পিচ্চি মেয়ের সাথে বিয়ে

পিচ্চি মেয়ের সাথে বিয়ে

এই ছাড়ো বলছি,,,, ছাড়ো। কেনো ছাড়বো। ছাড়বোনা।(বউ) ছাড়ো না হলে মেঝে ফেলে দিবো। ফেলে দিয়ে দেখো তো খালি আমি চিৎকার করবো।(বউ) এই পিচ্চি ছাড়।আমাকে ধরার তোর কোনো অধিকার নাই কে বলছে নাই। আমার সব অধিকার আছে আমি আমার স্বামীকে জরিয়ে ধরবো। (বউ) কে স্বামী আমি এই বিয়ে মানি না। এখন না মানার কিছু নাই এখন আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে হি হি হি।(বউ) চুপ।একদম চুপ। ছাড় আর মাঝখানের বালিশটা যেন না সরে যায় বলে দিলাম।

বউ খালি চুপচাপ শুনে যাচ্ছে। আসলে আমি কথা বলছিলাম বাসর রাতে বউয়ের সাথে।আর আমি এ বিয়ে মানি না তাই আমাদের মাঝখানে বালিশ দিয়ে দিয়েছি । এখন আমাদের দেই। আমি রিশাধ ।বাবা মার আদরের সন্তান। পড়াশুনা করে এখন আমি জব করি।আর যার রাগ করলাম,, মানে এখন আমার বউ ওর নাম ফারহানা।বাবা মার আদরের সন্তান।ফারহানা আমার থেকে ৮-৯ বছরের ছোট।ফারহানা জন্ম আমার চোখের সামনে হয়েছে।ও তেরি চোখের সামনে কেমন হবে।চোখের আড়ালে হয়েছে কিন্তু ছোটো থেকে বড় হয়েছে আমার সামনে।ফারহানা ছোটো থেকে আমাদের বাসায় থাকতো বেশি সময়। আসলে আমাদের বাসা পাশাপাশি ছিলো তাই আসতো।ছোটোতে অনেক ছোটো ছিলো।মানে স্বাভাবিক যেমন থাকে তার থেকে ছোটো। তখন আমি ফারহানার নাম দিয়েছি পিচ্চি মেয়ে।তারপর থেকে পিচ্চি বলে ডাকতাম।যখন ফারহানা ক্লাস ৬ য়ে তখন ওকে পিচ্চি বলে ডাকতাম।আর আমার সব কাজ করতে বলতাম।

ফারহানা আম্মু কে বলে দিতো আম্মু তো আমাকে অনেক বকা দিতো। কারন তার কোনো মেয়ে নাই তাই ফারহানাকে মেয়ের মতো দেখতো আম্মু যখন আমাকে বকা দিতো ফারহানা পাশে থেকে হাসতো আর আমি রেগে গিয়ে আস্তে আস্তে বলতাম তোকে পরে দেখে নিবো রে পিচ্চি।ফারহানা ভয়ে আম্মুর পিছনে লুকিয়ে যাইতো।আরআম্মু বুঝতে পারতো আবার বকা শুরু।কিন্তু হ্যা ফারহানা আমার সব কাজ করতো।এখন করো আমিও ওর কাছ থেকে খালি কাজ করে নিতাম।আমি একটা জিনিস লক্ষ করলাম ফারহানা কখনও আমাকে ভাইয়া বলে ডাকে নাই কেনো।দুর না ডাকলে নাই তাতে আমার কি।এভাবে কেটে গেলো কয়েক বছর আরআছে তিন মাস তাহলে ফারহানার এসএসসি পরীক্ষা। টেস্ট পরীক্ষা নাকি ভালো করতে পারে নাই তাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে ভালো করে পড়ানোর।মনে মনে এখন অনেক খুশি লাগছে এখন পিচ্চি কে শিক্ষা দিতে পারবো।এতদিন খুব জ্বালাইছে এবার পাইছি সোনা কোথায় যাবাফারহানা আসলো আমার কাছে পড়তে।এসে বই নিয়ে পড়তে বসলো টেবিলে।আমি গিয়ে বসলাম। ওই পিচ্চি পড়াশুনা কেমন হইতেছে। পিচ্চি বলবা না কিন্তু বলে দিলাম।(ফারহানা) পিচ্চি কে পিচ্চি বললো না তো কি করবো হমম। আমি কি পিচ্চি আছি না। আমি তো ৪ফুট৮ ইঞ্চি হয়ে গেছি।।

(ফারহানা) আরে তাতে কি। আগে তো পিচ্চি ছিলি না।তাই তোকে পিচ্চি বলা হবে। আমি কিন্তু কান্না করবো।(ফারহানা) আচ্ছা ঠিক আছে। এখন বল পড়াশুনা কি অবস্থা–ভালো।(ফারহানা) ভালো হলে আমার কাছে আসা লাগতো না।এখন বল তোর কি কি সমস্যা। বেশি সমস্যা হচ্ছে গণিত আর ইংরেজি তে।কি করবো বলো গণিত টা একটু ভুল হলে আর মাথায় আসে না।(ফারহানা) তোর হাতটা দেখি।হাতটা এগিয়ে দিলো।আমি দিলাম একটা মার। ওহহ মা।আরে মাইরা শেষ করে দিলো আমার হাত।(ফারহানা) ওই তোকে আস্তে করে মারলাম আর তুই এখনও চিৎকার করছিস। আম্মু আম্মু(ফারহানা) আমি তো অবাক কেনো যে মারতে গেলাম।হায় আম্মু চলে আসছে। কি হইছে মা।(আম্মু) আম্মু তোমার ছেলে না আমাকে মারছে হাতে এখনও লাল হয়ে আছে।(কান্না কান্না কন্ঠে ফারহানা) দেখিতো।

আহারেকতো কষ্ট হচ্ছে।(আম্মু) আম্মু দেখো ওই হারামি মিথ্যা কথা বলছে। চুপ কর বেয়াদব। এখনও লাল হয়ে আছে।(আম্মু) আরে ফর্সা মানুষের এমনিতে লাল হয়ে থাকে। চুপ কর।তোকে মারতে বলছে কে।(আম্মু) আরে না মারলে ওই বান্দর হয়ে যাবে। দেখছো আম্মু তোমার সামনে আমাকে বান্দর বললো।(ফারহানা) ওই তো বেয়াদব মা।আর বলবে না তুমি ভালো করে পড়ো।ওই ভালো করে পড়া আর মারবি না।(আম্মু) কি আর করার আম্মু আদেশ। তাই মার দিয়া আর হলো না।আর এদিকে তো বান্দর মুক্ত হওয়ার কারনে মাথায় চরছে। একদিন ওই পড়া বাদ দিয়ে কি আর্ট করিস হমম। আমার ইচ্ছা হমম।(ফারহানা) মন চাইছিলো দুইটা লাগিয়েদেই কিন্তু আম্মু আদেশ তো অমান্য করা যাবে না।ওই তুই আমার রুম থেকে বাহির হয়ে যায়।আর আসবি না পড়তে আমি তোকে আর পড়াতে পরবো না।যায় বাহির হয়ে যায়(একটু ধমক দিয়ে) রীতিমতো ফারহানা খুব ভয় পেয়ে গেছে বুঝতে পারলাম।ফারহানা চুপ করে আসে কোনো কথা বলছে না।কি হলো কথা কানে যায় না।হায় হায় কান্না শুরু করপ দিয়েছে।

সরি আর হবে না।(কান্না করতে করতে ফারহানা) তা যেনো মনে থাকে।বই বের কর।তারপর থেকে পড়াশুনায় আর কোনো ডিস্টার্ব হয়নি ভালো করে পরছে। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো।প্রতিদিন পরীক্ষা হলে দিয়ে আসা দায়িত্ব হয়ে গেলো।ফারহানাকে প্রতিদিন পরীক্ষাহল পর্যন্ত বুঝাতে বুঝাতে নিয়ে যেতাম।আর পরীক্ষা শেষে হাসি মাখা মুখটা দেখে বুঝে যেতাম পরীক্ষা ভালো হইছে।পরীক্ষা শেষে হয়ে গেলেআর পিচ্চিটা আমার পিছনে লাগছে । আমিওতো আর কম চালাক না খালি ওকে কাজের কথা বলতাম যাতে আর ডিস্টার্ব না করে।এভাবে চলে গেলো অনেকদিন। ফারহানার রেজাল্ট হলো ফারহানা প্লাস পাইছে।পাগলি মিষ্টি নিয়ে আমার বাসায় চলে আসছে এসেই আমাকে জরিয়ে ধরছে।আমি তো অবাক আমাকে জরিয়ে ধরছে আমি ভাই বোন সম্পর্ক মনে করে কিছু বললাম না।

কিরে কি হলো।আমার মুখে মিষ্টি দিয়ে দিলো।ওই আপনারা অন্য কিছু মনে করেন না। তোমার জন্য আমি ভালো রেজাল্ট করছি।(ফারহানা) তারপর সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছে। অনেক খুশি লাগছেআমার ছাত্রী প্লাস পাইছে।তারপর কলেজে ভর্তি হয়েছে।আর আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।আমাকে প্রতিদিন ওকে কলেজে রেখে আসতে হয় আর নিয়ে আসতে হয়।একদিন আমি আর ফারহানা রিকশায় চলে যাচ্ছি যখন কলেজের সামনে চলে আসছি তখন ফারহানার এক বান্ধবী হাত দিয়ে ইশারা করছে।যে তোদের দুইজনকে ভালো লাগছে কি বলছে ওরা। কই কিছু না তো।(ফারহানা) আমি দেখলাম ওরা ইশারায় কিছু বলছে। আমি কি জানি তুমি ওদের কে গিয়ে বলো।(ফারহানা) তুই ভালো করেই জানিস আমি অচেনা মেয়েদের সাথে কথা বলি না। এই জন তো বললাম। (আস্তে আস্তে ফারহানা) কি বলছিস।

কই কিছু না তো। (ফারহানা) আচ্ছা ঠিক আছে যা।তারপর আমি চলে আসলাম। দোস্ত ছেলেটা কে ছিলো রে।অনেক সুন্দর দেখতে।(ফারহানারবান্ধবী) ওই একদম নজর দিবি না এইটা আমার ভবিষ্যৎ বর।(ফারহানা) তাই নাকি তাহলে আমাদের পার্টি কই।(ফারহানার বান্ধবীরা) আগে তো হইতে দে(ফারহানা) না আগে পার্টি তারপর অন্যকিছু (ফারহানার বান্ধবীরা) আচ্ছা ঠিক আছে।(ফারহানা) এভাবে কেটে গেলো বেশকিছু দিন।আর মাত্র ৩ মাস বাকি তাহলে ফারহানার পরীক্ষা। এমন সময় একদিন ফারহানাকে পড়াইতেছি। হঠাৎ ফারহানা আমার হাতটা ধরলো। কিরে কি হইছে হাত ধরলি কেন। আমি তোমাকে একটা কথা বলবো।কথাগুলো সিরিয়াসলি নিবে কিন্তু। (ফারহানা) আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু কথাগুলো কি আগে বল। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না।(ফারহানা) আমি তো অবাক।কি বলছিস এইসব। পাগলি হইছিস নাকি। হমম তোমার জন্য হইছি।(ফারহানা)

দেখ এইসব আবেগ নিয়ে ভালোবাসা হয় না।আর আমি তোকে আমার বোনের থেকে অন্যকিছু ভাবি নাই। আমার দ্বারা সম্ভব না এইসব। বলে বেরিয়ে চলে গেলাম রুম থেকে।ফারহানা কান্না করছে কিন্তু আমার কিছু করার নেইকেনো মেয়েটা এমন করলো আমি ওকে এতটা জায়গায় দিয়েছে কাছে আসার।তারপর থেকে ফারহানা আমার কাছে পড়তে আসে না।এভাবে কেটে গেলো দুই মাস ফারহানার পরীক্ষার বাকি ১ মাস এমন অবস্থায় আমার চাকরি হয়ে যায়।আমি চলে যায় টেনিং করার জন্য। তিন মাস টেনিং শেষে আমি চাকরিতে জয়েন করি আর একটা বাসা ভাড়া নেই। এখন আব্বু আম্মু কে নিয়ে যেতে আসছি। আব্বু আম্মুকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি আগে। বাসায় এসে দেখি আব্বু আম্মু রেডি কিন্তু ফারহানাও রেডি হয়ে আছে।এ হলো ওই আবার কই যাবে।

কই যাবে মানে ও আমাদের সাথে যাবে।(আম্মু) দেখো আম্মু ওই গেলো সমস্যা হবে। দেখছো আম্মু তোমার ছেলে নাকি আমাকে নিয়ে যাবে না।(ফারহানা) না মা তুমি আমার সাথে যাবে। (আম্মু) আম্মু অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলাম কোনো লাভ হলো না বাধ্য হয়ে ফারহানাকে নিয়ে যেতে হলো।তারপর নিয়ে আসলাম ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পরলাম।ঘুম থেকে উঠে খাওয়া দাওয়া করে আবার ঘুম। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে অফিসে গেলাম।বিকালে থেকে এসে রুমে গিয়ে দেখলাম আমার রুমটা সুন্দর করে গোছানো। অনেক ভালো লাগছে হইতো আম্মু গুছিয়েছে। আম্মুর কাছে গিয়ে আম্মু তুমি আমার রুমটা গুছিয়েছো। না তো। ফারহানা গুছিয়েছে মনে হয় কেনো।(আম্মু) না ভালো লাগছে না তাই বললাম।মিথ্যা বললাম কারন পাশেফারহানা আছে জন্য। কি বলছিস আমি তো দেখলাম।ভালো তো লাগছে।(আম্মু)

আমি আর কিছু না বলে চলে আসলাম।এভাবে কেটে গেলো কিছুদিন। আজ কিছু মেহমানকে দাওয়াত করছে আম্মু তাই আজ কাজে ব্যস্ত। ফারহানার আব্বু আম্মুও চলে আসছে। বাসায় এখন ভর্তি মেহমান।এমন সময় ফারহানা আমাকে জরিয়ে ধরলো সবার সামনে। এই কি করছো এটা সবাই দেখছে তো। তো কি হইছে আই লাভ ইউ।(ফারহানা) মনে হচ্ছে কোথায় লুকানোর জায়গা থাকলে লুকাই পরতাম।কেউ আমাকে লুকানো জায়গা দাও। আম্মু এসে ফারহানা কি হচ্ছে এসব ছাড়া। (আম্মু) তুমি জানো না আম্মু আমি ওকে অনেক বলছি কিন্তু শুনে নাই এখন কোথায় যাবে।(ফারহানা) আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তোর সব কথা শুনবো এখন ছাড়া সবাই দেখছে।(আম্মু)

আম্মু কথায় ছেড়ে দিলো কিন্তু আমি লজ্জা কাউকে মুখ দেখাতে পাচ্ছি না।তাই নিজের রুমে চলে গেলাম আর নিচে আসি নাই। তারপর রাতে ফারহানা আম্মু সাথে কি কি বলছে জানি না তারপর আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়।আর বাসর রাতে উপরে কথাগুলো বলি।পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গলো ফারহানার ডাকে।আহা দেখতে কত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে।আরে কি ভাবছি মেয়েটাকে তো বোনের মতো দেখছিসকালে রাস্তা টেবিলে বসে আছি আম্মু আব্বু আমি কিন্তু ফারহানার কোনো খবর কই গেলো। ফারহানাকে ডাক দে।(আব্বু) এইই পিচ্চি তাড়াতাড়ি আয়। এটা কি ডাক হলো।ওই তোর বউ না তাহলে বউকে কেউ এমন করেডাকে।(আম্মু) অভ্যাস হয়ে গেছে চেঞ্জ করতে পারবো না। ওই বেয়াদব ভালো করে ডাকবি আর পিচ্চি বলে ডাকবি না।আর ওই কি এখনও পিচ্চি আছে। (আম্মু) তাহলে কিভাবে ডাকবো ওই সোনা পাখি কোথায় তাড়াতাড়ি আসো।আমার কথা শুনে আব্বু হাসতেছে। এমন করে ডাকবি।(আম্মু)

আরে আমার এমন ডাক শুনে পিচ্চি হাজির।মনে হয় আমার এমনডাকের জন্য অপেক্ষায় ছিলো।এমন ভাবে কেটে গেলো কয়েকটা মাস এখনও আমি ফারহানাকে বউয়ের অধিকার দেই নাই। আজ শশুড় বাসায় যেতে হবে।তাই সকাল সকাল রেডি হয়ে বের হইলাম।ফারহানাকেনিয়ে বাসে যাচ্ছি। ফারহানা আমার পাশে বসে আছে কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছি না।এমন চুপচাপ করে চলে আসলাম।সবাই আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলো।আমাদের দেখে সবাই খুশি আমিও হাসি মুখে ভিতরে চলে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিচ্ছি পাশেররুমে ফারহানা আর ওর আম্মু কথা বলছে।কিরে মা তোর এমন অবস্থা কেন খাওয়া দাওয়া করিস না।(ফারহানার আম্মু) আরে আম্মু কি যে বলো। খাওয়া দাওয়া তো ঠিক মতো করি।(ফারহানা) তাহলে জামাই এর সাথে ঝগড়া হইছে নাকি(আম্মু) আরে না। ও তো আমার অনেক খেয়াল রাখে।আমাকে এক মুহুত একা রাখতে চাই না। অনেক ভালোবাসে আমাকে।(ফারহানা কান্না কান্না কন্ঠ) কি হইছে মা সত্যি করে বলতো জামাই কিছু বলছে। (আম্মু) না আম্মু তোমাদের কথা খুব মনে পরছিলো তাই। (ফারহানা) পাগলি মেয়ে তাই কান্না করা লাগবে।(আম্মু)

আমি পাশের রুম থেকে সব শুনলাম।আসলে কি এজন্য কান্না করছে। না আমার জন্য কান্না করছে কারন আমার কাছ থেকে সে শুরু স্বামীর অধিকার চেয়েছে কিন্তু আমি ওকে দেই নাই। আজ নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। কেনো জানিফারহানার কান্নাটা আমার বুকে এসে লাগছে।আমি কি ঠিক করছি মেয়েটার সাথে।না এটা কি করেছি আমি।আর মেয়েটা যে নিবরে নিবরে কান্না করছে তাহলে কি আমার জন্য। আর আমি একটি বার জানতে চাইনি।না আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমাকে ফারহানার স্বামীর অধিকারটা দিতে হবে।এসব ভাবতে ভাবতে কে যেন আমার রুমে আসলো তাকায় দেখি ফারহানা।এখন কিভাবে যে কথাটা বলবো ভাবতে পারছি না আজনিজের বউয়ের সাথে কেনো কথা বলতে পারছি না।এমন সময় ফারহানা বলে উঠলো।

সবাই তোমাকে নিচে ডাকছে খাওয়ার জন্য(ফারহানা) ওকে তুমি যাও। আমি আসতেছি।চলে গেলাম খাবার জন্য।সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আমি গিয়ে ফারহানার আব্বুর কাছে বললাম আরে আমার তো শশুড় হয়।সবাই খাওয়া শুরু করলাম।শশুড় আমার দিয়ে একটু এগিয়ে আসলো।এসে আমার আস্তে আস্তে বলছে আচ্ছা বাবা আমার মেয়ে কি তোমাকে খুব জ্বালায়।(শশুড়) আসলে ছোটে থেকে আমার সাথে অনেক ফ্রি আমার শশুড়। না এখনও তো জ্বালায় না। এটা কি করে সম্ভব। আমাকে তো তোমার শাশুড়ি জ্বালায়শেষ করে দিয়েছে।কিন্তু মেয়েটা মায়ের মতো হয়নি তোমার কপাল ভালো।(শশুড়) ঠিক বলেছেন। কি কথা হইতেছে শুনি শশুড় আর জামাইয়ের। (শাশুড়ি) কিছু না তো।(শশুড়)

তারপর চুপচাপ খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাইতে গেলাম।রুমে গিয়ে সুয়ে আছি আর ভাবতেছি আজ ফারহানাকে ওর স্বামীর অধিকারটা দিবো।কিছুক্ষণ ভাবতে ভাবতে ফারহানা চলে আসলো।এসে রুমের লাইট বন্ধ করে বিছানায় আসলো।আমি ভাবছি এবার তাহলে অধিকারটা দিয়ে দেই কিন্তু তখনই আমাদের মাঝখানে ফারহানা বালিশ রেখে দিলো।দুর এইটা কোনো কাজ হলো।না এবার কিছু একটা করতে হবে। এবার ফারহানাকে প্রশ্ন করলাম। আচ্ছা ফারহানা আমাদের বিয়েটা কতদিন হলো।আমার দিকে তাকিয়ে আছে ফারহানা।এমন প্রশ্নটা হইতো আশা করে নাই। কি হলো কথা বলছো না যে। হঠাৎ এমন প্রশ্ন কোনো।(ফারহানাl কোনো করতে পারিনা কি। ওকে না বললে নাই। আরে আরে বলছি তো।রাগ করো না।৬মাস ৭দিন হয়েছে।(ফারহানা) ওওও তাই না। কিন্তু কোনো(ফারহানা) কিছুনা তুমি ঘুমাও।

প্রায় ঘন্টা খানিক পর আমি আস্তে আস্তে করে আমাদের মাঝখানের বালিশ কেটে নিচে ফেলে দিলাম।একটু একটু করে ফারহানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ফারহানার কাছে গিয়ে ফারহানার গায়ের ওপর হাত রাখবো কিন্তু সাহস পাইতেছি না।তারপর পরও অনেক কষ্টেরর পর সফল হইলাম মনে হচ্ছে যুদ্ধ জয় করে ফেলাম।ফারহানার গায়ে হাত দেওয়াতে ফারহানা আমার দিকে তাকালো।শুরু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমি আরওশক্ত করে জরিয়ে ধরলাম।তারপর ফারহানার চোখ দিয়ে পানি পরছে বুঝতে পারলাম এটা খুশির পানি।কি হলো কান্না করছো কেন তাহলে কিন্তু আমি ছেড়ে দিবো।আমার কথা শুনে ফারহানা আমাকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।তারপর জরিয়ে ধরে ঘুম।পরেরদিন ফারহানা ডাকছে।আহা কি সুন্দর না লাগছে।ফারহানাকেএকটু ডাকলাম।

এদিকে একটু আসো তো। কি হইছে।(ফারহানা) ফারহানার হাতটা টেনে নিয়ে বুকের সাথে জরিয়ে ধরলাম। আরে কি করছো কেউ দেখে ফেলবে তো(ফারহানা) কে দেখবে শুনি। আরে যারা গল্পটা পরছে তারা দেখছে তো। ছাড়ো বলে আমাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে গেলো।আপনারা এখনও কি দেখছেন আপনাদের জন্য আমার রোমান্টিক সময়টা নষ্ট হয়ে গেলো।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত