একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে

একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে

বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ীতে প্রথম পিরিয়ড হলো বন্যার।লজ্জায় কিছু বলতেও পারছে না কাউকে বন্যা।এমন একটা বিষয় নিয়ে যে অাবিরের সাথে শেয়ার করবো তাতেও লজ্জা পাচ্ছে বন্যা।তবু লাজ লজ্জা ভুলে অাবিরকে ফোন দিয়ে বললো অাসার সময় প্যাড নিয়ে এসো।অামার পেট খুব ব্যথা।অাবির শুধু বললো অাচ্ছা।

মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেলো।বন্যা ঘরে ইতস্তত হয়ে বসে অাছে।সবাই নামাজ অাদায় করতে গেলো শুধু বন্যা ছাড়া।বন্যা ভাবছে কেউ যদি দেখে নতুন বউ নামাজ না পড়ে বসে অাছে কেন কি উত্তর দিবো?যে বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতি সে হয়তো ঠিকই বুঝে নিবে।

হঠাৎ করে অাবিরের মা ঘরে ঢুকল।

-কি ব্যাপার বন্যা নামাজ না পড়ে বসে অাছো?

-মা,শরীর ভাল না তাই পড়িনি।

-কি হয়েছে শরীরের?

-মা পিরিয়ড হয়েছো তো তাই পেট ব্যথা।

-ও অাচ্ছা।এ কথা বলে বন্যার শ্বাশুরি চলে গেল উনার রুমে

সন্ধ্যার পর কাজের মেয়ে ডায়নিং টেবিলে নাস্তা দিল।কাজের মেয়ে বন্যাকে ডাকতে এসেছে,মামী- নানী নাস্তা খাইতে ডাকে।বন্যা বললো যাও অামি অাসছি।

টেবিলে সবাই বসে অাছে।ভাসুর শ্বশুর শ্বাশুরী নানা শ্বশুর অার অাবীর।বন্যা চেয়ার টেনে বসতে গেল।এমন সময়ে শ্বাশুরী বললো তুমি কর্নার এর চেয়ার টায় বসবে এখন থেকে।বন্যা কিছু না বুঝেই বললো অাচ্ছা।নাস্তা শেষ করে যখন যে যার ঘরে চলে গেল।বন্যা টেবিল গোছাচ্ছে।
এমন সময় বন্যার শ্বাশুরী বলল-“শোন,বউ মা,অামার কোন মেয়ে ছিল না।তাই অামার ঘরে যে কেউ নাপাক অবস্থায় ডায়নিং টেবিলে খাবার খাবে এমনটা হয়নি।বড় বউ জানে তোমাকেও ব্যাপারটা বলে দেয়া ভাল।পিরিয়ড হলে টেবিলে এসে খাবার খাবে ভাল কথা কিন্তু সবসময় একই চেয়ারে বসবে।তোমার এ নাপাক শরীর নিয়ে অন্য চেয়ারে বসার পর যদি অামরাও সেই চেয়ারে বসি তবে অামরাও অপবিত্র হয়ে যাব অার অামাদেরও গুনাহ্ হবে।অামাদের পরিয়ড হলে অামাদের ঘরের কোন বউকে অামার শ্বাশুরী রান্না ঘরে ঢুকতে দিতো না খাবার নাপাক হবে তাই।এজন্য তোমার পিরিয়ড ভাল না হওয়া পর্যন্ত তুমিও রান্না ঘরে ঢুকবে না।কাজের মেয়ে অাছে ও ই এই এক সপ্তাহ রান্না করবে।”

বন্যা শ্বাশুরীর কথাগুলো অবাক হয়ে একটানা শুনে গেল।কোন কিছু বলার সাহস অার পেলোনা।শুধু হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো।

সেই রাতের কথা।ড্রয়িং রুমে সবাই বসে টিভি দেখছে।বন্যা নিজের রুম থেকে ড্রয়িং রুমে অাসলো।সোফা বসতেই এমন সময় শ্বাশুরী বন্যাকে ডাক দিয়ে বললো দাঁড়াও।তুমি সোফায় বসবে না অাগামী এক সপ্তাহ।তুমি যে জায়গায় বসেছো সেখানে অন্য কেউ বসলে নাপাক হয়ে যাবে সে।তারপর কাজের মেয়েটা এসে বন্যাকে একটা বেতের মোড়া দিয়ে গেলো।শ্বাশুরী বললো এক সপ্তাহ পর মোড়াটা ধুয়ে দিবে ভাল করে।অার ডায়নিংএ যে চেয়ারটায় বসে খেলে সেটাও ধুয়ে দিবে।বন্যা শুধু শুনে বলল জ্বী মা।

টিভির রঙ্গীন পর্দার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে বন্যা।পর্দার ঝলকানিতে চোখে পানি টকমল করছে।বন্যার বুকে বুকে হু হু করছে।মনে মনে ভাবছে অাল্লাহ্! এ কোন ঘরের অামায় ফেললে?মা কোথায় পাবো এই ঘরে।অামার মা তো কখনো অামায় এ ভাবে রাখেনি।নিজের মেয়ে হলে কি এরা এমনটা করতে পারতো?

৩/৪ দিন পরের ঘটনা।নতুন বউকে দেখতে এসেছে বন্যার চাচা শ্বশুর অার চাচী শ্বাশুরী।রাতে খাবার খেতে বসেছে সবাই।বন্যা সবাইকে অাপ্যায়ন করছে দাঁড়িয়ে।এমন সময় চাচী শ্বশুরী বললো তুমি নতুন বউ তুমি কেন দাঁড়িয়ে,অাসো এক সাথে খাই।এই বলে বন্যাকে এক রকম জোর করে টেনে বসালো খেতে অন্য একটা চেয়ারে।কিন্তু বন্যার শ্বাশুরী রাগে এক দৃষ্টিতে বন্যার দিকে তাকিয়ে থাকলো অার ইশারায় বন্যাকে ঐ চেয়ারে না বসার জন্য বললো।কিন্তু চাচী শ্বাশুরীর জোরাজোরিতে বন্যা না বসে থাকতে পারলো না।গলা দিয়ে খুব কষ্টে ভাত নামলো বন্যার।

রাতে সব মেহমান যাবার পর বন্যার শ্বাশুরী বন্যাকে অনেক কথা শুনালো।মা বাবা শিক্ষা দেয়নি তোমায়?অামি তোমায় নিষেধ করার পরেও কেন ঐ চেয়ারে বসলে?

তারপর সেই রাতে বন্যার শ্বাশুরী রাগ করে ডায়নিং এর সবগুলো চেয়ার বন্যাকে ধোয়ালো।
বন্যা এক এক করে সবগুলো চেয়ার বাথরুমে গিয়ে ধুলো।বাথরুমের কল ছেড়ে অঝর ধারায় কাঁদতে লাগলো বন্যা।অার ভাবতে লাগলো বাকী জীবনটার কথা…

বি:দ্র অামি কখনো পিরিয়ড বিষয়টা নিয়ে লিখিনি বা লিখতে চাইনি।শুধু ছোট্ট কিছু সত্য ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলতে চেয়েছিলাম যে পিরিয়ড হলে মানুষটা পঁচে যায় না।এটি একটি মেয়ের সংসার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রথম একটি ঘটনা।হাদীস কোরঅান ততোটুকুই মানুন যতটুকু নির্দেশ করা হয়েছে।মিথ্যা,বানোয়াট,মনগড়া হাদীস বানিয়ে মানুষকে ছোট করবেন না অার নিজেরাও পাপের ভাগিদার হবেন না।অার ঘরের বউটাকে গোড়াতে এসে এতোটা টাইট দিতে যাবেন না।তাহলে শ্বাশুরী হিসাবে অাপনিও অাপনার শ্রদ্ধাটুকু হারাবেন।

গল্পের বিষয়:
শিক্ষনীয় গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত