ফেইক আইডির প্রেম

ফেইক আইডির প্রেম

অনেক শুনেছি যে, ছেলেরা নাকি মেয়েদের নাম দিয়ে ফেইক আইডি চালায়।তো আমার খুব ইচ্ছে হলো ছেলেদের নামে ফেইক আইডি চালানোর। যেই ভাবা সেই কাজ।আরমান মালিকের গিটার হাতে সেই মন ভুলানো একটা প্রোফাইল পিক দিলাম আর বায়োতে লিখে দিলাম,”মেয়েরা ১০০ হাত দূরে থাকো”। বায়োতে এইটা লেখার যথেষ্ট কারণ আছে।তার মধ্যে একটা হচ্ছে, মানুষকে কিছু নিষেধ করা হলে সেই দিকেই তার নজর বেশি থাকে।আরেকটা কারণ হচ্ছে মেয়েরা ভাববে, নাহ! ছেলেটার ভাব আছে!!!রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করাই যায় বা মেসেজের রিপ্লাই দেওয়াই যায়। আর কোনো পোষ্ট রাখলাম না।ভাবলাম একটু সেলিব্রেটি টাইপের না হলে আবার মেয়েরা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করবে না,মেসেজেরও রিপ্লাই দিবেনা।আমার উদ্দেশ্য অন্যন্য মেয়েরা ছেলেদের সাথে কীভাবে কথা বলে তাই জানা।ছেলেরাতো আর বলবেনা কোন মেয়ের সাথে কি কথা বলে!!! আর আইডিরতো সুন্দর একটা নামও দিতে হবে।ভাবলাম আবির নামটা অনেক মেয়েরি পছন্দ(আমার নিজেরি পছন্দ) তাই আইডির নাম দিলাম ” আবির আরিয়ান মেঘ”।

নামটা আমার নিজের কাছেই ভালো লাগছে।কয়েকটা নিকনেমও দিয়ে দিলাম সুন্দর দেখে।এই যেমন “অপদার্থ,অগছালো,অনল”। আর এবাউটে দিলাম”আমি তোমাকে চাই।হুম শুধু তোমাকে।আমার সম্পর্কে জানতে এসেছো কেনো।এখন আমার আইডি দেখা আর আমার এবাউট দেখার ভাড়া স্বরুপ ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করবা,নয়ত পাঠাবা।নইলে ভাববো তুমি একটা চোর বা চোরনী । চুরি করে মানুষের আইডিতে হানা দেও।” হুম মোটামুটি ঠিক আছে।এইবার প্রোফাইল পিকে কয়েকটা লাইক বা কমেন্ট লাগবে।তাই প্রথমে সবাইকেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো শুরু করে দিলাম।আর মেয়েদেরকে রিকুয়েস্ট এর সাথে সাথে একটা করে মেসেজ,”হাই সুন্দরী “। বাহ! অনেক ছেলেই সাথে সাথে এক্সেপ্ট করে নিলো।তবে একটাও পরিচিত কাউকে ফ্রেন্ড রাখিনাই।

এরপর সবার পোস্টে গণহারে লাইক কমেন্ট করতে শুরু করলাম! ফলস্বরুপ আমার প্রোফাইল পিকেও মোটামুটি ২০-৩০ টা লাইক পড়ল একদিনেই।নাহ এই কয়টা লাইক যথেষ্ট মনে হয় কোনো মেয়েকে পটানোর জন্য!!! সকালে আইডি খুলেছি ১০০০ খানেক রিকুয়েস্ট পাঠাইছি,৬০০+ এক্সেপ্ট। মেয়েগুলাই বেশি বাকি আছে। তবে অনেক মেয়েও রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে।একটা মেয়ে দেখি রাতে আমার মেসেজের রিপ্লাই দিছে,” হাই হ্যান্ডসাম”,আমিতো পুরা অবাক!!! কোনো মেয়ে অচেনা একটা ছেলেকে এমন মেসেজ কেমনে দিতে পারে!! যাই হোক, আমাকে এখন ছেলেমানুষের মত অভিনয় করতে হবে।তাই ভাব না বাড়িয়ে রিপ্লাই দিলাম…

_হুম সুন্দরী। কি অবস্থা,কেমন আছো?
_জ্বি,ভালো আছি।আপনি?
_তোমাকে ছাড়া আমি ভালো থাকতে পারি!!!
_ওমা কেনো!!! আমি আপনার কে???
_ কে মানে!!! কি বলছে এসব!!”
_ঠিকইতো বলছি।কে আমি আপনার?
_কেন!!! তুমি আমার হয়ে যাও, আমি তোমার হয়ে যাবো। কি রাজি!!!
_মাত্র পরিচয়।চিনলাম না, জানলাম না, আমি আপনার হব!!!হাহাহাহা….
_এই হাসছো কেনো!!! আমি হাসিরতো কিছু বলি নাই।
_আচ্ছা আপনার পরিচয়টা পেতে পারি মিস্টার…???
_আবির।

ওহ আপনাদের ওই আইডিটার নামইতো বলা হয়নি।ওই আইডিটার নাম “স্নিগ্ধতা প্রিয়তা”। নামটা আমার কাছে এতোটা জটিল মনে হয়েছে যে,এই দুইটার কোনোটাই যে মেয়েটার আসল নাম হতে পারে তা বিশ্বাস হয়নি।তারপরেও প্রিয়তা পরিচয়েই কথা শুরু।মেয়েটাকে পটাতে সময়ই লাগল না!!! মনে হচ্ছে যেন আমি মেয়েটাকে পটাচ্ছি না,মেয়েটাই আমাকে পটাচ্ছে।

যাইহোক আমার স্বপ্ন পুরন হলো,কিছু কিছু মেয়ে যে এভাবে ছেলেদের সাথে কথা বলে জানা ছিলনা!!!মেয়ে হয়ে মেয়েদের বলছি!!! কি আর করব।মেয়েটাতো আমার সাথে দেখা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে,কারণ আমি ওই মেয়েটাকে একটা পিক ও দেই নাই।বলেছি সরাসরি সারপ্রাইজ দিবো। কি যে সারপ্রাইজ দিবো, তা আমি ভালই জানি,,,মেয়েটাতো আর জানেনা। মেয়েটা অবশ্য অনেকগুলা পিক দিয়েছে।ওমা কি সুন্দরী। এতো সুন্দরী মেয়েও ফেসবুকে ছেলেদের কাছে কত সহজে বোকা বনে যায়, ছেলেদের মিষ্টি কথায়,ভাবতেই অবাক লাগছে। যাইহোক দেখা করতে আমার অতোটা ভয় লাগছে না,একটা মেয়ের সাথেইতো দেখা করব।ফোন নাম্বার দেয়নি।

অনেকবার চেয়েছিলাম,ফর্মালিটি দেখানোর জন্য…নইলে আমি কথা বলতাম কেমনে!!! অবশেষে ৩ মাস ১৭ দিনের দিন মেয়েটির সাথে দেখা করার স্বিদ্ধান্ত নিলাম।যেহেতু দুইজনই ঢাকাতেই থাকি,তাইধানমন্ডি লেকপাড়েই দেখা করব ঠিক করলাম।আমার ভাবতেইখুব হাসি পাচ্ছে যে,মেয়েটা যখন আমাকে দেখবে তখন কি অবস্থা হবে।ভালই মজা হবে।বললাম যে, আমি একটা লাল পাঞ্জাবী পড়ে যাবো। তাই লাল একটা থ্রী-পিছ পড়লাম। মেয়েটাও নাকি লাল ড্রেস পরে আসবে।ভাবতাছি আমারতো কোনো বোন নেই,অন্তত বোন বানানো যাবে মেয়েটাকে।মেয়েটা প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে একটা বোন পেয়ে যাবে।ওই মেয়ে নাকি একাই,ওর কোনো ভাইবোন নেই।ভালই মজা হবে আজ। রেডি হয়েই মেয়েটাকে মেসেজ করলাম…

_হ্যা বাবু কই তুমি? আমি বের হইছি।
_হ্যা আমিওতো প্রায় চলে আসছি।
_ওকে।আমি আসছি।
_ওকে।বাবু,আসো।

আমি তাড়াতাড়ি বের হয়েই একটা রিকশা নিয়ে নিলাম।আমার বাসা থেকে ধানমন্ডি আধাঘণ্টার রাস্তা।সন্ধ্যার আগে আবার বাসায় ফিরতে হবে।তবে তাড়াতাড়িই পৌছে গেলাম।আমাকে দেখে মেয়েটার কি অবস্থা হবে তাই ভাবছি।কিন্তু মেয়েটা কোথায়!!! এখানেতো দেখছি লাল ড্রেস পড়া মেয়েই নেই।তার চেয়ে এইবার ফোন নাম্বারটা নেওয়া যাক। কিন্তু কথা বললেইতো বুঝে যাবে যে আমি একটা মেয়ে।কি যে করি।তারপরেও নাম্বারটা চাইলাম।

_কোথায় তুমি?? দেখি নাতো।নাম্বারটা দাওতো।
_আরে আমিতো ভেতরের দিকে দক্ষিণদিকে যে আম গাছ আছে ওইখানেই দাঁড়িয়ে।তুমি কোথায়?
_আরে আমিওতো ওইখানেই। এইবার খুজতে লাগলাম।না লাল ড্রেস পড়া কোনো মেয়েকেই দেখছি না।আবার মেসেজ করলাম….
_তুমি কি সত্যি লাল ড্রেস পরে আসছো??
_হুম।

কিন্তু তুমি কি কালারের ড্রেস পরছ।এখানেতো লাল পাঞ্জাবীতে কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা। আমি মেসেজের রিপ্লাই দিবো এমন সময় পাশ থেকে দেখি একটা ছেলে কেমন করে যেন আমার দিকে তাকাচ্ছে।ছেলেটা লাল পাঞ্জাবী পড়া।আমিতো ভয় পেয়ে গেলাম যে মেয়েটা এই ছেলেটাকেই না আমি ভেবে বসে।সে না হয় আমাকে চেনেনা,আমিতো তার পিক দেখেছি।কই কোথাও নেই।আবার মেসেজ দিলাম…

_কই তোমাকেতো আমি কোথাও দেখছি না।নাম্বার দাওতো
_আচ্ছা,দিচ্ছি।তবে…
_তবে-টবে ছাড়তো নাম্বার দাও,তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।

_০১……… আমি ফোন দিতেই রিসিভ করল,কিন্তু কোন কথা নেই,আমিও কথা বলতে পারছি না,বুঝে ফেলবে আমি মেয়ে।হঠাত দুইজনেই হ্যালো বলে চুপ করে গেলাম।কেনো জানেন…??? ওইটা একটা ছেলে…!!!!! আমার সামনেই দাঁড়িয়ে ছেলেটি। ভেবেছিলাম কোনো মেয়ের সাথে দেখা করব,তাই সাহস করে এসেছিলাম।ছেলেটাকে দেখে আমার অবস্থা চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো হয়ে গেছে। ছেলেটিও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কে কাকে সারপ্রাইজ দিচ্ছি বুঝতেছি না।ছেলেটিও আমার থিউরি আমার উপরেই প্রয়োগ করেছে। দুজনেই চুপ করে বসে আছি।ওই কথা শুরু করল…

_ মেয়ে হয়ে ছেলেদের নামে আইডি!!!
_কেনো? আপনি যে ছেলে হয়ে…
_চুপ।ভাবছিলাম কোনো একটা ছেলেকে বোকা বানাবো।এখন আমি নিজেই বোকা বনে গেলাম!!!
_এই যে মিস্টার আমার কথাটা একবার ভাবুন।যে জন্য ছেলেদের নামে আইডি খুললাম সেই মজাটাই নষ্ট করে দিলেন।

_বললেই হলো।খুবতো প্রপোজ করতে পারো। আমার সাথে দেখা হলে কি কি জানি করবা….আমার কিন্তু সব মনে আছে। আমি লজ্জায় লাল-নীল হয়ে যাচ্ছি। কি ভাবলাম আর কি হইল।ওর নাম আবির।দেখতেও খারাপ না,লাল পাঞ্জাবীতে ভালই লাগছে।হঠাত আমার পায়ের কাছে বসে বলতে লাগল…

_দেখি পা টা একটু তুলোতো।
_মানে???
_চুপ।যা বলছি করো।আমার হবু গার্লফ্রেন্ড এর জন্য আজ আসার সময় একটা পায়েল কিনেছি। যদিও এতদিন আমার কোনো প্রিয় মানুষ ছিলনা, তবুও কোনো জিনিস ভালো লাগলেই কিনে রাখি,আজ পায়েল কিনেছিলাম,তোমাকে পেয়ে গেলাম।জানো তোমার জন্য এইরকম আরো অনেক জিনিস কিনে রেখেছি।এখন শুধু দেবার পালা।

_উহু, আমি প্রেম করতে পারব না।
_বললেই হলো।প্রেম করব না।এতদিন কি করছ,শুনি।দেবনা কানের কাছে একটা এইরকম ধমক শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম।কি আর করার। খাল কেটে কুমির আনলাম আর কি!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত