তুমি আমার চির সাথি

তুমি আমার চির সাথি

এই যে শুনুন।(একটা মেয়ে) জ্বি। (আমি) ঠাসসসসসসসসসসস। মারলেন কেনো। আপনি আমার ভাইকে বকা দিলেন কেনো। কই না তো। মিথ্যা কথা বলবেন না। আরে আমি সত্যি বলছি। আরে আপনাদের মতো ছেলেদের চিনা আছে।ছোট বাচ্চাদেরর সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় এটাও শিখেন নি।আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমার ভুল হচ্ছে, আচ্ছা আপনি এখানে একটু দাড়ান আমি আমার ভাইকে নিয়ে আসি। মেয়েটা তার ভাইকে আনতে চলে গেলে।কি হলো বুঝলাম না।আমি আবার কখন কাকে বকা দিলাম আমি ফারাবি ফেরদৌস।মা বাবার একমাত্র আদরের বাদর পোলা।

বন্দুদের সাথে কলেজ কেম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন এই ঘটনা ঘটলো।ওইতো মেয়েটা তার ভাইকে নিয়ে আসছে তোকে এই ছেলেটা বকা দিয়েছে না।(মেয়ে) আরে এ ভাইয়া না। ওইযে ওইটা।(ছেলে) ভালো করে দেখ।(মেয়ে) আরে ওনি না।(ছেলে) এবার দেখলেন তো।(আমি) আমি অত্যন্ত দুঃখিত।(মেয়ে) আচ্ছা ঠিক আছে। আর শুনুন।(আমি) জ্বি।(মেয়ে) চড়টা একটু আছতে মারলেও পারতেন।(আমি) মেয়েটা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।মেয়েটা অনেক সুন্দর। প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাইছি। আর যাই হোক এই মেয়ের সাথে প্রেম করতে হবে। বন্দু মেয়েটাকে চিনোছ।(আমি) না।কিন্তু মেয়েটা তার ভাইকে স্কুল থেকে নিতে প্রতিদিন এখানে আসে।(তাবির) আচ্ছা।এর সাথে প্রেম করবো, এখন কি করতে হবে একটু বলতো।

আমি জানি কি।আচ্ছা মেয়েটা তোকে মারলো কেনো। কই মারছে।আমারে আদর করছে যাতে ওর সাথে প্রেম করি। নাম জানোছ। না,তুই জানোছ। আমি জানবো কোথায় থেকে। আচ্ছা বন্দু বাই, কালকে দেখা হবে আর পারলে একটু নামটা জানিস। ওকে বাই। বাসায় চলে আসলাম।আমার রাতের ঘুম হারাম করে দিলো ওই মেয়েটা।সকালে উঠে পরিপাটি হয়ে কলেজে গেলাম।গিয়ে তাবিরকে খুজতে লাগলাম। কিরে তুই এখানে বসে আসিছ।(আমি) কেনো।(তাবির) মেয়েটার নামটা কিরে জানতে পারি বলতো। ওর ভাই এর কাছ থেকে। ওকে তুই এখানে থাক। মেয়েটার ভাইকে খুজতে লাগলাম।২ মিনিট পর পেয়ে গেলাম। এই বাবু এখানে আসো।(আমি) আমার নাম বাবু না তামিম।(ছেলেটা) আচ্ছা তামিম তোমার আপুর নাম কি। আপনাকে কেনো বলবো আর আপনি আমার আপুর কি হন। আমি তোমার আপুর bf হই। bf আবার কি। তুমি এখন বুঝবে না বড় হলে বুঝবে। ওহ। এখন বল তোমার আপুর নাম কি। না বলবো না।

তোমাকে চকলেট কিনে দিবো প্লিজ বলো। আগে চকলেট কিনে দেন। আগে নাম বলো। না। আচ্ছা তুমি এখানে বসো আমি আনছি। তামিমের জন্য চকলেট আনতে গেলাম।কি পাজি ছেলেরে বাবা।তার জন্য চকলেট কিনে নিয়ে গেলাম এই নেও চকলেট,এবাব বলো। বলবো না। তোমাকে তো আমি চকলেট কিনে দিলাম। একদিন দিলে হবে না। আচ্ছা অন্য দিন কিনে দিবো। আমার আপুর নাম সানিয়া। সানিয়া। হুম। ওকে। বন্দু তোর ভাবির নাম তো জানছি। কি। সানিয়া। তাই। হুম, ওকে বন্দু বাই। বাই। আমার যে কি আনন্দ লাগছে।রাতে আর খেলাম না সানিয়াকে নিয়ে সপ্ন দেখলাম। তারপর থেকে আমি প্রায় সানিয়ার পিছন পিছন যেতাম।তাকে সব সময় লক্ষ করতাম।একদিন সানিয়া আমায় ডাক দিলো। এই যে।আপনার সমস্যা কি। কই নাতো আমার কোনো সমস্যা নেই। তাহলে আমার পিছু নিচ্ছেন কেনো। কই। আমার পিছন পিছন আসেন কেনো। এমনেই ভালো লাগে। দুর।

সানিয়া চলে গেলো।মাঝে মাঝে এভাবে কথা বলতাম।একদিন কলেজের এক রাস্তা দিয়ে হাটছি তখন ওই।(সানিয়া)  কে।(আমি) ঠাসসসসসস। ওমাগো মারলেন কেনো। ঠাসসসসস আমি কিছু করি নাই।মারেন কেনো। ঠাসসসসসস আপনাকে বলছে ও কিছু করে নাই তারপরও আপনি ওকে মারছেন কেনো।(তাবির) আপনি চুপ করুন। উফ,এতো জোড়ে কেউ চড় মারে। আপনি আমার ভাইকে কি বলেছেন। কিছু না।আমি তাকে চকলেট কিনে দিয়েছি। মিথ্যা কথা বলবেন না। আমি সত্যি বলছি। আপনি নাকি আমার bf। কে বলছে। আমার ভাই এর কাছে আপনি বলছেন। ভুল হয়ে গেছে। তাই বলে এটা বলবেন। তো বল্লে কি হইছে একদিন তো হবোই। কি হবেন। আপনার bf। কি।

দিলাম পিছন দিকে এক দৌড় সোজা বাসায়।এয়েক দিন কলেজে যাই নি।ভাবলাম এবার প্রপোজ করেই ফেলি।পরদিন কলেজে গেলাম। সানিয়া। কি। তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো। জ্বি বলেন। আই লাভ ইউ। কি।,,ঠাসসসসসস। সত্যি। আপনাদের মতো ছেলেদের সাথে প্রেম না করে মরে যাওয়া অনেক ভালো। কেনো। কারন ছেলেরা মিথ্যুক,প্রতারক,ডপবাজ। কি বলো। হুম।কয়েকদিন মেয়েদের সাথে প্রেম করে তারপর অন্য আরেকটা ভালো মেয়ে পেলে চলে যায়।মিথ্যা আসা দিয়ে নষ্ট করছে হাজারো মেয়ের সুখের জিবন।মিথ্যা কথা বলে তাদের সাথে প্রেমের নাটক করে একদিন চলে যায়। আমি আর কথা বললাম না।মাথা নিচু করে বাসায় চলে আসলাম। কিছু দিন কলেজে গেলাম না।একদিন গেলাম। আবার সানিয়ার সাথে দেখা হলো।তাকে ডাকলাম। শুনো। কি। তুমি ওই দিন যে কথা গুলো বলেছিলে তা পুরটাই সত্যি। জ্বি, ছেলেরা এরকমি।

কিন্তু সব ছেলে এক না।যারা একটা মানুষকে মন দিয়ে ভালোবাসে তারা ভালো বাসা পায় না।যারা শুধু টাইম পাছ করার জন্য প্রেম করে তারিই পায়।একটা প্রকৃত ছেলে যখন একটা মেয়েকে প্রোপজ করে তখন মেয়েটা তা গ্রহন করে না কিন্তু যারা টাইম পাছ কারা জন্য প্রেম তারা মেয়েটাকে প্রপোজ করলে তা গ্রহন করে।ছেলেটার মুল কারন হলো টাইম পাছ করা।ছেলেটার কাজ শেষ হয়ে গেলে সে মেয়েটার সাথে মিথ্যা নানা অপবাদে ব্রেকআপ করে।তখন মেয়েটা তার এই দুঃখের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়।অথবা FB তে ছ্যাঁকা খাওয়ার স্ট্যাটাস দেয়।বলে যে সব ছেলেরা খারাপ তারা প্রতারক মিথ্যুক। অাচ্ছা যদি মেয়েটা প্রথম যে ছেলেটা তাকে প্রপোজ করেছে তার সাথে প্রেম করতো তাহলে এটা বলতে পারতো।

আমি আবার বাসায় চলে আসলাম। কয়েকদিন কলেজে যাইনি।কলকে যাবো। কলেজে গিয়ে তাবিরকে খুজতে লাগলাম। ফারাবি। (সানিয়া) কে। আমি সানিয়া। ওহ তুমি। হ্যা। কোনো দরকার। তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।আর এতো দিন আসলে না কেনো। এমনেই। আসলে ওই দিন আমি না বুঝে তোমাকে উল্টা পাল্টা অনেক কথা বলে ফেলেছি।আসলে তুমি ঠিক বলেছো। তো। এখন কি শুরু করা যাবে। কি শুরু। ভেবে নেন। সত্যি। হুম।এখন আবার প্রপোজ করতে হবে। আবার। হুম।

হবেকি তুমি আমার চির সাথি, যাকে নিয়ে বাচতে চাই সারাটা জিবন।হবেকি তুমি, আমার সকাল বেলার ঘড়ি।যে আমাকে সকালের মতে সব সময় জাগিয়ে দিবে।হবে কি আমার চোট্ট শিশুর আম্মু। হুম। তারপর শুরু হলো এক নতুন জিবন যেখানে হাসি কান্না সব আছে।দোয়া করবেন আমাদের জন্য, যাতে সারা জিবন একে অপরের পাশে থাকতে পারি।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত