সুখ

সুখ

অনেকক্ষণ থেকে রুদ্রের মোবাইলের রিংটোন বাজছে। কল রিসিভ করার মতো সময় পাচ্ছেনা। দোকানে প্রচুর কাজের ঝামেলা।

তবুও একটু সময় বের করে কল রিসিভ করতেই, ওপাশ থেকে একটা কর্কশ গলার আওয়াজ। নন্দিনীর কল দিয়েছে।

– কল রিসিভ করতে কী এত সময় লাগে?
– আরে কাজে ছিলাম তো।
– আমি কল দিলে তো কাজ থাকবেই। অন্য কেউ দিলে তো সাথে সাথেই রিসিভ করতে।
– ইশ্ ভাল্লাগেনা, কল রিসিভ করলেই এই একটা ঝামেলা।
– হুম, আমি কল দিলে তো ঝামেলা হবেই।
– আরে বাবা, তুমি একটু বুঝার চেস্টা করো। দোকানে ঝামেলা থাকার কারণে কল রিসিভ করতে একটু দেরী হয়েছে।
– বুঝি আমি সব বুঝি, আমি তো আর বোকা নই।
– হ্যাঁ, তুমি বোকা নও। তুমি অনেক চালাক। চালাকের কি কাজ করলে তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
– বলবেই তো, অন্য কারো সাথে কথা সময় যদি ভালো লাগে। তাহলে আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগবে কী করে?

– তুমি সব সময়ই একটা না একটা ঝামেলা নিয়ে আমার সাথে লেগেই আছো।
– আমি কী আর সাধে ঝগড়া করি, আমার কল রিসিভ করোনি বলেই তো বলছি।
– আমি তো বার বার বললাম, আমি দোকানে ব্যস্ত ছিলাম।
– আচ্ছা এগুলো বাদ দাও। আর শুন, মেয়ের জন্য আসার সময় আইসক্রিম নিয়ে এসো।
– আর কিছু।
– আর কিছু লাগবেনা।
– তোমার জন্য কিছু লাগবে।
– না আমার জন্য কিছু লাগবেনা। এখন যদি বলি আমার জন্য কিছু এসো, তাহলে বলবা, আমার পিছনে তোমার সব টাকা খরচ হয়ে যায়। খোঁচা দেওয়ার সময় তো আর ছেড়ে কথা বল না।
– তোমরা স্ত্রী জাতিদের এই একটাই সমস্যা। কাজ না করে তোমাকে সময় দিলে বলবা, সারাদিন প্রেম দেখালে চলবে, একটু কাজ টাজ কিছু করো।

আর কাজ করলে বলবা, এখন তো আমাকে আর সময় দিতে পারবানা,কাজে খুব ব্যস্ততা দেখাছো আমি তো পুরাতন হয়ে গেছি।

– তুমি কি আমাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলছো নাকি।
– তোমাকে খোঁচা দিয়ে কী আমি বাঁচতে পারবো। আচ্ছা ঠিক আছে এখন কল রাখি। আসার সময় তেতুল আচার নিয়ে আসবো।
– আচ্চা।
গম্ভীর গলায় বললো নন্দিনী। রুদ্র জানে নন্দিনীর এই তেতুল আচারের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা কাজ করে।
ঝগড়ার সমাধান হিসাবে তেতুল আচার ব্যবহার করে।

দুইতিন বার কলিংবেল চেপেছে রুদ্র, কিন্তু দরজা খোলার কোনো নাম গন্ধ নাই।
মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করছে। কোনো দুর্ঘটনা হলো কিনা।
চিন্তার ব্যাঘাত ঘটিয়ে দরজা খোলে দিলো নন্দিনী।
রুদ্র বললো- কী ব্যাপার এতক্ষণ লাগে কেন দরজা খুলতে?
– তোমার মেয়েকে সাজাচ্ছিলাম তাই দেরী হয়েছে, তোমার মেয়েকে এত সুন্দর লাগছিলো। পুরাই একটা ভূত।
নন্দিনীর ঠোঁটের কোণে হাসি, যা রুদ্রের হৃদয়কে ঘায়েল করার জন্যই যথেষ্ট।
নন্দিনীর দুর্বলতা তেতুল আচার, আর রুদ্রের দুর্বলতা নন্দিনীর ঠোঁটের কোণোর হাসি।
নন্দিনীকে দরজা দেরীতে খোলার জন্য কিছু বলার ইচ্ছে করছিলো রুদ্র’র। কিন্তু নন্দিনীর হাসিমাখা মুখটা দেখে আর কিছু বলতে ইচ্ছে করেনা।

নন্দিনীকে ঢেলে অনুরাধা এসে বাবাকে জাপটে ধরে চিৎকার বললো- বাবা বাবা আমার আইসক্রিম।
ব্যাগ থেকে আইসক্রিম বের করে অনুরাধার হাতে দিলো।
– বাবা দেখতো আমাকে কেমন লাগছে।
– আমার রাজকন্যাকে রাজকন্যার মতোই লাগছিলো।
– মা বলে আমাকে নাকি ভূতের মতো লাগে।
– তোমার মা একটা ভূউউ….. রুদ্র কথাটা শেষ করতে পারেনি, তাঁর আগেই নন্দিনী বললো কী বললা।
রুদ্র জ্বিহ্বায় কামড় দিয়ে বললো- না না আমি কিচ্ছু বলিনি।
রুদ্রের বিব্রত অবস্থা দেখে নন্দিনী হেসে ফেললো।
বিছানা থেকে উঠে এসে রুদ্রের মা বললেন- কীরে বেটা এতক্ষণ লাগে বাজার থেকে আসতে?
– মা একটু কাজ ছিলো, তাই দেরী হয়েছে।
– কাজের চাপে থাকলে কী আর আমাদের কথা মনে থাকে। যা হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে যা।
– মা তোমার ঔষধ খেয়েছ।
– হ্যাঁ রে, বউমা খাইয়ে দিয়েছে। এসব নিয়ে তর চিন্তা করতে হবেনা।
বলেই হাসিমুখে উনি উনার রুমে চলে গেলেন।
বেঁচে থাকার জন্য আর কি চাই, এই হাসিমাখা মুখগুলোই যথেষ্ট।

একজন মানুষ সারাদিন গাধার মতো কাজ করে বাসায় এসে তাঁর প্রিয় মানুষগুলোর মুখে যদি হাসি দেখতে পায়, তাহলে তাঁর সারাদিনের কষ্ট’টা ভুলে শুধু হাসিটুকু নিয়ে বাঁচতে পারে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত