অবেলায় নীল শাড়িতে অপ্সরী তুমি

অবেলায় নীল শাড়িতে অপ্সরী তুমি

নিধি ও ইভান একে অপরকে চিনে প্রায় অনেক দিন ধরে ,শুধু চিনেই না খুব ভালো করেও জানে ।
আজ তাদের দ্বিতীয় বার দেখা হচ্ছে ,তবে প্রথমবার ভুল সময়ে দেখা হয়েছিল ইভানের ইচ্ছের বিরোদ্ধে ।

তাদের পরিচয় হয়েছিল কোন এক অবেলায় তাও আবার ফেসবুকের মাধ্যমে, ইভান নিউজফিড ঘুরছিল আর এছাড়া তার কোন কাজ ও নেই আর তখনই নিধির রিকোয়েস্ট আসে। সেটা ইভানের চোখে পড়লেও নিজেকে নিজে বলছিল এমনতো কত রিকোয়েস্ট আছে থাকুক পড়ে। কিন্তু প্রায়ই ইভানের লেখা গল্পে মেয়েটা কমেন্ট করতো ,ইভানের চোখে কয়েকদিন পড়েছিলো তখন রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে নেয়।

ফেসবুকে সহজে কারো বন্ধু টিকে না আর টিকবেই বা কি করে জোকার মামা আছে তো যে আড় পেতে বসে থাকে কখন কাকে ধরে গিলবে। ঠিক তেমনই কদিন পর পরই ইভানের আইডি নষ্ট করে দিতো জোকার মামা,কিন্তু রিপোর্ট কে মারে সে নিজেও জানতো না। কিন্তু প্রতি আইডিতে নিধির রিকোয়েস্ট আসতো কিন্তু মেয়েটার সাথে কমেন্টে ছাড়া কখনো কথা হয় নি, তবে মেয়েটা আমার পিছু লেগেছে কেনো তাকে ভাবাতো ইভান।

তবে ইভান গল্প লিখতে ভালোবাসতো আর সে কারনেই হয়তো নিধি রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল। ইদানিং সবকিছুতে কমেন্ট করছে, ইভান ও তার কমেন্টের জন্য ছন্দ কবিতা নিজ আইডিতে দেয়া আরো বাড়িয়ে দেয়। কারন ইভান চেয়েছলি নিধি নিজ থেকে তাকে ম্যাসেজ দেক। অপেক্ষায় ছিলো কখন ম্যাসেজ দিবে।

কিন্তু সে ম্যাসেজ আর দেয় না আর ইভান ও পুরো অন্যরকম সে ও ম্যাসেজ দেয়ার ছেলে নয় কারন তার কাছে তার ইগো বড় ছিলো। দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিল ইভানের কিন্তু হঠাৎ নিধি আর কমেন্ট করছে না ,যা তার কাছ একটু খারাপ লাগছিলো, তখন থেকে সারাক্ষন নিধির আইডি তে ঘুরাঘুরি করতো, কখন একটিব কখন কি করছে। ইভান সহজে কারো সাথে কথা বলে না হোক সে মেয়ে, ইভানকে কোন মেয়ে ম্যাসেজ দিলে বোন বলে ক্ষনিকের মধ্যে সমাপ্তি দিয়ে দেয়।
মেয়েদের প্রতি ততটা টান ও নেই তার তবে নিধিকে নিয়ে এতো ভাবছে কেন, সে প্রশ্ন তাকে সারাক্ষন ভাবায়।

হয়তো পছন্দ করে ফেলেছে নিধিকে!

নিধিও তো পারে আমাকে একটা ম্যাসেজ দিতে একা একাই বলতো ইভান। হঠাৎ নিধির আইডিতে ইভানকে উদ্দেশ্য করে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয় । ইভানের নিক নেম দিয়ে পাশে ভালবাসার ইমোজি দিয়েছিল। আর তখন থেকে ইভানকে আরো আসক্ত করে নিধি আইডিতে ঘুরতে কিন্তু ম্যাসেজ দিতো না কেউ কাউকে। তার মাঝে ইভানের আবারো আইডি খেয়ে দেয় জোকার। তবে এবার রাগ হচ্ছিল ইভানের কারন এই নিয়ে কত আইডি খেয়েছে সে নিজেও জানে না আর নিধিকে ভেবে রাগ হচ্ছিল এবার কি সে রিকোয়েস্ট পাঠাবে নাকি কে জানে।

কয়েক ঘন্টা পর নতুন আইডিতে নিধির রিকোয়েস্ট, ইভানের ও বুঝে যায় নিধি ও সারাদিন তাকে ফলো করে তাই এবার আর ইগো না দেখিয়ে নিধিকে ম্যাসেজ দেয় –

– হাই!
– ও মা এ দেখি ভাব সাহেব ম্যাসেজ দিয়েছে তাও আবার এই নিধিকে।
– ভাবের কি হলো আচ্ছা আর ম্যাসেজ দিবো না।
– না না না ম্যাসেজ প্রতিদিন দিতে হবে।
– প্রতিদিন দিবো কেনো?
– আমি বলেছি তাই।
– আপনার কথা আমি শুনবো কেনো?
– কারন আপনি অপরাধ করেছেন তাই শুনবেন।

ইভান ম্যাসেজ দিয়ে কোন মুসকিলে পরলো নাতো ভাবছে তার মাঝে আবার ম্যাসেজ আসে-

-কি ভাবছেন?
-কৈ কিছু নাতো?
-সে যাই হোক প্রতিদিন আমাকে ম্যাসেজ দিবেন আর ভাব আমার সাথে নিবেন না মনে থাকে যেনো।
-আচ্ছা ম্যাসেজ দেয়ার একটা কারন বলেন তবেই ম্যাসেজ দিবো ।

ইভান হাসির ইমোজি পাঠিয়েছিল সাথে ।

-হাসার কি হলো, বেক্কেলের মত হাসবে না যা বলেছি তা করবেন আর এখন আমি গেলাম তবে আমাকে একটিভ দেখা মাত্র ম্যাসেজ দিবেন, না হয় খবর আছে আর কোন মেয়ের দিক ও তাকাবেন না মনে থাকে যেনো ।

নিধির কথা শুনে ইভান ভাবছিলো একি আমার বিয়ে করা বউ আর আমি ও চুপচাপ হ্যাঁ বলে দিলাম । ইভান বুঝে যায় নিধি তাকে পছন্দ করে তবে ইভান ও কম পছন্দ করে না, না হয়কি নিধিকে ভেবে কবিতা ছন্দ আর গল্প লিখতো ।
দুজনের প্রতি দুজনের টান আরো বেড়ে যায়, যখনই ফেসবুকে আসবে তখনই দুজন ম্যাসেন্জারে বন্দি ।

কমেন্ট থেকে ইনবক্স তাও অনেক কষ্টের পর ,জোকার এদিক দিয়ে একটা উপকার করেছে না হয় কখনো ম্যাসেজ দেয়া হতো কি ইভান নিজে নিজে ভেবেই হাস্সে ।

সারাদিন দুজন কথা বলতো তবে সে কথা একসময় ফোন অব্ধি চলে যায় । তার মাঝে একবার দেখা ও হয়ে যায় দুজনের তবে নিধি ইচ্ছে করেই সেদিন ইভানের পথে এসেছিল । নিধি একসময় ইভানের সব কিছু জানতে পারে আর কখন কোথায় আড্ডা দিতো সে ও জানা হয়ে গেছিলো তাই নিধি ইচ্ছে করে সেদিন ইভানের পথে এসে ইভানকে থমকে দিয়েছিল, সে দেখাতেই ইভান নিধির প্রেমে পরে যায় ।

ছবিতে যতটা না সুন্দর বাস্তবে তার চাইতেও বেশি সুন্দর ছিলো নিধি । অনেকক্ষন তাদের কথা হয়েছিল সেদিন এক সময় বিধায় দেয় দুজনই, ইভানের বন্ধুরাও সেদিন ইভানকে নিয়ে কম মজা নেয় নি তবুও ইভান কিছু বলে নি কারন প্রেমের ভূত ইভানের উপর আচড় করেছিল সে বুঝতে পারছে । আর সে দেখা থেকেই শুরু হয় ইভানের জীবনের নতুন করে চলা ,ইভান একটু বেশিই খেয়াল রাখছে নিধির ,তা নিধি ও বুঝতো আর নিধি তো তাই চেয়েছিলো কারন নিধি তো তাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতো !

ইভান গল্প লিখতো কারন তার নেশা এটা, নিধি ও ইভানের পাঠিকা ছিলো। নিধি শুধু গল্পের পাঠিকা ছিলো না , হয়তো তার মনের পাঠিকা ও ছিলো । খুব ভালো যাচ্ছিল দুজনের । কথা ও আগের থেকে একটু অন্যরকম হতে চলছিল । দুজন দুজনের ভালো লাগা কে প্রাধান্য দিচ্ছে , তবে নিধি রাত জাগা পছন্দ করতো না , তাই ইভানের ফেসবুক থেকে ১১টায় বের হয়ে যেতে হতো যদিও সে ২টার আগে ঘুমাতো না ।

খুব ভালো যাচ্ছিল তাদের, দুজন দুজনকে ছাড়া একটা দিন যাবে না সে পর্যায়ে চলে যায় তবে কেউ কাউকে কিছু বলে না । এক বছরের ও কাছাকাছি হয়ে যাবে তাদের এ রকম অবস্থা চলছে তবে কি তারা ইগু নিয়ে থাকবে।

হঠাৎ একদিন ইভানকে রাত ১২টার পর ফোন দেয় নিধি , ইভান প্রথমে অবাক কারন নিধি তো এত রাতে জেগে থাকেনা তবুও ফোনটা তুলে লাস্ট সময়ে

-হ্যালো ইভান !
-হ্যা বলো?
-রাত জাগতে মানা করিনি?
-সে তুমি জেগে আছো বলে আমি ও আছি হাহাহা।
-হয়েছে মিথ্যাবাদী
-মোটেও মিথ্যাবাদী নই
-হয়েছে হয়েছে আজ আমাদের কি মনে আছে?
-আজ আবার কি?
-তোমার সাথে কথা বলাই ভুল ছিলো আমার
-সরি মনে নাই তো,কি আজকে
-আজ আমাদের জন্মদিন
-কই নাতো আমার তো আরো দুমাস পর জন্মদিন।
-আরে গাধা আজ আমাদের কথা বলার একবছর পূর্ন হলো ।
-কি বলো সত্যি ।
-হ্যা তবে এই দিনটাকে একটু বিশেষ করে রাখতে চাই ।
-কিভাবে শুনি
-এখন না , আজ বিকালে সরাসরি বলবো ।
-আচ্ছা । এখন ঘুমাও
-তুমিও ঘুমাও রাত জাগতে মানা করেছি ।

এই বলে দুজন ফোন রেখে দিলেও ইভান শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি কারন নিধি কি বলবে সে চিন্তাই করছিলো।
যাইহোক পরদিন কথামত তারা দেখা করে।

নিধি নীল শাড়ি পড়ে আসছে কিন্তু ইভান অগুছালো কবির ভাব নিয়ে ময়লা টি-শার্ট পড়ে আসছে । সেদিনও এই টি শার্ট টা পড়া ছিলো ইভানের । নিধির খুব রাগ হচ্ছিলো তার উপর তবুও রাগকে কন্ট্রোল করে জিজ্ঞাসা করেছিলো-

-কি পড়ে আসছো এটা?
-কেনো টি শার্ট
-এ দিনে কেউ টি-শার্ট পড়ে?
-কেনো আজ কি আমাদের বিশেষ দিন
-সে না হলে কি তোমায় ডেকেছি ।

এই বলে নিধি নিচের দিক তাকিয়ে রয়েছে বিপরীত পাশ থেকে কোন শব্দ আসছিলো না, নিধি মাথা তুলে দেখে ইভান পাশে নেই । ইভানকে ফোন দেয় কিন্তু ইভান ফোন তোলে না । নিধি ফোনের পর ফোন দিচ্ছে কিন্তু অপর পাশে পাত্তা নেই। তার পাচ মিনিট পর ইভান কোথা থেকে যেনো আসে , তবে সেই আসাতে নিধিকে মুগ্ধ করেছিলো ইভান । ইভান নীল পাঞ্জাবী পড়ে আসছে তবে ইভান কি ইচ্ছে করে ময়লা টি-শার্ট পড়ে আসছিল নিধিকে রাগাতে । নাকি নিধির ভালবাসা প্রমান করতে। নিধি ইভানকে অন্য রূপে দেখে সাথে সাথেই প্রশ্ন করেছিল

– পাঞ্জাবী পেলে কোথায়?
-সে আমি নিয়েই আসছিলাম
-তবে আগে পড়ে আসো নি কেনো?
-তবে যে তোমার অভিমান দেখতে পারতাম না।
-পাগলটা
-হবে এই পাগলের পাগলী?

নিধি তো শুনে অবাক কারন তার প্রপোজ করার ভাবনা ছিলো তার আগেই ইভান করেছে। নিধির চোখে জল চলে আসলো কারন সে ও তো বড্ড ভালোবাসে । ইভান আবারো প্রশ্ন করে

-কি হলো উত্তর দিবে না?
-সে তো তোমার জানাই আছে
-তবু ও তোমার মুখে শুনতে চাই
-হ্যা হবো পাগলের পাগলীটা !

ইভান নিধির মুখ থেকে শুনার সাথে সাথেই বুকে জড়িয়ে নেয় নিধিকে আর নিধিও লজ্জায় মুখ লুকায় ইভানের বুকে।

নীল শাড়িতে নিধিকে অপ্সরী লাগছিলো তাই ইভান ও পারেনি নিজেকে সামলাতে তাইতো বুকে টেনে এই অবেলায় প্রিয় মানুষটার কপালে উষ্ণ চুমো একে দেয়।

এভাবেই হয়তো আগামী পথ গুলো ও চলবে তারা, শেষের সমাপ্তিটা হোক তাদের ভালবাসার পূর্নতা দিয়ে ।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত