আজ শুভর জন্মদিন

আজ শুভর জন্মদিন

আজ শুভর জন্মদিন। প্রতিবারের মতোই আজও শুভর বাবা-মা ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে ছোট একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তাই শুভ তার প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীদেরকেও দাওয়াত দিতে ভুলে নি। তবে এখনো শ্রাবণীকে শুভ দাওয়াত দেয়নি। শ্রাবণী হলো শুভর ভালোবাসা। মেয়েটা সুন্দরী না হলেও কুৎসিত ছিল না। অবেশেষে বিকাল পাঁচটায় শুভ শ্রাবণীর ফোনে কল দেয়।

শুভ- কেমন আছো?

শ্রাবণী- হ্যাঁ, তুমি?

শুভ- কেমন আছো জিজ্ঞেস করেছি? (রেগে গিয়ে)

শ্রাবণী- ওহ ভালো। তুমি?

শুভ- যতটুকু ভালো থাকা যায় তার থেকে অনেক বেশী ভালো আছি।

শ্রাবণী- ভালো থাকার জন্য ধন্যবাদ। তা তুমি এখন এই মুহূর্তে ফোন দিলে যে। কোনো প্রয়োজন?( একটু মজা করে)

শ্রাবণীর মুখে এমন কথা শুনে শুভ ফোন রেখে দেয়। রাগবেই না কেন? আজ শুভর জন্মদিন। কাল রাত ১২ টা থেকে শুরু করে এখনও সবাই উইশ করছে। আর শ্রাবণী? শ্রাবণী এখনও শুভকে উইশ করেনি। শুভর খুব খারাপ লাগছে। তাই ফোন বন্ধ করে রেখে দেয় সে। তবুও কি মনে করে ১ ঘণ্টা পর ফোন অন করে শ্রাবণীকে ফোন দেয়। শ্রাবণীও এতক্ষণ ফোন নিয়ে বসে ছিল কখন শুভ ফোন দেয় এই অপেক্ষায়। শ্রাবণী জানতো শুভ কখনো তাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। ফোনটা বেজে চলেছে। শ্রাবণী ফোনের দিকে তাকাতেই দেখে শুভর নম্বর। নম্বরটা দেখতে দেখতে ফোন কেটে যায়। শুভ আবার ফোন করে এবার শ্রাবণী সঙ্গে সঙ্গে কল রিসিভ করে। কল রিসিভ করতেই সবকিছু নীরব। কেউ কোনো কথা বলছে না।

অবশেষে শ্রাবণী যেই বলে ওঠে- শুভ? ঐ পাশ থেকে শ্রাবণী স্পষ্ট শুনতে পায় কান্নার শব্দ। শ্রাবণী বুঝতে পারে শুভ নীরবে কাঁদছে। শ্রাবণী আস্তে করে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে, এই শুভ তুমি কাঁদছো কেন? জানো না তোমার কাঁদা একটু সহ্য হয় না আমার। তুমি কাঁদলে আমার যে বড্ড কষ্ট হয় শুভ। তবুও তুমি কেন কাঁদো? ছেলেরা কি
কখনো কাঁদে? এই শুভ তুমি আমার সাথে কথা বলবে না? শুভ তবুও চুপ করে থাকে। শ্রাবণী আবার বলে, আচ্ছা শুভ তুমি ভালোবাসা অর্থ কি জানো? হয়ত জানো! নয়লে কি আমাদের সাত বছরের সম্পর্ক এখনও আগের মতো থাকতো। আচ্ছা তুমি কি করে ভাবলে তোমার জন্মদিন আর আমার মনে থাকবে না? এই চিনলে আমাকে শুভ? তুমি না আমাকে ভালোবাসো শুভ! এই ভালোবাসো আমাকে শুভ?

শুভ- তুমি আমাকে ভুল বোঝো না শ্রাবণী।

বড্ড ভালোবাসি তোমায় শ্রেয়সী। তুমি তো আমার শেষ বিকালের চাদরে মোড়ানো ভালোবাসা। আমাকে ক্ষমা করে দেও শ্রাবণী। আর কখনো এমন হবে না। সত্যি বলছি। শ্রাবণী শুভর কথা শুনে বলে, এই পাগল তোমার কি হয়েছে বলো তো? তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছো কেন? তুমি জানো না আমরা দুজন একই গাছের দুইটা ফুল। হাসো বলছি এবার? হাসো! না হাসলে কিন্তু আর কথা বলব না। শুভ এবার মুচকি হাসিটা দিয়ে বলে, আজ আমাদের বাসায় ৭:৩০ এ আসবে। ছোট একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শ্রাবণী- ওয়াও! খুব মজা হবে। আচ্ছা কি পরে আসবো শুভ?

শুভ- নীল রঙের হালকা ধূসর পাড় দেওয়া শাড়ি যেটা আমি আমাদের ৫ম ভালোবাসা দিবসে তোমাকে উপহার দিয়েছিলাম। চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা করে মিহি রঙের লিপস্টিক, হাতে নীল আর কালো রঙের চুড়ি আর ছেড়ে দেওয়া চুল। এই সাজে আসবে তুমি।

শ্রাবণী- বাব্বাহ্! যেই মানুষটা আমার সাজ দেখে তিনদিন কথা বলেনি, সেই মানুষটাই আজ শ্রাবণীর মুখ থেকে কথাটা কেড়ে নিয়ে শুভ বললো, হ্যাঁ বলেছিলাম। তখন তুমি আমার ছিলে না, এখন তুমি আমার। আগামী সপ্তাহে আমাদের বিয়ে। আর হ্যাঁ, এখন আর কথা নয় তুমি সঠিক সময়ে চলে আসবে।

শ্রাবণী- আচ্ছা, ঠিক আছে।

ঠিক ৭:৩০। তবুও শ্রাবণী এলো না। শুভ স্থির থাকতে পারছেনা। একবার বারান্দায় যাচ্ছে, একবার দরজা খুলে দেখছে কখন শ্রাবণী আসবে! এভাবে ১ ঘণ্টা বারো মিনিট পর শ্রাবণী আসে। শুভ দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলে। শ্রাবণীর দিকে তাকাতেই ও সবকিছু ভুলে যায়। শ্রাবণী শুভর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়। শুভ ঘোর কাটিয়ে বলে, এতো দেরি হলো যে? কখন থেকে তোমার অপেক্ষায় বসে আছি। শ্রাবণী উত্তরে বলে, দুঃখিত। রাস্তায় ভীষণ জ্যাম ছিল। এজন্য আসতে দেরি হলো। নতুবা অনেক আগেই আসতাম।

শুভ- হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি। চলো এবার। শ্রাবণী মাথা ঝাঁকিয়ে শুভর পিছন পিছন যায়। শুভ শ্রাবণীকে সবার সাথে পরিচয় করে দেয়। এর ঠিক চল্লিশ মিনিট পর শ্রাবণীর আম্মু ফোন দেয় শুভর ফোনে। ব্যস্ততার মাঝে দুইবার ফোন রিসিভ করতে না পারলেও, তৃতীয়বার রিসিভ করে।

শুভ- হ্যাঁ, আণ্টি।আণ্টি( শ্রাবণীর আম্মু) – শুভ তুমি কোথায় বাবা? ( কাঁদো কাঁদো কন্ঠে)

শুভ- আণ্টি আমি বাসায়। কেন? কি হয়েছে?

আণ্টি- শুভ বাবা সব শেষ হয়ে গেছে। শ্রাবণী বেঁচে নেই।

১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট আগে শ্রাবণী রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে। আমি এখন হাসপাতালে বাবা। তুমি তাড়াতাড়ি আসো। শুভ নিস্তব্ধ হয়ে দেয়ালের সাথে পিট ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অজস্র জলকণা। শুভ এবার জোরে জোরে বলতে থাকে, আচ্ছা ভালোবাসা তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন? নিষ্ঠুর কেন তুমি এতো। কেন তুমি সত্যিকারের ভালোবাসাগুলোকে পূর্ণতায় পরিণত করো না।

কেন করো না তুমি! সবাই শুভর এমন আচরণে হতভম্ব হয়ে যায়। শ্রাবণী আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে শুভর দিকে। শুভ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শ্রাবণীর দিকে। শ্রাবণী শুভর চোখের জল মুছে দিয়ে বলে, তুমি কাঁদলে আমি যে কষ্ট পাবো শুভ। তুমি কি চাও আমি কষ্টে থাকি? শুভ তোমাকে দেওয়া কথা আমি রেখেছি। ভালোথেকো
শুভ। বলেই শ্রাবণী মিলিয়ে যায়। শুভ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শ্রাবণীর দিকে। শুভ শ্রাবণীর স্মৃতিগুলোকে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হিসাবে বেছে নিয়েছে। এভাবে পাঁচটা বছরও অতিক্রম করে ফেলেছে। না জানি কতটা বছর তাকে স্মৃতিগুলোকে বুকে ধারণ করে বেঁচে থাকতে হবে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত