ছুটির সেই দিনটি

ছুটির সেই দিনটি

ভোরের আলো এসে একদম চোখে-মুখে লাগলো, সাথে সাথে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেলো আমার চমৎকার স্বপ্নটি। স্বপ্নটি আসলে আকাশ পথে উড়াউড়ি নিয়েই ছিলো, এমন সুন্দর সুপারম্যানের মতো উড়াটা সত্যিই খুব উপভোগ করছিলাম। আজ মনটা কিন্তু খুবই ভালো কেননা আজকে আমার ছুটির দিন, অনেকদিন পর অফিস থেকে ছুটি পেয়েছি। বিছানা থেকে উঠে দাত ব্রাশ করে বসে গেলাম প্রতিদিনের মতো পত্রিকা পড়তে। জমিদারের মতো, হাতে চায়ের কাপ নিয়ে মনোযোগের সহিতে পত্রিকা পড়ছিলাম। তৎক্ষণাৎ দক্ষিনের জানালা দিয়ে ফুরফুরে বাতাস বয়ে আসতে লাগলো আমার দিকে।

মনে মনে বললামঃ- দিলোতো মনোযোগের ১২টা বাজিয়ে?
কিন্তু আজকের এই বাতাসটা আগেরদিনের মতো হাসিখুশী মনে হচ্ছেনা। বাতাসের সাথে কেমন একটা কষ্টের সূর শুনতে পাচ্ছিলাম।সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেছিলাম আজকের দিনটা বোধহয় ভালো যাবে না।

এদিকে প্রতিদিন সকালে বাহির থেকে আশা মহল্লা বাসির চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনলে আপনার মগজ সিদ্ধ আলোর মতো হয়ে যাবে, যদিও এই নির্যাতনে আমি অভ্যস্ত। আসলে খুব ভোরেই মহল্লায় পানি দেওয়া হয়, যে যতো আগে আনতে পারবে সেইদিনের জন্য সেই বাচবে, বাকি কতোজন পানির জন্য আহাজারি করে সেটা কেউ দেখেনা।

দূর, সব পালাই চুলায়, আজকে ছুটির দিনটি ভালো ভাবে কাটাতেই হবে আমায়।
(এই ভেবে পত্রিকা পড়তে মনোযোগী হয়ে গেলাম। তারপর পত্রিকায় যা পড়লাম তা পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।)

পত্রিকায় দিয়েছিলো…

একটি মেয়ে যার নাম তামান্না। তাকে নাকি কে বা কারা ধর্ষণ করে রাস্তার পাশে একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে গিয়েছে। পরবর্তীতে কিছু বাচ্চারা ক্রিকেট বল খুজতে গিয়ে মেয়েটিকে সেখানে দেখে ভয়ে চিৎকার করে। বাচ্চাদের চিৎকারে আশেপাশে লোকজন এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করলে দেখা যায় কোনো এক মন্ত্রীর ছেলের কাজ এইটা। মন্ত্রী বিষয়টি টাকাপয়সা এবং ক্ষমতার জোর দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

(আসলে আমি কোন দলকে বা কোনো দলের মন্ত্রীকে উদ্যেশে করে দোষ দিচ্ছিনা। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মন্ত্রীরা ও ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিরা আছে যারা এইভাবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে সবসময়। তবে কিছু কিছু মন্ত্রী বা ব্যাক্তির দোষ দলকে দেয়া ঠিক না। কারণ, একই দলের সবাই খারাপ হয় না। অবশ্য মাঝে মাঝে ব্যক্তির দোষ দলের ওপরও বর্তায়।)

শেষমেষ কোনো সুবিচার না পেয়েই মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

(তামান্নার মতো অনেক মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। কেউ তামান্নার মতো আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছে কেউবা আবার সুবিচারের আশায় যুদ্ধ করে যাচ্ছে)

নিজেকে সামলে নিয়ে, মনে মনে বললাম…
-নাহ! আজকে আর পত্রিকা পড়বোইনা। অনেকদিন ধরে মনটা করিম চাচার দোকানে যাওয়ার অনুমতির জন্য প্রতিবাদ করছে । তাই মনের সেই প্রতিবাদের আগুন নিবানোর জন্য ছুটে চললাম করিম চাচার দোকানের দিকে।
বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সা খুজতে লাগলাম। কিন্তু আজকে কোনো রিক্সাই পাচ্ছিলাম না। এমন সময় লক্ষ করলাম রাস্তার পশ্চিম পাশে একটি ড্রেনের সামনে অনেক মানুষের ভীড়। তারপর কাছে গিয়ে দেখলাম সেখানে একটি মৃত বাচ্চার লাশ। কিন্তু এই দেখে আশ্চর্য হলাম যে বাচ্চাটির দেহ এখনো সম্পুর্ণ ভাবে পূর্ণ হয়নি। এইটাও জানি, এই কাজটি কোন রকমের মানুষের কাজ। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলাম না এই ভেবে যে – আমাদের দেশের কিছু কিছু মানুষ এতো নিকৃষ্ট হচ্ছে দিন দিন।

(সত্যিই আজকের ছুটির দিনটি ভালো যাচ্ছেনা। আল্লাহ্ই জানেন সামনে কি কি দেখতে হবে আর।)

রিক্সায় করে করিম চাচার দোকানে চলে গেলাম। তারপর চাচাকে বললাম…
-আমিঃ চাচা! এক কাপ চা দাও তো ভালো করে। মনটা তেমন ভালো নেই।
-করিম চাচাঃ আচ্ছা বাবা দিচ্ছি।

(কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমার হাতে চা এলো। চা খেতে খতে চারপাশের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চাইলাম। কিন্তু চারিদিকটা কেমন জানি দুষিত মনে হচ্ছিলো। হবে নাই বা কেন? প্রতিদিনইতো জঘন্যমূলক কাজ হচ্ছে চারিদিকে।)

চা খেতে খেতে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম একটি বাচ্চা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর আমার খাওয়াটাকে দেখতেছে।

আমি কাছে গিয়ে বললাম
-আমিঃ কি ভাই? খাবি?
(আমার মুখে ভাই কথাটি শুনে বাচ্চাটি অবাক হলো।)
তারপর বাচ্চাটি বললো..
-বাচ্চাটিঃ হায়রে দুনিয়ার মানুষ! যখন চাইলাম তখন পাইলাম না, আর এখন পেয়ে কি হবে?
(বাচ্চাটির মুখে কথাটি শুনে আমি কিচ্ছু বুঝতেছিলাম না।)
তাই মনের ভেতরের যে প্রশ্নটি ছটফট করছে সেই প্রশ্নটি বাচ্চাটিকে করেই ফেলাম…
-(আমি):- তোমার কথাটি আসলে আমি বুঝতে পারিনি। তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারবে?
(তারপর বাচ্চাটি যা বললো সেটা শুনে নিজের চোখের পানি আটকাতে পারলাম না আমি)
বাচ্চাটি বলল…

-(বাচ্চাটি):- সাহেব! দুঃখের কথা কি আর কমু। গতকয়দিন আগে আমার বোনটি মারা যায়। আমার কেউ বলতেতো আমার বোন ছিলো, এখনতো আমার তাও নেই । রাতের বেলায় বৃষ্টিতে ভিজে রাত পার করেছিলাম আমরা ভাই-বোন। বৃষ্টিতে ভেজার কারনে বোন অসুস্থ হয়ে পরে। বোনের ঔষধ আর খাবার যোগাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো আমার। আপনারাতো আমাগো টোকাই বলে ডাকেন তাইনা? হ্যাঁ আমরা টোকাই কিন্তু আমরা পরিশ্রম করে খাই। সেইদিন বোনের চিকিৎসার জন্য কতো জনের কাছে গিয়েছি কিন্তু কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রাজি হয়নি। বরং সবাই বলে দিয়েছে, এইগুলা নাকি আমাদের নাটক। আমরা নাকি প্রতিনিয়ত মানুষকে ঠকিয়ে খাই। বোনের চিকিৎসা নাকি একটি অজুহাত মাত্র। সেইদিন রাস্তার ডাস্টবিনের ময়লা খাবারও ছিলোনা কপালে। ডাস্টবিনের পাশে মরা কুকুরের মাংস কেটে খেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তাও বাচাতে পারলাম না আমি আমার বোনটিকে। কি করবো আজকে খেয়ে? কই ছিলেন সেইদিন? কি হবে এতো বড় বড় বিল্ডিং,গাড়ি আর দামী পোশাক দিয়ে যদি একটা গরিব বা টোকাই না খেয়েই মরে?

(কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আমার ছিলোনা। সাধ্যে মতো যা ছিলো তাই দিয়ে সাহায্যে করার চেষ্টা করেছিলাম ছেলেটিকে। সত্যিইতো, কি হবে এই বিলাসবহুল শহর দিয়ে?এখনো প্রতিদিন অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে হাজারো মানুষ। তাদের মৃত্যুর জন্যকি দায়ী আমরা?হ্যাঁ, তাদের মৃত্যুর জন্য আমি, আপনি সবাই দায়ী। অনেকেই ভাবছেন, “আজকে সব কিছুই আমার সাথে হচ্ছে কেন”? আসলে এরকম হাজারো ঘটনা আমাদের চোখের সামনে হয় প্রতিদিন, কিন্তু আমরা প্রতিদিনই ঘটনাগুলো এড়িয়ে যাই।)

সত্যিই আজকের দিনটা তেমন ভালো যায়নি। সাড়া দিন বাহিরে কাটিয়ে বাসায় রওনা দিতে লাগলাম।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে এখনো রীমকে একটা কলও দেইনি আমি। রীম আমার স্ত্রী। কয়েকদিন হলো সে তার বাবার বাড়ি বেড়াতে গেছে। প্রতিদিনতো অফিসে ব্যস্ত থাকি বলে কল দিতে পারিনা কিন্তু আজ? আজ বোধহয় বউয়ের ভাষনে কান দুইটাও ছুটিতে চলে যাবে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি রীমের অনেকগুলো কল। কল ব্যাক করতেই ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ বিশ্বযুদ্ধ ।

আমি শুধুই অপেক্ষায় ছিলাম যুদ্ধ শেষ হওয়ার। প্রায় ৫ মিনিট আমাকে বকাবকি করে ফোন রেখে দেয় রীম। জানি তার এই অভিমান বেশিক্ষণ থাকবেনা। তাই ভাবলাম এখন মনের অবস্থা যেহেতু সেইরকম ভালো না সেহেতু রীমের অভিমান রাতেই ভাঙ্গাবো।

এদিকে আবার আজকে সকালে পত্রিকায় পড়া সেই মেয়েটি, ড্রেনে পরে থাকা বাচ্চা শিশুর লাশ আর করিম চাচার দোকানে পাওয়া সেই পথশিশু ছেলেটির কথা কেন জানিনা ভুলতেই পারছিনা। ওদের কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হলো,

ওদেরতো মা-বাবা কেউ নেই? থাকলেও মা অথবা বাবা অসুস্থ যার কারনে তাদের নাম হয়েছে টোকাই? কিন্তু আমারতো আছে? কই কখনোতো মা বাবা কে ভালোবাসি বলা হয়নি? তাই ছুটে গেলাম মায়ের কাছে মা কে একবার জরিয়ে ধরে ভালোবাসি বলবো বলে।

এখান থেকে বাড়ি তেমন বেশি দূরে না ১ ঘন্টার রাস্তা হবে। বাড়িতে গিয়ে আর কোনো কথাই নেই প্রথমেই মা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেছিলাম।

(এদিকে আমি হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে এসেছি দেখে সবাই এমন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন কয়েক বছর আগে আমি এলিয়েনের সাথে পিকনিকে যাওয়ার পরে আর ফিরে আসিনি, এখন হয়তো তারা ভাবছে এইটা আমিনা এলিয়েন বটে)

তখন মা বলল…

-মা:- কি রে খোকা কি হয়েছে তোর? হঠাৎ না বলে চলে আসলি যে? আর এইভাবে কাঁদতেছিস কেন? রীমের সাথে ঝগড়া হয়েছে? চিন্তা করিসনা আমি আছিতো সব ঠিক করে দিবো।

(আসলে আমার মা আমার সব থেকে কাছের বন্ধু, রীমের সাথে কোনো কিছু নিয়ে ঝগড়া হলেই মা সব ঠিক করে দিতো।)

-আমি: কিছুনা মা, শুধু তোমায় ভালোবাসি বলতে এসেছি।
-মা: পাগল ছেলেটা আমার! আমিতো জানি বাবা তুই আমাকে ভালোবাসিস।
(তারপর মায়ের কাছে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে শহরে বাসায় চলে আসলাম)

রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় গিয়ে রীমকে কল দিচ্ছিলাম, এদিকে মহারাণীর অভিমান ভাঙ্গেনি এখনো।
কয়েকটা কল করার পর রীম ফোন ধরলো।
ফোনের ওইপাশ থেকে রীম রাগী কন্ঠে বলল..
-রীম: কি হয়েছে? বার বার কল দিচ্ছেন কেন?
(গলার আওয়াজ শুনেই বুঝে গেছিলাম অভিমানের ঝড় এখনো বইছে।)
তারপর আমি বললাম
-আমি: বাহ রে, বউকে কল দিবো না তো কাকে দিবো? আচ্ছা তাহলে অন্য কাউকেই দেই। সকিনাকে দিলে চলবে?
-রীম: মেরে ফেলবো কিন্তু।

তারপর রীমের সাথে আলাপ করা শেষ করে যখন বললাম…
-আমি: আচ্ছা তুমি এখন ঘুমিয়ে যাও, আমিও ঘুমাই। কালকে আবার অফিস যেতে হবে।
-রীম: কিন্তু আমারতো ঘুম আসছেনা। তোমার কথা খুব মনে পরছে।
-আম: এইদিকে তুমি আমার কথা ভেবে ঘুমাতে পারছনা আর অন্যদিকে মানুষ ঘুমানোর জন্য যায়গা পাচ্ছেনা। কেউ ঘুমাচ্ছে ফুটপাতে, কেউ রেল স্টেশনে আবার কেউবা রাস্তার পাশে কোনো ডাস্টবিনের কাছে। তুমি আমার কথা ভেবে ঘুমাতে পারছনা আর অন্যদিকে কেউ মা অথবা বাবা হারিয়ে, কেউ ভাই অথবা বোন হারিয়ে কেউবা আবার খিদের জালায় ছটফট করছে, কেউবা আবার ধর্ষিত হচ্ছে অন্ধকার রাত্রে।
কথাগুলি শুনে রীম নির্বাক হয়ে গেলো

(রীমকে সকাল থেকে নিয়ে সব কাহিনি বলার পর আর কোনোদিন আমার কথা মনে করে রাত যাগেনি রীম। কথাটি হাস্যকর হলেও আপনি একবার ভেবে দেখবেন।)

বাস্তবতার মুখামুখি হয়েছি বলেই হয়তো আমি বাস্তবতা কি জানতে পেরেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই দিনটি একটি বিশাল সৃতি হয়েই থাকবে আমার জীবনে। কিন্তু কিছু জিনিষ আমি আজকে বলতে চাই। আপনার সৌভাগ্য আপনি মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহণ করেননি।

মেয়েদের ভয়ের না বরং ভরসার একটা পরিবেশ তৈরি করার জন্য কাজ করুন।

মেয়েদের দেহ আর পোষাক নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের প্রতিবাদ করুন। একটি মেয়েকে সামান্যতম নির্যাতনের শিকার হতে দেখলে রুখে দাড়ান। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হোন, প্রতিবাদ মুখর হোন। প্রতিটি নারীর ধর্ষণ মানেই আমাদের বিবেকের ধর্ষণ। নিজের ঘরের নারীদের আরো ক্ষমতাবান করে গড়ে তুলুন।

আত্মরক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানোর ব্যবস্থা করুন। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন ছাড়া একটা দেশে ধর্ষণের সংখ্যা কিছুতেই কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমি সেইসব মানুষদের বলতে চাই যারা বিয়ের আগে কুকর্ম করে বাচ্চা শিশুদের জীবন নিয়ে খেলা করছে। শিশুদের জীবনকে অন্তত তোদের পাপ কর্মের জন্য বলিদান করিস না যে শিশু দুনিয়ার আলো দেখার আগেই পরপারে চলে যেতে হয় শুধু তোদের জন্যই। অন্যদিকে আবার পথশিশুদের সাহায্যে করুন, একবার ভাবুন যদি আপনি একটি পথশিশু হতেন তাহলে কি হতো? একজন বেইমান ভিক্ষুকের জন্য পথশিশুদের দোষী বলবেন কেন? একজনের দোষের জন্য সবাইকে কেন বিচার করবেন? একটু চোখ কান খুলা রেখে চলুন। বিবেকের চোখ দিয়ে দুনিয়াটা দেখুন, তাহলে আশেপাশে ঘটে যাওয়া সব কিছুই দেখতে পাবেন। একদিন ফুটপাতে ঘুমিয়ে দেখুন কতটা কষ্ট সহ করে দিনের পর দিন মানুষ জীবন যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে। দেখার মতো চোখ থাকলে দেখুন তারা বৃষ্টির মতো কাদঁছে অার জ্বলছে আগুনের মতো। আর যেন কোনো পথশিশু অনাহারে না মরে, আর যেন কোনো পথশিশু ডাস্টবিনের ময়লা খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার ভাবুন সমাজে তারা মাথা উঁচু করে চলতে পারেনা।

আর কতোদিন দেখতে হবে পথশিশুদের কষ্ট? আর কতদিন?

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত