ভালো আছি

ভালো আছি

রূপা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। আসলে মেয়েদের একটা ইচ্ছা শক্তি থাকে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সবসময় কাজ করা ঠিক না নইলে তারা জেদ করে বসে। আমি হিমু। ছোট বেলা থেকে একটু গোছালো ছিলাম। এমনিতেই আমার একটু অভিমান বেশি । রূপা আমার নতুন বিয়ে করা বউ। আমি যতটুকু জানলাম রূপা এই বিয়েতে রাজি ছিল না। রূপা রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।

আকাশ টা দেখছে। আকাশের মাঝে আজ অনেক তারা। রূপা তারাদের সাথে কথা বলতাছে। তারা শুধু উড়ছে। রূপার গায়ে এখনও অলঙ্কার আছে। অলঙ্কার অনেক ভারি। মেয়েরা একদিন নতুন সাজে সাজসজ্জা করে। সেই দিন বিয়ের দিন। আমি রূপার কাছে গেলাম। রূপা আমাকে ভয় পেয়ে আমার থেকে দুই হাত দূরে গেল। আমি বললাম ” আমি জানি আপনি বিয়ে করতে চান নি তবুও আমি বলছি আমি খুব ভালো ছেলে। আপনি যদি আমার সাথে তাকতে না চান আমি জোর করব না। যেকোনো সময় আমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যেতে পারেন। এখন রুমের ভিতর চলেন। লোকজন দেখলে খারাপ বলবে। ”

রূপাকে দেখলাম আমার কথায় কিছু টা লজ্জা পেল। আমার কথা মতো রুমে গিয়ে ঢুকল। আমি মাঝে মাঝে দোলনায় বসি। আমাদের বাসার ছাদের উপর একটা দোলনা আছে। মা যখন আমাকে মারতেন তখন আমি দোলনায় গিয়ে বসে তাকতাম। সেখানে গিয়ে কান্না করতাম। আজও কান্না করতে মন চাচ্ছে। সব সময় আমি ঠকে যাই।

বিয়ের আজ দুই দিন হলো। আমি রূপার সাথে এই দুই দিনে কোনো কথা বলি নি। রূপা মায়ের কাছে বসে বসে গল্প করতাছে। আমি চেয়ে আছি। রূপা এক সময় আমাকে দেখল। আমার কাছে এসে বসল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল ” আপনি সেদিন এমন কথা বললেন কেন? “আমি তো অবাক হলাম। আমি আবার কি বললাম? আমি নিজের কাছে প্রশ্ন করলাম। কিন্তু উত্তর খুঁজে পাই নি। রূপার দিকে চেয়ে বললাম ” কোন কথা? “রূপা লজ্জা ভাব নিয়ে বলল ” ডিভোর্স। “আমি বললাম ” আপনি তো আমাকে পছন্দ করেন না। ” রূপা রাগি কন্ঠে বলল ” আমি কোনো সময় বলেছি এই কথা? ” আমি ভয় ভয় নিয়ে বললাম ” না। ‘

রূপা এবার আমার হাত টা ধরল। আমি কেমন অনুভূতি অনুভব করলাম। আমি রূপার দিকে তাকিয়ে আছি। রূপার মায়ায় পরার জন্য চেষ্টা করলাম। আমি আবার চোখ টা ফিরিয়ে নিলাম। না মেয়েদের প্রেমে পড়তে নেই। মেয়েরা অগোছালো। মেয়েদের প্রেম অগোছালো। রূপা কে দেখলাম আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে। আমি কিছু বললাম না। আমি চলে গেলাম টিভি দেখতে।

টিভি দেখি আর ভাবতে লাগলাম। আসলে জীবন টা খুব অদ্ভুত। আমার ইচ্ছা ছিল আমার বউ কে খুব ভালবাসব। কিন্তু তার কিছু হয় নি। সব কিছু যেন কেমন অগোছালো হয়ে গেল। রূপা আয়নার কাছে বসল চুল টা খুলে আয়নার দিকে চেয়ে চেয়ে গুনগুন করে গান গেয়ে মাথা আছড়াতে লাগল। খুব মায়াবী চেহারা। যে কেউ দেখলে প্রেমে পড়ে যাবে। মেয়েদের সাজে সুন্দর। সাজে অপরূপ লাগে। রূপা কে নিয়ে সকালের কুয়াশা ছড়ানো ঘাসে খালি পায়ে হাটতে চাই। রূপার হাত ধরতে চাই। তবুও ধরি না। এই টার মধ্যে ভালবাসা লাগে। রূপার মধ্যে ভালবাসা নেই। তাতো আমি প্রথম রাতে পেয়েছি। রূপা নিরুপায়। আমি কোনো নিরুপায় মেয়ের সুযোগ নিতে চাই না। তাদের স্বাধীনতা দিতে চাই। হ্যা আমি পারব। আমাকে পারতে হবে। কারণ আমিও একটা নিরুপায় ছেলে ছিলাম।

রূপাকে দেখতে পেলাম শুয়ে আছে। আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিল। একবার দেখেছিলাম আমার দিকে চেয়ে আছে তারপর আর তাকায় নি। আমিও কিছু বলতে চাই আমার ভালবাসার কথা। রূপাকে ভালবাসার কথা। আমি আজও বলতে পারব না। আমি ক্লান্তিহীন। আমি এখন ক্লান্ত। সব কিছুর একটা সময় থাকে সে সময় এখন আমার নেই। আমি বুঝতে পারি না মায়া জিনিষ টা কেন আমার মাঝে সৃষ্টি হয়ে যায়। আমি হাজার চেষ্টা করে তা থেকে মুক্ত হতে পারি না। পারি না একটা নিষ্ঠুর মানুষ হতে। পারি না সব কিছুর মায়া ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যেতে। কিছু মায়ার স্বপ্নে আমি থেমে যাই। আমি রূপা কে ভালবাসতে চাই। দেখতে চাই এই মায়ার মধ্যে আমি তাকতে পারি কিনা। আমি চেষ্টা করব। হ্যা আমি জয় লাভ করব।

আমি আজ থেকে রূপা কে তুমি করে ডাকব। আমার মধ্যে ভালো লাগা কাজ করল। রূপা কে বললাম ” চল না আজ তো খুব শীত এই শীতের মধ্যে দু’জন বাহির থেকে একটু হেটে আসি। রূপা কে দেখলাম আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে। একটু পর দেখলাম রূপা তৈরি হয়ে আসল। আমি খুব খুশি হলাম। দু’জন হাটছি। হঠাৎ দেখতে পেলাম রাস্তার কাছে একটা গোলাপ ফুল। হাতে নিয়ে রূপা কে দিলাম। রূপা খুশি হয়ে ফুল টা নিল। গোলাপ ফুলের মতো রূপার মুখ টা লাল হয়ে গেল। এক অপরূপ লাগছে রূপা কে। হ্যা। আমি আবার মায়ায় পড়ে গেলাম। আমি আবার রূপার প্রেমে পড়ে গেলাম। রূপা আমার দিকে তাকিয়ে বলে ” সবুজ গোলাপ হলে ভালো হত। ” তারপর ঠোঁটে ঠোট লাগিয়ে মুচকি হাসি দিল। আমি বললাম ” সবুজ গোলাপ তো পাওয়া যাবে না। তবে প্লাস্টিকের ফুল হলে দিতে পারব। রূপা হাসি দিয়ে বলে ” তার দরকার নেই।

রূপা ঘুমাইতে চাইছিল। আমি রূপাকে তুলে নিয়ে ছাদে গেলাম। সেখানে দুইজন দাঁড়িয়ে তাকলাম। আকাশ টা খুব সুন্দর। আমার পাশে রূপা শীতে কাঁপছে। আমি দেখা পর এক হাত দিয়ে রূপা কে কিছু চাদরের অংশ দিলাম। রূপা এবার আমার দিকে তাকল। আমি শুধু রূপা কে দেখছি এই চাঁদনী রাতে রূপা কে দেখতে হলুদের মতো লাগছে। আমি দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। কি অদ্ভুত সুন্দর মেয়েটা। আমার বুকের ভিতর চিনচিন ব্যথা করে উঠল। আমি রূপা কে হারাতে পারব না। খুব ভালবাসি রূপা কে। রূপা যেন আমার কাছে একটা নতুন একটা অধ্যায়। ভালবাসার অধ্যায়। রূপা কে সাথে করে এক আকাশের নিচে দু’জন গিটার বাজাতে চাই। একটা গান দু’জন এক সাথে সুর মিলাতে চাই। রূপা আমার কাধে মাথা রাখবে।

আমি চুপ করে তাকব যেন রূপার কোনো অসুবিধা না হয়। রূপা একটা লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে তাকবে। হঠাৎ আমার চোখ পড়ল। রূপার টিপের প্রতি। টিপ টা আমি হাত দিয়ে সরিয়ে অন্য একটা জায়গায় বসালাম। রূপা অনেক রেগে যায় । আমাকে বলে ” আমার টিপ সরালে কেন? “আমি মিটমিট হাসি দিয়ে বললাম এখন সব কিছু ঠিক আছে। ” রূপা আবার রেগে যায়। রেগে গিয়ে বলে ” এবার আমি তোমার চুল গুলো এলোমেলো করে দিব। ” আমি হাসি দিয়ে বললাম ” পাগলি মেয়ে তুমি কার জন্য সেজে আসলে ? ” রূপা নিচের দিকে চেয়ে বলে ” তোমার জন্য। ” আমি আর কিছু বললাম না। রূপার মাথা টা কাধে ফেলে আকাশের দিকে চেয়ে তাকলাম।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত