মা

মা

আমিঃ মা মা তুমি কোথায়?

মাঃ এই ত এত চিল্লাচ্ছিস কেন?

আমিঃ আমার মানি ব্যাগ টা কয়?

মাঃ দেখ তোর বিছানায় আছে।

আমিঃ ওহ পেয়েছি

মাঃ হু।

আমিঃ মা মানি ব্যাগে এত টাকা কয় থেকে আসলো ?

মাঃ আমি কি করে বলব?

আমিঃ ধুর এত টাকা ত ছিলোনা।

মাঃ আমি জানিনা বাপ , দেখ তোর কোথাও ভুল হচ্ছে মনে হয়।

আমিঃ ধুর আমি ত ঠিকি বলছি  এতখন যার সাথে কথা বললাম তিনি আমার মা জিনি আমায় এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন আর আমার নাম নিঝুম জুনায়েদ আমার মা আমার বন্ধুর মতো আজকে আমার টাকা লাগবে মা সেটা মনে জানতে পেরে গেছে তাই মানি ব্যাগে টাকা রেখে গেছে।

আমিঃ মা আমি গেলাম।

মাঃ ভালো করে যাস আর তাড়াতারি বাড়ি ফিরিস।

আমিঃ আচ্ছা মা উম্মমাহহহ আমার সেরা মা।

মাঃ তুই ত আমার সব বাবা

আমিঃ হুম আজকে আমার গফ এর সাথে দেখা করার কথা আছে তাই বাসা থেকে বের হয়েছি তার নাম মিমি
কিছুখন পরে দেখি আমার গফ আসতেছে আমাদের ৫ বছরের রিলেশন

আমিঃ এত দেরি হয় কেনো?

মিমিঃ বাসায় থেকে আসতে একটু প্রবলেম হয় ত তাই সরি বাবু।

আমিঃ ওকে। বলো আজকে কি বলার জন্য ডেকেছো?

মিমিঃ আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে টা তোমাকে খুব বলা দরকার।

আমিঃ হুম বলো আমি শুনছি

মিমিঃ জানিনা তুমি কেমন করে নিবে।

আমিঃ বলবে ত।

মিমিঃ আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের বিয়ের পরে আমার বাসায় থাকবো আমরা।

আমিঃ এটা কোনো কথা আমার মা – আছে তাদের ছেড়ে আমি কেমনে থাকি?

মিমিঃ কেনো তুমি তোমার ব –মা কে তাদের বাসায় রেখে দিবা আর তুমি আমার বাসায় থাকবা।

আমিঃ এটা পারবনা যারা আমাকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে যার জন্য আমার সাথে তুমি প্রেম করতে পারছো যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছো তাকে কিভাবে আমি এমন টা করি?

মিমিঃ আমি এত কিছু জানিনা তুমি যদি আমায় ভালোবাসো তাহলে এটা মানতেই হবে।।

আমিঃ হ্যা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু তাই বলে আমার মা কে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবনা।

মিমিঃ তুমিই তো আমাকে ভালোবাসোই না।

আমিঃ ধুর তাহলে আমি এই ৫ বছর কি করছি?

মিমিঃ আমি জানিনা তুমি যদি আমাকে পেতে চাও তাহলে এই সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

আমিঃ আমি যদি তোমার সাথে থাকি তাহলে আমার মাকে দেখবে কে?

মিমিঃ কেনো তোমার মা কে বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে আসবা।

আমিঃ কিইইইইইইইইইইইইইইইই তুমি কি কয়লা ?( আমার মাথা যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো )

মিমিঃ ঠিকি ত কয়ছি তুমি মাসে মাসে টাকা দিয়ে আসবা।

আমিঃ ঠাস ঠাস ঠাস তোমার মন এতো ছোট ( দিলাম কয়েকটা চড় )

মিমিঃ তুমি আমাকে মারলে সামান্য তোমার মার জন্য তুমি ত আমাকে ভালোই বাসোনা।

আমিঃ কি আমার মা সামান্য।। থাক তোর ভালোবাসা নিয়ে আমি জিবনেও আমার মা কে ছাড়তে পারবনা তবে তোকে ছেড়ে যাবো যার মন এত নিচ সে আমায় কোখনো ভালোবাসতে পারবেনা।

মিমিঃ প্লিজ জুনায়েদ এমন করোনা প্লিজ ( কান্না চোখে )

আমিঃ এত মায়া কান্না করে লাভ নেই। বাই ভালো থেকো আর যে তার মাকে ছেড়ে তোমার সাথে থাকতে পারবে তাকে বিয়ে করো

মিমিঃ জুনায়েদ প্লিজ এমন করোনা।

আমিঃ রাখ ত মায়া কান্না। চলে আসলাম মিমির কাছে থেকে।। যে আমার ভালোবাসাকে ভালোবাসতে পারবেনা সে আমায় কিভাবে ভালোবাসবে ? এ কেমন মেয়ে একজন মা কে বৃদ্ধা আশ্রমনে রাখার কথা বলে মিমির মন যে এতো ছোট হবে আমি ত নিজেই বুঝতে পারছিনা যে মা আমাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে তাকে কিভাবে পর করেদি? বাসায় এসে মন খারাপ করে বসে আছি তখন মা আমার রুমে আসলো

মাঃ কিরে মন খারাপ করে বসে আছিস কেন? মিমির সাথে কিছু হয়েছে নাকি?

আমিঃ তুমি মিমির নাম জানলে কিভাবে?

মামাঃ তুই একদিন ফোন রেখে বাইরে গেছিলে সেই দিন মিমি ফোন দিয়েছিলো সেই থেকেই জানি।

আমিঃ ওহ

মাঃ কিছু হয়েছা বাবা?

আমিঃ জানো মা মিমি আমাকে একটু ভালোবাসেনা।

মাঃ কি বলছিস এই সব ?

আমিঃ হ্যা ও বলেছে যে তোমাকে বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে আসতে আর ওর বাসায় থাকতে। দেখলাম মার মন খারাপ হয়ে গেছে। কিছুখন পরে

মাঃ বাবা তুই মিমির কোথায় রাজি হয়ে যা আমি ত বুড়ি হয়ে গেছি সারা জীবন ত আর এমন থাকবোনা।। ও যেটা বলেছে ঠিকি বলেছে।

আমিঃ না মা এটা আমি পারবনা দরকার হয় সারা জীবন আমি বিয়ে করবনা তাও এর কোথায় আমি রাজি হবোনা।

মাঃ দেখ পাগলামি করিস না মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে।

আমিঃ ও আমায় ভালোবাসতে পারে কিন্তু আমি তোমায় ভালোবাসি মা আমি পারবনা এই কথা রাখতে

মাঃ আমার জন্য সারা জীবন এইভাবে থাকবি?

আমিঃ দরকার হলে তাই থাকবো তাও তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবোনা মা। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে আর আমিও কান্না করছি এই কান্না কোনো কষ্টের কান্না না। এই কান্না এক মায়ের প্রতি ছেলের ভালোবাসা। তা কেউ পাই আর কেউ পাইনা।

বিঃদ্রঃ এখন দেখা যায় মা-বাবাকে বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে অনেকেই তারা তাদের সুখের আশায় মা-বাবা কে এখানে রেখে যায় তবে সবাই এক না কোনো দিবস দিয়ে মা কে ভালোবাসা যায় না। মা –বাবার ভালোবাসা ত প্রতি মূহত্ব থাকে মা-বাবার সাথে আমরা অনেক খারাপ ব্যবহার করি কিন্তু মা-বাবা কোনো দিন পর হয়না।। কিন্তু প্রেমিকা বা বউ এর সাথে একদিন খারাপ ব্যবহার করে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন। তাই আমরা কোনো দিবস দিয়ে নয় আমাদের ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদিন মা-বাবা কে ভালোবাসি।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত