সোনা বউ

সোনা বউ

সকাল সকাল মুখের উপর পানির ছিটা পড়তেই ঘুমটা ভেংগে গেলো। তাকিয়ে দেখি মহারানী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল ঝাড়ছে, আর তার সেই পানি ছিটকে এসে আমার মুখের উপর পড়ছে। তাতেই ঘুম শেষ। কী মহারাজ ঘুম হলো??? উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজে যান। . ..(বউ) তখন আমি হাত ধরে টান দিয়ে বুকের উপর নিয়ে জরিয়ে ধরে বললাম, ঘুম তো হলো, এবার অন্য কিছু করি। এএএই এসব কী হচ্ছে???..(বউ) রোমান্স করছি। একটা উম্মা দাওতো। রোমান্স করা লাগবে না,  এখন উম্মা ও হবে না, তারাতারি এখন উঠুন। (বউ) ৫ মিনিট, তুমি এভাবে থাকবে তারপর উঠব। না তা হবে না। আমি গোসল করে এলাম, এবার তারাতারি গিয়ে গোসল করে নামাজের জন্য রেডি হন।..(বউ) তুমি এভাবে না থাকলে আমি যাবনা। আচ্ছা ঠিক আছে, বলে শক্ত করে জরিয়ে ধরল।..(বউ) ৫ মিনিট পর এইযে ৫মিনিট হয়ে গেছে। এখন উঠেন।..(বউ) হয়ে গেছে??? হু……(বউ) চলো উঠি।

তারপর উঠে গোসল করে রেডি হলাম নামাজের জন্য। দরজাই গিয়ে বৌ একটা দাওনা। এখন না, নামাজ পড়ে আসুন,  এত্তগুলো দিব তখন।..(বউ) এখন একটা দাওওওওনা। হবেনা, আগে নামাজ, দেরি হয়ে যাচ্ছে। পরে জামাত পাবেন না।..(বউ) ঠিক আছে (মন খারাপ করে) এইজে শুনুন বলেই একটা দিয়ে চলে গেলো।..(বউ) আমিও নামাজ পরতে চলে এলাম। নামাজ পরে বাড়ি ফিরে এলাম। দরজা খুলে দিলো ভেতরে গেলাম। গিয়ে বললাম, এখন কী পাব??? অবশ্যই। বলেই আমার দুই পায়ের উপর পা দিয়ে দাড়ালো। কোমরটা শক্ত করে ধরলাম। আমার গলা জড়িয়ে দরে এত্তগুলো উম্মা দিয়ে বলল এবার গিয়ে আরেকটু ঘুমান নাশতা রেডি করে ডাকছি। ..(বউ) বলেই রান্না ঘরে চলে গেলো। রুমে এসে শুয়ে পরলাম,  আমি জানি এখন আর ঘুম আসবে না। তাই পুরনো সৃতির মাঝে ডুব দিলাম।

মাস ছয়েক আগের কথা আম্মু কল দিয়ে বললেন কালকে বাড়ি আসবি,  তোর জন্য মেয়ে দেখছি। (আম্মু) আম্মু আমি এখন বিয়ে করবো না। আমরা কথা ফাইনাল করে ফেলছি,  তুই মেয়ে দেখলেই দিন ঠিক করে ফেলবো।(আম্মু) তোমাদের তো বলছিই আমি এখন বিয়ে করবো না। মাত্র চাকরিটা পেলাম, একটু সময় তো দিবা। তোর কেও পছন্দ থাকলে বল।(আম্মু) কেউ নেই। তাহলে এই বিয়ে ফাইনাল। আর এই বিয়ে না হলে(…..)(আম্মু) আচ্ছা দিন তারিখ ঠিক করো, আমি মেয়ে দেখবো না, তোমরা তো দেখেছ। আর আমার দেখা বা পছন্দ অপছন্দে তে কিছুই হবে না। পরের মাসে বিয়ের দিন ঠিক হয়ছে। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ৩ দিন আগে বাড়ি গেলাম। যথা সময় বিয়ে সম্পুর্ন হলো। বাসর ঘরে ঢোকার আগ পর্যন্ত শুধু মেয়ের নাম জানতাম। বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম। দরজা আটকাতেই আমার বউটা বিছানা থেকে নেমে এসে সালাম করলো।

আমি ধরে দাড় করে বললাম। তোমার স্থান পায়ে নয়, আমার বুকে । এখনো বিয়ের শাড়িতেই আছে দেখে বললাম, আমি বাইরে আছি তুমি শাড়ী পরিবর্তন করে নাও। কিছুক্ষন পরে অন্য শাড়ি পরে বাইরে আসলো। চলো অজু করে দুরাকাত নফল নামাজ পড়ে নিয়ে নতুন জিবন শুরু করি। (আমি) এখনো মুখটা দেখিনি। এবার তাকে কাছে ডেকে মাথার কাপড় সরালাম তাকে় দেখে মুখ দিয়ে আপনা আপনিই বেড়িয়ে এলো, মাসআল্লাহ হা করে তাকিয়েই আছি,  কত্ত সুন্দর আমার বৌ টা, কত্ত মায়াবী চেহারা, আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বৌ লজ্জায় লাল। বৌ নিচু শ্বরে বলল কী হলো ???? এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যান। আমি বাস্তবে ফিরলাম.. কিছুটা লজ্জা আমিও পেয়েছি আমার এরকম কান্ডতে। যদিও লজ্জা মেয়েদের ভুষন। নামাজ শেষে বললো চলেন ছাদে যাই, ছাদে বসে আজ সারা রাত গল্প করবো।..(বউ) চলো। ছাদে এসে দোলনাতে বসলাম দুজন।

আমাকে কি আপনার পছন্দ না???..(বউ) কিছুটা অবাক হয়ে, এটা মনে হবার কারন কী????(আমি) না, আসলে এই যুগে মেয়ে না দেখে তো কেও বিয়ে করে না।আর আপনি একবার কথা বলতেও চাননি। তাই।..(বউ) আচ্ছা এসব বাদ দাও। আর বলো আমাকে তুমি সারা জীবন তুমার সাথে কিভাবে দেখতে চাও? জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরবেন,  কোন খারাপ অভ্যায় থাকবে না। সবসময় আমাকে ভালবাসবেন,  একটু কেয়ার করবেন। এইতো।..(বউ) হুম খুব সহজ। আমি চেষ্টা করবো সব পালন করতে। তুমি কী কিছু বলতে চাও যা তোমার মনে হয় আমাকে বলা উচিৎ, পরে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। তখন সে তার ভাললাগা, পছন্দ অপছন্দ, ইচ্ছা সব খুলে বললো। আমিও নিজের সব বলে দিলাম। এই কাজটা করলাম যাতে ভবিষ্যৎ এ কোন বিষয় নিয়ে ঝামেলা না হয়। এসব কথা বিয়ের আগেও বলা যেত, কিন্ত আব্বু আম্মুর উপর রাগ করে কিছু বলিনী। এর পরে আরে অনেক কথা হলো, নিচে এলাম ঘুমাতে হবে কাল আরো অনেক কাজ আছে। ওদের বাড়ি থেকেও ফিরনির জন্য অনেকেই আসবে আমাদের নিতে।

সেদিনই বুঝতে পারছিলাম আমি যেমন চাই চেয়ে ছিলাম ঠিক সেরকম একটা জিবন সাথী পেয়েছি। অনেক ভাল লাগছে, এখন আব্বু আম্মুর উপর আর কোনো রাগ নেই। রুমে এসে শুয়ে পরলাম,বৌ এসে আমার বুকের উপর সুয়ে পড়লো। মনেই হচ্ছে না কিছু ঘন্টা আগেও আমাদের মাঝে কোন সম্পর্ক ছিল না। কবুল শব্দটার জোড়ে এখন কত আপন আমরা দুজন। তারপর আমরা বাসর ঘরের কাজটা শেষ করে বৌকে জড়িয়ে দরে ঘুমিয়ে পরলাম। (বুঝতেই ত পারছেন বাসর ঘরের কাজ কি) সকালে ফজর আজানের শব্দে ঘুম ভংলো। তাকিয়ে দেখি বৌ নেই। আমি উঠে পরলাম, তখন ওয়াশ রুম থেকে বৌ বের হল।  গোছল করে কালো একটা শাড়ি পরেছে। দেখত খুব মায়াবি লাগছে। আরো বেশি সুন্দর লাগছে ভেজা চুলে জন্য যেন মায়াটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এইযে জনাব এভাবে তাকিয়ে না থেকে তারাতারি ফ্রেশ হয়ে নামাজে যান। আমাকে দেখার অনেক সময় পাবেন।(বউ)

আমি এখনো তারদিকে আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছি। তখন সে আবার বলল, কি হলো উঠেন, নামাজের সময় হয়ে গেছে, ফ্রেশ হয়ে মসজিদে যান। ..(বউ) বিছানা ছেড়ে উঠে বৌকে জড়িয়ে ধরলাম। এই কী হচ্ছে, কেউ দেখে ফেলবে। ..(বউ) কেউ আসবে না, আর আমার বৌকে আমি আদর করবো তাতে কার কী। সারা জিবন থাকবে এই আদর।..(বউ) কী মনে হয় মহারানীর???? সময় হলেন দেখবো, এখন ছাড়ুন।..(বউ) ছাড়তে পারি একটা শর্তে। শর্তটা কি? শুনি…..(বউ) মিষ্টি খাব। এখন মিষ্টি কোথায় পাব???..(বউ) তোমার এই মিষ্টি খাব। (ঠোটের দিকে ইশারা করে) যান, আমি পারবো না। লজ্জাই লাল হয়ে গেছে। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। একটা দাও না। আমি পারবো না, ছাড়ুন।..(বউ) একটা দিলেই ছেড়ে দিব। না.(বউ) না বলার সাথে সাথেই আমিও চারটি ঠোট এক করে নিয়েছি।

কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নামাজে গেলাম, নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে রুমে আসলাম। দেখি মহারানী নেই। বাইরে এসে দেখি রান্নাঘরে মায়ের সাথে খুটুরমুটুর করছে আর মাকে নাশতা বানাতে সাহায্য করছে। কিছুখন পরে রুমে এলো, চলুন নাশতা করবেন, বলে পেছনে ঘুরতেই বুকে জড়িয়ে নিলাম। এখন আর নিজেকে ছাড়ানোর কোন চেষ্টা করছে না। তারপর কিছু সময় পর রুম থেকে বেড়িয়ে নাশতা করে নিলাম। কিছুখন পরে ওদের বাড়ি থেকে লোক এলো আমাদের নিতে। সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ওর দুটি খালাত বোনও আসছে, সেইরকম চন্চল ও ফাজিল আড্ডা বাজ। তাদের সাথে গল্প জুরে দিলাম বাধ্য হয়ে কী দুলাভাই আমাদের কী ভুলে গেলেন আপুকে পেয়ে???? প্রথম শালী। বিয়ের দিন গেটে ও হাত ধোয়ানর সময় বুঝছিলাম কত বড় ফাজিল ও চন্চল। আরে না, শালী তো আধা ঘরওয়ালী। তোমাদের বোনকে ভোলা যায় তোমাদের না। তাই । (অন্য শালী)

এভাবে আরো অনেক গল্প করলাম, বৌ ঘরে থাকলেও কোন কথা বলেনি। সকল আয়োজন শেষে শ্বশুর বাড়ি রওনা হলাম। সেখানে পৌছো সেইরকম আদর আপ্রায়ন। নতুন জামাই বলে কথা।  এই জন্যই বলে শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি। সন্ধাই আরো অনেক শালী ও ভাবিদের সাথে বসে অনেক গল্প করলাম। বৌ সেই সকালের পর আর কোন কথাই বলেনি আমার সাথে। রাতের খাবার খেয়ে বৌয়ের রুমে এলাম ঘুমাতে। এখনো কোন কথা বলছে না। তখন আমি বললাম বৌ (বউ) ও বৌ…. কী হলো কথা বল  এখনো চুপ করে বসে আছে। ..(বউ) কী হলো কিছু তো বলো। বলেই আমি টেনে নিলাম বুকের মাঝে। নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো…. ..(বউ) কী হলো কিছুই বুঝলাম না। এর পর যা বললো তা শুনে তো আমি পুরাই হ্যাং, আমি হাসব না কাঁদবো বুঝতে পারছিনা!! জানেন আমার বউ কি বলেছে? বলবো? ওকে বলছি।

আমার বউটা বলল যান ওদের কাছেই যান, আমার কাছে কী?????..(বউ) কি বলো কার কাছে যাব আমি,  আমার লক্ষি বৌকে ছেড়ে।। ক্যান, যাদের সাথে এতক্ষন হেসে হেসে গল্প করলেন???? ..(বউ) এবার আসল ঘটনা মাথাই ডুকলো। ওর ভাবি ও বোনদের সাথে গল্প করছি সকালে, সাথে ওকে খোঁচা দিয়ে কথা বলছি, আবার এ বাড়িতে এসেও সেইরাম আড্ডা দিসি। তখন বউকে বললাম কেউ নিজে এসে আড্ডা দিলে কি তাঁকে নিষেধ করা যায়???? আমি তো নিজের ইচ্ছাই আড্ডা দেইনি। ওরা ধরলো তাই… জমিয়ে আড্ডা দিলাম হু, আর সকালে যা করলেন????..(বউ) সকালে আবার কী করলাম??? ক্যান শালী আধা ঘরওয়ালী, যান এখন পুরো করে নিয়ে তাদের সাথে ঘুমান।..(বউ) আরে ওইটা তো কথার কথা। আমি সব বুঝি. ..যান এখন। বলেই মুখ ঘুরিয়ে বসে রইলো।..(বউ) আমিও টান দিয়ে বুকের উপর নিয়ে নিলাম।

এই ছাড়ুন আমাকে।..(বউ) উহু ছাড়া তো যাবে না। আমার বৌ কে আমি জরিয়ে ধরছি, তাতে কার কী??? দরকার নেই ছাড়েন।..(বউ) রাগ করে না, পাগলী, বোঝনা ক্যান। আমি এসব বুঝিনা, এখন আমাকে ছাড়েন।..(বউ) দিলাম ছেড়ে, যাও। তখন দেখি সরে গিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে, আর বলছে, এখন তো অামাকে দরকার নেই। এখন অনেকে আছে আমাকে কী দরকার, একটুও ভালবাসেন না আমাকে । আমি তো এখন পর। এই হলো মেয়ে মানুষ,  যেখানে মুনিষিগন এদের মন বুঝতে অক্ষম, আমি অধমের কী ক্ষমতা আছে। যাই পাগলিটার মান ভাংগাই। এবার আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম, আর বললাম, এই পাগলি বুঝিস না ক্যান, তোকে ছাড়া আমার চলবে না, তুই আমার সব। আমি বাধ্য হয়ে আড্ডা দিসি। না হলে সবাই বলবে তোমার বর টা অহংকারী, কারো সাথে কথা বলেনা। তখন তোমার ভাল লাগতো বলো। এবার মানটা মনে হয় কিছুটা কমেছে। তাই বলছে, উহু, আমার বর খুব ভাল, কেও পচা বললে খবর আছে।..(বউ) তাই,  আমি তো তোমার কেও না, তাহলে।

কে বলছে, আপনিই আমার সব।..(বউ) তাহলে রাগ করো ক্যান??? ওদের সাথে কথা বলেন ক্যান,  শুধু আমার সাথে কথা বলবেন।..(বউ) আচ্ছা, এত ভালবাস ক্যান। কী, আমার বরকে আমি বাসবোনা তো কে বাসবে।..(বউ) আচ্ছা হইছে। এখন আমাদের কাজটা করি? হু চলেন…..(বউ) তারপর আমরা সুখের সাগরে ভেসে যাই।  (এইই আপনারা কেউ খারাপ ভাব্বেন না। আমার বউটা বল্লনা যে,  আমি তাকে শুধু ভালবাসতে তাই আমি শুধু তার কথা পালন করতেছি)। পরের দিন বাড়ি ফিরে এলাম, কিছুদিন পরেই আবারো কর্ম স্থলে ফিরে আসতে হলো। ছুটি শেষ। আব্বু আম্মুর কথাই বৌকে সাথে করে নিয়ে আসলাম। খুব ভালই চলছে আমাদের সংসার, আমার বউটা এখনো অভিমান করে, নামাজ এক ওয়াক্ত বাদ দিলে সেদিন কথা, খাওয়া সব বন্ধ,  আর যদি সিগারেটের গন্ধ পায় তাহলে বলবে আজ আপনার মিষ্টি বন্ধ। যদিও আমি বেচাড়া সিগারেট খাইনা, বৌ সেটা জানে। তার কড়া নিষেধ, যে সিগারেট খাই তার আশপাশেও থাকা যাবে না।

কখনো কোন জিনিস নেয়ার জন্য জিদ করে না। পছন্দ বা দরকার হলে বলবে,  কিনে দিলে দেই। না হলে বলি পরে। এসব নিয়ে কখনো রাগ করে না, জানে পরে ঠিকই দিব। এই যুগে এরকম মেয়ে পাওয়া খুবই কষ্ট, আল্লাহ আমার কপালে এরকম একজন দিবন সাথী রাখছে, সেজন্য হাজার শুকরিয়া তার দরবারে। কিন্তু কি করবো সব সময় তো নিজেকে সেভ রাখা সম্ভব নয়। তাই মাঝে মাঝেই একটু অভিমান সয্য করতে হয়। মাঝ রাতে উঠে বলবে উঠেন, তাহাজ্জুতের নামাজ পড়বো। তারপর উঠে নামাজ পরে ফজর নামাজ পরে তারপর বলবে এখন একটু ঘুমিয়ে নিন। নাশতা রেডি করে ডাকছি। এর পর নাশতা রেডি করে ডাকবে, আমি খাওয়া শেষে অফিস যাই, পাগলিটা বাড়িতে একা থাকে। সকালে আমি ওকে খাইয়ে দিই, আর রাতে পাগলিটা আমাকে। এইটা পাগলির আদেশ। বলে সকালে আমি কাজ করি তাই আপনি খাইয়ে দিবেন। আর আপনি সারাদিন অফিসে কাজ করে ক্লান্ত থাকেন তাই রাত্রে আমি খাইয়ে দিব।

একদিন রাতে খেয়ে গল্প করছি,  আগামি কাল ছুটি তাই একটি বেশিই রাত করছি। বৌ লজ্জা লজ্জা মুখে বললো, আপনাকে একটা কথা বলার ছিল। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললাম, বলো। না মানে আমি…….(বউ) আরে বলো তো। আসলে আপনি…..(বউ) আরে কী আমি আপনি আপনি করছো বলে ফেলো। আপনার আব্বু আম্মু দাদা দাদি হতে চলেছে।..(বউ) কি!! আমি তো সেই খুশি, তাই পাগলিটাকে আরো শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। কপালে একটা চুমু একে দিলাম। এতটা খুশি এর আগে কখনো হয়নি। সেদিন বুঝছিলাম বাবা হবার খুশি কাকে বলে। পাগলিটা লজ্জাই মুখ তুলছে না। তাই পাগলিটাকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে ফোনটা খুজতে লাগলাম।  ফোন হাতে নিয়ে আব্বুকে কল দিলাম।

আম্মু ধরলেন, আম্মু আব্বুকে জানিয়ে দিলাম খুশির খবর টা এরপর শ্বশুর বড়িতেও জানালাম, দুই পরিবারের সবাই খুব খুশি। পরের দিন পাগলিটাকে বললাম রেডি হও ঘুরতে যাব। আধা ঘন্টা পরে একটা পরী যখন এসে দাড়ালো আমার সামনে। আমি হা করে তাকিয়ে আছি। পড়নে কালো শাড়ি,  দুই হাত ভর্তি কাচের চূড়ি, মাথাই হিজাব। অসাধারন লাগছে হিজাব পরাতে। ওকে নিয়ে বের হলাম একটা রিকসা নিলাম । সারা বিকাল অনেক ঘুরলাম,  পাগলিটা আইসক্রিম, চটপটি ফুসকা খেলো। রাতে ডিনার করে বাড়ি ফিরলাম। এখন আর পাগলিটাকে একা কাজ করতে দিই না। এখন আমি সব কাজে ওকে সাহায্য করি। আর কয়েক মাস অপেক্ষা। তারপর আসবে সেই খুশির দিন। বাড়ি একা থাকে বলে চিন্তা হয় তাই,  আব্বু আম্মুকে এখানে এনে রাখছি।

শ্বশুর শ্বাশুরি মাঝে মাঝে এসে দেখে যায়। মেয়ে দের প্রথম সন্তান সাধারনতো বাবার বাড়িই হয়। কিন্তু আমি আমার বাড়িতেই দেখতে চাই আমার সন্তানকে। তাই আব্বু আম্মু ও শ্বশুর শ্বাশুরি দ্বিমত করলেও পাগলিটা আমার সাথে ছিল, তাই কেউ আর আপত্তি করে নি। একদিন অফিসে কাজ করছি,  আব্বুর ফোন দিলেন ধরতেই বললেন, বৌ মার ব্যাথা উঠছে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তুই তারাতারি চলে আয়। তাই বসকে না বলেই বেরিয়ে পরলাম। বসকে একটা SMS করে দিলাম। হাসপাতালে পৌছে দেখি বাবা মা দাঁড়িয়ে আছে, কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। বুশরা কেমন আছে। অপারেশন রুমে নিয়ে গেছে। (আম্মু) খুব টেনশন হচ্ছে, জিবনে আগে কখনোই এত টেনশন হয়নি।  এর মাঝে শ্বশুর শ্বাশুরি ও চলে এলো। আরো আধা ঘন্টা পরে ডাক্টার বের হলো।

আমি ডাক্তার কে জিজ্ঞেস করলাম  ডাক্টার আমার স্ত্রী ক্যামুন আছে??? ডাক্টার আশ্চর্য হয়ে বলল সবাই সন্তানের কথা জানতে চায়, আর আপনি স্ত্রীর কথা জানতে চাচ্ছেন???? আসলে আমার স্ত্রীকে অনেক বেশিই ভালবাসি, সন্তান হতে বাবার বাড়িও যেতে দেই নি। সন্তান আরো পাবো এরকম স্ত্রী আর পাব না আমি। আমার ডাক্টারি জিবনে এমন ঘটনা প্রথম দেখলাম। আপনার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনই খুব ভাল আছে। এখন দেখা করতে পারে। পাশের রুমে আছে।(ডাক্তার) আলহামদুলিল্লা। বলে পাশের রুমের দিকে হাটা দিলাম। রুমে ঢুকে দেখি বৌ শুয়ে আছে, পাশে শুয়ে আছে ছোট্ট পরী টা। কাছে গিয়ে বৌয়ের কপালে একটা চুমু একে দিলাম। আব্বু আম্মু ও শ্বশুর শ্বাশুরি ও চলে আসছে। আমি সরে এলাম। মা গিয়ে ছোট্ট পরীটাকে কোলে নিলো।

এর পর এগিয়ে এসে আমার কোলে দিলো। কোলে নিয়ে লক্ষ করে দেখি, পরিটা মায়ের জিরক্স কপি। মনে মনে ভাবছি এখন দুইটা পরি সামলাতে হবে। পরের দিন পরি পরির আম্মুকে বাড়ি নিয়ে এলাম। এখন আম্মুর সময় কাটে ওদের নিয়েই। অফিস থেকে ফিরে আমিও পরি আর পরির আম্মুর পাশেই থাকি। দুজনকেই খুব বেশি ভালবাসি। দোয়া করবেন আমার ভবিষ্যৎ পরি ও পরির আম্মুর জন্য।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত