বউয়ের উপর ক্রাশ

বউয়ের উপর ক্রাশ

বউয়ের উপর ক্রাশ খাইছিলাম সেই কলেজ জীবনে।আহা! সেই দিনগুলি কত মধুর ছিল! তখন সে যখন কথা বলত,মনে হতো ঢাকা শহরের সব মিষ্টির দোকানগুলি তার মুখের ভিতরে।

মিষ্টির রস চুইয়ে চুইয়ে পরছে! আর এখন? সে যখন কথা বলে, মনে হয় নিম পাতার রসের ড্রাম মুখে নিয়ে বসে আছে। কথা বললেই সেই তেতো রস বেড়িয়ে আসে। জীবনটা ফালাফালা হইয়া গেল। বিয়ে করেছি পাঁচ বছর। সারাক্ষন দৌড়ের উপরই আছি।আল্লাহ তায়ালা যে কেন মেয়ে মানুষ দুনিয়ায় পাঠাইল! তারা একটা মহা যন্ত্রনা। বউ কে কিছু বলতে পারি না, বললেই তেড়ে আসে। আজ অবশ্য বউয়ের উপর একটু সাহস দেখিয়ে এসেছি।আজও যখন খিটমিট শুরু করল, আমি গেলাম মারতে।বউ আমাকে এক ধাক্কা মেরে ফেলে দিল।আমি বললাম দেখ বউ,যখনই তোকে মারতে আসি তখনই তুই আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিস,এজন্য কবে জানি তুই আমার হাতে একটা চড় খাস! এ কথা বলেই পালিয়ে এসেছি।আবার কোন লংকা কান্ড বেধে যায়! আজ অফিসের এক বড় ভাইকে ঘটনা খুলে বললাম।সে বলল,ধুর মিয়া! বউ কন্ট্রোল করাএকটা ব্যাপার! বউ পালা আর মশা পালা আমার কাছে সমান,এটা তো জল বৎ তরলং।

– বলেন কী ভাই! আমাকে একটু আপনার শিষ্য বানান না রে ভাই!আমাকে জলবৎ তরলংশিখিয়ে দিন।
– ঠিক আছে, প্রতিদিন অফিসে আসার সময় বউকে একটু আদর টাদর করে আসবেন। দেখবেন বউমোমের মতো গলে গেছে। এত কাঠখোট্টা হলে তো চলবে না রে ভাই!

– এতেই হয়ে যাবে?
– আলবৎ হবে,১০০%গ্যারান্টি।বিফলে মূল্য ফেরত।

মানি ব্যাক গ্যারান্টি। আমি নাচতে নাচতে বাসায় চলে এলাম। যাক,বউ বশিকরনের উপায় জেনে ফেলেছি। পরের দিন অফিসে আসার সময় চকাৎ করে বউয়ের গালে একটা চুমা মেরে দিলাম।বউ অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল, তার পর বলল,শার্ট খোল।

– কী খুলব?
– শার্ট খুলতে বলেছি,শার্ট।
– আহা জানু! কত সময় তে পড়ে রয়েছে, এখন আবার আদর সোহাগের কী দরকার?অফিসথেকে ফিরি তারপর না হয়,,,,
– তোর অফিসের গুষ্টি কিলাই

,তাড়াতাড়ি শার্ট খোল।নিশ্য়ই তুই কোন মেয়েমানুষের কাছ থেকে এইসব ঢং শিখে এসেছিস।তোরশার্টে নিশ্চয়ই ঐ মেয়ে মানুষের চুল পাওয়া যাবে।দেখি লিপস্টিকের দাগ আছে কী না! আমি ভয়ে ভয়ে শার্ট খুলে দিলাম।সে আদ্যোপান্ত চেক করল। অফিসে গিয়ে বড় ভাইকে আবার ধরলাম।সব শুনে বলল,ধুর মিয়া তুমি কোন কাজের না!বুূদ্ধি থাকলে সিংহের গলায় মালা পরানো যায়,এ তো সামান্য বউ।আজই বউ কে মার্কেটে নিয়ে যাবা,পছন্দের জিনিস পত্র কিনে দিবা,বউ তো বউ, ওর মা ও পোষ মেনে যাবে। অফিস থেকে কিছু অগ্রিম টাকা উঠালাম,তারপর বউকে নিয়ে গেলাম মার্কেটে।তার পছন্দের জিনিসপত্র কেনাকাটা করলাম।সে কিছুই বলল না। ভাবলাম,যাক,বউয়ের মন গলল। বাসায় এসেই বলল,কতদিন যাবৎ চলছে এসব?

– কী সব চলছে জানু?
– আহা, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জান না!

বিয়ের পর হাতি দিয়ে টেনেও তোমাকে মার্কেটে নিয়ে যেতে পারিনি,আর আজনা বলতেই এত মার্কেট করে দিলে।মার্কেটকরা শিখলে কার কাছ থেকে সত্যি করে বল। নিশ্চয়ই তোমার অফিসে প্রমোশন হয়েছে,তুমি আমাকে লুকিয়েছো।তোমার মত বজ্জাতকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি।নিশ্চয়ই কোন ডাইনির পাল্লায় পড়েছ।ডাইনির পিছনে সব টাকা খরচ করছ।তাড়াতাড়ি ডাইনির নাম বল,কুইক। পরের দিন আবার বড় ভাইকে ধরলাম,ভাই রে আপনার সব কেরামতি তো ফেল মেরেযাচ্ছে।বউ মোৃবাতির মতো গলবে কি,উল্টা রিয়্যেকশন দিচ্ছে।আসল কেরামতি থাকলে দেন না রে ভাই! জীবন তো ত্যানা ত্যানা হয়ে গেল।

– ধুর মিয়া, আপনারে বিয়ে করতে বলছে কোন ছাগলে?
– ক্যান ভাই,শুধু ছাগলরাই কী বিয়ে করে?
– শোনেন মিয়া,বউ বশিকরন নিয়ম কানুন মেনে বিয়ে করতে হয়।কিছু জানেন না আজাইরা বিয়ে করে বসে আছেন।শোনেন মিয়া, বউয়ের একটু প্রশংসা টশংসা কইরেন। প্রশংসা শুনলে হিমালয়ের বরফও গলে যায়, আর এ তো আপনার বউ! রাতে বাসায় ফিরেছি।গিয়ে দেখি শালি এসেছে।যাক,শালির কারনে হলেও বউ আজকে আমার সাথে ভাল ব্যবহার করবে।ফ্রেস হয়ে খেতে বসেছি,বড় ভাইয়ের কথা মনে পরল।প্রশংসা করতে হবে,তাহলেই বউ খুশি হবে।

আমি খেতে খেতে বললাম,আহ জানু, আজকের তরকারিটা যা হয়েছে না! একেবারে ফাটাফাটি,এমন তরকারি বহুদিন খাইনি। বলেই বউয়ের দিকে তাকালাম,দেখি বউ খুশি হয়েছে কী না।ও মা! বউ তো দেখি আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে।ঘটনা কী? ঘটনা বুঝার আগেই টেবিলের প্লেট বাটি,চামচ সব আমার দিকে উড়ে আসতে লাগল,সাথে চেচামেচি,হারামজাদা! আমার তরকারি ভাল লাগে না,আজ আমার বোন এক বেলা পাক করেছে তাতেই উনি গদগদ! আজ তোর একদিন কী আমার একদিন। হারামি, বদমাশ,বান্দর,ইতর,,,,,, আমি বউয়ের ঝারি খেয়ে একদৌড়ে রাস্তায়।কি দজ্জাল বউ রে বাবা। কোন কুনক্ষনে যে প্রশংসা করতে গেলাম! রাস্তায় হাঁটছি আর ভাবছি,আহা!যারা বিয়ে করেনি তারা কত্ত সুখি!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত