ভালোবাসার বড়দিন

ভালোবাসার বড়দিন

ডি.আই অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ এক সুন্দরী মহিলার কন্ঠ – ‘হ্যালো আজ আমি ফিরছি না ‘।প্রীতম গাড়িটাকে পার্কিং করার সময় হঠাৎ গলার স্বরে চমকে ওঠে ,বুকের রক্ত ছলকে ওঠে। তাকিয়ে দেখে সহেলী সে যেন হঠাৎ বিদ্যুতের শক খায়। অন্যদিকে সহেলী তার চেনা শহরে এসে ভাবতে থাকে, কি সুন্দর সাজে সেজেছে তার চেনা শহর।আগামীকাল 25 শে ডিসেম্বর। সহেলী ভাবল এই দিনটাতেই ঘটেছিল অভাবনীয় ঘটনা ।আজ থেকে 10 বছর আগে প্রীতম জোসেফ সহেলীকে প্রপোজ করেছিল। কিন্তু সহেলী তখন কলেজের সেরা ছাত্রী নাচ- গান ,আবৃত্তি সকল কিছুতেই যেন মা সরস্বতী তাকে ঢেলে সাজিয়েছেন ।তেমনি অসাধারণ সুন্দরী। কলেজ থেকে এক বার এক্সকারশনে গেলে সহেলীকে প্রীতম প্রপোজ করে ।

কিন্তু সহেলি গোরা রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে তখন বিলং করছে। আর বাবা প্রচন্ড রাশভারী লোক ।সহেলীর নিজস্ব কোন মতামতের মূল্য ছিল না। সে জেনেই সহেলী বিষয়টাকে মজার ছলে নিয়েছিল ।কিন্তু জোসেফ হাল ছাড়েনি ,শেষে সহেলী বলল ,তাকে ভাল করে প্রতিষ্ঠিত হতে। এভাবে মাস্টার্স কমপ্লিট করে ,সহেলী প্রীতম এর আগে চাকরি পেয়ে যায় ।তার দুমাস পর প্রীতম ।অন্যদিকে প্রীতম ছিটকে গেছে নর্থ বেঙ্গল।আর সহেলীর বিয়ে হয়ে যায় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিওর সঙ্গে ।

প্রীতম জানতে পেরে মানসিক আঘাত খায়, পরে অবশ্য সুস্মিতা ওর জীবনে আসে কিন্তু সহেলীকে ভুলতে পারেনি ।তাই ডি.আই অফিসের সামনে সহেলীকে দেখে ছুটে যায় তার কাছে এবং জানতে চায়-‘ এখানে সে কি করছে ‘? তখন সে বলে-‘ আর বোলো না প্রীতম ,আমার টান্সফার হয়ে গেছে কিন্তু কিছুতেই আমার অপশন পেপার এবং সার্ভিস বুক কাউন্টার সাইন করাতে পারছি না ।ফলে আমাকে আজ দেড় বছর ধরে ঘুরতে হচ্ছে ‘। ‘সে কি কথা? ঠিক আছে ,চলো তো দেখছি ‘। ডি.আই অফিসে গিয়ে প্রীতম সব তদারকি শুরু করে দেয় এবং সহেলীকে কথা দেয়-‘ 25 এ ডিসেম্বরের ছুটির শেষে নতুন বছরে সে ভালো খবর পাবে ।তার কাজ হয়ে যাবে। আচ্ছা সহেলী? তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে কেন? আমি কি দোষ করেছিলাম ‘? সহেলী বলল -‘ সব কথা কি এখানে দাঁড়িয়েই বলবে ‘?তখন সে বলল-‘ না ‘।আচ্ছা সহেলী চলো, আজ তোমাকে চেনা শহরটা আর একবার বাইকে করে ঘোরাই। তুমি আজ কোথায় যাবে মায়ের কাছে তো? ‘হ্যাঁ’ ।ঠিক আছে তুমি আমাকে ধরে বস ।সহেলী ধরে বসে না কিন্তু বাম্পারে ধাক্কা খেতে সহেলী প্রিতমের গায়ে পড়ে যায় ।প্রীতম যেন কেমন হয়ে যায়, তার হাত-পা অসাড় হয়ে যায়। কোনরকম নিজেকে সামলে নিয়ে বলে ,-‘কোথাও গিয়ে বসবে সহেলী ?আমাদের সেই চেনা জায়গায় ‘।

সহেলী বলে-‘ না ,প্রীতম আজ অনেকটা দেরি হয়ে গেছে ।আজকে আমাকে ফিরতে হবে ।প্রীতম বলল -‘তাহলে কথা দাও ,কাল তুমি আমার সঙ্গে দেখা করবে ‘?সে বললো -‘ঠিক আছে দেখছি ‘।সহেলী বাড়ি ফিরে গেল। বাড়িতে গিয়ে সে দরজা বন্ধ করে ,নিজেকে আর একবার দেখলো আর চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরতে লাগল ।মা এসে দরজা ধাক্কাতে লাগলেন । ‘কিরে সহেলী কিছু খাবিনা ? দরজা বন্ধ করেছিস কেন ?তোর গরম কফি এনেছি। ওঠ মা দরজাটা খোল ‘। তুমি এখন এসো মা ।আমার কিছু ভালো লাগছেনা ।আমি টায়ার্ড ‘। ‘ তা বললে কি হয় ‘?দরজাটা খুলল বাধ্য হয়ে সহেলী ।দরজাটা খুলে কল্যাণীদেবী মেয়ের কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন কি হয়েছে? ‘তোর বর ওদিকে ফোন করছে, ফোনটা তোলো তুমি ‘।তুমি তোল মা আর বল ডিসেম্বরের ছুটিটা আমি এখানেই কাটাবো ‘।’ সে কিরে ! মৃগাঙ্ক ও আসবে ছুটি নিয়ে। তুই এখানে থেকে যাবি ‘?আমার কাজ হয়নি মা ।আমার কাজটা মিটিয়ে তবে যাব। তুমি আমাকে বিরক্ত করো না ‘।’ কিন্তু তোর কফি ভালো লাগছে না খেতে ?ঠিক আছে, তোর যেটা মন চায় সেটাই কর ‘।’ তাইতো করছি মা এখন। আমার মনের দাম তো তোমরা দাও নি ‘।মা দরজা ভেজিয়ে চলে গেলেন ।

ইতিমধ্যে প্রিতমের ফোন বেজে উঠলো ,কয়েকবার বাজার পর কেটে গেল। সহেলী ফোন ধরল না । আবার ফোন বাজতে শুরু করলো ,এবার সহেলী ফোন ধরলো ।প্রীতম বলল -‘ আমাকে নিয়ে ভাবছো? কালকে দেখা করছ তো ‘? ‘জানিনা’।’ কেন ?তারমানে হ্যাঁ ধরে নিই ‘। ‘কেন প্রীতম তুমি আমাকে এরকম জেদ করছো ‘?’ একবার ,তুমি আমার সাথে দেখা কর সহেলী একবার প্লিজ ‘। ‘ঠিক আছে ।কখন বল ‘? ‘ ঠিক তুমি দশটায় এস আমাদের সেই পুরনো জায়গায়। আমি সেখান থেকে তোমাকে ড্রপ করব। ঠিক আছে ভালো থেকো ‘। পরেরদিন সহেলী ঠিক দশটায় সেই জায়গাটাতে দাঁড়ালো। পরনে হলুদ ঢাকাই, কালো সানগ্লাস ।

অন্যদিকে প্রীতম ব্ল্যাক জিন্স ও হলুদ শার্ট। কি অদ্ভুত মিল দুজনার ।দুজনে দুজনকে দেখছে ।প্রীতম বলল -‘ সহেলী উঠে এসো গাড়ীতে ‘। সহেলী জিজ্ঞেস করলো -‘কোথায় যাবো আমরা ‘? প্রীতম বলল -‘ কোন প্রশ্ন করো না। চলো আমি ঠিক জায়গায় তোমাকে নিয়ে যাব ‘। গাড়ি চলতে শুরু করল ।প্রীতম বলল – ‘সহেলী তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে ।আচ্ছা ,বলতো স্কুল ছাড়া সময় কাটাও কি করে ‘?সহেলী বললো -‘ কেন ?লেখালেখি করে ।আর পাশে না একটা অনাথ আশ্রম আছে। সেখানে ছুটির দিনে ওদের সঙ্গে সময় কাটাই ।জানো তো প্রীতম যখন আমি ভাবি, ওদের কাছে যাই ওরা কত খুশি হয়। একগুচ্ছ ভালোবাসা, টাটকা অক্সিজেন পাই ।তোমার কাছে স্বর্গীয় সুখ মানে বলতে বোঝ আমাকে পাওয়া ।আর আমার কাছে ওই ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা ।জানো তো ,মাঝে মাঝে ভাবি -ওদের কি দোষ ছিল? ওরা অনাথ হয়ে আছে কাঁধের কৃতকর্মের ফলে?সহেলী বললো – আমি বাচ্চা অ্যাডাপ্ট করবো ‘।সঙ্গে সঙ্গে প্রীতম এর গাড়ি ব্রেক কষলো। বাচ্চা অ্যাডাপ্ট করবে মানে ?তোমার কোনো ইস্যু নেই ‘?

সহেলী অন্যমনস্ক ভাবে গাড়ীর জানলা দিয়ে তাকিয়ে রইল অনন্ত নীল আকাশের দিকে,যেন তৃষ্ণার্থ চাতক পাখি। তখন শুধু বলল-‘ জানো তো মহারাজ কি বলেছিলেন ? বলল -‘ মা সহেলী একজনের মা হতে চাও ? নাকি এতগুলো সন্তানের ?কোনটা তোমার কাছে পরম পাওয়া মা ‘। সেদিনই বুঝে গেলাম উনি কি বলতে চান কিন্তু প্রীতম তুমি এই ব্যক্তি সুখে ডুবে থেকো না ।বৃহত্তর জগতে নিজেকে ভাসিয়ে দাও।

তাহলে আমার থেকে তুমি মুক্ত হবে ‘।হঠাৎ ব্রেক কষে ধরল প্রীতম। সহেলী ছিটকে প্রীতমের গায়ে পড়ল। প্রীতম আবার সহেলীকে সামলে নিলো আর বললো-‘ সহেলী আমি তোমার মত হতে পারবো না গো ‘। এরপর গাড়ি সবুজ অরণ্যবেষ্টিত গ্রামে ঢুকলো ।সহেলী যেন এক বুক টাটকা বাতাস প্রান ভরে নিল ।সামনে সাইনবোর্ডে লেখা আছে নির্মল গ্রামে প্রবেশ করছেন আপনাকে স্বাগত। ধীরে ধীরে গাড়ি একটি বিশাল বাড়ির গেটের কাছে থামলো বাড়িটি দেখেই মনে হয় আভিজাত্য ও বনেদীয়ানার মেলবন্ধন। গাড়ির সামনে গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতারা এসে জড়ো হলো ।

আর প্রীতম গাড়ি থেকে নামতেই, এক বিশাল সংবর্ধনা। কেউ এগিয়ে এসে আশীর্বাদ ,কেউ কোলাকুলি, কেউ কেউ কোলে এসে বসলো আর চকলেট খাবার বায়না করলো।অন্যদিকে প্রীতম হাসিমুখে কচিকাঁচাদের চকলেট গুলো দিতে শুরু করল ।সহেলী দেখলো প্রীতম কে গ্রামবাসীরা ভীষণ ভালবাসে আর শ্রদ্ধাও করে ।কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে এক বৃদ্ধকে প্রীতম জিজ্ঞাসা করলো করিম চাচা তুমি এখন কেমন আছো ? ডাক্তার দেখাচ্ছ তো ‘? ওই বৃদ্ধ বললেন -‘ হ্যাঁ বাবা ,তোমার দয়াতেই তো বেঁচে আছি ‘। প্রীতম বলল-‘ এভাবে আমাকে ছোট করোনা ।আমি তো তোমাদের পুত্রতুল্য ।গড যিশু তোমাদের কে রক্ষা করছেন ‘।সহেলী এসব দেখে অবাক হয়ে গেল ।এবার প্রীতম সহেলীকে বললো-‘ চলো আমরা ভেতরে যাই ।লক্ষীমা সব ব্যবস্থা করে রেখেছো ‘? ‘ হ্যাঁ বাবা ‘।আর মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগলো।সহেলী এসব বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে তার সাথে আর মনে মনে ভাবছে একটি অন্য মেয়েকে নিজের দেশের বাড়ি এনে তুলল তাতে ওর বউ কি ভাববে? গ্রামের লোক কি ভাববে?এসব ভেবে সহেলীর মরমে মরে যেতে ইচ্ছে করছিল ।অন্যদিকে প্রীতম তরতর করে দোতালায় উঠে গেল। সহেলী বেচারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।

কিছুক্ষণ পর এক বৃদ্ধা মহিলা এসে বললেন-‘ এস দিদিমণি, ওপরে চলো তোমার ঘরে’ ।সহেলী অবাক হয়ে বলল -‘আমার ঘর’! ‘ হ্যাঁগো দিদিমনি। আজ 10 বছর ধরে তোমার ঘর সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তোমার আসার সময় হয় না। আমার বয়স হয়েছে, আর কদিনই বা বাঁচবো। ভেবেছিলাম হয়তো কোনদিন তোমার সঙ্গে দেখা হবে না ,তার আগেই স্বর্গে …।ছেলেটা যে, কি ভাল তোমায় বাসে। চলো ,দেখবে চলো ‘। আরো অবাক হয়ে সে বৃদ্ধাকে অনুসরণ করে উপরে গেলো। ওপরে গিয়ে একটি সুন্দর সাজানো ঘরে সহেলীকে নিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে ঢুকতেই একরাশ পুষ্পবৃষ্টি তার মাথার উপর পড়তে শুরু করলো ।এবার ঘরে লাইট জ্বলে উঠলো। আর মিষ্টি রবীন্দ্র সংগীত বেজে উঠলো – এসো আমার ঘরে /বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছ অন্তরে /স্বপনদুয়ার খুলে এসো অরুণ আলোকে /মুগ্ধ এ চোখে ‘।

আর দেখল শুধু গড যিশু আর সোহেলীর ছবি সারা ঘর জুড়ে। এবার সহেলীর যেন মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হল প্রীতম এসে ধরল ।সহেলীকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। প্রীতম তার মাথায় হাত বুলাতে লাগল। সহেলী ধাতস্থ হলে, বলল -‘ এসব কি প্রীতম ‘? প্রীতম বলল -‘ কেন ভালবাসা ‘?এবার সে উঠে বসল ।এ কি রকম ভালোবাসা? তুমি তো আমাকে কোনদিনই পাবে না। আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তুমি নিশ্চয়ই বিয়ে ভাঙতে বলবেনা? প্রীতম বলল -‘ সেটা আমি কখনো বলবো না। তবে যদি বিয়ে ভেঙে আমার কাছে আসো ,তাতেও অবাক হব না ।কারণ আমি শুধু তোমার শরীরকে ভালোবাসি না। আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। এ চাওয়ায় নেই কোনো উন্মত্ত করা ক্ষণিকের জৈবিক চাহিদা ‘। ‘ তোমার বউ যদি জানে ,তাহলে কি হবে জানো’? ‘ জানি ।তা হলেও তোমার ভয় নেই ‘?’ আমার তো কিছু হারানোর নেই সহেলী। কারণ আমি তোমাকে পাগলের মত ভালোবাসি।

এটা যদি কেউ মানতে না পারে ,সেটা তো আমার দোষ নয় । কারণ সে আমার শরীর পেয়েছে মন পাবে না যদি তোমার প্রতি ভালবাসাটা মানতে না পারে ? পারলে আখেরে ওই লাভবান হবে ।বুঝলে সোনা ‘?বলেই বাথরুমে চলে গেল। সহেলী এরকম ভালোবাসার মানে খুঁজে পেল না। তবে সে যেন প্রীতমকে শ্রদ্ধা করতে শুরু করল। তবে কি সে প্রীতম কে ভালবাসতে শুরু করল নতুন করে ? সত্যিই তো এভাবেও কেউ ভালবাসতে পারে ?এদিকে সোহেলীর ফোন বাজতে শুরু করলো ।ফোনটা তোল সহেলী? প্রীতম বাথরুম থেকে আওয়াজ দিল কিন্তু ফোন বের করতে করতেই দেখতে পেল মৃগাঙ্কের ফোন। কিন্তু সে তুলল না ।অন্যদিকে প্রীতমের ফোন বাজতে শুরু করলো। প্রীতম বলল -‘ আমার ফোনটা তোলো ‘।’ তোমার বউ করেছে, তুমি ধরো ‘। ‘ আচ্ছা ফোনটা দাও ‘।সহেলী কেমন অবাক হয়ে গেল। কোন টেনশন যেন ওকে কাজ করছে না। এই বোধহয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে ।সহেলী দেখল ,প্রীতম বলছে-” তোমরা কতদূর”? বলেই ফোনটা কেটে গুনগুনাতে লাগলো-‘আমার পরান যাহা চায়……’।

সহেলী বলল -‘ প্রীতম তোমার টেনশন হচ্ছে না ‘? প্রীতম শুধু আড় চোখে তাকালো আর গালদুটো টিপে দিল ,বলল – ‘তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও ‘। সহেলী বলল-‘ না আমি ঠিক আছি ‘। ‘ তা অবশ্য ঠিক। তুমি সব অবস্থাতেই ভালো ‘। এর পর দেখা গেল হই হই করতে করতে এক গাদা শিশুসহ এক সুন্দরী মহিলাকে ফুল ,কেক আর মোমবাতি নিয়ে এসে “হ্যাপি বার্থডে দিদি ভাই”।- বলে স্বাগত জানালো । প্রীতম এবার বলল – ‘ হ্যাপি বার্থডে সহেলী ‘। সহেলী আজ নিজেই ভুলে গেছিল আজ ওর বার্থ ডে। আজ যেন সব থেকে আনন্দের আর বড় বার্থ ডে’র উপহার পেল। প্রীতম বলল – ‘ সহেলী, এ সুস্মিতা ,আমার স্ত্রী ।আর সোহানা আমার মেয়ে ‘।সুস্মিতা বলল -‘ দিদিভাই তোমাকে আজ এখানে দেখে আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। আজ দশ বছরে এই প্রথম তোমার ঘরে ঢোকার অনুমতি পেলাম। আমার স্বামীর চোখে মুখে আজ আনন্দের ছাপ, যা দীর্ঘ 10 বছরে দেখিনি ।আমার স্বামীর খুশিতে আমি খুশি ।সুস্মিতা বলল -‘ আজ প্রভু যীশুর দয়াতেই আমার স্বামী তোমাকে পেল, সে যেমন করে পাওয়াই হোক না কেন ?তাই এসো আজ আমরা সকলে বড় দিনের এই দিনটিতে আমরা সব মনের দুঃখ কষ্ট ভুলে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, সকলেই যেন ভালো থাকে ।এসো সকলে মিলে একটা সেলফি নিয়ে নিই যা আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় সযত্নে রাখবো ‘। সহেলী ভাবলো এরা দুজনেই কি পাগল !

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত