তোমাকেই বিয়ে করবো

তোমাকেই বিয়ে করবো

ভাইয়া আমি কিন্তু তোমাকেই বিয়ে করবো! (আনিকা) (হাহাহাহা) (আকাশ) হাসো কেন? তুই তো পুচকি।আর আমি দেখ কত বড়! আমিও তো কিছুদিন পর বড় হবো। তখন করবো। তোর ভাবি শুনলে আমাকে ক্যালাবে।এখন ঘরে যা। আমি তোমার মোবাইল দেখেছি।কোন মেয়ের নাম্বার তো খুঁজে পেলাম না।আমাকে মিথ্যা বলা হচ্ছে।ভাইয়া আমি কিন্তু তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।আর আমিই তোমার বউ হবো। তুই যাবি এখান থেকে? এতক্ষণ যাবত আনিকার সাথে কথা হচ্ছিলো আকাশের।আকাশ আনিকার মামাতো ভাই।তারা একটা বাড়িতেই থাকে।আকাশ ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে লেখাপড়া করে।আর পিচ্ছি আনিকা কেবল ক্লাস ফাইভে।ক্লাস ফোরে পড়লে কি হবে! বড় পাকা পাকা কথা বলে এই আনিকা।

আকাশের রাগের কারনে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় আনিকা।মনে মনে হাসতে থাকে।পড়ার টেবিলে বসে আকাশও ভাবে,একটুকু মেয়ে! সাহস এতবড়! আকাশের ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় খেলতে যায় আনিকা।আকাশ টেবিলেই পড়তে বসে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আকাশের কাছে হাজির হয় আনিকা।আজকে তো পুতুল ভেঙেছে,কাল তো অংকটা মাথায় ডুকছে না ইত্যাদি।আকাশও আনিকার সব প্রবলেম সলভ করার চেষ্টা করে।হাজার হোক ফুফাতো বোন বলে কথা। আনিকা আর আকাশের বাবা- মা দুজনের কাহিনী দেখে মাঝে মাঝে হাসেন। আনিকা আসলেই সবসময় আকাশের পিছনে আঁটার মতো লেগে থাকে।তাইতো প্রায়ই আকাশের দৌড়ানি খেতে হয়।তবুও তাকে পাছ ছাড়া করে না পিচ্ছি মেয়েটা।আনিকা দেখতে খারাপ নয়,বেশ সুন্দর দেখতে। আকাশও আকাশের মতোই সুন্দর। কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আকাশের মা হ্যার্ট এ্যাটাকে হইলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে যায়।রেখে যায় প্রানপ্রিয় স্বামী আর আকাশকে।জীবনটা বড়ই অদ্ভুত! মায়ের মৃত্যুর বছর খানেকের মাথায় মালয়েশিয়া চলে যায় আকাশ।লেখাপড়া আর শেষ করা হয়নি।

যেদিন আকাশ মালয়েশিয়া চলে যায় সেদিন আনিকা খুব কেঁদেছিলো।আনিকাকে সান্তনা দেয়ার ভাষা জানা ছিলো না আকাশের।তাইতো শেষবারের জন্যও তার সাথে দেখা করে নি।মালয়েশিয়া যাবার প্রক্কালে বাবাকে একা করে দেয় আকাশ।মূহুর্তের মধ্যে জীবনের প্রান্তর ঘুরে যায় আকাশদের সংসারে। ভাইয়া তুমি কি আর ফিরে আসবে না?(আনিকা) কেন আসবো না? অনেক মানুষ তো বিদেশে বিয়ে করে সেখানেই থেকে যায়। আরে পাগলি আমি তোমাদের ছাড়া আর কয়দিনই বা থাকতে পারবো! হুম,তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসবে।আর খবরদার ওখানে বিয়ে করবে না।আমাকে দেশে এসে বিয়ে করবে। আনিকার কথায় সেদিন মুচকি হেসেছিলো আকাশ।আনিকা কোন উত্তর না পেয়ে ছাদে চলে গিয়েছিল গোলাপের গাছটাতে পানি দেয়ার জন্য।

আজ ৩টি বছর কেটে গেল। এ তিনটা বছর যে কিভাবে সে একলা কাটিয়েছে সেটা হয়তো প্রবাসী ব্যক্তিই জানে।বারবার বাড়ির কথা মনে পড়তো। বাবার কথা,মায়ের স্বৃতিগুলো, আনিকার কথা।যদিও মোবাইলে মাঝে মাঝে কথা হতো।খুব বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছিলো আকাশের। অবশেষে আকাশ মাসখানেকের ছুটি পেয়ে যায়।দেশে ফিরে আসে।অনেকদিন পর আকাশকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠে বাড়ির সবাই।আগের মতো আর দুষ্টুমি করে না আনিকা।দূর থেকে আকাশকে দেখে শুধু মুচকি মুচকি হাসে।আকাশও তার সাথে যোগ দেয়।পুরনো দুষ্টুমির কথা মনে পড়ে যায় আনিকার।লজ্জায় সে মাথা তুলতে পারে না।যখন আকাশ বিদেশে চলে যায় তখন আনিকা ক্লাস সিক্সে পড়তো।আর এখন নাইনে।

দুদিনপর আকাশ একটা কথা বলতে চাইছিলাম।(আকাশের বাবা) বলো আব্বা। তোর মা আমাকে একদিন তোর বিয়ে সম্পর্কে বলেছিলো।ছোট্ট আনিকাকে তখন তার খুব পছন্দ ছিলো।খুব ইচ্ছে ছিলো তোদের বিয়ের দিবেন।কিন্তু! কি যে বলো বাবা! আনিকা তো আগের মতো নেই।আগের চেয়ে কত সুন্দর হয়েছে।ও কি আমাকে বিয়ে করবে! মেয়েটা এখনো তোকে ভালোবাসে।মাঝে মাঝে দেখি মুখ লুকিয়ে কাঁদে। যদি মামা-মামি রাজি থাকে তাহলে আমার আপত্তি নেই। তোর মামা-মামি তো রাজি। তাহলে আমার কোনন আপত্তি নেই।

অতঃপর পারিবারিকভাবে বিয়েটা হয়ে যায় একসময়ের পিচ্ছি আনিকার।বাসর ঘরে বসে একটু লজ্জাবোধ করছে।অবশেষে তার মনে ইচ্ছে পূরণ হলো। আনিকা এবার খুশি তো? (আকাশ) (জানি নাহ) ক্যান? (চুপ) তুই তো আমার বউ হতে চেয়েছিলি।ভালোবাসতিস আমাকে।আজকে তো স্বপ্ন পূরণ হলো। আমি কি তোমাকে একাই ভালোবাসতাম? তুমি কখনো বাসো নি? সত্যি বলবা,হ্যাঁ অথবা না। ইয়ে মানে! বাসতাম। তবে তোর মতো না।

বউকে বুঝি তুই করে বলতে হয়! তাহলে কি করে বলবো? তুমি করে বলবা। যথা আজ্ঞা মহারানী।আচ্ছা তোমার তো স্বপ্নপূরন হলো,তবে আমার একটা কথা।আমি চলে যাবার পর কোন দুষ্টুমি নয়,লেখাপড়া হবে মন দিয়ে।দুবছরের মধ্যে একেবারে দেশে চলে আসবো।বিদেশ আর ভালো লাগে না। যথা আজ্ঞা মহারাজ। মহারাজ! হাহাহাহা পিচ্ছি একটা! (অতঃপর দুজনে একে অন্যের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে হাসতে থাকে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত