মনের মত বউ

মনের মত বউ

রাত জেগে অফিসের কাজ করতে গিয়ে ঘুমাতে দেড়ি হয়ে যাওয়ায় সকালে ঘুমথেকে উঠেতে দেড়ি হলেও সঠিক সময়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে আফিসে গেলাম । আমার পরিচয় টা দেওয়া হল না আমি রিমন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করায় ঢাকায় থাকি আব্বু আম্মু গ্রামে থাকে । আফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে বাসায় ফিরলাম। সকালে সকালে ঘুমথেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে থেকে নাস্তা করে অফিসে গেলাম ব্যাচেলার ছেলেদের যা হয় । রাতে ফিরার পথে কিছু সবজি বাজার করে আনলাম রাতে খাব বলে ।আম্মু ফোন করে বলছে কিরে বাবা আম্মু আব্বু কে ভুলে গেছিস নাকি কয়েকদিন থেকে ফোন দিস্না যে ।না আম্মু আসলে অফিসের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম কেমন আছ আম্মু ? আমি ভাল আছি বাবা তুই খেয়েছিস ? না আম্মু রান্না করছি ? শোন বাবা এখন একটা বিয়ে কর আর কত কোস্ট করবি ? না আম্মু এখন বিয়ে করব না । কেন বাবা ? এখন বিয়ে করলে কি সমস্যা তুইত এখন চাকরি করিস ? তাও আম্মু এখন আমি বিয়ে করব না। আমি অত কিছু জানি না এবার তোর বিয়ে আমি দিয়েয় ছাড়ব এই বলে ফোন কেটে দিলো ।

আমি রান্না শেষে করে খেয়ে বাকি খাবার গুলা ফ্রিজে রেখে দিলাম সকালের জন্য এরপর রুমে এসে দিলাম একটা ঘুম । সকালে প্রতিদিনের মত ঘুমথেকে উঠে ফ্রিজ থেকে খাবার গুলা বের করে গরম করে খেয়ে অফিসে গেলাম । অফিসে বস আমকে ডেকে পাঠালেন আমি বসের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম সার আমাকে ডেকেছেন ? হ্যা রিমন আসলে আমাদের কোম্পানির জন্য একটা প্রোজেক্ট তৈরি করতে হবে তোমাকে তাই ডেকে পাঠালাম । আমি বসকে বললাম ওকে সার । প্রোজেক্ট টা বানাতে তিন দিন লাগলো খুব চিন্তাই আছি সারের পছন্দ হবে কি না । আজ সারকে প্রোজেক্ট টা দেখালাম সার খুব খুশি হয়েছেন ।

এদিকে আম্মু অনেক বার ফোন দিয়েছে সাইলেন্ট থাকায় ধরতে পারিনি । আম্মুকে ফোন দিলাম আম্মু বলছে বাবা ফোন ধরলি না কেন এত বার ফোন দিলাম তাও । আসলে আম্মু আমি অফিসের একটা কাজে ব্যাস্ত ছিলাম তাই ধরতে পারিনি ।ওহ আচ্ছা তুই কিছুদিন ছুটি নিয়ে বাসায় আই কাজ আছে । আচ্ছা আম্মু বসকে বলে দেখি ছুটি দিলে আসব । না আসতেই হবে । আচ্ছা বাবা বসকে নলে ছুটি নিয়ে আসছি । বসকে বললাম সার আমার কিছুদিন ছুটি লাগবে আম্মু ফোন করে বল কি যেন কাজ আছে ।সার আমার অপর খুশি থাকায় ছুটি দিয়ে দিলো। আমি বাসায় এসে কিছু কাপড় নিয়ে গ্রামের বাসার দিকে রউনা দিলাম ।গ্রামের বাসায় এসে দেখি সবাই আনন্দে মেতে আছে । আমি এসে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘরে বসে আছি । মামাতো বোন টুম্পা এসে বলছে ভাইয়া তৈরি হয়ে নে ।

আমিঃ কিন্তু কেন আমি অনেক ক্লান্ত আমি পারব না যা এখান থেকে ।
টুম্পাঃ তুই তৈরি না হলে কেমন করে বিয়ে হবে ।
আমিঃ বিয়ে ? কার বিয়ে ।
টুম্পাঃ কেন তোর ?
আমিঃ আমার মানে ? আমার বিয়ে হলে আমি যানব না ? এটা কথা বলছিস আম্মুকে ডাক?
টুম্পাঃ যাচ্ছি
আম্মুঃ কি বলছিস আর শুয়ে আছিস কেন তৈরি হয়ে নে এখনি ওই বাড়ি যাবে সবাই ।
আমিঃ কি আবলতাবল বলছ ? ওই বাড়ি মানে কোন বাড়ি ?
আম্মুঃ তোর বিয়ে ঠিক করেছি আজ ?
আমিঃ মানে কি? আমি তোমাকে বলেছি না আমি এখন বিয়ে করব না
আম্মুঃ তুই বিয়ে করবি ব্যাস আর কোন কথা বলবি না
আমিঃ পারব না ? যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তাকে চিনি না জানি না কিভাবে বিয়ে করব
আম্মুঃ তুই মেয়েকে চিনিস আর মেয়েটাও তোকে চিনে । মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়ে ছে তুই ওকে বিয়ে করবি তোর আব্বু মেয়ের বাবাকে কথা দিয়ে এসেছে ।
আমিঃ কে সেই মেয়ে ? আমি পারব না ।
আম্মুঃ আমি তোর আব্বু কে বলছি ?

এ বলে চলে গেল আম্মু । আব্বুর ভয়ে বলির পাঁঠার মত আমাকে বিয়ে করতে হল । বাসর ঘরে ঢুকে দেখি বউ ঘোমটা মাথায় দিয়ে বসে আছে । আমি এখনও জানি না আমার বিয়ে করা বউ কে ? কেমন দেখতে ? আমাকে দেখে বউ উঠে এসে সালাম করল । আমি বললাম যে আমার কিছু কথা আছে আপনার সাথে ।

বউঃ কি কথা ?
আমিঃ এই বিয়ে আমার অমতে হয়েছে ?
বউঃ আমাকে কি তোমার পছন্দ হয়নি?
আমিঃ আমি আপনাকে এখনও দেখি নাই তো ?
বউঃ আচ্ছা ।
আমিঃ তুই ?
বউঃ হুম আমি ? মনে আছে তোমাকে বলেছিলাম চার বছর আগে যদি কারো বউ হোই তাহলে তোমারি বউ হব ।
আমিঃ হুম মনে আছে ।

বউঃ চার বছর আগে আমাকে তুমি বলেছিলে তোর মত মেয়েকে আমি বিয়েতো দুরের কথা তুই যে এলাকায় বিয়ে করবি সে এলাকায় কনদিন ভুলকরেও আসব না । আর আজ আমি তোমারি বউ । চলেন চার বছর আগে যাওয়া যাক । আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তখন আমাকে আমার চাচাত বোন রিমা মানে আমার বর্তমান বউ আমাকে খুব খুব ভালোবাসত একদিন সে আমাকে বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি । সেদিন আমি ওকে বলি আমি তোকে ভালোবাসি না আমি তোকে সেরকম ভাবে ভাবিও না । সে বলছে কিন্তু আমি তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি প্লিজ আমাকে ফিরিয় দিও না এভাবে অনেকদিন কেটে গেল ।একদিন ও আমাকে বলছে আমি যদি কখনো বিয়ে করি তাহলে তোমাকেই করবো বলাই আমি রেগে গিয়ে ওকে বলি তোকে বিয়েতো দুরের কথা তুই যে এলাকেয় বিয়ে করবি আমি ওই এলাকায় ভুলকরেও পা দিব না । একথা শুনে সে কাদতে কাদতে চলে গিয়েছিল । অথচ তার কথায় ঠিক হল সে আমার বউ আজ ।

আমিঃ দেখ রিমা আমি তোকে এখনও সেভাবে ভাবিনা ।
রিমাঃ তাহলে বিয়ে করলা কেন ?
আমিঃ আব্বু আম্মুর কথায় । আমি তোকে কোনোদিনও আমার বউ এর জায়গা দিতে পারব না ।
রিমাঃ সত্যি আমি তোমকে অনেক ভালোবাসি কাঁদছে আর বলছে ।
আমিঃ আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাব তুইও ঘুমা । এই বলে একটা বালিস আর চাদর নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পরলাম ।

ঘুম আসছে না কোন দিন ফ্লোরে শুয়ে অভ্যাস নাই তাই । তাও কোস্ট করে ঘুমালাম । এভাবে তিন চারদিন চলে গেল আমার ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাকে ফিরে যেতে হবে কাল থেকে আমার অফিস যেতে হবে তাই চলে আসতে হল কিন্তু গেলাম একা আর আসছি আব্বু আম্মুর জোর করে বিয়ে দেওয়া বউ নিয়ে । ঢাকায় ফিরে এসে দেখি বাসায় কিছুই নেই তাই বাজারে গিয়ে মাংস আর কিছু সবজি কিনে বাসায় আসলাম । রাতে রিমা রান্না করে টেবিলে খাবার রেখে ডাকছে খাবার খাওয়ার জন্য । আমি উঠে গিয়ে খাবার খেয়ে এসে ফ্লোরে শুয়ে আছি রিমা বলছে আমি দোষ করেছি কিন্তু খাটতো দোষ করেনি । আমি ফ্লোরে শুচ্ছি তুমি খাটে আসো । কোন কথা না শুনে গুমিয়ে পড়লাম । সকালে রিমার ডাকে আমার ঘুম ভাঙল ।

উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে অফিসে গেলাম অফিস থেকে একটু দেরি করে আসলাম দেখি রিমা না খেয়ে বসে আছে । আমার জন্য তুই কেন না খেয়ে আছিস আমি খেয়ে এসেছি খেয়ে শুয়ে পর রিমা না খেয়ে শুয়ে পরল । সকালে রিমার ডাকে ঘুম ভাঙল রিমার দিকে তাকিয়ে আছি চোখ ফেরাতে পারছি না মনে হচ্ছে রিমার মায়ায় জড়িয়ে পরেছি ? কিন্ত আমার কি মন হল ওর সাথে ঝগড়া করে না খেয়ে অফিসে চলে গেলাম । অফিসে কেন জানি মন বসছে না রিমার কথা ভাবছি রিমা আমাকে কত ভালোবাসে কিন্তু আমি তাকে অবহেলা করছি এসব ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাসায় ফিরে আসলাম এসে দেখি সকালে যেমন অবস্থা ছিল তাই আছে তারমানে রিমা কিচ্ছু খায়নি সারাদিন । রিমাকে ডাকদিলাম রিমা কথা বলছে না আমি রিমাকে বলছি খাওনি কেন

সারাদিন রিমাঃআমার ইচ্ছা হয়নি তাই খাইনি তাতে তমারকি?
আমিঃ তুমি অসুস্থ হলে কে আমাকে রান্না করে দিবে হুম ?
রিমাঃ নিজে রান্না করে খাবে আগে কেমন করে খেতা ?
আমিঃ তাহলে তোমাকে কেন বিয়ে করেছি ?
রিমাঃ…………

আমিঃ ঘুমাও তাহলে আমিও খাব না…এই বলে কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পড়লাম সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি রিমা আমার বুকে মাথা দিয়ে ফ্লোরে শুয়ে আছে আমি ওর মাথা সরাতে গিয়ে ওর কপালে হাত দিয়ে দেখি রিমার গায়ে অনেক জ্বর তাই আরকিছু বললাম না শুয়ে থাক কিছুক্ষন । কেন যেন ওর প্রতি মায়া জন্মাল তাই ওর কপালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে ওর মুখের দিকে তাকচ্ছি আর ভাবছি কত সুন্দর ওর চখ কত সুন্দর ওর নাক ঠিক যেন আমি যেমন টা চেয়ে ছিলাম । খেয়াল করলাম রিমা আমার দিকে তাকাচ্ছে । আমি বললাম তোমার গায়ে কত জ্বর আমাকে বলনি কেন ? রিমা আমাকে বলছে আমার সবকিছুই তোমার তুমি আমাকে মেরে ফেল কিন্তু এভাবে কোস্ট দিও না এভাবে অবহেলা কর না প্লিজ এ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আমি আর থেমে থাকতে পারলাম না ওকে জড়িয়ে ধরলাম ।

কিছুক্ষন পরে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম । ঔষধ কিনে ওকে নিয়ে বাসায় আসলাম । সেদিন আমি ফ্লোরে শুতে যাব তখন রিমা আমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলছে প্লিজ খাটে আসো আর ফ্লোরে থেক না আমাকে আর আমাকে কোস্ট দিওনা ওর কথা শুনে আমার এখন নিজেকে অপরাধি মনে হচ্ছে । তাই উঠে গিয়ে ওর পাশে শুলাম রিমা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরেছে আমি শুয়ে শুয়ে ভাবছি আমার আম্মু আব্বুর উপর রাগ করে রিমাকে কেন কোস্ট দিচ্ছি আমি আর রিমাকে কোস্ট দিব না এখন থেকে রিমাকে আমি আমার বুকে আগলে রাখব এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছি জানি না । পরেরদিন সকালে ঘুম থাকে উঠে দেখি রিমা টিভি দেখছে । তাই ভাবলাম রিমার সাথে একটু মজা করি …যেই ভাবা সেই কাজ রিমা…রিমা…এই রিমা কি রান্না করেছিস ? রিমা কোন কথা বলছে না এভাবে অনেক ভাবে ডাকলাম শুনল না ।
এবার বলছি রিমা যানু একটু শুনোত কথা টা বলতে দেরি কিন্তু রিমা আসতে দেরি করল না ।

রিমাঃ কি বলছ ?
আমিঃ কি রান্না করেছ সোনা ?
রিমাঃ ভাত আর ডিম ভাজি ।
আমিঃ এসব খাব না।

রিমাঃ কেন?
আমিঃ এসব খেতে ভালোলাগে না ।
রিমাঃ আর কিছু নাইত বাসায় ?
আমিঃ খেতে পারি এক সর্তে ?
রিমাঃ কি সর্ত ?
আমিঃ একটা পাপ্পি দিতে হবে ?
রিমাঃ এত বাহানা কর কেন ? সরাসরি বললেই তো হয়?
আমিঃ দাও তাহলে…
রিমাঃ উম্মমাহ…
আমিঃ Thank you…..
আমি খেয়ে অফিসে গেলাম । অফিসে যেন ভালই লাগছে না শুধু রিমার কথা মনে পরছে তাই বস কে বলে দূপুরে বাসায় চলে আসলাম । কলিং বেল… টিং টং রিমা দরজা খুলল……
রিমাঃ তুমি এখন ?

আমিঃ হ্যা আমি ।
রিমাঃ অফিস থেকে চলে আসলা যে ?
আমিঃ তোমাকে ছাড়া ভালো লাগছিল না তাই চলে আসলাম ।
রিমাঃ মিথ্যুক…
আমিঃ সত্যি বলছি ।
রিমাঃ টেবিলে খাবার দিচ্ছি…ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো
আমিঃ ঠিক আছে ।

এরপর খেয়েদেয়ে দুইজন মিলে বিকালে অনেক ঘুরলাম রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাসায় আসলাম দুজনে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম । আমি রিমাকে বলছি আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি রিমা আমি মনে মনে যেমন বউ চেয়ে ছিলাম ঠিক তেমনি বউ পেয়েছি আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন এ কথা শুনে রিমা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল । আমি ওকে বলালম তুমি আমাকে কোন দিন ছেড়ে যাবেনা তো কোন দিন রিমা বলল মৃত্যুই একমাত্র আমাদের আলাদা করতে পারবে তাছারা কেও পারবে না আমাদের আলাদা করতে এভাবে চলা শুরু হল তাদের জীবনের পথ চলা । সুখে থাকুক রিমন আর রিমা বেঁচে থাকুক তাদের ভালোবাসা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত