কাজিন যখন বউ

কাজিন যখন বউ

আমার তোকে বিয়ে করতে বয়েই গিয়েছিলো আমি বিয়ে না করলে তোর জীবনে বিয়ে হতোনা ভাগ্যগুনে আমি তোরে বিয়ে করেছি।

—এই শুন! তোর মত ছেলেকে গুনার টাইম নাই আমার পিছনে কত সালমান খাঁন এর মত দেখতে ছেলেরা লাইন দিতো শুধু বাবা মার ভয়ে না করে দিয়েছি।

–কি বললি? তোকে কেউ পছন্দ করতো???
–জী, আর তোকে তো কোন মেয়ে পছন্দ করতোনা তোকে কোন মেয়ে বিয়ে করতো বল?
—আমার কত বান্ধবীরা আমাকে পাওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতো জানিস?
—হয়েছে হয়েছে আর বলতে হবে না আমি জানি।
—কি জানিস তুই??
—তুই বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছিস।
—যেটা সত্যি সেটা বললাম তোর মত বানিয়ে বলিনি।
—ওকে, যা পেঁচাল পারিসনা আমি এখন ঘুমাবো।
—শুন! বিছানার এক পাশে তুই ঘুমাবি। গোসল দিয়ে আসি আমিও ঘুমাবো এসে যদি দেখি রাতের মতো বিছানা জুড়ে ঘুমাচ্ছিস তাহলে কিন্তু নিচে ফেলে দিবো।আমার দিকেসোনালী রাগ রাগ নিয়ে তাকালো বললো ” আমার যেমন খুশি তেমন করে ঘুমাবো ”

-আমি আর কিছু না বলে গোসলে চলে গেলাম।
—এসে দেখি সোনালী ঘুমিয়ে গিয়েছেযাক এক পাশেই ঘুমিয়েছে।
—গতকালের কথা ভাবছিলাম, আমার বাবা মা আর সোনালীর বাবা মা হটাৎ আমাদের বিয়েদিলো। আমরা দুজনই আপত্তি করছিলামপড়াশোনা টা কম্পিলিট করে নেই তারপর বিয়ে দিও, কিন্তু তারা কিছু শুনলোনা বললো ” বিয়ে করে পড়াশোনা করো ”

–আমাদের ছোট থাকতে বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল কিন্তু এতো তারাতারি বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো না। রাস্তায় অন্য মেয়েরসাথে কথা বলেছি সেটা বাবা দেখে এইসিদ্ধান্ত নেয় আবার সোনালীর ফোনে নাকিকল দিয়ে কোন ছেলে ডিস্টার্ব করে তার জন্য ওর বাবা মা আমার বাবা মা এতো তারাতারি বিয়ে দিলো।

— খুব পিচ্চি থাকতে আমাদের নাকি খুব মিল ছিলো,ওকে ছাড়া আমি কিছু বুঝতাম না ও আমাকে ছাড়া কিছু বুঝতোনা এটা দেখেইসবাই মিলে বিয়ে ঠিক করেছিল কিন্তু একটু বড় হওয়ার পর থেকে দুজন সতীন সতীনের মত ঝগড়া হয় এখনো তার কম না।দুজনই যেনো বিয়েটাই মানিনা। এখন আমি মাস্টার্সে পড়ছি আর সোনালী অনার্স ফাইনাল ইয়ারে।
-ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি জানি না ঘুম ভাংলো মায়ের ডাকে ” এই সন্ধ্যাহয়েছে উঠ, নামাজ পড়তে যা এসে নাস্তা করবি ”
—নাস্তা করার পরে টিভির রুমে আসলাম দেখলাম জল্লাদী টা টিভি দেখছে, এটাদেখে আমি রুমে গেলাম। ভাবলাম আটটাবাজুক তারপর যাবো, খেলা আরম্ভ হবে তোআটটায়।
—খেলা আরম্ভ হবে, আমি যেয়ে দেখলাম সেও টিভি দেখছে সেদিন পাকিস্তান আরভারতের খেলা সোনালী জানে আমি খুব পাকিস্তানের সাপোর্ট করি তাই যখনপাকিস্তানের কেউ আউট হয় সেই চিল্লাচিল্লি করে উঠে।বুঝাচ্ছে সে কতটা খুশি হয়েছে,

-এই শুন! একদম চিল্লাচিল্লি করবিনা যতই চিল্লাচিল্লি কর ভারত আজ পারবে না।
—হাহাহাহাহা, ভারতের কাছে পাকিস্তান পারে! পাগল হয়ছিস দেখবি ভারত পারবে।
—-আমি শুধু রাগছিলাম, এদিকে জল্লাদীর কথা অপর দিকে পর পর উইকেট পরছে সোনালী শুধু আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেছিলো ।
—-আমি শুধু দোয়া করছি আর জল্লাদীর উপরে রাগছি আগে খেলায় পেরে নেই তারপর যথাযথ উত্তর দিবো।

—-পাকিস্তান ভাল রান করতে পারছে না এখন মনে হচ্ছে সব গুলোর যদি পাইতাম পিটায়ে নতুন করে খেলা শেখাইতাম। পাকিস্তানের এক জন রান আউট হওয়ার পরে ডাইনী টা খিলখিল করে হেসে দেয়, আমার দিকে তাকিয়ে বলে পাকিস্তান আজ 100 রান করতে পারবেনা তার আগেই সব প্যাকেট হয়ে যাবে।
-এই শুন ডাইনী বেশি কথা বলবিনা। চুপচাপ খেলা দেখ না দেখলে যা ঘুমিয়ে পর আমার সামনে বসে বসে পকপক করবিনা।
-এমন সময় আম্মা ডাক দিলো এই তোরা রাতের খাবার খেয়ে নে। আমি বললাম “আমি পরে খাব তোমার জল্লাদ মেয়ের নাকি ক্ষুদা লেগেছে খেতে দাও”ও আমার দিকে তাকিয়ে রেগে যেয়ে ওই আমাকে জল্লাদী একদম বলবিনা আমার ক্ষিদা লেগেছে তোকে কে বললো?? যা তুই খেয়ে নে,

—-আমার ক্ষিদা লাগে নাই তোর লাগছে তুই যা।
—-হাহাহাহাহা, তোর ক্ষিদা লাগবে কেমন করে? তোর তো পাকিস্তানের খেলা দেখেপেট ভোরে গিয়েছে আজ পাকিস্তান যা খেলা দেখাচ্ছে এইটা বলে মিটমিট করে হাসছে,
-ভারতের উপরে যত না রাগ আছে তার থেকে এই ডাইনীটার উপরে বেশি রাগ হচ্ছে ডায়নীর টার এতো কথায় বাসায় বসে আর খেলা দেখতে ভাল লাগছেনা।কয়েক ওভার বাকি থাকতে বাসা থেকে বাইক নিয়ে বের হলাম। সোনালী তো আমাদের বাসায় তাহলে আমি ওদের বাসায় যেয়ে খেলা দেখি। রাজু তো আছেই দুজন এক সাথে খেলা দেখতে ভালোই মজা হবে।

—-আমার যাওয়া দেখে খালাম্মা বললো তুমি খন! আমি বললাম এই দিকে আসছিলাম তাই ভাবলাম ঘুরে যাই। বললো “ভাল করছো আসো ভিতরে আসো।
—আমি এখনো খালাম্মা বলি। সোনালীদের বাসা আমার বাসা থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাই ওদের বাসায় গেলাম।
—-রাজু আমাকে দেখে খুশি হলো। দুলাভাই ভাল করছেন, একা একা খেলা দেখতে মজালাগছেনা পাকিস্তান যা খেললো! খুব রাগ হচ্ছে।
—আমারও রাগ হচ্ছে আবার তোমার আপু যে লাগিয়েছে! ওর ভারতের সাপোর্ট করা দেখা আমার আরও রাগ হচ্ছে তাই এখানে চলে আসলাম।
—কি বললেন দুলাভাই? আপু ভারতের সাপোর্ট করছে?
—-হ্যাঁ, এজন্য আরও রাগ হয়েছে।
—দুলাভাই আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আপু তো পাকিস্তানের সাপোর্ট করে। আর একটু না খুব সাপোর্ট করে দেখেন আজ পাকিস্তান 83 রান করলো??? আপু আর আজ খেলা দেখবে না। খেলা দেখে কষ্ট পাবে এজন্য আজ দেখবেই না।

—-ওও এখন বুঝলাম। সোনালী আমাকে রাগানোর জন্য সামনা সামনি ভারতকেসাপোর্ট করছে কিছু সময় খেলা দেখে বাসায় আসলাম। বাসায় এসে দেখলাম সোনালী আসলেই ঘুমিয়ে গিয়েছে। আব্বু একা একা বসে খেলা দেখছে খেলা শেষ করে আমিও শুয়ে পরলাম। ঘুম আসছে না শেষ মেষ পাকিস্তান ভারতের কাছে হেরেই গেলো। এভাবেই দুজন দুজনের সব কাজে বিপরীতে হতাম সাথে ঝগড়া করতাম।

—আমি ভার্সিটিতে যাব রেডি হয়েছি। সোনালীও যাবে ভার্সিটিতে, আম্মা বললো একটু ওয়েট কর সোনালীও যাবে দুজন এক সাথে যা। আমি বললাম না আমি কাউকে নিতে পারবোনা। আমার দেরী হয়ে যাবে। আম্মা বললো তোদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এখনো ঝগড়া করবি?

—–এমন সময় সোনালী এসে বলে মামুনি আমি একাই যেতে পারবো।
—শোন তোরা বেশি কথা বলবিনা তোরা দুজন এক সাথে যাবি এক সাথে আসবি।
–মায়ের কথায় আমাদের এক সাথে যেতে হচ্ছে।সোনালী আমার থেকে একটু ফাকাঁরেখে বসলো । আমি দুষ্টামীর ছলে মাঝেমাঝে ব্রেক করি, আর সোনালী আমাকে শক্ত করে ধরে।
—এই সুযোগ আমি বললাম” এই শুন! তোর আমাকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করছে ভাল কথা তাই বলে রাস্তায় এভাবে ধরবি ?
—-শুন তুই কিন্তু বেশি কথা বলছিস! তোকে ধরতে আমার বয়েহ গেলো তুই ঠিক মতো বাইক চালা।
—-আর দুষ্টামী না করে আমি ভাল ভাবে চালিয়ে ওর ডিপার্টমেন্টর সামনে নামিয়ে দিলাম। বললাম ঠিক বারোটায় গেটের সামনে থাকবি বেশি দেরি হইলে কিন্তু আমি চলেযাবো।
—-আমার আসতে একটু লেট হয়ে যায় প্রায় বিশ মিনিট যেয়ে দেখলাম সোনালী হাঁটা শুরুকরেছে আমি ওর পিছনে যেয়ে বললাম ওইজল্লাদী উঠ।
-ও আমার দিকে তাকালো দেখলাম রাগে মুখ দিয়ে আগুন ঝরছে। অনেক সময় ওয়েট করছে তারপর আমি এসে সরি বলবো তা না বলে জল্লাদীর বলছি।বললাম” হয়ছে আর ডাইনীর মত তাকাতে হবে না তারাতারি উঠে পর খুব ক্ষিদা পেয়েছে।

— গাড়িতে না উঠে আবার হাটা শুরু করে আমি ওর সামনে যেয়ে বললাম “রাগ না দেখিয়ে তারাতারি গাড়িতে উঠ।
-তারপর কিছু একটা চিন্তা করে আমার পিছনে বসলো।
—-রাতে ও পড়তে বসেছে, আমিও পড়তে বসেছি ও জোরে জোরে পড়ছে। ওর জোরেপড়া দেখে আমার রাগ হচ্ছে। আমি বিছানায়বসে পড়ছি আর ও ডেস্কে পড়ছে।
—-আমি উঠে ওর ডেস্কে যেয়ে বললাম ওই শুন জোরে জোরে পড়বি না আমার ডিস্টার্ব হচ্ছে।
—তোর ডিস্টার্ব হইলে তুই অন্য রুমে যেয়ে পড়,
—আমার রুমে আমি পড়বো, পারলে তুই যা।
—শুন মামুনি বলছে এই রুমটা এখন আমার আর তুই আমার রুমে পড়তে পারিস তোর পড়াতে আমারকোন ডিস্টার্ব হচ্ছে না।
–বললেই হলো নাকি! উড়ে এসে জুরে বসলেই রুম তোর হলো নাকি?
—হ্যাঁ আমার রুম এখন কোন কথা বলবিনা আমি পড়ছি।
—-আমি কিছু না বলে বই নিয়ে অন্য রুমে চলে যাই।
—-পরের দিন আবার দুজন ভার্সিটিতে যাই আমার ক্লাস একটু আগেই শেষ হওয়াতেসোনালীর ডিপার্টমেন্টে সামনে আসি। এসে দেখলাম দুই তিনটা ছেলে মেয়ে বসে গল্প করছে সাথে সোনালীও বসে আছেএবং একটা ছেলের পাশেই বসে আছে।

—-এটা দেখে কেমন যেনো একটু রাগ হলো আমি পাশে যেয়ে বললাম তুই ক্লাস করা বাদদিয়ে এখানে আড্ডা দিচ্ছিস?
—-আমার ক্লাস আর নেই তাই বসে আছি সবাই
—-তোর ক্লাস নাই তাতে কি? তুই আমাকে কল দিতে পারতি?
—ওই শুন! আমি কি করবো না করবো তোকে বলে করতে হবে নাকি?
—-হ্যাঁ তাই তো!( আসলেই তো আমার তাতে কিও যা কিছু করুক আমি বলছি কেন???)
—ও বললো তুই কি বললি?
—-বললাম না কিছু না আমি এখন বাসায় যাব তুই যদি যাস তে চল। আমরা একটু দূরে এসে কথা বলছিলাম।ওর ওই বন্ধু বান্ধবী রা বললো সোনালী এখন সবাই চলে গেলাম। ওদের যাওয়ার কথা শুনে সোনালী আমার সাথে আসলো।
—-বাসায় এসে ভাবলাম। সোনালীর ওভাবে আড্ডা দেওয়া দেখে আমার রাগ হলো কেন! ধ্যাৎ কাজ টা আমি ঠিক করিনি।
-তার কিছুদিন পরে ভার্সিটিতে আমার এক বান্ধবীকে বাইকে করে নিয়ে যাইতে সোনালীর সামনে পরলাম। সোনালী তো আমাকে দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমি একটা মেয়েকে বাইকে নিয়ে যাচ্ছি। আমি ওর সামনে যেয়ে বললাম আমি বারোটায় এসে নিয়ে যাবো।

–ও বললো আমি একাই যেতে পারবো।
—-বাহ ভালোই হলো জল্লাদী মনে হয় রেগেছে। আসলে খুব ভাল বান্ধবী ওর আম্মা নাকি হটাৎ খুব অসুস্থ হয়েছে এখন হসপিটালে তাই ওকে হসপিটালে রেখে আসতে যাচ্ছি। যদিও কোন মেয়েকে এভাবে নিয়ে যাইনা কিন্তু ওর আম্মার কথা ভেবে নিয়ে যাচ্ছি।

—আমি বান্ধবীকে হসপিটালে দিয়ে এসে সোনালীকে নিতে আসলাম। সোনালী আমার সাথে যাবেনা অনেক বার বললাম তবু সেযাবে না একাই চলে যাবে বলছে,

—তাই আমিও বাসায় চলে আসলাম আমার কি! ও না আসলে!

—-বাসায় এসে আম্মুকে সব কিছু বললাম। আম্মু বললো “তুই ওকে একা রেখে ঠিক করিসনিযেভাবেই হোক নিয়ে আসতে হতো। দেখ এখনভাল ভাবে আসলেই হলো একটা কল করে দেখ,এখন কোথায় আছে,

—আমি কল দিয়ে দেখলাম ফোন অফ।সোনালী রাগের জন্য মনে হয় ফোন বন্ধ রেখেছে। একটুটেনশন হচ্ছে, যদি রাস্তায় কিছু হয়! ওকে নাকিকোন ছেলে ডিস্টার্ব করতো যদি সে কোন প্রবলেম করে এটা ভেবেই চিন্তা হচ্ছিলোকল দিচ্ছি শুধু বন্ধ দেখাচ্ছে সত্যি যা ভাবছি তাই যদি হয়! এইবার খুব টেনশন হচ্ছে

–সোনালীর জন্য চিন্তা হচ্ছে আর বেলকুনিতে দাড়িয়ে গেট বরাবর তাকিয়ে আছি, এতো সময়ে তো চলে আসার কথা! আধাঘন্টা পরে দেখি জল্লাদী আসছে যাক তবুও কোন সমস্যা হয়নি এতো সময় মনে হচ্ছিলো জানে পানি নাই এখন জল্লাদীকে দেখার পরে ভালোই লাগছে। কি আজব! এতো সময় ধরে ওর জন্য আমি চিন্তা করছি! কিন্তু কেন! সোনালী কাছে আসাতে দেখলাম মুখ ঘেমেলাল হয়ে গিয়েছে বুঝায় যাচ্ছে খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। আমার সামনে আসাতেই আমি বললাম”নিজের ভালোটা না বুঝলে এমনি হয় ” সে কিছু না বলে রাগের জন্যে আমার দিকেনা তাকিয়েই রুমে চলে যায়।দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে একটু ঘুমালাম। ঘুম থেকে উঠে আজ বিকেলে বাজার করতেগেলাম,সাধারণত সোনালী আমাদের বাসায় কোনকাজ করো না আর তেমন কোন কাজ নাই তাইআম্মা করতেও দেয়না।

–শখ করে আজ বাজার করতে গেলাম, হটাৎ মাথায় দুষ্টামি বুদ্ধি আসলো জল্লাদীকেদিয়ে কাজ করানোর জন্য আমি বাজার থেকে ছোট বড় অনেক মাছ কিনলাম।বাসায় আসার পরে আম্মু অনেক বকা দিলোএতো মাছ কেন কিনেছি হেনতেন,আমি বললাম দামে সস্তা পেয়েছি তাইকিনলাম। আসলে দাম ভালোই ছিলো কিন্তু জল্লাদীকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য কিনেছি এই কথা তো আর বলা যায়না।

—আম্মা বললো” এতো মাছ কিভাবে কাটবো? বেশি সময় বসে থাকতে ডাক্তারের নিষেধ আছে আমার ” আমি সোনালীর সামনে বললাম ” তুমি কেনকাটবে? তোমার আদরের বউমা সোনালী তো আছে

—-সোনালী আমার দিকে তাকিয়ে রাগে গজগজ করছে ওর চোখেও আম্মার মত প্রশ্ন এতোমাছ কেন কিনেছি?
—আমি শুধু হাসছি।
—আম্মার সাথে সোনালী মাছ কাটতে বসে, প্রায় দুই ঘন্টা ধরে মাছ কাটছে,মনে হচ্ছে কাজটা করা ঠিক হলোনাজল্লাদীকে শাস্তি দিতে গিয়ে আম্মাকে কষ্ট দিলাম। আমি যেয়ে আম্মার হাত ধরেটেনে বললাম যাও হাত ধুয়ে এসো তোমার আর কাটতে হবে না বাকি মাছ গুলো সোনালীকাটবে। আমার কথায় সোনালী বললো ” আমিঅনেক সময় আগে থেকে বলছি যে আমি কাটবো মামুনি তুমি উঠো তবু উঠছে না।

-আম্মা কিছুতেই যাবে না আমার জোর করাতে মাছ রেখে উঠে গেলো।একটু পরে দেখি সোনালী আহহহ! বলে উঠে আমিএবং আম্মা দুজনই যেয়ে দেখি তিনি হাত কেটে নিয়েছে আংগুল বয়ে রক্ত ঝরছে।

—আম্মা তো অস্হির হয়ে গিয়েছে আমি তারাতারি সোনালীর হাত চাপ দিয়ে ধরি। সোনালী হাত ছাড়িয়ে নিয়ে হাত ধুয়ে আসে। সোনালীর হাত কাটা দেখে আমি অস্হীরহয়ে গেলাম মনে হচ্ছে হাত যেনো আমার কেটেছে, আমি হাতে ওষুধ দিয়ে ছোট ব্যান্ডেজ করে দেই কিছুতেই আমার কাছে ব্যান্ডেজ করে নিবেনা আমি জোর করে হাত ধরে ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেই,সোনালী বলে উঠে “তুই তো গভীর জলের মাছ দেখছি! তুই তো চেয়েছিলি আমার হাত কাটুক তাই তো বাসায় এতো মাছ নিয়ে আসছিস,আরমায়ের সামনে অস্হীর দেখাচ্ছিস,

-দেখ হাত কাটুক এটা আমি কখনো চাইনি,
-হ্যাঁ এটাই চেয়েছিস আর মায়ের সামনে কি অভিনয় করলি যে আমার জন্য তুই কত ব্যাস্ত! আমারহাত কেটেছে জন্য তোর কত কষ্ট হচ্ছে! তুই তোভাল অভিনয় করতে পারিস রে!
-অভিনয় কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলোআমি যা করেছি তা তো মন থেকেই করেছিকোন অভিনয় করিনি কিন্তু এটা আর প্রকাশ করতে পারিনা।

–আম্মা আমাকে রাগ করলো বললো বললাম আমি কাটবো তুই তো বললি তাই সোনালী হাতকাটলো।আমি কিছু বলিনা আসলেই তো আমার জন্য কেটেছে আমি যদি এতো মাছ না কিনতামতাহলে কিছু হতোনা। আমার মনের ভিতরে কেমন যেনো একটা মায়া তৈরি হলো মায়াটা তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ সোনালী কে নিয়ে। আমি সোনালী কে যেয়ে সরি বললাম। আমার জন্য তোর হাত কেটেছে সরি রে,

—তুই তো এটাই চেয়েছিলি তাই তো এতো মাছ কিনেছিস,
–বললাম তো সরি একটু ধমকের সুরে।
—তুই যা তো এখান থেকে
—-আমি চলে আসলাম ছাদে, বসে বসে গান শুনলাম।

—ছাদ থেকে এসে শুনলাম আম্মা সোনালীকে খাইয়ে দিয়েছে সোনালী ঘুমিয়ে পরেছে,কিছু দিন পরে বাবা মা দুজন দাদুর বাসায় গ্রামে যায় আমরা দুজন বাসায় থাকি।

–রাতে যেহেতু আমার বাসায়ই থাকতে হবে তাই একটু টিভি দেখছিলাম আর জল্লাদী খাবার তৈরী করে খেতে ডাকলো, আমি খেয়ে আবার টিভি দেখছিলাম ও তখন রুমে পড়ছিলো টিভি দেখা শেষ করে যেয়ে শুয়ে পরলাম।

-আমার শুয়ে পরা দেখে লাইট নিভিয়ে আম্মার রুমে পড়তে যায়। আমি ঘুমিয়ে যাই রাতে হটাৎআগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়, মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখি রাতবারোটা বেজে তেইশ মিনিট, তারাতারি উঠে বেলকুনিতে যেয়ে নিচেতাকিয়ে দেখি লোকজন এই বিল্ডিং এ তাকিয়ে আগুন আগুন করছে আমার বুঝতে বাকি রইলো না যে এই বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছে।সাথে সাথে কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে দেখলাম আমার কাজিন বলছে তারাতারি নিচে আয় উপরে আগুন লেগেছে,আমি সময় না নিয়ে সোনালীকে ডাকতে যাই,দেখি ঘুমাচ্ছে আমার ডাক শুনে আতংক হয়েযেয়ে চোখ বড় বড় করে” বলে কি হয়েছে? ” আমি কোন কিছু না বলেই হাত ধরে উঠায়ে বলি তারাতারি চলো বাসায় আগুন লেগেছে আমাদের নিচে নামতে হবে, আগুনের কথা শুনে সোনালী ভয়ে তারাতারিউঠে আমি দেরি না করেই ওর হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকি,

আমাদের উদ্দেশ্যে ছিলো যেভাবেই হোক দ্রুত নিচে নামা এই দ্রুত যেয়ে সোনালী পরে যায় সাথে সাথে পায়ে আঘাত পায় খুব কষ্টে নিচে এসে দেখি এই বিল্ডিং এর অনেকেই নিচে নেমেছে, সোনালী আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে খুব ভয় পেয়েছে বেচারি আচমকা ঘুম ভেংগেই এতো বড় সংবাদ পেয়েছে ভয় পাওয়ারই কথা, তারাহুরা করে নেমে আসছে তাই সোনালী শীতের পোশাক আনতে ভুলে গিয়েছে ভুলেই বা যাবেনা কেন আমি তো ওরে কোন সময়ইদেইনি,আমার গায়ের চাদর দিয়ে ওরেজড়িয়ে দেই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো আমার লাগবে না তুমি নাও, লাগবে না কেন! তুমি তো শীতের পোশাকনিয়ে আসোনি তোমার তো ঠান্ডা লেগে যাবে তুমি গায়ে জড়াও আমি উপরে যেয়ে দেখি কি সমস্যা! এখন তো কোন আগুন দেখা যাচ্ছে না,

সোনালী আমাকে আরও শক্ত করে ধরে বলছে না তুমি যাবেনা কোন বিপদ হতে পারে আমিতোমাকে যেতে দেবোনা,সোনালী এতো জোর দিয়ে বলছিল মনে হচ্ছিলো আমি ওর অনেক কাছের কেউ, বলার মাঝে একটা অধিকার ছিলো যেটা সোনালী কখনো দেখায়নি, একজন এসে বলে আসলে আগুনের কোন সমস্যা নেই একজনের বাচ্চার দুধ গরম করতে পাতিল ওরনা দিয়ে ধরেছিল সেই ওরনায় আগুন লেগে তার ড্রেসে আগুন লেগে যায় জায়গায় জায়গায় পুড়ে গিয়েছে হসপিটালে নিয়ে গেলো তাকে আর কোন সমস্যা নেই, সেই ফ্লাট থেকে আগুন আগুন চিৎকার আসছিল তাই সবাই ভেবেছে বড় ধরনের আগুন এদিক সেদিক না তাকিয়ে সবাই নিচে চলে আসছে,,, এই খবর শুনে সবাই একে একে ফ্লাটে ফিরছিল, সোনালিকে বললো চলো এখন রুমে যাই আর কোন সমস্যা নেই, ও খুব ভয় পাচ্ছিলো বললো চলো আজ আমাদের বাসার যাই এই বাসায় যেতে ভয় হচ্ছে, আরে ভয় নেই চলো আমি আছি তো,, আমার কথা শুনে সোনালী একটু সাহস পেয়ে আমরা সাথে যেতে লাগলো আর দেখে পায়ে ব্যাথা পেয়ে নিচে বসে পায়ে হাত দেয়,

-কি হয়েছে? পায়ে ব্যাথা হয়ে গিয়েছে? আমি মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে দেখি পা ফুলে গিয়েছে, বললাম আমাকে ধরে একটু কষ্ট করে উপরে চলো বরফ দিলে ঠিক হয়ে যাবে, সোনালী আমাকে ধরে ধরে উপরে গেলো কিন্তু খুব ভীতু হয়ে আছে, আমাকে কিছুতেই ছাড়তে চাচ্ছেনা, আমি বরফ লাগিয়ে দিয়ে বললাম “এখন শুয়ে পড়ো আর কোন সমস্যা নেই,

-তুমি ঘুমাবেনা?
-হ্যাঁ আমিও ঘুমাবো,
-তুমি আসো আমার ভয় করছে,
-সোনালোী আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে আমি বললাম “তুমি ঘুমাও আমি জেগে আছি ” একটা ব্যপার লক্ষ্য করলাম এই দূর্ঘটনায় সোনালী আমাকে তুমি করে বলছে আমিও সোনালীকে তুমি করে বলছি,ব্যাপার টা ভালোই লাগছিলো ছোট বেলায় পাশের বাসার এক মেয়ে তুমি করে বলছিলো জন্যে সোনালী তাকে ঘামছি দিয়েবলেছিলো সামিরকে শুধু আমি তুমি করে বলবো তুই বলবিনা “হাহাহাসোনালী ঘুমিয়ে গিয়েছে নি নিষ্পাপ লাগছে দেখতে এভাবে তো কখনো দেখিনি এতো সুন্দর!

—এই প্রথম ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছি আর তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগছে কি সুন্দর আমার জল্লাদীটা, আর আমি শুধু ঝগড়া করি। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি, নাহ! আর ঝগড়া করা যাবেনা এখন প্রেম নিবেদন করতে হবে। কিন্তু কিভাবে করবো? যেভাবেই হোক করতে হবে এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যাই।সকালে উঠে সোনালী ডাকছে নাস্তা করার জন্য, আমি উঠে নাস্তা করতে বসি। সোনালী বসে আছে আমার খাওয়া দেখছে, আমি জানিসোনালী আমার মত ভাবছে আমার সাথে আর সেও ঝগড়া করবে না,

-সোনালী বললো একটা কথা বলবো?
-হ্যাঁ বলো।
–কিছু দিন আগে কাকে বাইকে করে নিয়ে যাচ্ছিলি ?
–ওর তুই ভাষা শুনে কেমন যেনো খোঁচা দিয়ে উঠলো আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি মিথ্যা বলবো নাকি সত্যি বলে দিবো?
-কি হলো চুপ করে আছিস কেন?
—তুই ভাষা শুনে আমার রাগ হলো বললাম “আমার গার্ল ফেন্ড হয়”
–কি বললি? তোর গার্ল ফেন্ড?
—-হ্যাঁ, কানে কি কম শুনিস?
—না এমনি, এটা বলেই সোনালী রুমে চলে গেলো। আমি জানি অবচেতন মনে সোনালী আমাকেভালবাসে যার জন্য গার্লফ্রেন্ড কথা শুনে ওর খারাপ লাগলো,
—সেদিনই মা বাবা বাসায় আসে সব কিছু বলি। মা বাবা চিন্তা করে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করে আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি জন্য,
-পরের দিন সকালে একটা কাজে এক বন্ধুর বাসায় যাই। বাসায় এসে শুনি সোনালী একা একাই ভার্সিটিতে গিয়েছে।
–ভার্সিটিতে যেয়ে আম্মাকে কল করেছিল ভালভাবে গিয়েছে।
—আমার এক বন্ধু কল দেয় ভার্সিটিতে মারামারি হয়েছে ছাত্র ছাত্রীরা খুবআতঙ্কিত আছে। কেউ বের হতে পারছেনা, সোনালীর ডিপার্টমেন্টের সামনে এই ঘটনা, সবাই ডিপার্টমেন্টের ভিতরে আটকা পরেছে।

–আমি শুনা মাত্র সোনালীকে কল করি কিন্তু রিসিভ করেনা অনেক বার কল দেই কিন্তু রিসিভ করেনা। আমার মন তো পাহাড় থেকে নিচে নামছে, কোন কিছু কাজ করছে না। এখন কি করি????এদিকে সোনালীর বাবা মা কল দিয়ে খবর নিচ্ছে, সত্যি টাই বলে দিলাম সোনালী ভার্সিটিতে আমি যাচ্ছি নিয়ে আসতে চিন্তা করবেন না।

-সোনালী মনে হয় ব্যাগে ফোন রেখেছে হয়তো সাইলেন্ট করা আছে আমি মেসেজ দিলাম আমি আসছি নিতে ডিপার্টমেন্টের ভিতরে থাকিস।

–যেয়ে দেখলাম সমস্যা দূর হয়েছে একে একে সব স্টুডেন্ট বের হচ্ছে সোনালী আমার কাছে আসতেই সাথে সাথে একটা থাপ্পড় দেই, সোনালী কিছু বলে না ও জানে কেন থাপ্পড় দিয়েছি। ও বললো “সরি আমি ফোন দেখিনি যখনি এতোগুলো কল দেখলাম কখন তোকেও দেখতে পেলাম, আমার কাছে ফোন আছে ভয়ে আমার কিছুই মনে নেই। সোনালী কে মনে হয় ১০০ বার কল দিয়েছি তবু দেখেনি এত বড় সমস্যা না জানি আমাকে আগে জানাবে অথচ তার ফোনের কথা মনে নেই তাই রাগে থাপ্পড় দিয়েছি। ও বাইকের পিছনে বসে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছে জানিস! আমার সামনে এক নেতা কি নির্মমভাবে একটা ছেলেকে মেরেছে আমার না খুবই কষ্ট হয়েছে কেউ কখনো এতো নির্মমভাবে মারে আবার সবাই খুব ভয় পেয়েছি

-তোর এসব বুঝতে হবেনা এগুলো রাজনৈতিকখেলা,
-আজকে কলেজে আসাটাই ভুল হয়েছে, তারপরআমি কোন কথা বলিনা, বাসায় এসে কোন কথা না বলেই শুয়ে পরি। কিছু সময় পরে দেখি সোনালী আমার জন্য ভাত নিয়ে এসেছে, আমাকে ভাত খেতে ডাকে । আমি বসে আছি সোনালী খাইয়ে দিচ্ছে, আমি বসে খাচ্ছি আর অবাক হচ্ছি! কোনদিন যা করেনি আজ তাই করছে আবার আমার গার্ল ফেন্ড আছে জানা শর্তেও কেন আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে!

-সোনালী তাকিয়ে দুষ্টামির হাসি দিয়ে বলছে লতার সাথে দেখা হয়েছিল।
-আমার ওই বান্ধবীর নাম লতা যাকে গার্লফ্রেন্ড বলেছিলাম
-লতা আমাকে সব বলেছে, আর ওনি তো বিবাহিত আর কেন তুই ওকে বাইকে নিয়ে গেছিস সব জানি।
–আমি এখন ক্লিয়ার হই কেন জল্লাদী ভাল ব্যবহার করছে। বললাম শুন তুই করে কথা বললে আমি খাবো না।
–এই শুন তুইও তুই করে কথা বললে আমিও খাওয়াবোনা ।
-অতপর দুজনই হেসে উঠলাম এই হাসিতেই দুজন দুজনের ঝগড়াঝাটি মিলে গেলো দুজনের নতুন পথের নতুন সূর্য উদিত হলো এই পথে যেনো সব সময় আলো হয়ে জীবনে থাকে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত