উপন্যাসের বাইরে

গল্পের নামটা খুব অদ্ভুদ তাই না। অনেকে হয়ত এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। আর ভাবতে হবে না। আমিই বলে দিচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কোন ঘটনা থাকে যা বড় বড় উপন্যাস কে হার মানায়। এরকম একটা ঘটনা আজকের বিষয়।

আমি তখন ফেইসবুকে একটা গ্রুপে নিয়মিত লেখালেখি করি। একদিন লেখলাম,
মেয়েদের ভালোবাসা খুব সহজেই প্রকাশ পায়। কারন মেয়েরা সবার সামনে কাদঁতে পারে। তাদের কান্নার জন্য মনে হয় তাদের ভালোবাসা অনেক বড় মাপের ছিলো। অপরদিকে একটা ছেলের ভালোবাসা সহজেই প্রকাশিত হয় না। কারন ছেলেরা সবার সামনে কাদঁতে পারে না। ছেলেদের সবার সামনে কাদঁতে নেই।
পোষ্টটাতে সবাই নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে ।

একটা মেয়ে মতামত করল, যে, ভাইয়া সব মেয়ে কিন্তু এক নয়। তারপর আমি তার সাথে কিছুক্ষন কথা বার্তা বলে তাকে আমার ফ্রেন্ড বানিয়ে নিই। তার নাম ছিলো নিশাত জাহান নিশাত ( ছদ্মনাম)
আমি একদিন তাকে বললাম,
আমিঃ আচ্ছা আমার একটা কথা ছিলো।
নিশাতঃ কি?
আমিঃ আমার কোন বোন নেই, আমি তোমাকে বোন বানাতে চাই। হবে কি আমার বোন?
নিশাতঃ হতে পারি, কেননা আমারও কোন ভাই নেই। কিন্তু একটা শর্ত আছে।
আমিঃ কি শর্ত?
নিশাতঃ আজকে থেকে আমরা একে অপরকে তুই করে ডাকব।
আমিঃ ওকে,,, এই তুই কি করিস,,হাহাহাহা।

এভাবে আমাদের কথা বাড়তে থাকে। তাছাড়া আমাদের ভাইবোনের সম্পর্ক যেন বাস্তবে পরিনত হয়। বাস্তব জীবনে একজন ভাই বোনের সাথে যেমন করে কথা বলে আমিও তার সাথে ওভাবেই কথা বলতাম। যেমনঃ
আমিঃ ওই আপু, ১০ টা টাকা দে,
নিশাতঃ কেন, কি করবি?
আমিঃ আমার gf ke বাদাম খাওয়াবো।
নিশাতঃ আম্মু,, আম্মু,, দেখো শাকিব কি বলতাছে।
আমিঃ আম্মু, আমি কিছুই বলি নাই।
এভাবেই আমাদের sms এ কথা হত। সত্যিই আমি তাকে বোনের স্থান দিয়ে দিয়েছিলাম। নিশাতও আমাকে ভাইয়ের স্থান দিয়েছিলো।

একদিন ও আমাকে যা বলল, কথাটা শুনার সাথে সাথে আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসল।
নিশাতঃ ভাই, তোকে আমি কিছু বলতে চাই?
আমিঃ কি বলবি বল,,
নিশাতঃ ভাই আসলে আমার ব্রেইন কেন্সার।
আমিঃ ধেত, এসব মিথ্যা কথা বলবি নাতো।
নিশাতঃ নারে ভাই, সত্যি বলছি।
আমিঃ না, এ হতে পারে না। ( চিৎকার দিয়ে) যদিও কেও sms এর শব্দ বুঝতে পারে না।

আমি বের হয়ে যায়। কিছুই ভালো লাগছে না। আমি কিছুতেই আমার আপুকে হারাতে চাই না।
সারাদিন ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেলো। রাতে facebook এ ডুকলাম। ডুকে দেখি আপু active নাই। একটা sms দিয়েছে। যা সত্যিই তাই হবে। এতে কিছুই করার নেই। মন খারাপ করিস না। সবাইকে তো মরতে হবে।
আপু active হলো।

আমিঃ আপু, তুই মিথ্যা বলছিস,
নিশাতঃ নারে পাগল তোকে মিথ্যা কেন বলব,
আমিঃ না এ হতে পারে না,
নিশাতঃ কিন্তু এটা যে হবেই রে
আমিঃ না,,দেখ আপু, এই প্রথম আমি কাদঁছি।
নিশাতঃ আমার লক্ষি ভাই কাদিস না।প্লিয,
আমিঃ আপু প্লিজ বল এটা মিথ্যে,
নিশাতঃ নারে,
আমিঃ এটা সম্ভব নয়।
নিশাতঃ সবি সম্ভব রে পাগল। ডাক্তার বলছে আমি ৩০ দিন বাচঁব। এর মধ্যে ২৭ দিন চলে গেছে। আর ৩ আছে।
আমি আবারও বের হয়ে গেলাম। আমি পাগলের মত হয়ে গেছিলাম।
পরদিন ডুকলাম। দেখি আপু acrive নাই। সেদিন সারাদিন active হয় নাই।

পরেরদিন,,,,,,
আমিঃ এই আপু তুই মিথ্যা বলছস তাই না,,,( আমি বিশ্বাস করতে পারছি না)
নিশাতঃ কালকে থেকে আমি আর আসব না, আসতে পারব না। তখন তোর বিশ্বাস হবে।
আমিঃ কি বলছিস,
নিশাতঃ হ্যারে, ডাক্তারের মতে আজকের দিনটাই আমি বেচে থাকব।
আমিঃ না,,,,আপু প্লিজ,, যাসনে আমাকে ছেড়ে।
নিশাতঃ ধুর পাগল। আমি তোর থেকে অনেক কিছু শিখলাম। রক্তের সম্পর্কই কখনো বড় হয় না।
আমিঃ আপুরে যাসনে ।
নিশাতঃ কাদবি না। নিজের খেয়াল রাখবি। খাওয়া ধাওয়া ভালো করে করবি। আর আমার কথা মনে হলে ওই আকাশের দিকে তাকাবি। সবচেয়ে বড় যেই তারা টা দেখবি ওইটাই আমি।

আমি আর কিছুই বললাম না। আপু নিজেই বের হয়ে গেলো। বিকালে ভাবছি আপুর সাথে শেষ বারের মত কথা বলি। facebook এ ডুকতে যাব। হঠাৎ অচেনা নাম্বার থেকে কল আসল। কলটা রিসিভ করার ইচ্ছা না থাকলেও করলাম।
আমিঃ হ্যালো,
অপরপাশেঃ তুমি কি শাকিব, (কেদে কেদে)
আমিঃ হ্যা, আমি শাকিব,
অপরপাশেঃ আমি নিশাতের মামা, নিশাত আর নেই।
আমিঃ না,,,(চিৎকার দিয়ে)।

সব শেষ হয়ে গেলো। আপুকে হারিয়ে ফেললাম। আর তার sms পাবো না। আর কেও বলবে না যে,, যা আগে খেয়ে আয়, । আমি এখন আপুকে কই পাবো জানি না। আমি কখনো তাকে দেখিনি। একবার ছবি দিয়েছিলো। আমি তখনি তার গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমার আপুকে শেষবারের মত দেখতে। পাই নাই। গিয়ে দেখি মাটি দেওয়া হয়ে গেছে। আমি তখনি জ্ঞান হারায়। তারপর আমাকে তারা বাসায় এনে দেয়।

আজ আমার আপুর ৪ র্থ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ওই আকাশের বড় তারাকে খুজে পাই না। সবি যেন সমান। তবুও একটা তারাকে উদ্দেশ্য করে বলি, আপু ভালো থাকিস। সেখান থেকে যেন বলে, তুই নিজের খেয়াল রাখিস রে পাগলা।

গল্পের বিষয়:
জীবনের গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত