রসহীন ভালোবাসা

রসহীন ভালোবাসা

সকাল সকাল সূর্যের আলোটা সরাসরি চোখে পরতেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলতেই দেখি নীলু মিটমিট করে হাসছে।আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে আমার দিকে ঝুকে পড়ে বলল…

-হইছে আর ঘুমাতে হবে না এবার উঠো তো।

কথাটা বলেই আমার নাকের সাথে নীলু নাকটা লাগালো। এটা নীলুর অনেক আগের অভ্যাস।

-ওমমম ছিঃ এখনো ফ্রেস হও নি তুমি। যাও যাও তাড়াতাড়ি।

বলেই উবু হয়ে থাকা থেকে দাড়িয়ে গেল। আবার চোখটা বন্ধ করলাম। আর কখনই অনুভব করলাম নীলু আমার হাত ধরে টেনে তুলছে। আস্তেই শরীরটা এলিয়ে দিচ্ছি আমি আর নীলু প্রানপণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষ আমাকে না তুলতে পেরে একটা ডাক ছাড়লো..

-বাবা….

বাবা শব্দটা শুনেই লাফ দিয়ে উঠলাম। আমার এই ভাবমূর্তি দেখে নীলু খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো। তারপরই মনে হলো,, বাবা তো নেই, গতকাল গ্রামের বাড়ি গেছে। নিজের বোকামি দেখে নিজেরই লজ্জা হলো। মাথা চুলকাতে লাগলাম। তখনো নীলু হাসছে।

-শোন নীলুকে হাতের ইশারাতে ডাকলাম।
-কেন কেন?? মুখটা বাকা করে উত্তর দিলো নীলু।
-আরে আসো না একটু….
-উহু যাবো না।। বলেই উল্টো দিকে হাটা দিলো।
-ও মা রে মরে গেলাম রে আমার মুখে এমন কথা শুনে নীলু দৌড়ে আসলো। এসেই তড়িঘড়ি করে বলা শুরু করলো,,,
-কী হলো, এমন করছো কেন?
-কেমন করছি?? হি হি হি এবার আমাকে বোকা বানানো তাই না? এবার দেখ মজা।
-ও আচ্ছা মনে মনে এই?? ছাড়ো বলছি নয়তো আমি চিৎকার করবো।
-করো।
-করবো??
-হুমমমম করো।
-তবে রে…..
-আওওওওও…..
-হি হি হি কে চিৎকার করলো হুমমম? তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নেও,খাবার দিচ্ছি। হাতে সজোরে একটা চিমটি কেটে পালিয়ে গেল পাগলিটা।রান্না ঘর থেকে এখনও হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নাহ্ আর শুয়ে থাকা হবে না। আবার কখন যে আসে বলা যায় না আর এবার যদি আসে তবে ছোট খাটো একটা লঙ্কা কাণ্ড যে ঘটবে সেটা ভালো ভাবেই টের পাচ্ছি। ভীষন জেদি আর রাগী টাইপের মেয়েটা। বাবা মা যে আমার মত সহজ সরল একটা ছেলের জন্য এমন মেয়ে কোথা থেকে আনলো সেটা তারাই জানে। সে যাই হোক বাথরুমে ডুকেই দেখি গরম পানি নেই।

-নীলু আমার গরম পানি কই??? বাথরুমের ভিতর থেকেই কথাটা বললাম। উত্তরে আসলো….

-মনে নেই ঠান্ডা পানি আছে, কাজ চালিয়ে নেও।

-মন থাকে কই শুনি?? কোন একটা কাজ তো ঠিক মত করতে পারো না। এখন ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল টা করবো কিভাবে???

-কী বললে??? আমি কোন কাজ ঠিক মত করতে পারি না??? আচ্ছা খেতে হবে না আজকে না খেয়ে অফিস যাবে।

-এই না না সব কাজ ঠিক মতই করো। আর একদিন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে কিছু হবে না। এই রে রেগে গেছে।সকালের খাবার যে বন্ধ সেটা ভালো ভাবেই টের পাচ্ছি। অগত্তা ঠান্ডা পানি দিয়েই গোসল করে বের হলাম।

-আমার খাবার কী আছে, নাকি নেই??? রেড়ি হয়ে গলা উচু করে কথাটা বললাম।
-নেই… না খেয়েই বের হয়ে যান।
-আচ্ছা হোটেল তো আছেই…
-লাভ নেই, এইসবে মন গলবে না। যা বলছি তাই করেন।
-কয়টা বাজে, ৯টা?
-জ্বি না ১০টা পেরিয়ে গেছে… নিজের ব্যবসা না হলে কবে যে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতো আল্লাহই জানে।

-হইছে আর বকবক করতে হবে না, আমি গেলাম।

কথাটা বলেই হন হন করে বেরিয়ে গেলাম। আসার সময় দুই একটা লাইন কানে আসলো….

-হুমমম আমি তো বকবক করি, কোন কাজ ঠিকক মত করতে পারি না আমাকে দিয়ে কী হবে??? কেউ যেন নতুন বউ আনে একটা। হা হা হা হা হা হা হা। এটা নতুন কিছু নয়, কোন কিছু হলেই নীলু এই কথাটা বলে। অফিসে ডুকতেই দেখলাম সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

-স্যরি একটু দেরি হয়ে গেল। যাই হোক,, নতুন প্রোজেক্টর বিল পাশ হয়েছে?? ডুকতে ডুকতে ম্যানেজারকে প্রশ্নটা করলাম।
-না স্যার তারা বলেছে, রেট আরও বাড়াতে হবে। কয়েকটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে বললো ম্যানেজার।

-মানে কী?? আমরা অনেক বেশি রেট দিয়েছি? আর কত? তাছাড়া এর বেশি দিলে আমাদের ক্ষতি হয়ে যাবে।
-কিন্তু…..স্যার তারা এটা মানছে না।
-প্রোজেক্ট বাতিল করে দেন। আমার কাছে আরেকটা প্রোজেক্ট আছে সেটার কাজ শুরু করুন। আপনাকে ই-মেইল পাঠিয়েছি কাল রাতে দেখেছেন??
-স্যার মেম….
-মানে?? আপনাকে কী প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দেন।
-স্যার সামনে তাকান।
-আজব…..

ম্যানেজারের কথায় সামনে তাকাতেই দেখি নীলু দাড়িয়ে আছে। বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম।

-আচ্ছা আপনাকে ই-মেইল করে সব পাঠিয়েছি ফাইল রেডি করে পাঠিয়ে দিন।
-আচ্ছা স্যার….
-আর শুনুন যে মেয়েটার কথা বলেছিলেন তার ছবি নিয়ে আসবেন সাথে বায়োডাটাও… যান এবার।
-কো..
-আরে যা বললাম করেন যান। চোখ টিপে দিলাম একটু। ম্যানেজার বুঝতে পেরে একটু হাসলো।
-কোন মেয়ে??? (নীলু)
-তুমি না বললে নতুন একটা বিয়ে করার জন্য তাই বললাম আর কি। ভেবে দেখলাম, তুমি একা মানুষ এতো কাজ কীভাবে করবে তাই তোমার কাজের সাহায্য করার জন্য কাউকে নিয়ে আসবো। ভালো করছি না???

-ও তাই না?? শালা বেঈমান,,, কার জন্য এতো কষ্ট করে রান্না করে আনলাম???দুধ কলা দিয়েকাল শাপ পুষছি???
-প্রথমটা না হয় বুঝলাম কিন্তু কলা আসলো কোথা থেকে???
-সজীব!!!! তোকে মেরেই ফেলবো।
-এটা অফিস নীলু, বাসায় যাও পরে কথা হবে।
-ও আমি থাকলে মেয়েদের ডেকে ডেকে হাত ধরা হচ্ছে না বুঝি??? বুঝি তো, শালা তোরা হলো লুচ্চা ইন্টারভিউয়ের নাম করে নিরীহ্ মেয়েদের ডেকে আল্লাহ্ গো কোন পাপের শাস্তি দিলা এটা আমাকে??? সব দোষ আমার বাবা মার তোর মত একটা ছেলের সাথে বিয়ে দিলো কেন?? সব কয়টা কে খুন করবো সাথে তোকেও।

-বিয়েটা কী করবো??? নাকি নাহ্ করে দিবো???
-আবার বল তো শুনি??
-চলো বাইরে থেকে ঘুরে আসি, কত দিন তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাই না বলো??
-না না আগে কী যেন বললে???
-এই কথায় বলছি তো।
-সত্যি তো???
-সত্যি
-হুমমমম এবার একবার ভালোবাসি বলো।
-এখানে???
-কেন এখানে বলা যাবে না??
-আচ্ছা আচ্ছা বলছি ভালোবাসি…
-এ্যা??? এটা হলো??? রস নেই কষ নেই বলে ভালোবাসি। সুন্দর করে বলো….
-মুখে পানি এনে বলবো? তবে রস হবে….
-ফাজিল….
-ঠিক ধরেছো
-হা হা হা

দুইজন রাস্তায় হাটছি। নীলু হাসে আর আমি তাকিয়ে থাকি, মাঝে মাঝে হোচট খাই তবুও চোখটা সরাই না ওর দিকে তাকিয়ে থেকেই হেটে চলি ওর হাতটা ধরে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত