হৃদয়ের আলো

হৃদয়ের আলো

বিভৎস চেহারা নিয়ে আবার তাদের (দেখতে আশা লোকদের) সামনে যেতে হলো আমার কোরবানির রিং পরতে। আমি যেন পুতুল এর মতো হয়ে গেছি কেউ কিছু বললে শুনছি কিন্তু বুঝছিনা।আমার চেহারা দেখে ছেলের বাবা বললো মা তুমি এ বিয়েতে খুশি না।তখনি দাদা বলে উঠলো আমাদের মতামত ওর মতামত।
আসলে একথাটা ঠিক কাউকে ভালোবাসি কি না তা আমি আজোও বুঝতে পারি নাই,কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতেও ইচ্ছা হচ্ছেনা।
পরিবারের সবাই এখনো এক নামে ডাকে পাগলি,সবার আদরে আদরে বাস্তব দুনিয়াটাকে এখনো বুঝিনা আবার সংসার করবো??
ফাইনাল কথা দিয়ে তারা চলে গেলো ওরা আর কথা বলার জন্য দাদা নিজেকে একাই দুইশো মনে করেন।
পরের সাপ্তাহে আমার কোরবানির নির্দিষ্ট তারিখ আজ বুধবার পরের বুধবারে বিয়ে।

মা সন্ধ্যায় ফোন দিলো হৃদয় ভাইয়া কে যেনো এখনি আমাদের বাড়িতে আসে তার সাথে জরুরি কথা আছে(হৃদয় আমার ফুফাতো ভাই)।
নিজের ছেলে না থাকায় হৃদয় ভাইয়াকে নিজের ছেলের মতো যানে।
ভালো জানার ও বেশ কারন আছে হৃদয় ভাইয়া অনেক শান্ত একটা ছেলে তার উপর ইসলামি মাইন্ডের।
আরো একটা গুনের জন্য মা এর বেশ প্রিয় তা হলো মায়ের (আমার ফুফু)সব কাজে সাহায্য করে মায়ের হাতের কাছে থাকার চেষ্টা করে মায়ের মেয়ে নেই বলে মায়ের কেয়ার করে বেশি।
আমার মায়ের ভাষায় লক্ষী একটা ছেলে তাই তো সব কাজে আগে হৃদয় তার পর সবাই।
ওদিকে ফুফুর বড় ছেলে উড়ন চন্ডি সকাল ১২টায়(দুপুর বললেও সমস্যা নাই)উঠে নাস্তা করলে করবে না করলে বাজরে গিয়ে আড্ডা সাথে তো প্রেম করা আছেই এ যেনো উনার সিঙ্গেল জীবনের আসল এবং একমাত্র ধর্ম।
এক জন এর বিয়ে হলে তিনদিন শোক করে চারদিন এর দিন আরেক জন হাত ধরে।
উনার জন্য মেয়ে গুলাও কি ভাবে তৈরি থাকে বুঝি না বাপু,এর দ্বারা বুঝা যায় মেয়েরা আসলেই বোকা দু’একটা মিষ্টি কথা সাথে অন্যের থেকে মিথ্যা দুটি ভালো গুন শুনেই গলে মোম হয়ে যায়।

ফুফু রান্না করছে হঠাৎ রিশাত ভাই মা মা বলে ডাকছে আর বলছে মা জানো তোমার বৌমার বিয়ে রিশাতের সাথে।
ফুফুর তো গলা কলিজা শুকিয়ে একাকার।
তখন ভাইয়া এক গ্লাস পানি দিয়ে বলে আরে মা টেনশন এর কিচ্ছু নাই আরেক রিশাতের সাথে রিতার বিয়ে বলে হাতে বিয়ের কার্ড দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলো।
ভাইয়ার এ সম্পর্কের কথা সবাই জানতো কারন মেয়েটা ছিলো ফুফার বন্ধুর মেয়ে কিন্তু খুব ফাজিল তাই ফুফু চিন্তার বেশ কারন ছিলো কখন বিয়ে করে ভাইয়াকে নিয়ে সোজা বাড়িতে উঠে আর হুকুম করা শুরু করে।
আপনারা আবার ভাবেন না এটা ভাইয়ার প্রথম ব্যর্থ প্রেম,আল্লাহ্ ভালো যানে এটা কয় নাম্বারের ছ্যাকা।
সব শেষে উপায় অন্ত না পেয়ে রিশাত ভাইয়াকে ইতালি পাঠিয়ে দিলো ফুফা।
ফুফাও একজন সফল প্রবাসী খুব শান্তিতে আছে ফুফু।
যাক সে সব কথা আমি মরছি আমার জ্বালায় তাও আপনাদের সাথে একটু গল্প করে মনটা হালকা করা এই আরকি।

হৃদয় ভাইয়া দরজার সামনে এসে আখিঁ বলে ডাকার সাথে সাথে মা দরজা খুলে দিলো, মনে হয় এতোক্ষন এ দরজা খোলার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
ভাইয়াদের বাড়ি আবার আমাদের গ্রামেই একটা ক্ষেত এর ব্যবধান। ক্ষেত দিয়ে আসলে বড় জোর দশ মিনিট আর সোজা রাস্তা দিয়ে আসলে ত্রিশ মিনিট সময় লাগে।
এখনতো রাত তাই সোজা রাস্তা দিয়েই আশা লাগছে সময় বেশ লেগেছে তাই মা এর অপেক্ষা ও বেশি করা লাগছে।
হৃদয় ভাই মা কে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাস করলো মামীমা কেমন আছেন? এতো জরুরি খবর দিলেন কেনো।

বলিস না বাবা তোর নানা তো আলোর বিয়ে ঠিক করে ফেলছে।
হৃদয় ভাইয়া বললো এ আর নতুন কি নানার তো কাজ দুইটা একটা হলো আমার সাথে ঝগড়া লাগা আর আরেকটা হলো আলোর বিয়ে ঠিক করা।
তখন আমি বুঝতে পারলাম হৃদয় ভাই জানতো না আজ আমায় দেখতে আসবে।
আরে না হৃদয় তুই বুঝতে পারছিস না রিং পরিয়ে দিয়ে গেলো পরের বুধবার বিয়ে কাবিন সাত লক্ষ
বর যাত্রী তিন’শ আসবে।(মা)
মায়ের কথার পর আর কিছু বুঝলাম না ধপাস একটা শব্দ শুনতে ফেলাম।
আমার আর বুঝতে বাকি নেই যে হৃদয় ভাই সোফায় বসে যাওয়ার ছলে ধপাস করে পড়ে গেলো।
মা এ কথা বলে বললো বাবা তুই বস তোর সাথে অনেক কথা আছে আমি একটু চা বসিয়ে আসি।

মা নাস্তা নিয়ে ফিরে এসে বললো নাস্তা করো তার পার কথা বলি।
হৃদয় ভাইয়া বললো না সমস্যা নাই আপনি বলেন আর আমি দোকান থেকে নাস্তা করে আসলাম।
প্রথম হলো তুই আরেক বার গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখ পরিবার আর ছেলে কেমন।
হৃদয় ভাইয়া একটু আস্তে বললো এখন খোঁজ নিয়ে কি লাভ হবে ।
মা বললো তোর কথা একরকম ঠিক তোর নানা তো ধমক দিয়ে বললো তুমি বেশি চালাকি করলে তোমার মেয়ে তুমিই বিয়ে দিবে আমি আর নাই।
মামা কি বললো(হৃদয় ভাই)
তোর মামা তো বাবার (দাদাকে বাবা বলে মা)উপর কোন কথা বলে না আর আমিও সাহস পাই না।
-নানি আসে নাই এখনো বাপের বাড়ি থেকে(হৃদয় ভাই)
-খবর দেওয়া হয়েছে,কালকে আসবে বলছে।(মা)
কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো হু,আর কিছু বলবেন?

-হ্যাঁ তোর তো অনেক কাজ আলোর বিয়ে পরিবারের প্রথম মেয়ের বিয়ে বুঝোস তো অনেক কাজ,তোকেও অনেক গুলা কাজ করতে হবে।
তার মধ্যে তোর বিশেষ কাজ হলো বাবা সব কিছু কমিয়ে কমিয়ে নিবে তোকে আমি আলদা একটা লিস্ট দিবো বুঝিসই তো আগের কালের মানুষ বেশি খরচ পছন্দ করেন না।
বিয়ের ব্যপার কোন কিছু টান পড়লে পরে মানসম্মান শেষ।(মা)
ঐ ব্যটার আদরের নাতনীর বিয়ে যা বলবেন তাই আনতে হবে দরকার হলে সব কিছু দশ কেজি করে বাড়িয়ে লিখবেন।(হৃদয় ভাই)

এ কথা বলে সামনের রুম থেকে ভিতরের দিকে আসতে আসতে বলে আমাদের বিয়ের কনে কই তার আংটি দেখার সৌভাগ্য কি হবে আমার।
রুমে বসে একটা ফানি নাটক দেখছিলাম ফোনে তাই মুখে হাসি হাসি ভাব ছিলো।
কি করবো আর মন ভালো করার মাধ্যম হিসাবে এটাই ভালো মনে হলো ।
আমার হাসি মুখ দেখে কি বুঝলো জানিনা এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না রুমেও ঢুকলো না আংটি দেখা তো দূরের কথা।
আংটি দেখাতে বললে দেখাতে পারতাম না কারন ঐ লোক গুলা চলে যাওয়ার পর মা কে দিয়ে দিলাম আর বললাম এই রিং এর তো দরকার ছিলো এখন রাখেন এসব আমি পরতে পারবোনা।
বুঝলাম মা মনে কষ্ট ফেলো এ কথা বলাতে কিন্তু কি করবো রাগের কারনে বলে ফেলছি।

একদিন করে যাচ্ছে আর আমার মন খারাপ ও বাড়ছে।
মাদ্রাসায় গিয়ে কাছের বন্ধু নপূর কে বললাম আমার বিয়ে,কিন্তু ও বিশ্বাস করছেনা ।পরে যখন মা দাওয়াত দিলো তখন বিশ্বাস করলো,বিশ্বাস না করার ও বেশ কারন আছে আমার বেশির ভাগ সময় স্বর্নের রিং হাতে থাকতো দুইটা ভগ্য বসত আমার হাতের একটা রিং এর কোয়ালিটি ছিল বায়নার রিংটার।

বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি আজও গেলাম মাদ্রাসায়,বাড়িতে থাকলে যেন পাগল পাগল মনে হয় খুব হতাশ লাগে তাই মন ভালো রাখার জন্য যাই মায়ের হাজার বারনের পরও।
আজ গিয়ে নপূর এর কাছ থেকে যা শুনলাম তার জন্য মোটেও প্রশস্তু ছিলাম না।
নপূর বলছে কাল রাতে ফাহিম ফোন দিছে তার কাছে।
বলে রাখা ভালো ফাহিম এক রকম আমার বন্ধু, আমি ছেলেদের সাথে খুব কম কথা বলি কিন্তু ইন্টার এ উঠার পর থেকে কিভাবে কিভাবে টুকটাক কথা হতো তবে বেশি না। দরকার ছাড়া বিনা দরকারে ছেলেদের সাথে কথা বলতে ভালোলাগে না কিন্তু ফাহিম এর সাথে বিনা দরকারেও কথা বলতাম মাঝে মাঝে সাথে একটু আদটু ফাইজলামি।

ফাহিম ফোনে নূপুর কে বলছে নয়ন না কি তার কাছে ফোন দিছে।
আর ফাহিম কে কোনঠাশা করে বলছে কিরে শালা এই তোর ভালোবাসা?
চোখের সামনে আলো ঘুরছে কিন্তু বুঝতে পারছিস না ওর বিয়ে চার দিন পর।
এ কথা বলেই ফোন কেটে দিলো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে।
এই এই শুন নপূর আমি আবার কবে ফাহিম এর ভালোবাসা হলাম।
তারপর এই হারামি দুই বছর পর কোথা থেকে বের হইছে আর ও যানে কিভাবে আমার বিয়ে।

বাড়িতে আশার পর থেকে নয়ন এর চেহারাটা কেন চোখের সামনে ভাসছে।
রাতে ঘুমাতে গেলাম চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে নয়ন এর চুরি করে দেখা সরাসরি আবুল এর মতো তাকিয়ে থাকার মূহর্ত গুলো চোখের সামনে ভাসছে আর আমার মনে হচ্ছে নয়ন ভালো নেই।
দুর ঐ ছেলে ভালো আছে না খারাপ আছে তাতে আমার কি আমি তো ওকে বুদ্ধি করে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়েছি।
দাখিল(SSC) পরিক্ষার পর আমার কাছে ফোন দিলো(মায়ের ফোন) এতো বছরে এই প্রথম নয়ন এর সাথে কথা।
সালাম দিয়ে বললো ভালো আছেন?
সালাম এর উত্তর দিয়ে বললাম হু তুই (সমবয়সী কাউকে আপনি বলতে ভালোলাগে না)।
আজকে তো ভালোই আনন্দ করলেন আমি থাকলেই যতো সমস্যা আপনার আমি ফোন দিলেও সমস্যা কিন্তু অন্য সবার সাথে তো ভালো
করে কথা বলেন(নয়ন)
আমি বললাম তোকে এগুলা কখনো বলছি?? আর এসব কথা বলতে ফোন দিলি?
আপনার ব্যবহার এ সব বুঝিয়ে দেয়(নয়ন)
আমি চুপ আসলে কথা গুলো ঠিক মাঝে মাঝে নয়ন কে খুব বিরক্তি লাগে।
আমার নিরবতা দেখে নয়ন বলে উঠলো নিরবতা সম্বতির লক্ষন।
থাক সেসব কথা তুমি কোথায় ভর্তি হবে(আপনি থেকে তুমি বেশ পরিবর্তন)
আমি বললাম তুই?
আগে বলো তুমি কি মাদ্রাসায় আর পড়বেনা।(নয়ন)
না আমার ইচ্ছা কলেজে পড়ার।
কোন কলেজ(নয়ন)
মডেল কলেজ(আমি)
আমিও তো ওখানে ভর্তি হবো তুমি হলে তো বেশ ভালো হয়(নয়ন)
হু দেখছি ছাড়পত্র তো আনতে হবে(আমি)
আমি তাহলে কাল ছাড়পত্র নিয়ে আসবো তুমি যাবে(নয়ন)
বলতে পারিনা তবে যেতেও পারি(আমি)
তারপর ফোন কেটে দিলাম আমি।
সেদিন এর পর থেকে অনেক বার ফোন দিচে বাট আমি কথা বলিনি।
নপূর এর থেকে জানতে পারলাম ও মডেল কলেজে ভর্তি হয়েছে।তার পর থেকে আমি তাকে কখনো দেখিনি খোজ ও যানিনা এখন মনে হচ্ছে ও ঠিকই আমার সব খোঁজ রাখে।

নয়ন কে আমি চিনতাম না,সপ্তম শ্রেনীতে থাকাকালীন জান্নাত ডাক দিলো আলো শুন তোর সাথে কথা আছে বাহিরে আয়।
গেলাম বাহিরে যাওয়ার পর জান্নাত বললো নয়ন তোকে পছন্দ করে প্রেম করতে চায়।
জান্নাত প্রেম কি?(আমি)
তুই নয়ন এর সাথে কথা বলবি(জান্নাত)
আরে তোর সেই নয়ন কে আমি তো তাকে চিনিনা(আমি)
আরে ক্লাসে আয়(জান্নাত)
ক্লাসে যাওয়ার পর আঙ্গুল দিয়ে নয়ন কে দেখালো।
তাকিয়ে দেখি ঐছেলেটা আমাদের দিকে তাকিয়ে মুসকি হাসছে।
জান্নাত এরে তো কখনো আমাদের ক্লাসে দেখি নাই।
নয়ন আমাদের উপরের ক্লাসের ইচ্ছা করে ফেল করছে আমাদের সাথে পড়ার জন্য(জান্নাত)
আমি বললাম কেনো?
তোকে দেখার জন্য(জান্নাত)
আমাকে দেখার কি আছে আর একজন মানুষকে একবার দেখলে অন্ততো ছয় মাস ঠিকঠাক মনে থাকে।তোর এসব কথা আমি বুঝি না।
আর শুন আমার পক্ষে কোন ছেলের সাথে কথা বলা সম্ভব না।
কেন?(জান্নাত)
তুই জানোস না দেখোস না আমি কোন ছেলের দিকে তাকাই না কথা বলা তো দুরের কথা আমার পক্ষে সম্ভবনা পারলে তুই কথা বল তুই এসব ভালো পারিস বলে খাতা তুলতে চলে আসলাম ।
তারপর থেকে মাঝে মাঝে নয়ন এর দিকে চোখ যেতো যখন তার দিকে তাকাতাম তখনি দেখতাম আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
সেই থেকে দশম শ্রেনি পর্যন্ত মহা যন্ত্রণা ভোগ করছি তবে মাঝে মাঝে তার চাহনির করুন ধরন গুলা দেখলে খুব হাসি পেতো।
সামনা সামনি প্রপোজ করেনি কখনো হয়তো আমার রাগকে বেশ ভয় পেতো।
চলবে…….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত