গল্পটা এমনি

গল্পটা এমনি

প্রচন্ড রকম গরম আর রাস্তায় যানজটে গাড়ীর ভিতরে আটকে থাকায় শরীর ও মন দুটোর যখন নাজেহাল অবস্থা তখন বাধ্য হয়ে গাড়ী

থেকে নেমে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলো সিয়াম। তারপর একটা টেস্টি স্যালাইন আধা লিটার মাম পানির সাথে মিশিয়ে নিয়ে চোখ

বন্ধ করে এক চুমুক দিয়ে শেষ করে দিলো। স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করে নিজেকে কিছুটা হালকা করে নিলো।তারপর কিছুক্ষণ বাহিরের

বসে ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে নিলো।

কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সিয়াম আবারো বাসে উঠে পড়লো বাসায় ফেরার জন্য।বাসের ভিতর প্রচন্ড রকম ভীড়,একদম গাদাগাদি অবস্থা।

কোন রকম করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া নড়াচড়া করার কোন উপায় নেই। প্রায় বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা সিট পেলো সিয়াম।সেটাও

অনেক যুদ্ধ করে পেতে হয়েছে। দুই জন মানুষ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তারপর পর সিট দখল করতে হয়েছে। এছাড়া আর সিট পাওয়ার আর

কোন উপায় ছিলোনা।

বাসের সিটে বসে সিয়াম পকেট থেকে মোবাইল টা হাতে নিলো। মোবাইলের আলো টা জ্বালাতেই সিয়ামের চোখ দুটো যেন কপালে উঠো গেলো।

মিতা ১৫০ বার কল করেছে কিন্তু কল রিসিভ করা হয়নি। খুব চিন্তায় পড়ে গেলো সিয়াম, কি জবাব দেবে এখন মিতাকে। ভয় ভয় করে কল ব্যাক

করলো সিয়াম।মিতা কলটা রিসিভ করেই মুখের মধ্য যা আসে তাই বলতে শুরু করলো।একথায় প্রচন্ড রকমের রাগ দেখালো মিতা। সিয়াম শুধু

অবুঝ শিশুর মত ওপাশ থেকে ভেসে আসা কথা গুলো শুনতে লাগলো।মিতার কথা শেষ হলেই সিয়াম শুধু কয়েকটা কথা বললো। আমি গরম

আর যানজটে একদম নাজেহাল, প্রায় অসুস্থ আমি। আর মোবাইল টা সাইলেন্ট থাকায় বুঝতে পারি নাই তুমি কখন কল করেছো তাই রিসিভ

করা হয়নি। এই কথাটুকু বলে কলটা কেটে মোবাইল টা রেখে দেয় সিয়াম।

সিয়ামের কলটা কাটার মিনিট দুয়েক পর মিতা আবার কল করে। এবার কলটা রিসিভ করতে চায়না সিয়াম কারণ মিতা কোন কিছু না বুঝেই

এভাবে কথা বললো। রিসিভ করবেনা করবেনা করেও কলটা রিসিভ করলো সিয়াম।কারণ মিতা কয়েক বার কল দিয়ে ফেলেছে এর মধ্য।

মিতার কলটা রিসিভ হওয়া মাএই ওপাশ থেকে এবার নরম গলায় ভেসে আসতে থাকলো মাফ করে দাও।আমি রাগ হয়ে এমন বলে ফেলেছি।

দয়া করে মাফ করো। সিয়াম কোন কথা না বলে চুপ করে থাকে।

মিতা মোবাইলের ওপাশ থেকে বলতে থাকে খুব খারাপ লাগছে কি? সিয়াম এবার কলটা কেটে দিয়ে মোবাইল টা বন্ধ করে রাখে। মিতা বার বার

চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু সিয়ামের মোবাইল টা বন্ধ পায়। চিন্তায় পড়ে যায় মিতা,রাস্তায় আবার কিছু হলো না তো। ও তো বললো খুব খারাপ লাগছে?

মিতু ছটফট করতে থাকে, কোন কাজে মন বসাতে পারে না। এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। বার বার কল দিতে থাকে কিন্তু কথা একটাই বন্ধ ।
প্রায় ৫ ঘন্টা পর বাসায় ফেরে সিয়াম। কারণ গাড়ীর গতি এতটাই ছিলো যে গরুর গাড়ীতে এলেও এর থেকে আগে পৌঁছাতে পারতো সিয়াম।

যানজটের কারণে গাড়ীর এরকম অবস্থা। বাসায় ফিরে দরজায় নাড়া দিতেই পাগলের মত ছুটে আসে মিতা। দরজা খুলতেই সিয়াম ঘরে প্রবেশ করে।

এরপর মিতা সিয়াম কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে দেয়। কি হয়েছিলো তোমার, মোবাইল বন্ধ কেন ছিলো? মিতুর এমন কান্না দেখে সিয়াম বোকা হয়ে যায়।

রাগী মেয়েটার এমন কান্নায় ভালোবাসা দেখতে পায় সিয়াম । মিতা কে শক্ত করে ধরে সিয়াম বলে তুমি সেসময় ওভাবে বললে কেন? তাই মোবাইল

টা বন্ধ করেছিলাম। অনেক রাগ উঠেছিলো আমার। মিতা কাঁদতে কাঁদতে বলে তুমি আমার রাগটাই দেখলে, আমার ভালোবাসা টা দেখলে না।

কখনো উপলদ্ধিও করতে পারলে না আমার ভালোবাসা। মিতুর চোখের পানি মুছে দিয়ে সিয়াম বলে উঠলো ভালোবাসি, তাইতো কিছু বলতে পারিনা।

শত রাগ উঠলেও চুপ করে থাকি। আচ্ছা এখন থেকে প্রতিদিন বকা দিবা, আবার অফিসে যাওয়ার সময় এবং অফিস থেকে ফেরার সময় একটা চুমু

দিতে দিবা কেমন। মিতা বলে আর কখনো বকবো না ভালোবাসবো,অনেক ভালোবাসবো। তুিমও ভালোবেসো আমাকে? সিয়ামও বলে ভালোবাসি

ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি। আর আজীবন বাসতে চাই।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত