ভালোবাসা অবিরাম বন্ধু

ভালোবাসা অবিরাম বন্ধু

আমার সদা হাস্যোজ্জল বন্ধুটা কেঁদে কেঁদে ছোটন মামার চায়ের দোকানে হাজির হলো৷ আমাকে কাছে পাওয়া মাত্রই জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্নাটা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ আমিও বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে চুপ করেছিলাম মিনিট খানেক৷
তারপর বন্ধুকে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বললাম,

-কাঁদেনা বন্ধু৷ সবার মা-বাবা চিরদিন বেঁচে থাকে না! কথাশুনে বন্ধু কান্না বন্ধ করে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে! আমি মিনমিন করে বললাম,
-ভুল কিছু বলেছি? বন্ধু রাগী রাগী গলায় বলল,
-বাবা-মা কেউ মরেনি৷ লাইন শেষ করে বন্ধু আবার কান্না শুরু করলো৷ এবার আমি আবার বন্ধুকে হাত বুলিয়ে বললাম,
-দেখ বন্ধু৷ সবার গার্লফ্রেন্ডের মা-বাবারা চিরদিন বেঁচে থাকে না! এই আমাকে দেখ! আমারতো গার্লফ্রেন্ডই নেই৷ কাঁদে না ভাই৷” কথা শেষ করে বন্ধুর দিকে তাকালাম৷ বন্ধু তার আধপুরনো জুতাটা আমাকে দেখিয়ে বলল,
-আরেকবার যদি এডভান্স কথা বলস তুই৷ গাল ফাটিয়ে দিবো একদম৷”

বন্ধুর এহেন অপমানজনক কথাশুনেও আমি চুপ থাকলাম৷ বন্ধু এখন আবেগে জর্জরিত৷ কখন কি করে বসে হিসেব নেই৷” যথারীতি বন্ধু আবারো কান্না শুরু করলো৷ এবার আমি নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে বললাম,

-দেখ ভাই, সবার গার্লফ্রেন্ড চিরদিন বেঁচে থাকে না৷ আমারটাতো হওয়ার আগেই মারা গেছে সম্ভবত৷ তুইতো বা কিছুদিন প্রেমও করেছিস৷ কান্নার কিছু নেই৷” বন্ধু এবার আর রাগলো না৷ বরং অভিমান নিয়ে বলল,

-আমার দুঃখে তুই মজা শুরু করেছিস? এই তোর বন্ধুত্ব?” আমি বন্ধুর পাশে গিয়ে বসলাম৷ কাঁধে হাত দিয়ে বললাম,
-কি হয়েছে ক্লিয়ার করে বলতো৷ বন্ধু আবার আবেগাপ্লুত হয়েগেল৷ ধরা গলায় বলল,
-তোর ভাবি ব্রেকাপ করতে চায়!
-বলিস কি? ব্রেকাপের কারণ?
-সেদিন বৃহস্পতিবারের রাত বুঝেছিস৷ হুট করে বলে বসলো, আমাকে আদর করতে হবে আজকে৷ আমি মুখের উপর “না” করে দিয়েছিলাম৷ সেই থেকে এখনো রাগ করে আছে মেয়েটা!” আমি টুপ করে বন্ধুর কপালে হাত দিয়ে বসলাম৷ বন্ধু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

-কপালে হাত দিলি কেন?” আমি আমতা আমতা করে বললাম,
-দেখ বন্ধু৷ আর কেউ না জানুক! আমি জানি যে, তুই তোর গার্লফ্রেন্ডকে গায়ে পরে চুমু দিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার জুতার বারি খাওয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছিলি৷ আর এখন কি বলছিস তুই! সে নিজে তোকে আদর করতে বলেছে! আর তুই না করে দিলি? নিশ্চয় তোর সেই রাতে জ্বর এসেছিল! তাই না বন্ধু?”
বন্ধু আফসোসের স্বরে বলল,

-না রে সেটা না৷ আসলে বন্ধুর কথা শেষ হওয়ার আগেই থামিয়ে দিয়ে বললাম,
-ও বুঝেছি৷ নিশ্চয় তাদের বাড়ির কুকুরের দৌঁড়ানি খেয়েছিস?
-আরে না৷
-ও এবার বুঝেছি৷ নিশ্চয় তার বাবার কারণে ঢুকতে পারিস নি?
-না না না৷ তুই সব বেশি বুঝিস৷
-তাইলে কি তুই গার্লফ্রেন্ডের রুমে চুপিচুপি ঢুকে গার্লফ্রেন্ডের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলি, বাবু দেখো৷ এসব বিয়ের পরে হবে! তাই না? যদিও…
-যদিও কি?
-যদিও তুই এই বুঝিয়ে বলার ক্যারেক্টারের ছেলে নাহ৷” বন্ধু এবার প্রচন্ড রকমের রেগে গেল৷ গজরাতে গজরাতে বলল,
-শালা! তোর ভাবি ঐ আদরের কথা বলেনি!
-কোন আদরের কথা বলেছে বন্ধু?
-মেসেন্জারের ভিতরে যে আদর হয়৷ ঐ আদরের কথা বলেছে!
-মানে! বাবু একটা পাপ্পা দাও! আসো টুট টুট করি….. এসব বলেছে?
-হ্যা রে বন্ধু! সরাসরি বললে কি আমি নিরাশ করতাম নাকি? তুইতো জানিস, আমি রিনা,মিনা,টিনা কাউকে নিরাশ করিনি!” বন্ধুর এহেন দয়াবান কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম৷ শেষমেষ মাথায় বুলিয়ে বলে এসেছি,”ভালোবাসা অবিরাম বন্ধু”

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত