দশে ভূত

দশে ভূত

১. ট্রেন ছাড়লো হাওড়া থেকে ঠিক রাত দশটা,সামান্য কিছু খেয়ে শুয়ে পড়লাম ,রাত দুটো নাগাদ । অপরদিকের সিটের যাত্রী উঠলেন ,চোখাচোখি হতেই এক মুখ হাসি, শুয়ে শুয়ে দুজনের আলাপ জমে উঠলো, সারা রাত গল্প হলো ,খুব হাসি খুশি মজার মানুষ । ঠিক ভোর চারটে বাজতেই উঠে যাবার জন্য প্রস্তুত, গন্তব্য এসেগেছে। হাসি মুখে বিদায় জানাতে গিয়ে চোখে পড়লো ওমা !!এ কি পা দুটো উল্টো ওওও😲😲

২. অনেকটা দেরি হয়ে গেলো কাজিরাঙ্গার কর্টেজ এ পৌঁছাতে পৌঁছাতে , ঘরে ঢুকেই ফ্রেস হয়ে কিছু খেয়ে শুয়ে পড়লাম ,জার্নির ক্লান্তিতে ঘুমটাও এসে গেছিলো ঠিক সেই সময় একটা আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো …একটা অদ্ভুত শব্দ , গোঙানির মতো । কর্টেজ এর কাজের লোককে ডাকলাম …সে এসে বললো ….কাল রাতে গলায় দড়ি দেবার সময় কষ্ট হচ্ছিল ,তারই আওয়াজ 😶ভয়ের কিছু নেই শুয়ে পড়ুন😲😲

৩.মাছ ধরার নেশাটা ভীষণ রকম ছিলো, কয়েকজন বন্ধু মিলে মাছ ধরতে গিয়েছি বর্তি বিলে । সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় সবাই চলে এলেও ,আমি একাই থেকে গেলাম । বেশ কিছুক্ষণ পর একটা ডাকে, তাকিয়ে দেখি রোগা এক মহিলা ভীষণ রেগে খেন খেনে গলায় বলছে ….সব মাছ তুই নিবি????ওমা মহিলার পা নেই কেনো😲😲?

৪. রেল লাইনের পাশেই বাড়ি, মঙ্গলবার দুপুর বারোটা ,ছেলে কে পড়াতে পড়াতে হটাৎ চোখে পড়লো ,রেল লাইনের উপর দিয়ে যাচ্ছেন গনেশ মাছ ওয়ালা, পরনে সেই খাটো ধুতি ,আর হাফ হাতা ফতুয়া। কিন্তু আগের শনিবার গনেশ মাছ ওয়ালা তো আত্মহত্যা করেছিলো😓😲!!

৫. শনিবার রাত ,কলকাতা থেকে চাকদহ যেতে বেশ দেরি হয়ে গেলো ,রোজকার মতো বেশ অনেককিছুই বাজার করা হয়েছে , আজ বাজারে একটু সস্তা ইলিশ পেয়ে মনটা আনন্দে ভরে গেলো, কাল রোববার মজা করে জমিয়ে ইলিশ খাওয়া যাবে । এর উপর, উপরি পাওনা চাকদহ নেবেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু লাইট নেই চারিদিক অন্ধকার। সাবধানে রাস্তা হাঁটছি ,কেউ ডাকলো ,তাকিয়ে দেখি পাশের বাড়ির হরেন কাকিমা । কাকিমা বললো কি রে শচীন এখুন এলি?দে হাতের বাজারটা দে আর ছাতাটা ধর দেখি। ছাতা ধরে আসতে আসতে একথা ও কথা বলতে বলতে কাকিমার বাড়ি আসায় ,কাকিমা বাড়ি চলে গেলেন । আমি বাড়ি ফিরে দেখি যা…..বাজার টা কাকিমা নিয়ে গেছেন যে !আমি বউ কে বলেই বেড়াতে যাবো ..বউ বললো “ওগো হরেন কাকিমা তো বুধবার মারা গেলেন। তোমায় জানানো হয়নি গো, জাগ গে রাম রাম ও বাজার জাগ গে জাগ”🤔🤔

৬.পাহাড়ি রাস্তা ,গাড়ি নিয়ে নামতে নামতে বেশ দেরি হয়ে গেলো, এর মধ্যে আবার গাড়ির সমস্যা !ধুত্তোর কি যে হবে ? এমন সময় একটি ছেলে এসে গাড়ি ঠিক করে দিলো অন্ধকার পাহাড়ি রাস্তায় এইরম সাহায্য পেয়ে আপ্লুত হয়ে ধন্যবাদ দিতে যেতেই ছেলেটি তার শরীর না ঘুড়িয়েই মাথা টা পুরো পিঠের দিকে ঘুরিয়ে একগাল হাসি দিয়ে টাটা করলো ,তারপর আর কিছুই মনে নেই । যখন জ্ঞান ফিরল তখন আমি এক পাহাড়ি হোটেলের সোফায় 😨

৭. প্লানচেট নিয়ে পড়াশোনার পর ঠিক হলো তিন বন্ধু মিলে প্লানচেট এ বসবো , যেমন ভাবা তেমনি কাজ ,সমস্ত জোগাড় যন্ত্র করে যথা সময়ে কাজ করতে বসা । রবি ঠাকুরকে ডাকা হচ্ছে , নিস্তব্ধ ঘর ধূপ জ্বলছে ,একটা মোমবাতি। হটাৎ গালে এক চড় । তনুময় বিশাল চিৎকার করে বললে…হারামজাদা একটা উপন্যাসের শেষ লাইন লিখছিলাম ,আর তোরা কি করতে ডাকছিস? যতসব মুর্খর দল! বলেই অজ্ঞান।😷😷

৮. বাড়ির সামনে বিশাল বেল গাছ , তার তলায় শিব মন্দির বানালো রাকেশ। সর্বদাই “ওম নম: শিবায় “বলেই বাড়ি থেকে বার হয় আবার বাড়ি ফেরে রাকেশ। সেদিনও বাড়ি থেকে বের হবার সময় বাবা কে ডেকেই বার হয়েছিলো কিন্তু বাড়ি ঢোকার পর দেখে মন্দিরে এক বিশালাকার সাধু বসে আছেন। আজ একটু বেশিই রাত হয়ে গেছে ,ভালো করে চোখ ডোলে রাকেশ দেখলো ঠিক দেখছে তো!  হ্যাঁ সাধুবাবা! রাকেশ সটাং সাধু বাবার পা জড়িয়ে ভোলে বোম বলতেই সাধুবাবা বললে….”পা ছার, এই বাজে ধুপকাঠি জালবি না এখানে,আমার কাশি হয়। আর হ্যাঁ মাঝে মাঝে বাংলা দিবি। আমি ভোলে বাবা নয়,আমি বম্মিদত্যি ,অতো পুন্নি করোনি চাঁন্দু ,যে বাবা তোমার বাড়ি আসবেন🙄😁

৯. পিঠে পিঠে করে জ্বালিয়ে খেলো ছেলেটা,অগত্যা পিঠের সরঞ্জাম জোগাড় করে মিতা বসেছে পিঠে করতে। গন্ধে মম করছে বাড়ি ঘর । কি যেন জোর আওয়াজ শুনে ছুটে বারান্দায় বেড়িয়ে মিতা কিছু না দেখে আবার রান্না ঘরে ঢুকে দেখে…. একটা কুচকুচে কালো বিড়াল পিঠে খাচ্ছে!!!হাট হাট করে বিড়াল কে তাড়াতেই বিড়াল দাঁত বের করে হা হা করে হেসে উঠলো,😁😲

১০. লেখক মনোযোগ দিয়ে ভূতের গল্প লিখছে, আর মনে মনে ভাবছে… উফ বাজারে যা চলবে না!!এমন সময় ঠাস ঠাস করে লেখকের গালে চড়!কেউ যেনো বলছে…”আর বিষয় পাও না ,না? আমরা আমাদের মতো আছি ভালো লাগছে না ,দেব যখন ঘাড় মোটকিয়ে বুঝবি!” 💀💀

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত