অভিমানি

অভিমানি

আমি বোসে বোসে বই পড়ছি,,, নামের বই পড়া আরকি, কামতো অন্যটা করছি,, মানে বইর ভিতর মোবাইল নিয়ে বোসে গেমস খেলছি,,সার রুমে আপু টিভি দেখছে,,, হঠাৎ আপুর ফোনটা বেজে উঠলো,,

আপু ঃহ্যালো কে বলছেন,, অপর পাস থেকে একটি মেয়ে,

মেয়েঃআপনি সারমিন আপুতো,

আপু ঃহ্যা কেনো,,

মেয়েঃআপনার ভাইকে সাবধান করে দিবেন,ওর সাহস হয় কি করে ফোন বন্ধ করার,,,

আপুঃ তোমার নাম কি?

মেয়ে ঃ নিলা

আপুঃনিলা!  আপুর মুখে নিলা নামটা শুনে থ হোয়ে গেলাম,, মেয়েটা আপুর নাম্বার পেলো কোথায়,,,,একটু আড়ি পাতলাম কি বলে শুনার জন্য,,

আপুঃআমার ভাইর সাথে তোমার কি,

নিলাঃআপনার ভাইকেই জিগাসা কইরেন,আমি তার কে,,

আপুঃআচ্ছা কি হোয়েছে শুনি,,,

নিলাঃকেদে দিয়ে বললো,,,আপু আজ তিন দিন, তিন দিন ও ফোন বন্ধ করে রেখেছে,,,আমার সাথে কথা বলে না,,,

আপুঃআহা কাদছো কেনো,, কথায় কথায় কাদতে হয় নাকি,,

নিলাঃআপনি কখনো কাউকে ভালোবেসেছেন,,

আপুঃনা “কখনো সময় সূযোগ হোয়ে উঠিনি,,

নিলাঃযদি কখনো ভালোবাসতেন তাহলে বুঝতেন আমি কেনো কাদি,, কতযে কষ্ট হয় ওকে না দেখলে, ওর কথা না শুনলে,, আজ তিন দিন আমার সাথে দেখা করে না, কথা বলেনা,, (কান্না করতে করতে বললো)

আপু ঃআচ্ছা কেদো না,, আমার ভাই কেনো এমন করে,,

নিলাঃআচ্ছা আপু বলেন,,ভালোবাসায় রাগ অভিমান থাকবেই,, যে ভালোবাসতে যানে সে রাগ ও করতে যানে,, আমি না হয় একটু রাগ করে বকাঝকা করেছি,, তাই বলে ফোন বন্ধ করে রাখতে হবে,, কলেজে আসে না,,, ওর সাথে কথা না বলে আমি থাকতে পারি না,এখন আমি কি করবো,,

আপু ঃআচ্ছা কেদো না আমি দেখছি,  আপু ফোন রেখে আমার রুমে আসতে লাগলো,, আমি তারাতারি বই খুলে পরতে লাগলাম,, এমন একটা ভাব নিচ্ছি যেনো গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। সারমিন

আপুঃ জনি, জনি, এই জনির বাচ্চা ডাকি কানে যায় না,

আমিঃ কি হোয়েছে আপু, এত ডাকছো কেনো,, দেখছো না পরছি,

আপু ঃ ডাকছি কি আর সাধে, তোর ফোন কোথায়,,

আমিঃ এইতো কেনো,,

আপুঃ তোর ফোন বন্ধ কেনো,

আমি ঃএকটু সমস্যা দেখা দিয়েছেতো তাই,,

আপু ঃনিলা নামের কাউকে চিনিস?

আমিঃ এক দমই না, কেনো,?

আপু ঃ নিলা নামের একটা মেয়ে ফোন দিয়ে বললো তুই নাকি তার সাথে অভিমান করে ফোন বন্ধ করে রেখেছিস,,

আমিঃ আরে তোমার সাথে হয়তো কেউ মঝা করেছে,,

আপুঃকান্না করে ভরে ফেলেছে,, এটাকে কি মঝা বলে,,(কিছুটা রেগে বললো)

আপু ঃ ভাই আমার সত্যি করে বল তোর সাথে কি কেউর রিলেশন আছে,,

আমি ঃকি যে বলো আপু, মেয়েটা কি আমার নাম বলেছে,,

আপু ঃ না তোর নাম বলেনি,,

আমি ঃ তা হলে অন্যকারো কাছে ফোন করতে গিয়ে ভুলে তোমার নাম্বারে চোলে এসেছে,,

আপু কিছুটা ভেবে বলল,হোতেও পারে, আচ্ছা তুই পর,, আসলে নিলা ঠিক যায়গায়ই কল দিয়েছে,, নিলা আমার প্রিয়তমার নাম,, বড় লোকের এক মাএ মেয়ে,, আর আমি জনি, মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আমি। নিলা আর আমি একই কলেজে পড়ি,, ও ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে আর আমি জেনারেলে,, কি ভাবে যে হঠাৎ ওর সাথে প্রেম হোয়ে গেল,, যাগ গে সেসব কথা,, নিলার সাথে অভিমান করে ফোনটা বন্ধ করে রেখেছি,, আসলে বড় লোক আর গড়িব এক হোতে পারে না,, আর ও কখনো আমার সাথে মানিয়ে নিতেও পারবে না,, তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ছি ওর কাছ থেকে দুরে সরে আসবো, যে কারনে অভিমান করেছি, তার কারন হলো, চলুন পিছন থেকে ঘুরে আসি,,,কলেজে প্রাই নিলা তার বড়লোক বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়,, আড্ডা দেয় ভালো কথা, কিন্তু তাই বলে হাত দরাদরি, গা গেসাগেসি, যা আমার মোটেও পছন্দ না,, কোনো বয়ফ্রেন্ড ই চাইবে না, তার গালফ্রেন্ড অন্যনকোনো ছেলের সাথে এতটা গা গেসে কথা বলুক, তার উপর শুনেছি ওর বড়লোক বয়ফ্রেন্ড সাইদ নাকি ওকে প্রপোজ করবে, তাই নিলাকে বললাম,, নিলা তোমার সাথে কথা আছে

নিলা ঃ হ্যা বলো,

আমিঃতোমাকে না বোলেছি, তোমার ওই বন্ধুদের সাথে বেশি একটা না মিশতে।

নিলাঃ তাতে তোমার সমস্যা কি, ,

আমিঃদেখো, আমার এসব একদম পছন্দ না,

নিলাঃ জনি ওরা আমার ফ্রেন্ড,

আমিঃতাই বলে হাতে হাত দরে গা গেসে গেসে কথা বলতে হবে,

নিলাঃদেখো আজ আমার মাথা এইনিতেই গড়ম, বেশি রাগিও না,,

আমি ঃদেখো আমি বলছি তুমি ওদের সাথে মিশবে না ব্যাস মিশবে না,,

নিলা ঃআমি মিশবো মিশবো মিশবো, একশ বার মিশবো,

আমিঃতুমি মিশবে না ব্যাস এটাই আমার সেষ কথা,, কথা কটাকাটির এক পর্যায়

নিলাঃঠাসসস, তোরে বলছি না ওরা আমার ফ্রেন্ড,, তুই যেমন ছোট লোক তোর চিন্তা ভাবনা তেমন ছোট লোকি,, আমি একশ বার মিশবো, সর সামনে থেকে, , আমি গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দারিয়ে আছি,  নিলা চোলে গেছে,, পাসে তাকিয়ে দেখি, আমার জুনিয়র বেজের ছেলেরা আমাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে হাসছে,, যারা কখনো আমার সামনে মাথা উচিয়ে কথা বলেনা তারা হাত দিয়ে দেখিয়ে দেখিয়ে হাসছে,, চোখ দিয়ে পানি বের হোয়ে গিয়েছে,, আমি মাথা নিচু করে কলেজ থেকে বের হোয়ে আসলাম,,তার পর থেকে আজ তিনদিন কলেজে যাইনা, ফোন বন্ধ করে রেখেছি,, বাকিটুকু তো আপনারা জানেনই,, যাগগে বর্তমানে আসি,,আমি পরায় মনোযোগ দিলাম,, কিছুক্ষন পর আপুর ফোন আবার বেঝে উঠলো,, নিলা ফোন দিয়েছে,,আপু ফোন দরেই বললো,, এই মেয়ে আমার ভাইর নাম কি বলোতো,,

নিলাঃ আপু আমিকি আপনার সাথে ফান করছি, ওর নাম জনি,, আপনি ওর বড়ো বোন,, আপু আমার কষ্ট টা একটু বুঝেন,, আমার ভালো লাগছেনা, ওর ফোনটা ওপেন করতে বলুন,,

আপুঃজনির ফোনতো নষ্ট হোয়ে গেছে,,

নিলাঃআপু দয়া করে ওর কাছে একটু ফোনটা দিন,, একটু কথা বলবো, ওর কন্ঠটা একটু শুনবো,,

আপু ঃএকটু ওয়েট করো, দিচ্ছি, আপু রুমে ঢুকার আগেই আমি দৌরে ভাথরুমে ডুকে গেলাম,, আপু রুমে ঢুকে আমাকে না পেয়ে বললো,,

আপু ঃ শোনো ও যেনো কোথায় গেছে,,

নিলাঃআপু আপনাদের বাসার ঠিকানাটা দেন,, আমি একটু দেখবো ওকে, প্লিজ আপু প্লিজ,,

আপু ঃ পাগল হলে নাকি, এত রাতে আসবে,, তাছারা বাসায় আব্বু আছে,,

নিলাঃ প্লিজ আপু একটু এসেই ওকে দেখে চোলে যাবো,,

আপুঃ তুমি তো দেখি সত্যিই একটা পাগলি মেয়ে,,আচ্ছা শোনো, জনি কে কাল কলেজে পাঠাবো, তখন এক সাথে দেখে নিও। আপু আর কিছু বলতে না দিয়ে কলটা কেটে দিলো, কিছুক্ষন পর বাথরুম থেকে বের হোতেই দেখি আপু আমার চেয়ারে বসে আছে, আর আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে,

আমিঃকি হোয়েছে আপু, এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো,

আপু ঃ সত্যি করে বল মেয়েটার সাথে তোর কি হোয়েছে,

আমিঃ কোন মেয়েটা,আপু?

আপুঃ ও বুঝেছি এভাবে কাজ হবে না,দারা আব্বু মনে হয় বাসায় আছে, আব্বুর কাছে ফোনটা দরিয়ে দেই,

আমিঃএই আপু কই যাচ্ছিস, বলছিতো,

আপুঃ হ্যা বল,

আমিঃকোন মেয়েটা যেনো,, আপু রেগে গিয়ে আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো,

আমিঃআরে বলছি,এভাবে তাকানো লাগে,, ভয় পাই না,, তারপর আপু কে নিলা আমার ঘটে যাওয়া সব কিছু বললাম,, আপু আমার কান দরে বললো, তলে তলে এত দুর, তোর বড় বোন হয়ে আমি কোনো প্রেম টেম করলাম না, আর  তুই!

আমিঃআহ আপু লাগছেতো,,

আপুঃ লাগার জন্যই তো দরেছি, আমি কিছুটা গম্ভির হোয়ে বললাম,,তবে আর এই প্রেম থাকবেনা, এতটুকুই সিমাবদ্ধ, আপু আমার কান ছেরে দিয়ে বললো, কেনো,

আমিঃওর সাথে আমদের হবে না আপু, ও এই ভালোবাসে তো,এই মত চেন্জ হতে সময় লাগবে না। তা ছারা ওরা অনেক বড় লোক মেনে নিবে না, এই কথাগুলা বলতেই কেনো যানি চোখ দিয়ে পানি বের হোয়ে গেলো,,আপুকে আড়াল করে চোখের পানি মুছার চেষ্টা করলাম,, আপু দেখে বললো, হোয়েছে আর চোখের পানি লুকাতে হবে না,, এইসব বিষয় প্রেম করার আগে মনে ছিলো না,, এখন আসছোছ ছ্যাছরার মতো কাদতে,, শোন কাল কলেজে যাবি।

আমিঃনা আমি যাবো না,,

আপুঃ ব্যাপারটা আব্বার কানে না নিতে চাইলে চুপ চাপ কলেজে চোলে যাবি,,

আমি ঃ এর ভিতর আব্বারে টানতাছো কেনো?

আপু ঃআর কোনো কথা হবে না, খেয়ে চুপচাপ ঘুমা,। পর দিন সাকালে

আপুঃ কিরে রেডি হোয়েছিস,,

আমিঃতুমি কোথায় যাইবা আপু, ,

আপুঃতোকে কলেজে ছেরে দিয়ে আসবো,

আমিঃআমি একা যেতে পারবো

আপুঃ কোনো কথা বলবি না, চল, তোকে কলেজে ছেরে দিয়ে আমি একটু মার্কেটে যাবো,, কি আর করার আপুর সাথে কলেজে যেতে হলো,, কলেজে যেতেই কোথা থেকে যেনো নিলা হন্তদন্ত হোয়ে আমার সামনে আসলো,

নিলাঃজনি আমি সরি, সত্যি আমি বুঝতে পারিনি, আসলে কি থেকে কি হোয়েগেলো সেদিন, তারপর আবার তুমি কলেজে আসো নি, কত টেনশন হয় বলো, কি ব্যাপার কিছু বলছো না কেনো, আমি সরিতো,

আমিঃইটস ওকে, আর কিছু বলবেন?

নিলাঃকি হোয়েছে জনি, এমন করছো কেনো, আমি সরি তো, আচ্ছা তোমার না ফোন নষ্ট হোয়ে গেছে, এই দেখো আমি তোমার জন্য আইফোন এনেছি। এই বলে নিলা তার ব্যাগ থেকে আই ফোনের প্যাক টা বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিলো, আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, “আমাকে কি ছোটলোক মনে হয়? হ্যা ছোট লোক ও বলা যায়,, তবে এতটা ছোটলোক না যে অন্যের কাছে হাত পেতে নিতে হবে, যেটে আছে ওটা ঠিক করে নিবো,, নিলা এবার কেদে দিয়ে বললো, এভাবে বলছো কেনো, মানছি আমি অপরাধ করেছি, তাই বলে আমার কাছ থেকে নিতে পারবে না, আগেওতো কত সার্ট প্যান্ট নিয়েছো,

আমিঃসব ফিরিয়ে দেবো,, পেয়ে যাবেন,

নিলাঃদেখো জনি আপনি আপনি করে বলো না আমার খুব কষ্ট হয়, আমি তোমাকে এগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দেইনি,,। নিলার কান্না আমি সয্য করতে পারি না তাই বললাম, আর কিছু বলার আছে আপনার, আমার ক্লাশ আছে, আমি ক্লাশ করবো,, নিলা আমার হাত চেপে দরলো,

নিলাঃ জনি আমি আর মিশবো না ওদের সাথে, গড প্রমিজ,, আমি হাতটা ছারিয়ে নিয়ে ক্লাশে ঢুকে গেলাম,নিলাও আমার পিছন পিছন আমাদের ক্লাশে ঢুকলো, আমি আমার ক্লাশ মেট আফছানার পাসে বসলাম, নিলা মাঝখান দিয়ে এসে দুজনের মাঝখানে বসলো,, আমি কিছুই বললাম না, অনেকেই হা করে তাকিয়ে আছে, ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ছাএী এখানে ক্লাশ করছে,,বড়ই অদ্ভূত ব্যাপার,। নিলা বারবার চোখ মুছছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে, ক্লাশ শেষে বের হোতেই নিলা আবার দরলো আমাকে,

নিলাঃকি হোয়েছে জনি তোমার, তুমি আমার সাথে এমন করতে পারো না,আমি বলেছি তো আমি আর কারো সাথে মিশবো না,আমার কোনো ফ্রেন্ডের সাথে মিশবো না,,

আমি ঃ আপনি যার সাথে ইচ্ছে তার সাথে মিশতে পারেন,, এতে আমার বলা র কিছু নেই,

নিলাঃ কেনো বলার কিছু নেই,, আমি তোমার গালফ্রেন্ড না, তোমার সব অধিকার আছে,,

আমিঃশোনেন,এসব আবেগের কথা রাখেন,আপনার ওই বড়লোক বন্ধু সাইদ আছেনা, ও ই আপনার সাথে ভালো  মানাবে, আমার মতো ছোটলোকের সাথে আপনার মানায় না,

নিলাঃদেখো আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি,আমার রাগ বারিও না,,

আমিঃ হাহা, থাপ্পর দিতে মন চাচ্ছে তাই তো, এই নিন মারেন,, আমি গাল টা এগিয়ে দিলাম,,

নিলাঃ জনি প্লিজ, আমার সাথে এমন করো না, আমি আর নিতে পারছি না, ভালোবাসায় রাগ অভিমান একটু হবেই তাই বলে এমন করবে,, আমি সত্যি আর কারো সাথে মিশবো না।

আমিঃ আবেগের কথা রাখেন,, আমার থেকে আরো ভালো ছেলে পাবেন,, নিলা আমার কথায় স্তব্দ হোয়ে গেলো,, আমি যত তারাতারি সম্বব সেখান থেকে চোলে আসলাম। কথাগুলো বলতে আমারো খুব কষ্ট হচ্ছিলো,, কি করবো অভিমানের পালা যে পাহাড় হোয়ে গেছে। সেখান থেকে বাসায় এসে বিকালেই ছোট ফুফিদের বাসায় চোলে গেলাম, নিলার সাথে আর যোগাযোগ হয়নি,,তার চার দিন পর, আবার সারমিন আপুর ফোনে নিলা কল দিলো,,

আপুঃহ্যা কে,

নিলাঃআপু আমি নিলা

আপুঃও তুমি, বলো,,

নিলাঃআপু জনির কাছে একটু ফোনটা দিন না, একটু ওর কন্ঠ শুনবো,

আপুঃজনিতো ছোট ফুফিদের বাসায় গেছে,

নিলাঃআপনি মিথ্যা বলছেন, আপনি বাসার ঠিকানা দিন, আমি একটু দেখে চোলে যাবো,

আপুঃআরে এখন আব্বু বাসায়,তাছারা বললামতো জনি ছোট ফুফিদের বাসায়,

নিলাঃ বাসার ঠিকানা দিবেন নাতো,, ঠিক আছে আমি হাত কেটে সুইসাইড করবো, বিশ্বাষ হচ্ছে নাতো, নিলা ব্লেড হাতে কয়েকটা পিক এমএম এস করে দিলো, আপু তা দেখে ভয়ে বাসার ঠিকানা দিয়ে দিলো, তার কিছুক্ষন পড়ই নিলা গাড়ি নিয়ে বাসায় হাজির, নিলাকে দেখে বাসায় বাবা মা অবাক, সাথে সারমিন ও, সারমিন ভয়ে চুপসে গেছে, নিলা বাসায় জনি জনি বলে চিৎকার দিতে থাকে, তখন আব্বু বললো, এই মেয়ে কে তুমি,, নিলা কিছু বলার আগেই সারমিন আপু বললো, আব্বু আমার বান্ধুবি, কই আয় আমার সাথে, সারমিন নিলাকে নিয়ে তার রুমে চোলে গেলো,

সারমিন ঃএই তুমি কি পাগল হোয়ে গেছো,

নিলাঃহ্যা আমি পাগল হোয়ে গেছি, ওকে ছারা আমি পাগল হোয়ে যাবো,

আপুঃসবার সামনে থাপ্পর দেওয়ার সময় মনে ছিলো না,আর তোমাকে বারবার বলেছি যে জনি বাসায় নেই, ও বেরাতে গেছে, নিলা এক ধ্যানে নিচের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতে লাগলো, হঠাৎ চোখের পানি মুছে গম্ভির হোয়ে বলতে লাগলো, কাল আপনি জনিকে রেষ্টুরেন্টে হাজির করবেন, কিভাবে করবেন তা আপনি যানেন, যদি না পারেন তাহলে যে পিক গুলা পাঠিয়েছি, ওগুলো কাল বাস্তবে দেখবেন,, নিলা সেখান থেকে চোলে গেলো,, পর দিন আপু ফুফির কাছে ফোন দিলো,ফুফি আমার কাছে ফোন এনে দিলো ,

আমিঃহ্যা আপু বলো।

আপুঃ আজ তিনটায়… রেষ্টুরেন্টে চোলে আসিস,,

আমিঃ ক্যানো দুলাভাইর সাথে দেখা করাবা নাকি,,

আপুঃ হ্যা, করাবো তুই চোলে আসিস,

আমিঃ তাহলেতো আসতেই হয়,, আচ্ছা আসবো, আমি রেডি হয়ে চোলে গেলাম, আপুর বলা রেষ্টুরেন্টে,বাহির থেকে ভিতরে দুজন মেয়ে দেখতে পেলাম। আমি ভিতরে ঢুকতেই দেখি আপুর পাশে নিলা বোসে আছে,, তাহলে কি আপু আমায় মিথ্যা বলে আনলো,, আমি যেই ঘুরে চোলে আসতে যাবো ঠিক তখনই নিলা বললো, আর এক পা সামনে আগাবে না,,

আপুঃ এখানে চুপ চাপ এসে বস,, আমি গিয়ে তাদের মাঝে বসলাম, নিলা তার চেয়ারটা আমার কাছে এনে বললো, সমস্যা কি তোমার, কি পেয়েছো তুমি, মন চাইলে কাছে আসবে, মন চাইলে দুরে যাবে,, আমি আপুর দিকে তাকালাম,,

আপুঃ মেনে নে মেয়েটাকে, তোকে খুব ভালোবাসে মেয়েটা,,

নিলাঃ জনি সিরিয়াসলি একটা কথা বলছি,, আমি আর নিতে পারছি না, হয় আমাকে ভালোবাসবে নাহয় এইটা খেয়ে, (একটা বিশের বোতল হাতের ভিতর থেকে বের করে) এখানেই মরে যাবো,, আপু আমার গালে ঠাসসসস করে একটা থাপ্পর দিয়ে বললো,, দেখ কত ভালোবাসে মেয়েটা তোকে আর তুই আমি নিলার হাত থেকে বোতলটা নিয়ে আপুর কাছে দিয়ে বললাম, একটু বাহিরে যাতো আপু,,, আপু বাহিরে যেতে যেতে বলল, উল্টাপাল্টা কিছু করবি না বলে দিলাম, আপু বাহিরে যেতেই নিলার গালে ঠাসসসস করে একটা বসিয়ে দিলাম,, নিলা তাতক্ষনিক আমার বুকে যাপিয়ে পরে বললো, তোমার যতখুশি তত মারো তবুও আমাকে ছেরে যাওয়ার কথা বলো না,,, আমি সইতে পারবো না,

আমি ঃআর যদি ওদের সাথে মিশতে দেখি, তখন বুঝবা,, নিলা আমার বুকে মুখ গুজতে গুজতে বললো, আমি আর কারো সাথে মিশবো না,,

আমিঃ মিশবে তবে এতটা না। যানো তুমি সবার সামনে থাপ্পর মেরেছো আমি কত কষ্ট পেয়েছি,,

নিলাঃ আবার এসব কথা কেনো, তোমাকে থাপ্পর দিয়ে আমি নিজেই অনেক কষ্ট পেয়েছি,, রেস্টুরেন্টের সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে, একটা ছেলের বুকে একটা মেয়ে মুখ গুজে আছে ব্যাপার টা কেমন না,, তাতে আমাদের কি,, আমিও নিলাকে পরম আদরে জড়িয়ে নিলাম। নিলাও যেনো তার সুখের স্থান খুজে পেয়েছে আমার বুকে,, কিছুক্ষন পর আপুর ডাকে নিলা আমার বুক থেকে মাথা উঠিয়ে বসলো,,

আপু ঃ কি আপনাদের মান-আভিমান কমেছে,, নিলা মাথা নারিয়ে হ্যা বললো।

আপু ঃ তোমাদের দেখি আর তর সইছে না, আমার আগে তোদের বিয়ে দিতে হবে দেখছি,, নিলা লজ্জা পেয়ে আমার বুকের ভিতর মুখ লুকলো,,

আপুঃআচ্ছা থাক তোরা,,আমি দেখি আব্বুকে মেনেজ করতে পারি কিনা,, এখন ভালোয় ভালোয় বিয়েটা হোয়ে গেলেই হয়।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত