বিরোধী দল

বিরোধী দল

আমি এখন প্রানপণে কম্বল নামক সম্বল নিয়ে চরম টানাটানির ভেতর আছি। যতবারই কম্বলমুড়ী দিয়ে ঘুমাচ্ছি ততবারই কে যেন টান দিয়ে কম্বল মুখের উপর থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। কয়েকবার এমন হওয়ার পর বুঝতে পারলাম এটা বিরোধী দলের বিরাট চক্রান্ত।

মনে মনে লাগাতার হরতালের আহ্বানের মনোভাব নিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলাম। কিন্তু কিছুতেই চোখের পাতা খুলতে পারছি না। সারারাত ঘুমিয়ে কোন লাভ নেই যদিনা আপনি সকালবেলার আরামদায়ক ঘুমটা মিস করেন। আমি চেয়েছিলাম সকালবেলার ঘুমটা উপভোগ করতে। কিন্তু বিরোধী দলের অত্যাচারে তা আর সম্ভব হলো কই?
বহু কষ্টে চোখ মেলে চমকে গেলাম। বিরোধী দলের নেত্রী কোমরে কাপড় গুঁজে হাতে তোয়ালে নিয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে। আমার সাধের ঘুমের গুষ্ঠি উদ্ধার করে এখন তিনি হাসছেন। আমাকে চোখ মেলে তাকাতে দেখে বিরোধী দলের নেত্রী আমার মুখ বরাবর সজোরে তোয়ালে ছুড়ে মারলেন।

— একেবারে মরার মত ঘুমাও। কতক্ষন ধরে ডাকছি শুনতেই পাও না? তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসো।
নেত্রী যখন বলেছে তখন এই আদেশ অমান্য করার সাহস আমার মত অধমের নেই। তাই বাক বিতর্ক না করে তোয়ালে হাতে সোজা ছুটে গেলাম ওয়াশরুমের দিকে। ব্রাশ হোল্ডার থেকে ব্রাশ হাতে নিয়ে টুথপেষ্ট লাগাতে গিয়ে আমি অবাক হলাম কিছুটা। আমার ব্রাশ ভেজা। আমার যতটুকু মনে পড়ে গতকাল দাঁত ব্রাশ করার পর আমি আর ব্রাশ ছুঁইনি। তাহলে ব্রাশ ভেজা কেন? এটাও কি বিরোধী দলের চক্রান্ত? কে জানে হতেও পারে। দাঁত ব্রাশ করতে করতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি পাথর হয়ে গেলাম পুরোপুরি।

আল্লাহ, এই আয়নার ভেতর এটা কাকে দেখা যাচ্ছে? মাথার চুলগুলো তারকাঁটার মত দাঁড়ানো। ঠোঁটে জোকারের মত লিপস্টিক লাগানো। একচোখের চারপাশে কালো রঙ্গের ছোপ ছোপ দাগ আর অন্য চোখের চারপাশে কেমন যেন চকচকে বস্তু লাগানো। ভূত নয়তো আবার? নিশ্চয়ই এই আয়নায় ভূতে ভর করেছে। গতকাল রাতে ঘুমানোর আগে একটা হরর মুভি দেখে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। সেই মুভির ভূতটা সবসময় আয়নার ভেতর দিয়ে চলাচল করে। এটাই কি সেই ভূত? মানে মানে কেটে পড়ার জন্য আমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলাম। তখনই আমার সামনে এসে দাঁড়ালো বিরোধী দলের সাধারন সম্পাদক। কোমরে হাত দিয়ে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি মুখে টুথপেষ্টের ফেনা সহই একটা জবরদস্ত হাসি দিলাম।

— বাবা আমি তোমাকে সাজিয়ে দিয়েছি। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। আম্মু আমাকে বকা দিয়েছে। আমি কান্না করেছি । আম্মু পচা।

সাধারন সম্পাদকের কথা শুনে আমার চক্ষু ছানাবড়া, ডালের বড়া অথবা যাই হোক হয়ে গেল। তারমানে আমার এই জম্বি স্টাইলে সাজানোর কৃতিত্বটা সাধারন সম্পাদকের। আমার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেল মূহুর্তেই। আমি দাঁত দিয়ে ব্রাশ কামড়ে ধরে হাঁটুগেড়ে বসে হাত দুটো প্রসারিত করে দিলাম সাধারন সম্পাদকের জন্য। সে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার কোলে।

— বাবা আম্মু পচা। আমি আম্মুর সাথে কথা বলবো না। তুমি আম্মুকে মাইর দিবা না বলো?
— হুম বাবুনি দিব। তোমার আম্মুকে অনেকগুলো মাইর দিবো আজকে। দাঁড়াও আগে মুখ ধুয়ে আসি কেমন?
— জানো বাবা আম্মু আজকে ব্রাশ খুঁজে পায়নি বলে তোমার ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করেছে। আম্মু অনেক পঁচা।

এই কথা শুনে আমি ধপাস করে বসে পড়লাম ফ্লোরে। এই জন্যই তো বলি ব্রাশ কেন ভেজা ছিল। কোন লেভেলের পাগল হলে একজনের ব্রাশ দিয়ে আরেকজন দাঁত ব্রাশ করে?
এই ব্যাপারটা তদারক করার উদ্দেশ্যে দাঁতে জোরে জোরে ব্রাশ ঘষতে ঘসতে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। আজ ওর একদিন কি আমার যতদিন লাগে।

— রোদেলা, এই রোদেলা সমস্যা কি তোমার? ছুটির দিনে তো একটা শান্তি দিবা নাকি তাই আমার কপালে নাই?
রোদেলা রান্নাঘরে ফ্লোরে বসে রুটি বানাচ্ছে। আমি তার পেছনে দাঁড়িয়ে অনেকটা উঁচু স্বরেই কথাগুলো বললাম। আমাদের মেয়ে তানিশা এসে রান্নাঘরের দরজার পাশে ভয় ভয় মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজ হয়ে যাবে হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

হঠাৎ রোদেলা সোজা উঠে দাঁড়ালো। কোমরে তখনও শাড়ীর আঁচল গোঁজা, হাতে বেলুনি। ঘামে সামনের ক’গাছি চুল কপালের সাথে লেপ্টে আছে। খুবই সুন্দর দৃশ্য। আমি কিছু না বলে তাকিয়ে রইলাম রোদেলার দিকে। কিন্তু রোদেলা তাকিয়ে রইলো না। সে বাঁজখাই গলায় চেঁচিয়ে উঠলো।

— কি সমস্যা তোমার? এত উচ্চস্বরে কথা বলছো কেন? কি এমন হয়েছে হুম?
যত গর্জে তত বর্ষে না। কথাটা আমার বেলা একেবারে খাপে খাপ কুদ্দুসের বাপ। যতই তর্জন গর্জন করি না কেন রোদেলার সামনে আসলে কেমন যেন সবকিছু গন্ডগোল লেগে যায়। আজকেও তার ব্যাতিক্রম নয়। রোদেলার অগ্নিদৃষ্টি উপেক্ষা করে মিনমিন করে বললাম,

— ইয়ে মানে আমার ব্রাশ তুমি দাঁত ব্রাশ কেন করছো?
— করেছি তো কি হয়েছে? মহাভারত তো আর অসুদ্ধ হয়ে যায়নি। এমন তো না যে আমার মুখে গু লেগে ছিল।
— না তা নয় তারপরেও বুঝোনা, কত জীবাণু থাকে……..!
— রাখো তোমার জীবাণু। এতই যখন জীবাণুর ভয় তাহলে ফেলে দাও ব্রাশ। এখনো কেন মুখে রেখে কামড়াচ্ছো ব্রাশটাকে?

রোদেলার কথা শুনে হঠাৎ মনে হলো ঠিকই তো, আমি কেন এখনো ব্রাশ মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি? আমার উচিত এখনই ব্রাশটা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়া। কিন্তু কেন যেন ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে না। মাত্র কয়েকদিন আগেই সত্তর টাকা দিয়ে এই ব্রাশটা কিনেছি। এত তাড়াতাড়ি ফেলে দিলে লোকসান হয়ে যাবে।

— আমার ব্রাশ আমি কামড়াবো, দাঁত মাজবো। দরকার হলে রুটির বদলে ব্রাশ খাবো। তোমার কোন সমস্যা?
— আমার সমস্যা থাকবে কেন? আমার তো কোন সমস্যা নেই। আমি তো রোবট, আমার সমস্যা থাকতেই পারে না।

সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। মনে হয় আমি কোন বড় রেস্টুরেন্টে কাজ করি। সারাদিন শুধু রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা এইসব করতে করতেই দিন চলে যায়। বুঝতে পারলাম ব্রাশ ইস্যু থেকে ঘটনাকে বিরোধী দলীয় নেত্রী অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার সুক্ষ চেষ্টা করছে। এখন এই আলোচনা এখানেই স্থগিত করে দেয়া যুক্তিযুক্ত। তাই আমি সুড়সুড় করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।

— কোথায় যাও তুমি? এখন তো চলে যাবাই। দাঁড়াও বলছি……!

পেছন থেকে নেত্রী জ্বালাময়ী ভাসন দিচ্ছেন আর আমি বাথরুমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জম্বির মত চেহারা দেখছি। এখন যদি আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে নিশ্চয়ই কোন এক জম্বি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাবো। নাস্তার টেবিলে বসে আছি আমি, বিরোধী দলীয় নেত্রী রোদেলা আর সাধারন সম্পাদক তানিশা। তানিশা রোদেলার দিকে বারবার তাকাচ্ছে আর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। রোদেলা বুঝতে পেরেছে যে তানিশা রাগ করেছে। তাই রোদেলা তানিশাকে কোলে তুলে নিল।

— তানিশা মামণি তুমি রাগ করেছো?
— তুমি পঁচা, তোমার সাথে কথা নাই। বাবা ভালো, আমি বাবার সাথে কথা বলবো শুধু।
— কেন মামণি আমি পঁচা কেন? আমি কি করেছি?
— তুমি বাবাকে বকা দিয়েছো কেন? আমার বাবা কত্ত ভালো।
তানিশার কথা শুনে বুকটা আনন্দে ভরে গেল। এই না হলো আমার মেয়ে। আমাকে কত্ত ভালবাসে। মনে একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছে। আমি রুটির টুকরো মুখে দিতে দিতে তানিশার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম।
— তানিশা মামণি আসো আমার কোলে।
তানিশা রোদেলার কোল থেকে আমার কোলেই আসছিল। হঠাৎ রোদেলা হ্যাঁচকা টানে তানিশাকে তার কোলে বসিয়ে রাখলো।

— এত কোলে নিতে হবে না। মেয়েটাকে ঠিকমত নাস্তা খেতে তো দিবা।
— আমি আবার কখন নাস্তা খেতে বাঁধা দিলাম?
— চুপচাপ নাস্তা খাও। বেশি কথা বলবা না।

লও ঠেলা। নিজে তানিশাকে কোলে নিয়ে বসে আছে আর আমি কোলে নিতে চাইলেই দোষ? আমার প্রতি মেয়ের ভালবাসা দেখে নিশ্চয়ই মনে মনে পুড়ছে। একটু আধটু পোড়া গন্ধও পাচ্ছি মনে হয়। গন্ধটা কিসের বোঝার জন্য নাক টানতে লাগলাম। এই গন্ধটা তো মন পোড়ার গন্ধ হয়। কেমন যেন অন্যকিছু পোড়ার গন্ধ মনে হচ্ছে।

— রোদেলা দেখো তো কি যেন পুড়ছে। রান্নাঘরে কোনকিছু রেখে এসেছো নাকি?
— (গন্ধ শোঁকার চেষ্টা) কই আমি তো কোন গন্ধ ওহ আল্লাহ তরকারি বোধহয় সব পুড়ে গেল।

কথা শেষ করার আগেই রোদেলা দৌড় দিল রান্নাঘরের দিকে। তবে আমি আগের জায়গায় বসে রইলাম। তানিশা একটা রুটির চারপাশে একটু একটু করে খেয়ে কিছু একটা বানাতে চাচ্ছে। আমি তানিশার কান্ডকারখানা দেখে মজা পাচ্ছি খুব। একটু পরেই রোদেলা রান্নাঘর থেকে ফিরে এলো। তাকে কেমন যেন বিধ্বস্ত মনে হচ্ছে।

— এত শখ করে একটা জিনিস রান্না করতে চাইলাম, কিন্তু তা আর হলো না।
— কেন কি হয়েছে?
— চুলার উপর রেখে নাস্তা করতে এসেছিলাম। সব পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।
— সত্যি সত্যি কয়লা হয়ে গেছে? সমস্যা নেই। তোমার হাতের রান্না এমনিতেই খাওয়া যায় না। আজকে নাহয় পোড়া কয়লাই খেলাম।

কথাগুলো খুবই আস্তে আস্তে বললাম। সত্যি বলতে রোদেলার রান্নার হাত খুব একটা ভাল না। তবে ওর রান্না করার শখ অনেক বেশি। ইউটিউবে, টিভিতে বিভিন্ন রান্নার অনুষ্ঠান দেখে দেখে মাঝেমাঝেই অদ্ভুত সব আইটের রান্না করার চেষ্টা করে। যথারীতি রান্না হয় জঘন্য পরিমাণ খারাপ।

— কি বললা তুমি? আমার রান্না খারাপ? তাহলে খাও কেন আমার রান্না? আমাকে বিয়ে কেন করছো? প্রেম কেন করেছিলে আমার সাথে? আমার কিছুই তো এখন ভাল লাগবে না। পুরোনো হয়ে গেছি তো তাইনা?
সর্বনাশ! এত আস্তে কথা বললাম তাও শুনে ফেললো? রোদেলার শ্রবন শক্তি তো দেখি সাংঘাতিক। যেভাবেই হোক সামাল দিতে হবে ব্যাপারটা।

— কে বললো তোমার রান্না খারাপ? আমি তো বললাম যে তুমি তো প্রতিদিনই রান্না করো। আজ নাহয় বাইরে থেকে খেয়ে আসলাম। একটা ভাল রেস্টুরেন্টে গিয়ে আজ দুপুরের খাবারটা খাই।
— সত্যিই আজ বাইরে নিয়ে যাবে? জানো আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।
— ( আস্তে আস্তে) আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছি না।
— কি বললা?
— বললাম দুপুরে খাওয়ার পর কিছুক্ষন ঘোরাঘুরি করা যাবে।
— উফ তুমি এতো ভাল কেন বলতো?

একেই বলে মড়ার উপর খাড়ার ঘা। সামান্য একটা কথা বাঁচাতে গিয়ে এখন আমার কতগুলো টাকা গচ্ছা যাওয়ার পথে। যদিও অনেকদিন পর রোদেলাকে নিয়ে বাইরে যাবো তবুও মনে একটা খঁচখঁচানি থেকেই যায়। এত্তগুলো টাকা! বাইরে যাওয়ার জন্য রোদেলা তৈরী হচ্ছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মেকআপ বক্স নামক জাদুর বক্স থেকে এটা সেটা নিয়ে গালে মাখছে। আমি বুঝি না একটা মেয়ে কিভাবে এতকিছু মুখে মাখে? মেকআপ ছাড়াই রোদেলাকে অনেক সুন্দর লাগে, তবুও তাকে মেকআপ করতেই হবে। আমি তানিশার সাথে বসে বসে গল্প করছি। তানিশা দেখতে হয়েছে রোদেলার মত কিন্তু স্বভাব হয়েছে আমার মত। একেবারেই ঠান্ডা মেজাজের।

— তানিশা মামণি তুমি আজ এতো সেজেছো কেন?
— আম্মু সাজিয়ে দিয়েছে তাই।
— তুমি জানো আজকে আমরা কোথায় যাচ্ছি?
— জানি, আজকে আমরা শিশুপার্কে যাবো। আমি ঘোড়ায় চড়বো আর আইসক্রীম খাবো।
— আর কি কি করবে তুমি?
— আম্মুর জন্য একটা আইসক্রীম কিনবো।
— ওই আইসক্রীম কি তুমি তোমার আম্মুকে গিফট করবা?
— নাহ।
— তাহলে কি করবা?
— আমি খেয়ে ফেলবো।

তানিশার কথা শুনে আমি আবুলের ভাই বাবুল হয়ে চুপচাপ বসে রইলাম সোফায়। আজকে মানিব্যাগের উপর যথেষ্ঠ ধকল যাবে বুঝতে পারলাম। তাই ক্রেডিট কার্ডটাও নিয়ে নিলাম। বলা যায় না কখন আবার বিল দিতে না পেরে থালা বাসন পরিষ্কার করতে হয়।

— এই চলো আমরা রওনা দেই।

রোদেলার কথায় রোদেলার দিকে তাকালাম। সত্যি বলতে আজকে রোদেলাকে নতুন করে আবার অাবিষ্কার করলাম। রোদেলার মুখে মেকআপের ছিঁটেফোঁটাও নেই। শুধু ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক আর চোখে গাঢ় করে কাজল দেয়া। এই অল্প সাজেই রোদেলাকে অপ্সরীর মত লাগছে। আমি বিরোধী দলের নেত্রীর প্রেমে পড়লাম আবারো। এই অপ্সরীকে দেখার জন্য হলেও মাঝে মাঝে মানিব্যাগের উপর অত্যাচার করা দরকার।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত