বলতে পারিনি

বলতে পারিনি

অনেকদিন আগের কথা আমি তখন একাদশ শ্রেনীতে পড়তাম। পড়েলেখা শেষ করে এখন একটা বেসরকারী কম্পানিতে চাকরি করি। ২বছর আগে বিয়ে করেছি একটা মেয়েও হয়েছে তার নাম রেখেছি নুসরাত জাহান ইভা। যখন মেয়ের নাম রেখেছি আমার স্ত্রী আমায় বলেছিলো নামটা তো সুন্দর এটা কোথায় থেকে পেলে আমিও তো নামের বইতে অনেক খোজাখুজি করলাম ভালো পেলাম। তখন তাকে কি বলব ভেবে পাইতেছি না। কারন সেই নামটি যে আমার অনেক প্রিয় একটা মানুষের। তাকে যে আমি অনেক ভালো বাসতাম।

সেই রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবতে লাগলাম সেই একাদশ শ্রেনীর কাহিনীটা। আমার একজন প্রিয় বন্ধু তার নাম ছিলো সাকিব আমরা দুজনেই একসাথে কলেজ যেতাম একসাথে ক্লাসে বসতাম এক কথায় বলতে গেলে সে আমার সাথে সবসমায় ছিলো।

হঠাৎ একদিন জ্বরের কারনে আমি দুইদিন কলেজ যেতে পারিনি কিন্তু সাকিব গিয়েছিলো, সে কলেজ পরের দিন সকাল বেলা আমার কাছে আসলো আর আমায় বললো ভাই জানিস আমাদের কলেজে একজন নতুন মেয়ে ভর্তি হয়েছে আমাদের ক্লাসে। কথাটা শুনে তাকে বললাম নাম কি তার? সে বললো তার নাম হলো নুসরাত, আমি তখন ওকে বললাম বাড়ি গিয়ে গোসল করে কলেজ যা আমি আসতেছি।

তারাতারি গোসল করে না খেয়েই কলেজে গেলাম। চুলগুলো অগোছালো ছিলো আমি ক্লাসে বসে আছি হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন আমায় ডাকল পিছনে ঘুরতে দেখলাম নুসরাত কিন্তু তাকে আমি দেখিনি, আর চিনিও না। ভাবলাম আমি তো এই মেয়েটাকে কখনো দেখিনি কিন্তু সে কেন আমায় ডাকতেছে। আমি তাকে বললাম কেন ডাকতেছেন? সে বললো বাড়িতে কি চিরুনি নেই আমি তো লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রাখলাম। তখন সে তার ব্যাগ থেকে চিরুনি বের করে দিয়ে বললো চুলগুলো ঠিক করো। আমি কিছু না বলে চিরুনি টা নিয়ে চুলগুলো ঠিক করে আবার দিয়ে দিলাম তারপর আমার জায়গায় গিয়ে বসে পরলাম।

তখন সাকিব বলতেছে কি ভাই নুসরাতের সাথে কি কথা বললি, বললাম কিছু নারে। স্যার ক্লাস নিতেছে আর আমি মনে মনে ভাবতেছি আজ যে করেই হোক ওর সাথে কথা বলতেই হবে।।

টিফিন হলো এটাই ছিলো তার সাথে কথা বলার একটা সুজোগ কিন্তু ভয় করতেছে অজানা অচেনা একটা মেয়ের সাথে কি কথা বলব। সাহস করে তাকে ডাকলাম সে আমার কাছে এসে বললো কি। বললাম তোমার নাম কি? সে বললো নুসরাত জাহান ইভা। তারপরে সে আমার নাম জানতে চাইলো তখন তাকে আমার নাম বললাম তারপর তাকে বললাম তোমাদের বাড়ি কোথায় সে বললো আমার বাবা সরকারী চাকরি করে আমাদের বাড়ি হলো বগুরা তখন ওকে বললাম ঠিক আছে। ও তার জায়গায় গিয়ে বসলো।

ক্লাস হইতেছে আর আমি মাঝে মাঝে তার দিকে দেখতেছি সে কিন্তু টের পেয়েছিলো আমি তাকে দেখতেছি সে দেখেও না দেখার ভান করে থাকলো। ছুটি হলো আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে দেখতেছি সে আমাদের বাড়ির ওইদিকে যাচ্ছে তখন সাকিবকে বললাম ও কেন আমাদের এই দিকে যাচ্ছে কেন সে বললো ওর বাবা তোদের পাড়ায় বাড়ি ভারা নিয়েছে কথা শুনে কেন জানি মনের মাঝে একটা আনন্দ হতে লাগলো।।

সেদিন সারাদিনটাই তার কথা ভেবেছি মনে হয়েছিলো তাকে প্রথম দেখায় যেন ভালোবেসে ফেলেছি। রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবতে লাগলাম কাল তাকে আমি বলব তাকে আমি অনেক ভালোবাসি।

পরের দিন কলেজ গিয়ে তাকে বললাম কেমন আছো? সে বললো ভালো আছি আরো অনেক কথা হলো আর পরে বললো তুমি কি আমার ভালো বন্ধু হবে আমি বললাম কেন হবো না আজ থেকে আমরা ভালো বন্ধু। আর এদিকে একটা কথা বলতে চেয়েও বলতে পারলাম না। সেদিন ছুটির পর একসাথে বাড়ি যাবার সমায় তার সাথে অনেক কথা বললাম হাসাহাসি তারপর তাকে বললাম তোমার ফোন নাম্বার টা দাও তো সে বললো আমার ফোন নেই, তখন তারমায়ের ফোন নাম্বার দিলো। বাড়ি গিয়ে সন্ধার দিকে তাকে ফোন দিয়ে কথা বললাম আর ভাবতে লাগলাম আমার প্রিয় মানুষটিকে যেন আমি পেয়েই গেলাম।

এভাবে যত দিন যাচ্ছে ওর আর আমার সম্পর্কটা যেন গভির হচ্ছে কিন্তু আমি তাকে এখন ও বলতে পারিনি যে আমি তাকে ভালোবাসি। দিন যেতে যেতে বছরটাই শেষ হয়ে গেলো। আমরা দুজনে একাদশ শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনীতে উঠলাম। কলেজ গিয়ে তার সাথে কথা বলতাম সয়তানি করতাম ইত্যাদি ইত্যাদি।

এভাবে যেন আরো ছয়টি মাস পেরিয়ে গেলো একদিন ভাবলাম এতদিন যা বলতে পারিনি কাল সেই কথাটা বলব তখন তাকে ফোন দেওয়ার জন্য ফোন বের করতেই দেখি সে ফোন দিয়েছে রিসিভ করে তাকে বললাম কাল রাস্তায় আসিও কথা আছে সে বললো আমারো কথা আছে। তখন ভাবতে লাগলাম কালকে নুসরাত ও কি সেই কথাটাই আমাকে বলবে।

পরের দিন সকালে একটা লাল গোলাপ নিয়ে তার জন্য রাস্তায় অপেক্ষায় থাকলাম। সে আসলো আমার ভয় হচ্ছিলো তাকে বলতে পারব তো সে যদি উল্টা পাল্টা কিছু ভেবে নেয় এগুলা ভেবে। তখন সে তার ব্যাগ থেকে কি যেন একটা বের করলো। বের করে ওটা দিয়ে বললো পরশু আমার বিয়ে তোর দাওয়াত রইলো। তখন বুকের ভিতরটা যেন ফেটে যাচ্ছিলো। চোখগুলো লাল হয়ে গেছে। তখন সে বললো তুমি যে কি যেন বলতে চাইলা বলো তখন আমি বললাম কিছু না। তখন সে তার বাড়ি চলে গেলো। চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমি কেঁদে ফেললাম কাঁদতে কাঁদতে তার বাড়ি গেলাম।

কাঁদতে কাঁদতে তার বিয়ের দিনটা চলে আসলো আমি বাড়ির পাশের রাম্তায় দারিয়ে আছি আর তাদের বাড়িতে ধুম ধাম করে বিয়ের উৎসব চলতেছে একটু পরেই দেখলাম রাস্তা দিয়ে গাড়ি আসতেছে আর সেগুলো তার বিয়ের গাড়ি। একে একে সব গাড়ি আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো। আর এদিকে নুসরাত বারবার ফোন দিতেছে কারন আমি তো তার ভাল বন্ধু। ফোন রিসিভ না করে ফোনটা বন্ধ করে বাড়ি গিয়ে শুয়ে পরলাম। পরের দিন সকালে উঠে দেখি সে আর তাদের বাড়িতে নেই সে তার শশুর বাড়িতে আছে।

ভাবতে ভাবতে যেন সকাল হয়ে গেলো আর চোখ দিয়ে জল পরতেছিলো। কিন্ত কিছু করার নেই এটাই বাস্তব সেদিন যদি বলতে পারতাম তাহলে হয়তো আজ তার সাথেই সংসার করতাম।।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত