকে আগে থেকেই চিনে দারোয়ান বলছি কেনো রফিক চাচা আগে মার অফিসেই কাজ করতো সেই ছোট থেকেই আমি তাঁকে চিনি।

এর মধ্যেই ক্লাস শেষ হয়ে গেলো। ব্যাগটা ঘাঁড়ে আর বিরিয়ানির প্যাকেটটা হাতে নিয়ে চলে আসছিলাম। এমন সময় নীলা পিছনে পড়লো। ঐ তুমি না খাইছো বললা আর এই গুলো বিরিয়ানি তো গত কালের। হোক তাঁতে কী? তাঁতে কী মানে তুমি এই সব খাবে না বুঝলে। এমন সময় রফিক চাচা আসলো। ছেলেটার কপাল দেখছো মা ও যখন ছোট ছিলো তখন কে ভাবতো আর ওর কপালে এই দিন লেখা আছে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তার ছিলো আমি ওদের অফিসের দারোয়ান ছিলাম আর সেই পরিবারের ছেলে আজ দারোয়ান এর কাছে থেকে বাসি খাবার নিয়ে খাচ্ছে। রফিক চাচা তুমি চুপ করবা এই সব আবার টেনে আনছো ক্যান। তোর মা থাকলে আজ এই দিন দেখতে হতো নারে। দূর যাও তো। সাহরিয়া তাহলে সেদিন তোমার বাবার সাথে ওই মহিলাটা তোমার মা না.. (নীলা) ।  ওই মহিলা আবার মা হয় নাকি (রফিক চাচা) । আচ্ছা আমি গেলাম। ঐ সাহরিয়া দাঁড়াও না কথা আছে।

আমার কথা নাই। ওকে ঠিক আছে এখন কই যাবা। জানিনা তবে কোন একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে খেতে হবে কারণ এখন আমার খিদে লাগছে। ঠিক আছে আমি ও যাবো। কেন। এমনি। ওহহহহহহহ চলো। আচ্ছা ভালো খাবার নেই। না লাগবে না। সেদিন ওখান থেকে বাড়িতে  আসলাম ভাবলাম আব্বার কাছে থেকে গিয়ে ৫০ টাকা চাইবো। বাড়িতে এসে ফ্রেস হয়ে আব্বা একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম। হুমমমমম বল। এর মধ্যেই রান্নাঘর থেকে ঐ মহিলার আওয়াজ কানে আসলো। কী বলবি তাঁড়াতাড়ি বলে ফেল। আব্বার ভাব গতি ও তেমন ভালো লাগলো না তাই বললা না না কিছু না এমনি । কেমন হন হন করে চলে গেলে। পরেরদিন কলেজে গেলাম। আবার দুপুর বেলা ঐ ব্রেঞ্চটাতে বসে আছি নীলা ও আসলো। কী খেয়েছো। হুমমমমম। ঠিকআছে চলো আবার আমার সাথে খাবে। না না সবাই কী ভাববে আর আমি যেতে পাড়বো না। যে যাই ভাবুক তুমি চলো। না মানে তোমার কাছে ২০ টাকা হবে। কেনো। এমনি। এই নাও ধরো। ১০০০ টাকা এটা শোধ করার ক্ষমতা আমার নাই ২০ টাকা থাকলে দাও।

ওকে এই নাও ধরো। ওর টাকা নিয়ে গিয়ে কলা রুটি এনে খাচ্ছিলাম দেখি পাগলিটা ও কলা রুটি খাচ্ছে। আরে তুমি খাচ্ছো কেনো। তুমি খাচ্ছো তাই। আমি খেলেই খাবে। হুমমমমমমম। কেনো। এমনি। ওকে জানিনা নীলা কেনো এতো আমার কেয়ার করে মনে হয় আমাকে ভালবাসে তবে আমাকে ভালবাসতে যাবে কেনো আমার আছেটাই বা কী। ক্লাস শেষে বাড়িতে আসছিলাম এক দিক দিয়ে তো রোদ আর অন্য দিকে বিচ্ছিরী রকমের গরম। এমন সময় পিছনে গাড়ির হর্ন শুনে সাইটে আসলাম। দেখলাম নীলা গাড়ি থেকে নেমে আসলো। ওই এই রোদের মধ্যে কেমনে যাবা হুমমমমম কাছে তো কোন টাকা ও নাই যে রিক্সা করে যাবে। আরে না না ঠিকআছে আমার অভ্যাস আছে তো। কীসের অভ্যাস হুমমমমমমম,, দেখছো গরমে কেমন ঘেমে গেছ  আর লাল বাবু হয়ে গেছো হি হি চলো গাড়িতে ওঠো। না মানে তোমার গাড়িতে। হুমমমমম চলো। গাড়িতে উঠলাম দেখি ওর রুমালটা দিয়ে কপালটা মুছে দিচ্ছে। আচ্ছা নীলা তুমি আমাদের কলেজেই কেনো ভর্তি হলে। তুমি তো আর ও অনেক নামি দামি কলেজে ভর্তি হতে পাড়তে। কেন হও নাই।

প্রথম দিন একটা গাধাকে  ভালো লাগছিলো তাই আর অন্য কলেজে ভর্তি হই নাই.. হইছে। ওই তো ওটাই আমাদের বাসা। আমাকে এখানেই নেমে দাও। আচ্ছা ওকে। তাহলে আমি গেলাম। বাড়িতে আনলাম আর এক কাপ চা ও খেতে বলবা না হুমমম। না মানে আচ্ছা আসো। নীলাকে বাড়িতে আনলাম, দেখি মহিলাটা নেই মনে হয় ছাঁদে। নীলা শোন এইটা আমার রুম। বাহ্ ভাল তো। হুমমমম এখানে বসো চকিটা অনেক শক্ত তাই না। তুমি কী এই চকিতেই থাকো। হ্যা তুমি বসো আমি চা নিয়ে আসছি, বাহিরে যেনো আসবা না কেমন। কেন। এমনি প্লিজ। ওকে। তাঁড়াতাড়ি চা নিয়ে আসছিলাম, যেন মহিলাটা আসার আগেই সব মিনিয়ে ফেলতে পারি। চা নিয়ে আসছিলাস হঠাৎ কাপটা হাত থেকে পড়ে গেলো এর মধ্যে মহিলাটা ও চলে আসলো। হায় হায়রে.. আমার কত  শখের কাপটা ভেঁঙ্গে ফেললোরে হারামির বাচ্চা চোখে দেখিস না, চোখ কী তোর অন্ধ, আমার জীবনটা জ্বালিয়ে খেলোরে। নিজের মা তো চলে গিয়ে ভালোই করেছে, সব জ্বালা তো এখন আমার, নিজের মাকে তো খাইছিস এখন আমাকে ও খাবি।

দেখেন আমাকে যাই বলেন মাকে নিয়ে কোন কথা বলবেন না। আমার মুখে মুখে আবার তর্ক করিস হুমমমমম আজ আসুক তোর তোর, হয় এই বাড়িতে আমি থাকবো না হয় তুই। এর মধ্যে আব্বা চলে আসলো ওগো তুমি আসছো দেখো এই ডাকত আজ আমাকে মেরেই ফেলতো, চায়ে একটু চিনি কম হয়েছে তাই কাপ ভেঙ্গে ফেলেছে, আবার মুখে মুখে কথা বলছে। একদিন ধরে মানুষ করলাম আজ এই প্রতিদান দিলো আমাকে। না এই বাড়িতে আর থাকবো না, হয় আমাকে বেঁছে নাও নয়তো ওই হারামজাদা রে কী করবা তাঁড়াতাড়ি বলো। আব্বা আমার দিকে রেগে এসেই মারতে শুরু করে দিলো যা এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যা। বাহ্ বাহ্ খুব ভালো তো আপনি না নারী জাতির কলঙ্ক.. একটা ছেলের মা নেই, কই একটু আদর দিবেন, আর তাঁকেই বাড়ি থেকে বেড় করে দিচ্ছেন ছি. (নীলা)। দেখছো হারামজাদাটার তাহলে লপ্পর চপ্পর ও আছে। চুপপপপ করো ও আমার অফিসের মালিকের মেয়ে নীলা।

এবার বুঝলাম সাহরিয়া আপনাকে মহিলা বলে ডাকে কেনো ওর মতো একট ছেলে আর একটা পাবেন, ও প্রতিদিন দুপুরে না খেয়ে থাকে, তবু মুখ ফুঁটে আপনাদের বলে না যে ওর খিদে লাগে যেন ২০ টাকা করে দেন যাই হো সাহরিয়া তোমার আর এখানে থাকতে হবে না চলো। আরে মা আমি তো এমনি ওকে একটু আকটু শাষণ করি,তাই নারে এসো মা বসো, সাহরিয়া যা ফ্রেস হয়ে আয় (মহিলা)। ভালো অভিনয় পারেন তো দেখছি, আজকে এখানে যদি আমি ওখান অফিসের বসের মেয়ে হলে কী হতো ভাল করেই বুঝতে পাড়ছি। সাহরিয়া চলো। হাত ধরে টেনে নিয়ে আসলো। শোন আজকে রাতে কোন এক হোটেলে থাকবা কোন জামাকাপড় আনার দরকার নাই কালকে সব হয়ে যাবে আর একটা মেস ঠিক করে ওখানে থাকবা আমি তো পাগলিটার দিকে হা করে আছি। ওমন ভাবে তাঁকানোর কিছু নেই চলো আগে খেয়ে আসি এর পরে দুই জন রাতে পাশাপাশি হাঁটছি হা হা হা দেখলে আমাকে সবাই কত্ত আদর করে।

চুপপপপ এত্ত কষ্ট নিয়ে কেমন করে হাঁসো হুমমমমম। এমন করেই। ওই বাড়িতে কেমন করে ছিলে এতদিন আমি হলে মরেই যেতাম, তুমি না খুব ভালো। তুমি তার থেকে ও হাজার গুণে বেশি ভালো। কেনো। এই যে আমার জন্য এত সব করছো, তা একটা রামছাগল এর জন্য, কোনদিন শোধ দিতে পাড়বো কী না আল্লাহ্ জান। শোধ দিতে হবে না তো। কেনো শুনি। আমরা বন্ধু না। বন্ধু হলে তো জীবনে এমনটা করতে না তখন তোমার চলে অন্য কিছু দেখছিলাম। তাই কী দেখছো। হাতটা ধরে কাছে টেনে আনলাম, প্রথমদিন কোন গাধাটাকে ভালো লেগেছিছো শুনি। তোমাকে। জানিতো। কেনো সেটা বলো। জানিনা বলেই বুকের মধ্যে মুখ লুকালো পাগলিটা কানে মুখ লাগিয়ে বললাম আমি ও তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাগলি। হঠাৎ শক্ত করে জরিয়ে ধরলো, মনে মনে বললাম যাই হোক পাগলিটাকে কোনদিন ছেঁড়ে যাবো না।

>>সমাপ্ত<<

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত