ইতরের ভালোবাসা

ইতরের ভালোবাসা

-কিরে রাত পোহালেই প্রিয়ার বিয়ে আর তুই এখানে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস?একমাত্র বোনের বিয়েতে তোর কোনো দায়িত্ব নেই?

-উফফ…মা যাও তো এখন একটু ঘুমাতে দাও একটু পর যাচ্ছি এই দুপুরের রোদে বাজারে যাবো?
-বাজারে যেতে কে বলেছেরে?আমায় নিয়ে ঘুরতে যাবি..আর আমি তোর মা??ইতর কোনহানের।।
(এই আমারে ইতর কইলো কেরে!!চোখ খুলে দেখি সাগরিকা )

-খবরদার ইতর বলবি না এটা তোর বাবার বাড়ি না যে ইতর বলতে হবে।গেলে খুব তো বলিস সুনামগঞ্জের ইতর এসেছে,এখন বললে কিন্তু ঠ্যাং ভেঙ্গে রেখে দিবো,মনে রাখবি এটা তোদের ঢাকা না এটা সুনামগঞ্জ । আর ইস শখ কতো বিয়ের চারদিন আগে খাইতে চলে আসছে মুটকি কোনহানের! (আমি)

-ওই কুত্তা আমাকে দেখে মুটকি মনে হয়!এই স্লিম ফিগার দেখে মুটকি মনে হলে মুটকিরে কি কইবি!আর আমি খাইতে আসি নাই বোনের বিয়ের সাজগোজ দায়িত্বে আমি আছি,তাই এসেছি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে থুক্কু প্রস্তুতি নিতে।(সাগরিকা )

-ইস আইছে,যা ভাগ,তাহলে প্রিয়ার কাছে যা এখানে কেনো?(আমি)
-আমি এখানে থাকবো না তো কোথায় থাকবো?তুই না আমার…..(সাগরিকা )
-ভাই,সিনিয়র ভাই।রেস্পেক্ট করবি।(আমি)
-ধুর তোর সাথে কথাই কমু না।তুই থাক তোর রেস্পেক্ট নিয়া।আচ্ছা সত্যি করে বলবি, আমি কি তোর শুধুই বোন?(সাগরিকা )
-নাতো তুই সাথে আমার জুনিয়র ফ্রেন্ড আই মিন বেস্ট ওয়ান!(আমি)
-তুই আমার সাথে কথা বলবি না আর আমিও আর তোর সাথে কথা বলবো না।(সাগরিকা ,মুখটা মলিন করে রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো)

ও আপনাদের তো বলাই হয়নি।আমি ডালিম বাবা মায়ের তিনমাত্র ছেলে মানে তৃতীয় সন্তান।সুনামগঞ্জে থাকি।আর যার সাথে কথা বলছিলাম,কথা আর কি ঝগড়া করছিলাম সে আমার জেঠাত বোন সাগরিকা।আমি ওর সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও কখনো ভাইয়া বলে না!কি আর করা যে যেভাবে ভালো থাকতে পারে তাই হোক।

-ডালিম একবার এদিকে আয় তো!(মা)
-মা,এখন আবার ডাকছে কেনো?আচ্ছা দেখি কি বলে শুনি।(আমি,মনে মনে)
-কি হয়েছে মা?(আমি)
-সাগরিকা কে নিয়ে একটু ঘুরে আয়।ওর একা ঘরে ভালো লাগছে না।(মা)
-কিসের একা?প্রিয়া আছে না?(আমি)
-সেকি! দুদিন পর প্রিয়ার বিয়ে ও কি সাগরিকা কে নিয়ে এখন বাইরে ঘুরবে নাকি!(মা)
-আমিও পারুম না কাজ আছে।(আমি)
-ডালিম !তোকে যেতে বলছি যা,তোরইতো বোন।(মা)
-আরে বাবারে ও নাকি বোন!জিজ্ঞাস করো দেখি কোনোদিন বড় ভাইয়া বলে রেস্পেক্ট দিছে কি না?(আমি)
-ইস!বড় ভাই,আমি কোনোদিন তোকে ভাইয়া বলবো না।(সাগরিকা)
-না বললে নাই। (আমি)
-এই তোরা থামবি?আর ডালিম তোকে যেটা বলছি সেটা কর!যা এখন।(মা)
-যাচ্ছি তবে আটা ময়দা নিয়ে বসলে আমি যাইতে পারুম না এতো টাইম নাই আর এমনিতেও আমার এসব ভালো লাগে না!(আমি)
-আচ্ছা ঠিকাছে। তোর ভালো না লাগলে আমি এভাবেই যাবো। (সাগরিকা )
-আরেব্বাহ! আমিতো এমন একটা সিম্পল মেয়েকেই খুজছি যে মেয়েকে দেখতে মেকাপ ছাড়াই মিস ডায়নার মতো লাগবে!যাতে হারামি বন্ধুগুলা আমার গার্লফ্রেন্ডরে ময়দা সুন্দরি বলতে না পারে!(আমি মনে মনে)
-কিরে কি হলো এখনতো যাবি?(সাগরিকা )
-ওহ,, হুম চল।(আমি)
-তুই তোর বাইক থাকতেও তোর বাইকে চড়াইবি না জানি।তুই তো আমাকে সহ্যও করতে পারিস না!(সাগরিকা )
-আরে কে বলেছে সহ্য করতে পারি না?আসলে বাইকের ব্রেক ছিড়ে গেছে।(আমি)
-হুম আমি তোদের সুনামগঞ্জ আসলেই তোর বাইকের এটা ওটা নষ্ট হয়,,আমার মনে হয় তোদের বাসায় আসলে বাইকের ব্রেকের সাথে তোর মাথার তারটাও ছিড়ে যায়।(সাগরিকা )

-কি বললি?(আমি)
-ইতর বলছি।(সাগরিকা )
-এই খবরদার! (আমি)
-চুপ!এই রিক্সা!(রিক্সা কাছে আসতেই কিরে দাঁড়াই আছিস কেনো? চল উঠ!!(সাগরিকা )
-রিক্সায় উঠলাম কিন্তু বসে ভালো লাগছে না! আসলে কোনো মেয়ের সাথে প্রথমবার রিক্সায় যাচ্ছিতো তাই।একটু সাইডে চেপে বসলাম।

-সাগরিকাও আমার দিকে একটু চেপে আসলো!
-তুই আবার এদিকে আসলি কেনো?আরো ওদিকে চেপে বসলে কি হয়?।(আমি,বলে আরো চেপে বসলাম)
– সাগরিকা আমার দিকে আরো চেপে বসে,এক রিক্সায় দুজন পাশাপাশি বসলে তো পাশে আরেকজনের সিট থাকে না, তাই নয় কি?(সাগরিকা )
-মনে মনে ভাবলাম আসলেও তাই,কিন্তু তাই বলে এতো অত্যাচার!আচ্ছা আমরা যাচ্ছি কোথায়?(আমি)
-শিমুল বাগানে !(সাগরিকা )
-কেনো যাচ্ছি?(আমি)
-হাওয়া খেতে!(একটু রেগে,সাগরিকা )
-আচ্ছা ঠিকাছে রাগ না করলে একটা কথা বলতাম।(আমি)
-আচ্ছা বল!তোর কথাটা শোনার জন্যইতো তো আমি এতোকাল অপেক্ষা করছি।(সাগরিকা )
-আচ্ছা কিসের হাওয়া?(আমি)
-হারামি,কুত্তা,ইতর!আবার এই প্রশ্নগুলা!প্রেমের হাওয়া!হইছে এবার?(সাগরিকা ,আরো রেগে একদম ফুল ভোল্টেজ)
-ও সুনামগঞ্জ তোর বয়ফ্রেন্ড আছে আগে বললেই পারতি,একদম বাসর পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দিবো,তুই চিন্তা করিস না।(আমি)
-ইতর,তবেরে তোরে……(সাগরিকা )
-তবে কি? কি করবি তুই?(আমি)
-আমি তোকে…না থাক? (সাগরিকা )
[শিমুল বাগানে বসে আছি ]
-আচ্ছা ডালিম একটা গান শুনাতো।(সাগরিকা )
-আমি পারি না।বরং তুই শুনাতো পারলে দেখি কেমন পারিস!(আমি)
-আমি গান পারি না,কবিতা শুনাই শুনবি?
-হুম,বল!(আমি)
-তোর কোলে মাথা রেখে,হাজার কোটি স্বপ্ন একে,তোকে ভালোবেসে যেতে চাই। তোর নয়নে নয়ন রেখে,অপলক দেখে দেখে,আমি আমার ভূবন ভুলে যাই! তোকে অনেক ভালোবাসবো,মিষ্টি মধুর ঝগড়া করবো, তোর মনের গভীরে আমি হারিয়ে যাবো। ভালোবাসবি কি আমায়,দিবিকি তোর বুকে ঠাই, কথা দিলাম তোকে অনেক ভালো বাসবো! (সাগরিকা )

-বাহ চমৎকার কিন্তু কবিতা বলতে বলতে তো কোলে মাথা রেখেই দিলি!তোর ধান্দা কি আমি যা ভাবছি তাই?(আমি)
-তুই কি ভাবছিস আমি জানি ক্যামনে!আর ধান্দা এটা আবার কেমন ভাষা!আমার কোনো ধান্দা নাই।(সাগরিকা )
-আচ্ছা চল বাসায় যাই।আজকে আবার প্রিয়ার সুন্দরি বান্ধুবীরা আসবে,ওদের সাথে একটু জমিয়ে আড্ডা হবে,আর দেখি কয়টারে পটাইতে পারি!(আমি)
[দেখলাম সাগরিকা কেমন একটা রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে]
-কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো? (আমি)
-বাহ!আমি তোর জুনিয়র বলে আড্ডা দিতে পারিস না।আর ওরা কি আমার সিনিয়র নাকি!(সাগরিকা )
-না তা অবশ্য নয় কিন্তু ওদের সাথে প্রেম করা জায়েজ!আর তোর সাথে কি আড্ডাবাজি প্রেম আলাপ করবো তুই তো আমার বোন তাই না?
-তাতে কি!কত ছেলেরা তাদের খালাতো বোন,মামাতো বোন,ফুফাতো বোন,চাচাতো বোনের সাথে প্রেম করে বিয়ে করে!(সাগরিকা )
-এই শুন আমি তোর কত ছেলেদের মতো না বুঝলি মন চাইলে ভাইয়া বলে রেস্পেক্ট দিলে থাক না হলে যা।(আমি)
-তুই মর যা।(বলেই সাগরিকা একা চলে গেলো বাসায়)
-বাসায় এসে দেখি অনেকগুলা ফুলটুসি!ধুর সবগুলা আটা-ময়দা মাইখ্যা আইছে,আটা-ময়দার বস্তার নিচে কি আছে একবার যদি দেখতে পারতাম!কিন্তু কিভাবে?তাই একটা প্ল্যান করলাম।।

-আচ্ছা প্রিয়া তোর বান্ধুবীগুলা এক্সট্রা ড্রেস নিয়ে আসছে তো?(আমি)
-মেয়েদের ড্রেস দিয়া তুই কি করবিরে ইতর?(প্রিয়ার পাশে থাকা সাগরিকা )
-আসলে সবগুলারে ভিজাইয়া দিয়া দেখতাম ময়দা ছাড়া কোনটা বেশি কিউট! (আমি)
-ওহ কিন্তু ভাইয়া।সাগরিকা তো আমার বান্ধুবী ওকে দেখ! ওখানের সবগুলার চেয়ে সাগরিকা কতো কিউট! (প্রিয়া)
-হোক কিউট আমি এসবের ধার ধারি না!(আমি)
-দেখলাম সাগরিকা রাগে ফুঁসছে! আচ্ছা প্রিয়া মটরের পাইপটা কই?(আমি)
-আমি জানি কি করে!যাইয়া এদিক-ওদিক খুঁজে দেখ!(প্রিয়া)
-আচ্ছা যাচ্ছি।(আমি)
-হ্যা!তাই যা,এখানে বসে আছিস কেনো? তোকে দেখলে এখন শুধু রাগে আমার গা গজগজ করছে!(সাগরিকা )
-কেনোরে? (আমি)
-গেলি এখান থেকে!(সাগরিকা )

বাহিরে এসে আর্টকার্পেট/ ক্যানভাস টানিয়ে বললাম বিউটি কন্সট্রেট আর্ট প্রতিযোগিতা,সকল সুন্দরিদের জানাই সাদর আমন্ত্রণ! সবাই জানে আমি মোটামুটি ভালো আর্ট জানি। তাই প্রিয়ার সবগুলা বান্ধুবী চলে এলো ছবি আঁকাইতে! কিন্তু যাকে খুজছি সেতো এলো না!আর এতোগুলার ছবি আকার মতো সময় নেই হাতে!

-hey every beauty queen তোমরা সবাই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যাও।যাকে আমার ভালো লাগবে শুধু তার ছবিই আঁকবো!(আমি)
-আচ্ছা ভাইয়া!(সবগুলা একত্রে)
-সবগুলা সিরিয়ালে দাঁড়াইলে মটর পাইপটা নিয়ে সবগুলারে ভিজিয়ে দেই!
-সাগরিকা আর প্রিয়া দূর থেকে দেখে হাসছে!আহ সাগরিকার সেই কি হাসি!আমি ক্রাশিত! আমি তাকাতেই সাগরিকা রুমে চলে গেলো!
-ভাইয়া এটা কি ঠিক হলো! (প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-কি আর করা তোমাদের এই গন্ডারের চামড়ার মতো আটা ময়দার পূরুত্বের উপর দিয়ে রিয়েল ছবিটা আকা পসিবল না তাই এই ব্যবস্থা!(আমি)
-তো এখনতো আকা যায়!(প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-হুম আকা যায়!তবে তোমরা সবাই ওখানে দাড়াও আমি শুধু যেকোনো একজনের ছবি আঁকবো!আঁকা শেষ হলে সবাই দেখে যাবে কে হবে ডালিম ক্যানভাসের হিরোইন!

-ওহ ভাইয়া আমরা সবাই রাজি আপনার ক্যানভাসের হিরোইন হতে!
-ওকে ওয়েট!(আমি)
-আচ্ছা ভাইয়া কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবো?(প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-এইতো আর একটু! (আমি)
-ওই তোরা এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এভাবে ঢং করে ভাব নিচ্ছিস কেনোরে?(সাগরিকা)
-এই এক মিনিট! আপনি আবার মাঝখানে আসলেন কেনো? দেখছেন না ডালিম ভাইয়ার হিরোইনের ছবি আকা হচ্ছে!(প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-ইস!যে চেহারা আবার হিরোইন!আর ও আকবে ছবি!
-Everybody keep silent!ছবি আকা শেষ!(আমি)
-হুহ।(সাগরিকা )
-কই ভাইয়া দেখি দেখি কে হলো আপনার হিরোইন! (প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-আচ্ছা আমিও দেখি!কার ছবি আঁকলি!কেমন আঁকলি!তুই আর কি ছবি আ….ক( সাগরিকা )
-কিরে তোর কথা আটকে গেলো কেনো? (আমি)
-কুত্তা,বিলাই,ইতর!ভালোবাসিস মুখে বললেই পারতি এতো কিছু করে আমাকে কষ্ট না দিলেই পারতি।(সাগরিকা)
-ভাইয়া আমরা আপনাকে কতটুকু হেল্প করতে পারলাম?(প্রিয়ার বান্ধুবীরা)
-একদম পারফেক্ট আছে।(আমি)
-তার মানে সব ফেইক ছিলো? ( সাগরিকা )
-হুম!(আমি)
-কিইহহহহহ!(সাগরিকা )
-রাগ,রাগ বেশি করে রাগ!তোকে রাগাতে ভালোলাগে বলেই রাগাই।আর তোর ওই রাগি চেহারা আর লুকটাকে আরো বেশি ভালোবাসি!(আমি)
-কাউকে ভালোবেসে রাগাতে পারো,তাকে নিয়ে ডায়েরীতে কবিতা-গল্প লিখতে পারো,তার চেহারা না দেখেই কল্পনা করে তার ছবি একে ফেলতে পারো আর তাকে বলতে পারো না ভালোবাসি?বলতে পারো না তুমি আমায় ভালোবাসো? ( সাগরিকা )

-তুই আমার ডায়েরী ধরেছিস কেনো?(আমি)
-যে তোর বউ হবে, সে কি তোর ডায়েরী পড়ার অধিকার ষোল আনাই রাখে না?(মা)
-মা তুমি!(আমি)
-হুম আমি আর প্রিয়া তোর ডায়েরী পড়ে সাগরিকা কে দেখাই!শুধু তাই নয় সাগরিকার বাবার সাথেও পাকা কথা বলি (মা)
-মা!!তুমি থামবে!(আমি)
-আচ্ছা আমি থামলাম আর রুমে গেলাম তোরা যা ঘুরে আয়।(মা)
-এবার তো যাবে?(সাগরিকা )
-চলো। (আমি)
-তোমার বাইকের না ব্রেক ছেঁড়া? (সাগরিকা )
-কই না তো!(আমি)
-কুত্তা,বিলাই,শিয়াল,ই-কুত্তা,বিলাই,শিয়াল,ইতর!(সাগরিকা)
-এই সুনামগঞ্জের ইতরকেই তোমার বিয়ে করতে হবে।(আমি)
-আমিও সারাজীবন এই ইতরটাকেই চেয়ে এসেছি।মনে মনে ভালোবেসেছি।(সাগরিকা)
-ও তাই?(আমি)
-হুম।
-তাহলে বাইকের পিছনের হ্যান্ডেল ছেড়ে আমায় জড়িয়ে ধরছো না কেনো?(আমি)
-ধরলাম!(সাগরিকা)
-আরো শক্ত করে! যদি পড়ে যাও!(আমি)
-এবার হয়েছে?আর পড়বোই বা কেনো? তোমার সাপোর্ট আছে না!(সাগরিকা)
-হুম হয়েছে।সারা জীবন এভাবে ধরে থাকতে পারবেতো? (আমি)
-হুম খুব পারবো খুব!(সাগরিকা)|

সমাপ্তি

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত