পাগলী বউ

পাগলী বউ

ওই ওই ওঠো ওতো কিসের ঘুম তোমার হুম আরে আরেকটু ঘুমাতে দাওনা হুম ঘুমাবে তো আর বাজার কে করবে? তোমার দাদু ওনি তো অনেক দিন আগেই টপকে গেছেন ওহ তাই নাকি দারাও হুম দাদু আমি একলেফে উঠে পরলাম। আরে আরে দাদুকে ডাকো কেনো? আমি উঠেছিতো আসলে আমার দাদু এখনও টপকাই নি।

আসলে উনি আমার বউ কে সাপর্ট করে..তাই আমি বলি যে টপকে গেছে…সালার ওই বুরো টাকে যদি আমার বউ ডাকে না…তাহলে তার হাতের লাঠিটা নিয়ে ছুটতে ছুটতে আসে…আর আমার ১৪ টা বাজায়..একবার তো ওই বেটা বুড়ো আমায় মেয়ে আমার একটা ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছিল…তাই ওই বুড়োকে দেখে আমি খুব ভয় পাই।আর বলে রাখি আমার এ দুনিয়ায় এই বুড়ো আর শিউলি ছাড়া আর কেউ নেই। খুব ভালবাসি আমি ওদেরকে। কিন্তু আমার ভালবাসার কি প্রতিদান দেই দেখেছেন তো..? যাইহোক বাজার করতে যেতে হবে তাই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলাম। আমি বাজার করে এসে দেখি মেডাম আমার রান্না ঘরে…আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখি বুড়ো টা নেই। ভাবলাম ভালই রোম্যান্স করা যাবে। ঢুকে পরলাম রান্না ঘরে। রান্না ঘরে ঢুকেই আমার বউরে ধরলাম পেছন থেকে জরিয়ে সাথে সাথে আমার চুলের মুটি ধরে ওই শইতান ছাড়ো।দাদু দেখে ফেলবে। ওই বুড়ো দেখে দেখুক।

শয়তান একটা।বাজার থেকে এসেই দুষ্টুমি শুরু করে দিয়েছো না?এত রোম্যান্স আসে কোথা থেকে হুম কোথা থেকে আবার ভালুপাসা থেকে ওহ তাই আচ্ছা দারাও দেখাচ্ছি মজা কি দাদু দাদু- কি হয়েছে মা? কোনো বেড়াল এসেছে নাকি? শিউলি- হ্যা  অনেক বড় হুন্দা বেড়াল লাঠিটা নিয়ে এসো তো এদিকে একটু দারা মা আসছি আমি-এইটা কি হল? আমি বেড়াল? হুন্দা বেড়াল ঘরে আসো দেখাচ্ছি মজা এরি মধ্যে দেখি দাদু হাজির কই মা বেড়াল কে তো দেখছি না? আমি এরি মধ্যে বউ এর পিছনে হাজির না মানে এইতো কেবলি বেড়িয়ে গেল। বাহ ভালই তো বউ আমার। কিছুতে মুখ দেই নি তো মা? না দাদু কিছুতে মুখ দেই নি। আচ্ছা। কথা গুল বলে দাদু চলে গেল।আমি বউ এর পিছন থেকে বেড়িয়ে এলাম।

ও বউ তুমি আজ আমায় বাচালে…না হলে কি যে হত ওহ…তার মানে সেই হুন্দা বেড়াল এটা…দারা বাবা জীবন আজ দেখছি তোকে…রান্না ঘরর ঢোকা ও মা ওই বুড়ো আবার কোথা থেকে এল…?! আহ..দাদু…ওহ…লাগছে আরে হ্যা শালার বুড়ো আমায় পেটাচ্ছে আর আমি সারা রান্না ঘর দৌড়াচ্ছি দাদু ছেরে দাও…আমার মনে হয় না যে বেড়াল টা আর কিছুতে মুখ দেবে কথাটা বলের হিহিহিহি…করে হেসে ফেলল শিউলি। তারপরে দাদুও বেড়িয়ে গেল। আমি আবার বউকে ঝাপটে ধরেছি দাদু (বউ) আমি সাথে সাথে এক দৌড়ে রুমে। শালা বউ তো না মনে হচ্ছে পাগলী একটু রোম্যান্স করবো বুড়োর জন্য সম্ভব না।আবার তার উপর দিয়ে শিউলি…হে ঈশ্বর এ কেমন বউ দিলে প্রায় মাস দুয়েক পরে রাত ৩ টা আমি ঘুমাচ্ছি ওই…ওঠো… ওই…ওঠো না প্লিজ আমার না খুব ভয় করছে ওই ওঠো না প্লিজ শিউলির কান্না ভরা কন্ঠে আমার ঘুম ভাঙল। আর সাথে সাথে রুমের লাইট টা অন করলাম। দেখি ওর চোখে জল।

সাথে সাথে আমার পৃথিবী ওলট পালট হয়ে গেল।আসলে ওর চোখে আমি জল দেখতে পারি না।বড্ড বেশি ভালবাসি ওকে আমি।আসলে বাবা,মা মারা জাওয়ার পর থেকে আমার কেউ ছিল না।শুধু আমি আর দাদু..আমি সারাদিন অফিসের কাজে বাইরে থাকতাম। তাই দাদুরও যত্ন আত্বি হত না। আর আমাদের সংসার টাও কেমন জানি এলমেল হয়ে গেছিল। আমার অবস্থাও কেমন একটা হয়ে গেছিল।তারপরে দাদু আমার বিয়ে দিয়ে দেই।আসলে আমাদের দেখাশোনা করেই বিয়েটা হয়। তারপরে শিউলি আমার লাইফে আসে।সে অত্তন্ত ভাল একটা মেয়ে। সেই আমাদের ভেসে যাওয়া সংসার টাকে কুলে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

মানে পুরো বাড়ির দায়িত্ব সে নিজের হাতে তুলে নেই। দাদুও যত্ন তে ত্রুটি রাখেনি সে। একা হাতে বাড়ির সব কাজ সামলায় সে। খুবই বুদ্ধিমান একটা মেয়ে। দাদু এখনও মাঝে মাঝে বলে ভাগ্য করে একটা নাথবউ পেয়েছি। আসলে এখন কার সব মর্ডান মেয়েরা এসব কিছুই করে না।কিন্তু সে অনেক শিক্ষিত, তবুও সে অনেক চালাক।সে পরিস্থিতি বুঝে একা হাতে সব সামাল দিয়েছে। আচ্ছা বাদ দেন সেই সব কথা না হয় আরেকদিন বলবো। আমি ওর চোখে জল দেখে বিছানায় ওর পাশে গিয়ে বসলাম। আমি- শিউলি কি হয়েছে তোমার? কাদছো কেনো? দেখো বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে আর বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে হুম সত্যিই বাইয়ে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের শব্দও শোনা যাচ্ছে।

হুম তো কি করবো(একটু ভাব নিয়ে বললাম আমি) ওই শোনো না আমার খুব ভয় করছে আমায় একটু বুকে জরিয়ে নিয়ে ঘুমাবা প্লিজ?(করুন স্বরে) এত রাতে ডেকে ঢং করা হচ্ছে?(একটু চিৎকার করে) দেখি ওর চমকে উঠেছে কথাটা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি চোখে জল চলে এসেছে আমি কিন্তু দাদুকে ডাক দেব এবার।তখন দেখবা মাইর ও খাবা আবার বুকেও জরাবা।(কথাটা বলেই কেঁদে দিয়েছে) আমি আর কঠর হতে পারলাম না।কারনটা ওর চোখের জল। আরে আরে পাগলী কাঁদো কেনো? আমি তো মজা করছিলাম।দেখো আমি কান ধরেছি।আর কখনো এমন করবো না। সত্যি তো? হ্যা বাবা। আমি আর লাইট টা অফ করলাম না।

ওকে আমার বুকে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে পরলাম।ও যেন আমার বুকের কোনো একটা কোনায় ওর মুখ লোকালো।তার পরে পিট পিট করে বলতে লাগলো। জানো আমি কখন থেকে তোমায় ডাকছিলাম।কিন্তু তুমি তো আমার কথা শোনোই নি। আমি ঘুমিয়ে গেছিলাম বাবু। হুম।ঘুমাবাই তো তুমি তো আমায় এক্টুও ভালবাস না।দেখবে একদিন ঠিক আফসোস করবে।এই দিন গুলর জন্য।আরে ওমন কথা বলেনা।আচ্ছা সরি।আর কখনো এমন করবো না। প্রমিস তো? আমি- হ্যা বাবা প্রমিস। আসলে ওর চাওয়া পাওয়া গুল বেশি না জানেন তো। ও একটু তেই খুশি হয়ে যাই। কখনো মুখ ফুটে কিছু বলে না যে এটা লাগবে ওটা লাগবে। আমি তাকে বুকে জরিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। আবার তার ডাকাডাকি ওই ঘুমিয়ে গেলে নাকি? না না ঘুমায় নি।

আমাকে ছাড়বে না কিন্তু।এভাবেই সারা রাত জড়িয়ে ধরে থাকবা। আচ্ছা।বাবা। এবার ঘুমাও হুম।তার আগে আমায় চুমু টা কে দেবে…? আসলে রোজ ঘুমানোর সময় ওকে একটা করে চুমু একে দিতে হয় ওর কপালে না হলে সারা রাত কিছু বলেনা কিন্তু সকালে রাগ দেখাই। আমি অলতো করে তার কপালে একটা চুমু একে দিয়ে পাগলী বউ একটা কথাটা বলেই আমি শুয়ে পরলাম।একটু পরে সেও আমার কপালে একটা চুমু একে দিয়ে বলল।

পাগলী তো ভাল তাতে তোমার কি? আমি তো তোমার পাগলী তাই না বলো হুম বাবা। হুম শোনো সারা রাত জড়িয়ে ধরে থাকবা কিন্তু না হলে আমি সকালে খুব কাদবো আর দাদুকে দিয়ে মাইর খাওয়াবো। ওরে বাবা না না আমি ধরে থাকবো খুব শক্ত করে। দাদুকে কিছু বলতে হবে না। হুম গুড বয়। এর পরে রাত জেগে তাকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে পাহারা দিলাম।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত