চাঁদের কন্যা

চাঁদের কন্যা

মিলা:এই তানভীর তুমি সারারাত আমাকে জরিয়ে ধরে ছিলে????

অামি: হুম। কেন???

মিলা: আবার বলে হুম দেখ এই শীতের রাতেও তোমার শরীর থেকে পানি পরছে

অামি: হুম।

মিলা: আবার হুম,

অামি: আরে রাগ করছো কেন তোমার তো কাল রাতে অনেক জ্বর হয়েছিল তুমি তোশীতে কাপছিলে তোমাকে আমি শীতের কাপর পরিয়েছি। তারপর কম্বল দিয়েছি লেপ দিয়েছি তার পরেও তোমার শীত কমছিল না আর তুমি তো কাপছিলে তাই তোমাকেজরিয়ে ধরেছিলাম আর তুমি জানোত যে কাপর এর চেয়ে মানুষ এর শরীর এর তাপ বেশি।আর তোমাকে না আমি না করেছি কতবারযে তুমি এই শীতে সকালে খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঠবে না। তবু কেন যাও বলবে কি আমাকে????

মিলা: কারন আমি জানি আমার জ্বর হলে তুমি সারাক্ষন আমার কাছে থাকবা। আমার যত্ন করবা।আমি প্রানভরে দেখাবো তোমায়।

অামি: তুমি তো জান যে আমি তোমাকে কত ভালবাসি। আর তোমার কিছু হলে আমি সহ্য করতে পারি না আর তাও তুমি কেন আমাকে এত কস্ট দাও বলবে কি??????????কেন সকালে শীতের জামা ছাড়া তুমি রাস্তায় হাট বলতে পারো তুমি.?..?তুমি তো জান যে আমি তোমাকে কতটা বালবাসি তার পরও কেন এই কাজ গুলা কর তুমি???

মিলা: কারন হলো তুমি?

অামি: আমি মানে???

মিলা: হুম তুমি আমি কথা বলতে পারিনা দেখে কেও আমার সাথে মেলামেশা করে না আমার মন খারাপ থাকে তাই তোমাকে কাছে পেতে চাই সারাক্ষন কিন্তু তুমি তো কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাক। তাই আমি এই কাজ গুলা করতে বাধ্য হই। যখন মনখারাপ থাকে তখন প্রতিটা মূহুর্ত তোমার কথা মনে পরে। ইশ আমি যদি কথা বলতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো হতো (অহ আমি তো বলতে ভুলে গিয়েছিলাম যে মিলা কথা বলতে পারে না এটা জেনেও আমি তাকে বিয়ে করেছিলাম)

আমি: কি বলছো তুমি দাড়াও আমি বাবা মা কে জিজ্ঞেস করছি তারা কেন কথা বলে না তোমার সাথে???

মিলা: আহ বাবা মা না বাইরের লোকজন।

আজ আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিবাহ প্লিজ??? তুমি জান যে আমি বোবা তার পরও কেন আমাকে বিয়ে করলা তুমি?? যেদিন তুমি তোমার বাবা মা কে নিয়ে আমাকে দেখতে গিয়েছিলে সেইদিন যখন তোমাকেআর আমাকে আলাদা ঘরে দেওয়া হল কথাবলার জন্ন্যে তখন তো আমি তোমাকে সবকাগজে লিখে দিয়েছিলাম যে আমি কথাবলতে পারি না তখন তো তুমি না বলতেপারতে কেন আমাকে বিয়ে করলে,তোমার সাথে আমাকে মানায় না তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও তার পর ভাল একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেল।

আমি:মিলা ছাদে যাবে চল।

মিলা: না আগে আমার উত্তর চাই। তার পর ছাদে জাব। নইলেনা একি কি করছো তুমি কোলে তুলছো কেন??

আমি: কোন সমস্যা আমার বাড়ি আমার ঘর আমার বউ।কার কি সমস্যা??? আর ছাদে গেলেই সব জানতে পারবে।আর কোন কথা নাই চুপ একদম।

মিলা: তাই বলে কোলে করে নিয়ে যাবে???

আমি: আহ

মিলা: সরি আর কথা বলবনা।

আমি: বসো এখানে আর ওই যে দেখেছো কত বড় চাঁদ???

মিলা: হুম কেন??আর চাদটা খুব সুন্দর তাই না। হবে নাই বা কেন পূর্নিমার চাঁদ বলে কথা।

অামি: আচ্ছা বলতো চাদের গায়ে দাগ গুলো কি???

মিলা: পাহাড়।

অামি: আরে ওইগুলা হল চাদের কলঙ্ক। আর তুমি ঠিক সেই চাদের মত।

মিলা: আহ আমি তো তাই বললাম যে তুমি আরেকটা বিয়ে করে নাও।

অামি: ঠাসসসসস,আরেক বার এই কথা বললে চাপরে তোমাকে আমি সোজা বানাবো। আমার কথা শেষ করতে দাও।

মিলা: ওকে সরি বল।

অামি; জা বলছিলাম ওই আকাশের চাঁদ কিন্তু সবাই পায় না আর যারা পায় তারা একটু খানি কলঙ্ক এর জন্ন্য চাদকে ছেড়ে চলে যায় না।একি তুমি কাদছো কেন???

মিলা: তুমি আমাকে এত ভালবাসো তাই।

অামি: ভালবাসবো না কেন আমি তোমাকে তোমার বাবা মায়ের কাছ থেকে চেয়ে এনেছি।তোমার কোন কস্ট যাতে না হয় সেটা দেখা আমার কর্তব্য। তাইতো এত ভালবাসি তোমায়।প্লিজ লক্ষীটি আর এই বোকামি করো না ওকে

মিলা: ওকে আমি আর করবো না। এইভাবে আমাকে আগলে রাখবে সারাজীবন। (আমাকে জড়িয়ে ধরে)

মিলা: হুম। রাখব শুধু তোমাকে নয় আমাদের ছেলে আবির কেও রাখব।এই আরো সক্ত করে জরিয়ে ধরি??

মিলা: হুম ধরো না মানা করেছে কে??আর তুমি কি করে জানলে??

অামি: কেউ না। তুমি যে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকাপ করিয়ে ছিলে সে আমার বন্ধু ছিল। আর তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে আচার খাচ্ছ সেটাও আমি জানি।জান ওই চাদের থেকে আমার বাড়ির চাঁদ অনেক সুন্দর।দেখো হিংসে হচ্ছে।

মিলা: ধুর আমার সারপ্রাইজ টাই মাটি হয়ে গেল।শুধু ফাজলামো না চাঁদ দেখো……..

অামি: হুম দেখছি আর তুমি ই আমার সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ আর পিচ্ছিটা তো আমার বোনাস।

মিলা: আবার দুস্টমি করছো আমাকে জড়িয়ে ধরো আর চাঁদ দেখ (টাটা ভাই চাঁদ দেখতে হবে বউ এর সাথে নয়ত বউ রেগে যাবে) বাই

বিঃদ্র:অাপনজন গুলো এমনি হয় একটু ভালবাসা পেলেই সুখি হয়ে যায়। তাদের চাওয়া পাওয়াটা যে সব আপনাকে ঘিরে তাই সবসময় আপনজন কে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন।আর মনে রাখবেন আপনার সাথে যার বিয়ে হয়েছে সে কালা হোক বোবা হোক বা ফর্সা হোক বা যে রকম ই হোক না কেন সে তো আপনার অর্ধাঙ্গিনী তাই তাকে মারধর করে নয় তাকে ভালবেসে তার উপর নয় তার মনে রাজত্ব করুন!

সমাপ্তি

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত