ভালোবাসার প্রহর

ভালোবাসার প্রহর

“এইই,এই ছেলে,আকাশের দিকে তাকিয়ে কি খোঁজো? “, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে একমনে আকাশ দেখছিলো রাশেদ, রূবার কথায় সংবিত ফিরে আসে ওর।
“ও,তুমি এসে গেছো!”, ঠোঁটের কোণে হাসিটা প্রশস্ত হয় রাশেদের।
“আচ্ছা সমস্যা কি তোমার,বলো তো? একটা দিন কি স্টুডেন্ট কে আগে ছুটি দেওয়া যায়না? একটা দিন ই তো! তাহলে তো আর এভাবে ঘেমে নেয়ে আসতে হয়না”! মুখ গম্ভীর করে বললো রূবা।উত্তরে
হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে কপালের ঘাম টা মুছে একটা ফিচকে হাসি দিয়ে ওর দিকে তাকায় রাশেদ।

রূবা আজ চওড়া নীল পাড়ের সাদা তাঁতের শাড়ি পরেছে, কপালে ছোট্ট নীল টিপ।কানে মাকড়ি, চুলে এলোমেলো খোঁপা,ব্যস আর কোনো সাজগোজ নেই। তবু ও মেয়েটাকে অপূর্ব দেখাচ্ছে। গল্প-নাটকের নায়িকাদের মত রূপসী হয়তো নয়, কিন্তু ওর কড়া চেহারার ভাঁজে ভাঁজে যে কি মায়া লুকোনো আছে তা কেবল রাশেদ ই জানে।

“হাসি থামাও, এতই তোমার ব্যস্ততা যে সকাল থেকে কিছু মুখেও তুলোনি,তাইতো?” বললো রূবা।

রাশেদ কিছু না বলে চুপ হয়ে রইলো। মেয়েটা সবকিছু আগে থেকেই বুঝে যায়। কি আর বলবে সে!এই অদ্ভুত মেয়েটা তার সমস্ত মায়াময়তায় জড়িয়ে রেখেছে রাশেদ কে, দুজন মিলে এক পৃথিবী স্বপ্ন যেনো বুনে রেখেছে।

ওকে চুপ থাকতে দেখে রূবা স্মিত হাসি টেনে বলে,
“দেখলাম তো গোলাপ কিনেছো,দিচ্ছোনা ক্যানো?”
রাশেদ চমকে উঠে পিছনে রাখা হাত সামনে এনে ওর দিকে বাড়িয়ে দিলো গোলাপগুলি।মেয়েটার ফুল খুব পছন্দ। তাই রাশেদের ইচ্ছে হয় ওকে প্রতি সাক্ষাতে ফুল দিতে, কিন্তু রূবা ই মানা করে।কিন্তু এই একটা দিনের জন্য মানা নেই কোনো। আজ ওদের এনিভার্সারি।

ফুলগুলো হাতে নিয়ে তার থেকে দুটো গোলাপ ছিঁড়ে নিজের খোপায় গাঁথে রূবা।

“এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো,আসছি আমি” বলেই দূরে খেলতে থাকা কয়েকটি পথশিশুর দিকে এগিয়ে যায় ও।

পথশিশুদের বাকি ফুল গুলি দিয়ে এসে রাশেদের কাছে ফিরে আসে রূবা।
“দেখো,তোমার ভালোবাসা ওই বাচ্চাগুলোর মাঝে কেমন বিলিয়ে দিয়ে এলাম…ওরা কত খুশি হয়েছে দেখেছো?” চেহারায় প্রচণ্ড উৎফুল্লতা ওর।হাসিটা ছড়িয়ে পরেছে পুরো চেহারায়! তাই দেখে রাশেদ ও হাসে।মেয়েটা বড্ড খেয়ালি, মানুষ কে খুব করে ভালোবাসতে জানে, আপন করতে জানে।
“চলো, এবার হাঁটি”, শাড়ির আঁচলটা টেনে বলে রূবা। পাশাপাশি হাঁটতে থাকে ওরা,টুকিটাকি আলাপ চলতে থাকে মাঝেমাঝে।
রাশেদ বেশি কিছু বলতে পারেনা! মেয়েটার সাথে থাকলেই ওর সমস্ত অনুভূতিগুলো যেনো একীভূত হয়ে একজনকেই ছুঁয়ে দিতে থাকে। রূবা হাসে, কপট রাগ দেখায়, চুল ঠিক করে,ভ্রু কুঁচকায়, কখনোবা একদম চুপ হয়ে গিয়ে কি একটা ভাবতে থাকে! রাশেদ শুধু দেখে যায়, ওই কালো চোখ দুটোর গভীরে কোন অব্যক্ত শব্দেরা খেলা করছে সেটুকু বোঝার চেষ্টা করতে থাকে।কখনো পারে, কখনো পারেনা! প্রেমিকার চোখ পড়ে ফেলার ক্ষমতা কি ঈশ্বর আজ অব্দি পুরোপুরি দিয়েছেন কাউকে?

দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছিলো,আকাশে অত মেঘ-টেঘ ছিলোনা কিন্তু! হঠাৎ করেই কোত্থেকে যেনো রাশি রাশি কালো মেঘ এসে পুরো আকাশ ছেয়ে দেয়।আর তারপর ঝুমঝুম শব্দে নেমে আসতে থাকে বৃষ্টিকণারা।

রূবা তাড়াহুড়ো করে একটা রিকশায় উঠে বসে।

“কি হলো? উঠে এসো…ভিজে যাবে তো!”
“হ্যা,উঠছি”
“কিন্তু,রূবা, আমরা যাচ্ছি কোথায়?” রিকশায় উঠেই প্রথম প্রশ্ন থাকে রাশেদের।

“তোমার বাসায় যাচ্ছি আমরা, পুরোনো পল্টন, না?” ওর চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি।

রাশেদ কোনোমতে ঢোঁক গিলে বলে, ” আ-আমার বাসায়? হঠাৎ?”

“কারণ টা সিম্পল, আমাদের কাছে কোনো ছাতা নেই, আর যেরকম বৃষ্টি শুরু হলো, দুই ঘন্টার আগে থামবে মনে হচ্ছেনা, তাই এই সময় টা আমি তোমার বাসাতেই কাটাবো। কোনো সমস্যা?” রূবার গলা নিরুত্তাপ।

“না, না…কি আর সমস্যা!” বলেই আবারো ঢোঁক গেলে রাশেদ। বাসাটা তো আর ফ্যামিলি বাসা নয়, বাসা কাম মেস একটা, ভার্সিটির বড়ভাই শফিককে অনেক বলে কয়ে তার সাথে থাকছে রাশেদ।শফিকের কি জানি পরিচিত হয় বাড়িওয়ালা চাচা,সেই সুবাদেই। খরচ টাও কম ই লাগে। গত ৫ দিন আগে শফিক ভাই বাড়ি গেছেন, বাসা তাই আপাতত খালিই, কিন্তু এই সময় রূবাকে সেখানে নিয়ে গেলে আর বাই চান্স বাড়িওয়ালা চাচার চোখে যদি পরে যায় ওরা, তাহলে তো কেলেঙ্কারি কান্ড বাধঁবে! তার উপর শফিক ভাই আবার ছ্যাঁক খাওয়া মানুষ কিনা…শুনলে কি না মনে করবেন! এসব ভেবেই রাশেদের গলা বারবার শুকিয়ে আসে। কিন্তু কি করবে, রূবার মুখের উপর না বলাটা তার ঠিক আসেই না!

সন্তর্পণে গেট দিয়ে ঢুকে ছাদের দিকের দুই রুমের বাসাটার দরজা খুলে দিতেই ভেতরে ঢুকে যায় রূবা। তারপর কোনোরকম অনুমতির অপেক্ষা না করেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে বাসাটা, পুরোটা সময় ওর মুখের ভঙ্গি অনুসরণ করতে থাকে রাশেদ।মাঝেমধ্যে ই ওর মনে হতে থাকে এক্ষুনি রূবা গল্পের নায়িকাদের মতন কোমরে আঁচল গুঁজে ঘর পরিষ্কার করা শুরু করে দেবে, কিন্তু রূবা তা করেনা, আসলে রূবা তো আর গল্পের নায়িকা নয়!

শেষমেশ বারান্দায় এসে রূবা ঘোষণা করে,
“হুম, তোমার বাসাটা দেখলাম…বাসাটার খারাপ দিকগুলি হচ্ছে , খুবই ছোট, অপরিষ্কার আর প্রচুর অগোছালো! কিন্তু সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এই বাসায় একটা দক্ষিনমুখী ঝুল বারান্দা আছে” বলতে বলতেই রূবার মুখের কঠোর ভাব টা কেটে গিয়ে হাসি বিস্তৃত হয়ে আসে।

“থ্যানক ইউ ম্যাডাম, আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য” বুকে একটা হাত রেখে কুর্নিশের ভঙ্গিমা করে রাশেদ।

“কিন্তু..তোমার টেবিলের উপর বেনসনের প্যাকেট কি করছে? এসবের অভ্যাস আছে বলে তো জানতাম না, রাশেদ!” হাত দুটো ক্রস করে ভ্রুকুটি করে রূবা।

“না, আসলে, বিশ্বাস করো, ওটা আমার নয়, শফিক ভাইয়ের”

“আচ্ছা, তো…শফিক ভাই বাড়িতে যাবার সময় তার অতি দরকারি এই জিনিস টা তোমার কাছে বন্দক রেখে গেছেন?”

“না, সত্যি বলতে প্যাকেট টা ভাইয়ের ই, কিন্তু মাঝেমধ্যে আমিও… কিন্তু সবসময় না,বিশ্বাস করো রূবা…” রাশেদের গলায় আর্তি ঝরে পরে। আসলে মাঝেমাঝে তো কোনো রাতে যখন বুয়ার রান্না,কিংবা নিজেদের তৈরী আলু-ডিম সেদ্ধ কিংবা হোটেলের খাবারে মন একবারে উঠে যায় ওদের, তখন সে আর শফিক ভাই মিলে ছাদে গিয়ে নক্ষত্রবিলাস করে আর নিকোটিনের স্বাদ নেয়…শফিক ভাই ই শিখিয়েছে ওকে, ছাদে শুয়ে বসে রাতের তারা গুণতে গুণতে নিকোটিনের ধোঁয়া টানতে নাকি বেশ লাগে! এখন এই কথা তো আর রূবাকে বলা যায়না! রাশেদ মাথা নিচু করে থাকে।

ওকে এভাবে থাকতে দেখে রূবা হেসে ফেলে।

“আচ্ছা,শোনো, আমার বড্ড খিদে পেয়েছে, কি খাওয়াবে বলো তো?”

” তুমি ৫টা মিনিট বসতে পারবে? সামনেই নূর হোটেল, ওরা চমৎকার লুচি তরকারি বানায়, নিয়ে আসি চট করে।” বলে রাশেদ।

“উঁহু, এখন এই ঝুম বৃষ্টির মধ্যে আর বেরোতে হবেনা তোমায়। বাসায় চাল ডাল নেই? যা আছে তা দিয়েই কিছু একটা বানাও, দেখি তুমি কেমন রান্না করো…বিয়ের পর তো তোমাকেই রাঁধতে হবে!” দুষ্টুমির হাসি রূবার মুখে।

“একটা জিনিস ই রাঁধতে পারি, কিন্তু ওটা তুমি মুখে তুলতে পারবেনা, রূবা! ”

“কেনো পারবোনা? তুমি যেটা খেতে পারবে সেটা আমি পারবোনা? খাবার টা কি?”

“ইয়ে, মানে, খিচুড়ি টাইপ আরকি!”
“খিচুড়ি টাইপ আবার কি? বলো খিচুড়ি ই…যাও, যাও, শুরু করো… এই বৃষ্টির দিনে জমবে খুব” ওর মুখে হাসির ঝিলিক,দেখতেও ভালো লাগে।

আয়োজন করে খিচুড়ি রান্না শুরু হলো, পুরোটা সময় রূবা একবার রান্নাঘর, একবার বারান্দায় আসা যাওয়া করতে থাকলো আর উৎসাহী চোখে দেখতে লাগলো খিচুড়ি রান্না।

“এই, শোনো, বাসায় ঘি আছে? তাহলে খিচুড়ি নামানোর দুই মিনিট আগে দুই চামচ দেবে, কি সুবাস ছড়ায় দেখো কেবল!”

“ঘি তো নেই ”

” ও, আচ্ছা, ঘি ছাড়াও চলবে, লেবু আছে দেখেছি, পাতে খিচুড়ি বাড়ার পর লেবুর রস ছড়িয়ে দেবো, দারুণ হবে দেখো !” রূবার স্বরে উচ্ছাসের ছাপ, মন খুশি হয়ে যায় রাশেদের।

খিচুড়ি নামানো হয়ে গেলে প্লেটে বেড়ে নেয় ওরা। হটাত ই রূবা বলে,
“আচ্ছা, আমরা যদি ছাদে ওঠার সিঁড়িঘরে বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে খিচুড়ি খাই, কেমন হয় বলোতো? প্লিজ, চলোনা,যাই… খুব ইচ্ছে করছে!”

এত অদ্ভুত ইচ্ছে, কিন্তু না করেনা রাশেদ, সিঁড়ির ধাপে বসে খিচুড়ি খায় দুজন। ওপাশে বৃষ্টির কখনো রিমঝিম শব্দ, আর ওপাশে দুজন মানব-মানবীর বৃষ্টিবিলাস!

“আচ্ছা, রাশেদ, তুমি কখনো বৃষ্টি-চা খেয়েছো? খুব চমৎকার হয়, বৃষ্টির কেমন একটা ফ্লেভারে ভরপুর, স্বাদে হয়তো বুঝবেনা, জিনিস টা ফিল করতে হয়। আমি খুব ভালো বানাই, জানো?”

রূবা আর অপেক্ষা করেনা।একটা মগে বৃষ্টির জল ভরিয়ে তা দিয়েই হালকা লিকারের লেবু চা বানিয়ে আনে।

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে রূবা একমনে তাকিয়ে থাকে বৃষ্টিধারার দিকে।

“শোনো,রাশেদ…আমি ঠিক করেছি আমাদের ছেলের নাম রাখবো ‘প্রহর’, সুন্দর না, বলো?”

“ছেলে হবে?” চমকাতে গিয়ে রাশেদের কাপ থেকে চা পরে যায়।

“হুম, কেনো, আমাদের ছেলে হবেনা?”

“না, মানে, মেয়েও তো হতে পারে!”

“উঁহু, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি একটা লক্ষ্মী ছেলের মা ই হবো, নাম রাখবো ‘প্রহর’ ” বলেই হেসে ফেলে রূবা।

“আচ্ছা, রূবা, যদি আমাদের বিয়েটাই না হয়? তখন?”

“এটা আবার কেমন কথা? বিয়ে কেনো হবেনা?”

“দেখো, আমার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, গত ১ বছর ধরে একটা চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিছুই তো লাভ হচ্ছেনা, সেখানে এত স্বপ্ন দেখাটা মাঝেমধ্যেই বেমানান লাগে খুব!”

“এইই, একদম মন খারাপ করা কথা বলবেনা বললাম! দেখো, তুমি ভালো একটা চাকরি পাবে, আমাদের সুন্দর একটা ছোট্ট বাসা থাকবে, এই বাসার সমান হলেও ক্ষতি নেই কিন্তু!” বলেই খিলখিল করে হেসে ওঠে ও।

রাশেদ তাকিয়ে থাকে ওর দিকে।মেয়েটা সবকিছুকে কত পজেটিভলি নেয়, অথচ ওর জীবন টাও খুব একটা সহজভাবে সরলরেখায় চলছে তা নয়। ওর বাবা নেই, মা আর ছোটো দুই ভাই বোনের দায়িত্ব ওর কাঁধেই, তবু ও রূবা হাসতে জানে, স্বপ্ন দেখতে জানে, দেখাতেও জানে…

বৃষ্টি থেমে যায়, রূবা বলে, “তোমার বাড়িওয়ালা চাচা দেখে ফেলার আগেই ভাগি তাহলে!”

“চলো,তোমায় পৌছে দিয়ে আসি”

“তার কোনো দরকার নেই, আমি রিকশা নিয়ে নেবো, আর শোনো, এই প্যাকেট টা ধরো”

“কি আছে এতে?” বিষ্ময় ভরে প্যাকেট টা নেয় রাশেদ।

“আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য এনিভার্সারির গিফট, একটা ছাতা!”

“ছাতা? ”

“ইয়েস স্যার, কারণ ভেবে দেখলাম, এখন বৃষ্টি বাদলার দিন, আর তোমার ছাতা নেই, তো এভাবে ভিজে ভিজে ঘুরে বেড়ালে তো অসুস্থ হয়ে যাবে, তখন চাকরি টা করবে কে, শুনি? তাই এটাই বেস্ট গিফট, আসছি আমি” বলেই বেরিয়ে যায় রূবা। রাশেদ কতক্ষন প্যাকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অবাক হয়ে…মেয়েটা না!

“পাপাই, ও পাপাই…তোমার কি বৃষ্টি দেখলেই মন খারাপ করে?”, ছোট্ট প্রহরের কন্ঠে সংবিৎ ফিরে পায় রাশেদ। ঠিক ই তো, বৃষ্টি দেখেই হঠাৎ পুরোনো কথাগুলো আজ আবার মনে পরে গেলো রাশেদের।

“ওসব কিছুনা বাবাই, তুমি কি এঁকেছো দেখি?” ছেলের সামনে হাটু গেড়ে বসে বলে ও।

” এটা তুমি, মাঝখানে আমি আর ওইপাশে আম্মুই, আমরা হাত ধরে ঘুরছি, দেখোনা, পাপাই”

“বাহ, খুব সুন্দর হয়েছে সোনা, আচ্ছা, প্রহর, তোমার আম্মুইর কথা মনে পরে?”

“হ্যা,পরে তো, কিন্তু আম্মুই তো তারাদের দেশে থাকে, দাদি বলেছে আমাকে, তাই ওখান থেকে আসতে আম্মুইর অনেক দেরি হচ্ছে। তোমার কি আম্মুই র জন্য ই মন খারাপ, পাপাই?”

৫ বছরের ছোট্ট ‘প্রহর’…নাহ, রূবা-রাশেদের ঘরে জন্ম নেয়নি ও। কিন্তু জন্মের পর থেকে প্রহরের একটাই আশ্রয়, রাশেদ, ওর পাপাই।

বিয়ের এক বছরের মাথায় যখন রূবা রোড এক্সিডেন্টে রাশেদ কে ছেড়ে চলে যায়, রাশেদের মনে হতে থাকে, ওর জীবন থেকে সমস্ত আলো নিভে গেছে, জীবন টা ধূসর হয়ে আসে ওর।এমনি এক সময় মাত্র ৩ দিনের শিশুটি আসে ওর জীবনে।রাস্তার পাশে আস্তাকুড়ে পরে থাকা বাচ্চাটিকে দেখে রাশেদের মনে হয়েছিলো ওর জীবনের সমস্ত অন্ধকার মুছে দিতেই হয়তো এসেছে ও। মনে হয়েছিলো, রূবার খুব শখ ছিলো একটা ছেলের। নাম ও ঠিক করে রেখেছিলো ও। এই নিস্পাপ বাচ্চাটি কি তাদের সেই “প্রহর” হতে পারেনা? তাইতো আর সবার নিষেধ অগ্রাহ্য করে হলেও রাশেদ বাচ্চাটির সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।

“পাপাই, ও পাপাই, কথা বলছোনা ক্যানো? আমি কি তারাদের দেশে গিয়ে আম্মুই কে নিয়ে আসবো,তাহলে তোমার মন ভালো হবে?” বাবাকে খুশি করার তীব্র আকুতি ছোট্ট প্রহরের চোখেমুখে।

“না বাবাই, আম্মুই তারাদের দেশে থাক, ওখানেই আম্মুই ভালো আছে, আমাদের দেখছে তো, আমরা ভালো থাকলেই তো আম্মুই ও ভালো থাকবে, তাই না? তাই, তুমি আর পাপাই মিলে খুব ভালো থাকবো, ওকে বেটা? ” ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলে রাশেদ।

“ওকে, পাপাই”, বাবাকে শক্ত করে ধরে থাকে প্রহর, ওর একমাত্র পাপাই।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত