কাজল

কাজল

ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাব। প্রচুর চেষ্টা মারামারি আর এক যুদ্ধ জয়ের পর একটামাত্র টিকেট পাইলাম। নিজেকে এখন ইডিপাসের রাজা মনে হচ্ছে। থাক বেশি রাজা রাজা ভাব নেওয়া যাবে না… কখন আবার কি হয়?

প্রচুর ধাক্কাধাক্কির পর আমি ট্রেনে আমার নিজ স্থানে বসলাম। এত মানুষের ভীরে নিজেকে একটা ক্ষুদ্র পোকা মনে হচ্ছ। হঠাৎ কোথায় থেকে প্রচুর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন কেউ ঝগড়া করছে। কি জানি।হঠাৎ একটা চিল্লানির আওয়াজ শুনতে পেলাম। মনে হল মেয়ে একটার আওয়াজ পেলাম। কিন্তু মেয়েটার চিল্লানোটা আমার কাছে মধুর মনে হল। নাহ কথা গুলো শুনে মনে হচ্ছে মেয়েটা খুবই মধুর কন্ঠের অধিকারী। এত কিছুর পরেও আমি মেয়েটার চেহারা দেখছি না। প্রচুর ভীড়। আমি অতটা গুরুত্ব দেইনি। কানে একটা হেডফোন গুজে দিয়ে গান শুনতে লাগলাম।

একটু পর দেখলাম হঠাৎ আমার পাশের সিটটায় কেও একজন বসল। একটু ঘাড়টা ঘুরিয়ে দেখলাম। 576 পাওয়ারের লেনসের চোখটা আমার বালিকার কাজলটানা চোখগুলির উপর গিয়ে ফোকাস করছে। এটা কি দেখছি আমি। এত্ত সুন্দর করে কাজল দিতে আমি আমি আর কাওকে দিতে দেখিনি। কি জানি হয়তবা দেয়। আমি খেয়াল করিনি। এই মুহুর্তে আমার সমস্ত ধ্যানধারণা সব এই বালিকার কাজল টানা চোখদুটির উপর কেন্দ্রীভুত হচ্ছে… একটা অজানা আকর্ষণ কাজ করছে আমার মনে। মনে হচ্ছে যেন বালিকার এই কাজল টানা চোখের উপর স্থির দৃষ্টি রেখে আমি সারাটা জীবন পার করে দিতে পারব।

বালিকা বোধহয় বুঝতে পেরেছিল তাই আমার দিকে এক ক্ষীণ দৃষ্টিতে একটি লাল টমেটোর মতন গাল লাল করে তাকাল আর এতে কাজল টানা চোখ গুলি আরো টান খেয়েছে। উফফ…  কি মায়াবি এক মন কাড়া দৃশ্য। মনে হচ্ছে যেন চারপাশের সব পরিবেশ স্লো মোশন হয়ে গেছে… সময়ের মন্দন ঘটছে আর আশে পাশের মানুষগুলির ধীরে ধীরে বিলুপ্তি ঘটছে, যেন এক সময় এই পুরো এলাকাতে আমি আর বালিকাই অবস্থান করিছি। আর এই প্রতিটা মুহুর্তে বালিকার সেই কাজল টানা টানা চোখজোড়া যেন আমার বাম অলিন্দের উপর গিয়ে হৃদয় খুলবার জন্য নক করছে। কি এক ভয়াভয় অবস্থা। হঠাৎ আমার হৃদয়ের মধ্যেখানে যেন এক বিলুপ্তির অবকাশ…

-ঐ আপনি এইভাবে তাকাই আছেন কেন?
-…
-ঐ ঐ কথা কানে যায় না আপনার ?
-ও হ্যাঁ আসলে মানে আমি…
-এদিকে তাকায় আছেন কেন? একটা দিলে না পরে বুঝবেন….হুহ
কি মেয়েরে বাবা। একটা অচেনা ছেলেকে মারার কথা বলছে। সাহস আছে মেয়েটার।
-নাহ আসলে সরি… বুঝিনি।
-কি সরি হ্যাঁ? এভাবে একটা মেয়ের দিকে তাকায় আছেন কেন। লজ্জা করে না ?
-আরে বললাম তো সরি।
-ওকে।

কি ডেন্জেরাস মেয়েরে বাবা। একটু তাকালাম তাতেই এই অবস্থা? আজীবন যদি তাকাতে হয়… আরে আজীবন তাকানোর সুযোগ দিলেতো। আল্লাহহহ

অনেক্ষণ ধরে বসে আছি পাশাপাশি। মাঝে মাঝেই আমি ওর কাজল টানা চোখগুলির দিকে তাকাচ্ছি। আসলে তাকানোর লোভ সামলাতে পারছি না তাই বারবার তাকাচ্ছি। দেখলাম বালিকাও আমার দিকে সেই ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। আমি তাকালে বালিকা তাকায় না, আবার বালিকা তাকালে আমি মাথা নিচু করে ফেলছি। ট্রেন তার আপন গতিতে বাধাহীন ভাবে চলছে। হঠাৎ এক পর্যায়ে আমি আর বালিকা একিসাথে দুজন দুজনার দিকে তাকালাম। একটা আকর্ষণ বোধ করলাম।আবার ভাবলাম হয়ত বালিকা এবার আমাকে হয়ত মেরেই ফেলবে যেই ভাবে তাকাইছে। আমি একটা চড় খাওয়ার জন্য চোখমুখ জোড়ে চেপে ধরে আছি। মনে করিতেছি এই বুঝি দিল রে… এই বুঝি দিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখলাম বালিকা আমার পাশে সিটে নেই। কেমন যেন একটা চাপ অনুভব করলাম মনে… বালিকা নেই? আমার কাজল বরন আখিওয়ালা বালিকা নেই? কি করব আমি এখন। একটু খোঁজার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ দেখি বালিকা আমার সামনের সিটে বসে মুচকি মুচকি হাসছে। বালিকা? এত্ত হাস কেন? তোমার ঐ হাসি দেইখা তো খাঁচার ভিতর বন্দি পাখিটা বের হয়ে আসতে চাইছে। এই মায়াভরা রহস্যময় মুচকি হাসির রহস্য যে আমার মত সোজাসাপটা ছেলের বোঝা মুশকিল বালিকা তা বোধহয় যানে।তাইতো এরকম করে আমাকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করছে।

-হাহাহাহা (বালিকা)
-হাসছেন যে… (আমি)
-আপনার কার্যকলাপ দেখে
-ও আচ্ছা (মাথা নিচু করে )
-এই দেখুন আপনার দেখতে কষ্ট হচ্ছে তাই কষ্ট কমিয়ে দিছি। আমি আপনার সামনে বসেছি। হিহি। আর দেখতে কষ্ট করতে হবে নাহ ।
-আসলে মানে আমি…
-এত তোতলাচ্ছেন ক।।?
-নাহ এমনি।
-আচ্ছা আপনি কি সব মেয়েদের দিকে এইভাবে তাকান? হিহিহিহিহি
-নাহ তো।
-হিহিই। মিথ্যে বলেন কেন? আমি জানি আপনি কেরকম।
-সত্যিই আমি ঐরকম নই। আসলে…
-হুম আমি জানি। আর বলতে হবে নাহ।
-আপনি কি জানেন?
-যেটা আপনি জানেন কিন্তু আপনি মনে করেন আমি জানি না। কিন্তু আমি জানি। কিন্তু আমি যেটা যানি সেটা আপনি জানেন না। হিহিহি
-একটু কেশে। থামেন থামেন। মাথা ঘুরাচ্ছে।
-হিহি। আস্তে আসতে সব জানবেন।
-ও আচ্ছা। আপনার নামটা জানতে পারি ?
-হুম অবশ্যই। প্রিয়ন্তি। আপনার?
-আমার নাম খালিদ। কি করেন?
-অনার্স ২য় বর্ষ। আপনি নিশ্চয়ই চাকরি করেন?
-বুঝলেন কি করে?
-এমনিতেই হিহি।

এভাবেই চলছিল আমাদের কথা। মেয়েটা ভীষন মিশুক। এইভাবেই দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নেমে আসল। হঠাৎ প্রচন্ড এক ধাক্কা। সবকিছু উলটপালট হয়ে গেল। বুঝলাম ট্রেন এর লাইনচ্যুত হয়েছে। অনেক্ষণ ধরে বসে আছি আমরা। কিন্তু মনে হচ্ছে এই ট্রেন আর ঠিক হবে না। কিন্তু বাড়িতেও তো যেতে হবে তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ট্রেন ছেড়ে অন্য ব্যাবস্থায় যাব। ব্যাগটা নিয়ে নেমে পরলাম। প্রিয়ন্তিও আমার সাথে হাঁটছে। হাঁটছি আমরা।অনেক অন্ধকার এই এলাকাটা। একটি গ্রাম বলা যায়। কোন আলো নেই। আমরা দুপাশে ঘনগাছপালার মধ্যে হেঁটে চলেছি।

-কোথায় যাবেন আপনি ? (আমি)
-যেখানে আপনি যাবেন।
-ঠিক বুঝলাম না আমি
-সময় হলেই বুঝবেন। হিহি

এই মুহুর্তে বালিকার হাসিটা আমার কাছে মনে হচ্ছে ঘন ধানখেতের উপর দিয়ে বয়ে চলা সেই বাতাসের মত।

-আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
-হ্যাঁ করেন…
-আপনি এত সুন্দর করে কাজল কিভাবে দেন? একটু বলবেন? আসলে আমি যেভাবে চাই ঠিক সেভাবে আপনি কাজলটা পরেছেন তো… তাই।
-ও এটা হিহিহি। ধরে নেন আমি জানি আপনি কিভাবে পছন্দ করেন তাই এভাবে পরেছি।
-আমি না আপনার এই কথাগুলি কিছুই বুঝতে পারছি না।
-এত ধৈর্যহারা হলে তো হবে না। সব বুঝবেন হিহিহিহিহি
-হুমম।

আমরা হাঁটছি এই অজানার উদ্দেশ্যে। সত্যি বলতে আমরা পথ হারাই ফেলছি। একটা কোন বাজার বাড়ি বা কাওকে খুঁজছি যাতে জিজ্ঞেস করতে পারি এখানে থেকে বের হবার রাস্তা ঠিক কোন দিকে। নাহ পেলাম না।অনেক্ষণ ধরে হাঁটার পর একটা পুরোনো দোকান পেলাম। এত রাতেও দোকানটা খোলা দেখে একটু অবাকি হলাম। যাকগে। গিয়ে জিজ্ঞেস করি…

-চাচা এখানে বড় রাস্তাটা ঠিক কোন দিকে ?
-এখান থেকে প্রায় ১ কিমি দূরে।
-আচ্ছা চাচা।
কি বলে।এতদুরে যাওয়া অসম্ভব। হাফিয়ে ও গিয়েছি। তাই একটু বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
-শুনেন। বড় রাস্তায় যেতে আরো ১কিমি পথ আরো। (আমি)
-কিইই??? আমি পারব না হাঁটতে।
-আমিও না। কিন্তু যেতে তো হবে, তাই না?
-নাহ। আমি যাব না।
-তাহলে কি করা যায়? হ্যাঁ বিশ্রাম নেওয়া যায়। কিন্তু…
-আবার কি কিন্তু?
-এখানেতো কোন হোটেল বা কোন বাড়ি নেই।
-ঐ এ গাছতলা আছে? ঐটাই চলবে। আমি যাস্ট একটু ঘুমাবোও।
-বুঝছিতোওও। এত চিললানোর কি আছে তাতে?
-আমার ঘুম পাইছে।

নাহ। বালিকার অবস্থা দেখে মায়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে বালিকা এখানেই ঘুমে ঢলে পরে যাবে। নাহ আমারো ঘুম পাচ্ছে। বালিকাকে নিয়ে চলে এলাম রাস্তার পাশে একটা বিরাট বট গাছের নিচে। বসতেই এক ঘুমের ঘোরে চলে গেল। হঠাৎ আমার চোখ পরল ওর মুখের উপর। উপরের আকাশের মেঘের মধ্যে নিজেকে আচ্ছাদিত করে রাখা চাঁদের একফালি আলো এসে পড়ছিল প্রিয়ন্তির মুখের উপর। ওকে অনেকটা নিষ্পাপ শিশুর মত মনে হচ্ছিল। আর এই আলো প্রিয়ন্তির মুখটা আরো উজ্জ্বল করে ফেলেছে আর তাই প্রিয়ন্তির কাজলটানা চোখগুলি যেন আমার চোখে আরো সুন্দর হয়ে ভেসে উঠেছে। আমার কেন জানি অন্য রকম একটা অনুভুতি হতে লাগল। আমি ওর ডানপাশে ঘুমিয়ে পরেছি। জানি না কেন এই সময়ে আমার ঘুমটা অনেক আরামের মনে হচ্ছে। আমি ঘুমিয়ে পরেছি।

বেশ কিছুক্ষণ পর আমি আমার বাম কাঁধে একটু ভারি কিছু অনুভব করলাম। নাহ দেখতে হয় সেটা কি। চোখ মেলে দেখলাম বালিকা আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে। ও বোধহয় ঘুমানোর আগে চুলগুলো খুলে দিয়েছিল।তাই দেখলাম কাঁধে মাথা রাখার ফলে তার সেই চুলগুলো বামপাশের কাজল মাখা চোখটি আর তার নরম গালগুলো আবৃত করে রেখেছে।সম্পুর্ন মুখের অর্ধেক মুখই ছিল তার চুল দিয়ে ডাকা।তাই আমি অপর পাশের মুখের অংশটি দেখতে পাইনি। প্রিয়ন্তিকে একবারে একটি ছোট্ট মেয়ের মত লাগছে। আমার কেমন জানি লাগছে… আমি নিজেকে আটকাতে পারছিলাম না। ইচ্ছে হচ্ছিল একটু ভালবাসার স্পর্শ একে দেই প্রিয়ন্তির কপালে। নিজেকে আটকাতে পারলাম না। নিজেকে একটু সরিয়ে আমি মুখটা প্রিয়ন্তির খুব কাছে নিয়ে এসেছি।এখন আমি ওর প্রতিটি নিশ্বাস খুব কাছ থেকে পাচ্ছিলাম। একটা ঘুমন্ত বালিকা কতটা সুন্দর হতে পারে তা হয়ত ঐ অবস্থায় থাকা কোন বালক খুব সুন্দর করে বলতে পারবে। আমি ওর কপালে ভালবাসার পরশ দিয়ে দিয়েছি।খুব সুন্দর লাগছে ওকে।

কিন্তু হঠাৎ করেই আমার কেমন জানি লাগল। মনে হচ্ছে আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। হ্যাঁ আমি ভুল করছি। আমি ওর প্রেমে পরেছি আর এমন একটা অচেনা মেয়ের সাথে আমি ছিহ। খুব খারাপ লাগছে আমার। আমি কি করব এখন ?আমি উকে মুখ দেখাতে পারব না। চলে যাব? কিন্তু ওকে একা রেখে? নাহ কিছুই ভাবতে পারছি না। ওর সামনে মুখ দেখাতে পারব না আমি। হয়ত এটা জানার পর মেয়েটা আমাকে খারাপ ভাববে।অনেক ভাবার পর একটা সিদ্ধান্ত নিলাম নাহ চলে যাব। একা রেখেই। ব্যাগ থেকে একটা কাগজ কলম বের করলাম আর লিখলাম…

মিস প্রিয়ন্তি,
এই নামটা ডাকার অধিকার আমার নেই। জানি অধিকারটা কোন দিনও পাব না। জানো, তোমাকে প্রথম দেখাতেই আমার কেমন জানি হচ্ছিল। তোমার দু’চোখ ভরে কাজল দেওয়াটা আমার মনে ধরে গিয়েছিল। জানো আমি যেভাবে কাজল দিতে পছন্দ করি তুমি ঠিক সেভাবেই দিয়েছ। জানি না এত মিল কোথায়। একটা অজানা অচেনা ছেলের সাথে তুমি এতটুকু এসেছ নিশ্চয়ই তোমার মনে আমার প্রতি বিশ্বাস নিয়ে। কিন্তু আমি? আমি সেই বিশ্বাসটা রাখতে পারলাম না। একটা ভুল করে ফেলেছি। জানি তুমি জানতে পারলে আমাকে কোনদিন ক্ষমা করবে না। তাই রাতের অন্ধকারেই আমি চলে যাচ্ছি। ভাল থেক। আর আমাদের মাঝে দেখা হবে নাহ। তাই এতটুকু বিশ্বাসটা রেখ যে আমি কোন খারাপ ছেলে নই। বাই ভাল থেক।

চিঠিটা উর পায়ের কাছে রেখে দিলাম। আমি উঠে পরলা। আমার চোখের সামনে প্রিয়ন্তির কাজলভরা চোখগুলি ভেসে উঠছিল। আমি খেয়াল করলাম আমার চোখের কোনায় একটু জল। হয়ত এ জল এই স্বল্পসময়ে গড়ে উঠা প্রেমের বিচ্ছিন্ন হবার জন্য ।আমি একপা দুপা করে পিছনে আসলাম আর হাঁটা দিলাম। আমি হাঁটছি। অনেক হাটছি। যতই হাঁটছি ততই যেন পিছিয়ে পরছি। মনে হচ্ছে প্রিয়ন্তির কাছে চলে যাচ্ছিলাম। অনেক্ষন পর বড় রাস্তার মোড়ে চলে এসেছি। তখন কিছুটা ভোর হতে শুরু করেছে। একটা বাস পেলাম তারপর বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়ির এসে সবার সাথে ভালই কাটছিল আমার দিন কিন্তু কোথায় যেন একটি ব্যাথা রয়ে গিয়েছিল।কিছুতেই সে ব্যাথাটা সরাতে পারছিলামনা। এভাবেই ঈদ ও চলে গেল।

-এই শোন আজকে তোর বৌ আসতিছে (আপু)
আকাশ থেকে পরলাম। বৌ আসতিছে মানে।পাগল নাকি।কি বলতিছে।নাকি আমিই ভুল শুনলাম।
-কি বললা আপু বুঝিনাই।আবার বলত।
-বললাম আজকে তোর বৌ আসতিছে
-হাহাহা
-পাগলের মত হাসছিস কেন?
-হাসছি কারন তুমি কি উল্টাপালটা বলছ। তাই পাগলতো তুমি হইছ।
-বিশ্বাস করছিস নাহতো?
-কি বিশ্বাস এর কথা বলছ?
-দেখতে পারবি…

আপু এইটা বলেই চলে গেল… আর কি উল্টাপাল্টা বলে গেল। আমি পাত্তা দিলামনা। শুয়ে শুয়ে বই পরছিলাম। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ আমার উপর এক পশলা বৃষ্টি। কিন্তু এখন বৃষ্টি কোথা থেকে আসবে বুঝলা না।রাগটা উঠে গেল। বইটা সরিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার রাগটা পানির মত গলে গেল দেখলাম এক বালিকা আমার দিকে রাগে দগ্ধ হয়ে তাকাই আছে, আর মনে হচ্ছে যেকোনো সময় আমাকে আস্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। একটু ভালভাবে দেখার পর বুঝলাম – এটাতো প্রিয়ন্তি?

-লজ্জা করে না ঐ পরিবেশে একা তোর বৌকে রেখে আসতে?
-আসলে আমি মানে আমি…
-এক ঘুষিতে নাক ফাটাই দিব। নাহ নাক ফাটালে আবার আমাকেই লজ্জা পেতে হবে সবার সামনে।
-আচ্ছা সরি। আসলে সেদিন অপরাধ করেছিলাম তাই চলে আসছি।
-হিহিহি। আমি জানি। আমি তখন দেখছিলাম সবববব।
-কিহহহ। কিন্তু কিছু বলনি কেন?
-এমনিই। আর বরকে বউ কিছু বলে নাকি?
-এই এই আমি তোমার কিসের বর? বিয়ে করলাম কবে? আর এখানেই বা তুমি আসলা কিভাবে?
-হিহিহি

হেসেই দৌড়ে চলে গেল। আমি তাকিয়ে রইলাম।নিচে আসলাম। দেখি অনেক মানুষ বসে। আছে একটা চিড়িয়াখানার নতুন প্রানি আগমনের ন্যায় আমি আসলাম আর তারা তাকিয়ে ছিল।

-এই হল তোর রফিক কাকু যার মেয়ের সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
-কিন্তু আম্মু আমাকে না বলেই। আর উনার মেয়েকেতো চিনিই না।
-সারারাত আমার সাথে থেকে এখন আমাকে চিনেনা। দেখছ আম্মু। (প্রিয়ন্তি)
-ঐ তুমি আমার আম্মুকে আম্মু বলে ডাকছে কেন?
-ওমা! আমার আম্মুকে আমি আম্মু ডাকছি তো কি হইছে।
সবাই হেসে উঠল
-আম্মু আমি কিছুই বুঝলাম না।
-এই প্রিয়ন্তির সাথেই তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
-কিভাবে মানে?
-পরে জানতে পারবি (আপু)

সেদিন রাতেই আমার আর প্রিয়ন্তির বিয়েটা হয়ে গেল। আসলে প্রিয়ন্তির মা নেই। আর ওর বাবা কিছুদিন পর আবার বিদেশ চলে যাবে। তাই তিনি মেয়েকে কোথাও বিয়ে দিতে চেয়েছিল।

বাসরঘরে… 

আমি বসে আছি প্রিয়ন্তির সামনে। একটা লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে মেয়েটা। আমি ঘোমটাটা খুললাম।দেখলাম সেই কাজলটান চোখ। আজকের আরো সুন্দর লাগছে।

-কি দেখছেন?
-তোমাকে।
-হুহু আর দেখা লাগবে না।এইভাবে দেখবা না। তাহলে আমার রাগটা কমে যাবে।
-রাগ? কিসের রাগ?
-সেদিনের রাগ। আসলে তোমার আমার বিয়েটা অনেক আগেই ঠিক হয়েছিল, কিন্তু তোমাকে জানাতে আমিই মানা করেছিলাম। আর শুনলাম তুমি অনেক ভদ্র। তাই একটু পরীক্ষা করতে চেয়েছেলাম। আর ট্রেনের পাশে বসা… তোমার পছন্দের মত কাজল দেওয়া সব এই প্লানের অংশ। হিহিহি আর বিশ্বাস টা মিঃ আগেও ছিল এখনো াছে।
-আরে বাপরে। তা আমি পরীক্ষায় কি পাশ?
-হিমম নাহ।
-কেন ?
-একবারো আমার কাজলের কথা বলনি

আমি উর কাছে গিয়ে কাজলা আঁকা চোখের উপর চুমু দিলাম। আর ডান হাতটা আমার ডানহাতের সাথে আটকে ধরেছি। আর তখন গল্পে ধারণ কৃত দৃশ্যতে দেখা যায় একটা সুন্দর মেঘে ঢাকা চাঁদ…

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত