গিরিধারীর গেরো

গিরিধারীর গেরো

ভর সন্ধের ঝিমধরা অন্ধকারে পিন্টু বাড়ির দিকে ছুটছিল। খেলার মাঠে আজ তার বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাত-পা ধুয়ে এক্ষুনি তাকে পড়তে বসে যেতে হবে। কিন্তু বাবার বকুনির থেকেও খুব জ্যান্ত একটা ভয় এই মুহুর্তে তার পিছু নিয়েছিল। তাই ডাইনে-বাঁয়ে কোনো দিকে তাকাবার সাহস ছিল না। কাছেই কোথাও গাছের ডালে একজোড়া হুতুম প্যাচা ভুতুড়ে গলায় রক্ত-হিমকরা ডাক ডাকছিল। এর চেয়ে বাঘের ডাক শুনলেও বুঝি পিন্টু এরকম ভয়ে সিটিয়ে যেত না।

জায়গাটা উর্ধশ্বাসে পেরিয়ে এসে পিণ্ট পায়ের গতি কমিয়ে দিয়েছিল। বাড়ি এসে গেছে, শাঁখের শব্দ শোনা গেল। শাঁখের নয়তো যেন মায়ের গলা, আশপাশের বাড়ির থেকে ঠিক আলাদা, চিনতে পারে। ঘাম দিয়ে জুর ছাড়ার মতো ভয়টা এতক্ষণে গা ছেড়েছে। রাস্তার শেষ বাকটা এসে গিয়েছিল, মোড় ঘুরলেই এবার বাড়ি দেখা যাবে। তাই অনমনা পিন্টু প্রথমে দেখতে পায়নি। বাকের মুখে ঝাকড়া তেঁতুলতলায় মাথায় ইয়া পাগড়ি বাঁধা একটা লোক উবু হয়ে বসে খৈনি ডলছিল। পেছন ফিরে বসে থাকায় লোকটাও পিন্টুকে দেখতে পায়নি। হঠাৎ হাততালির মতো শব্দ শুনে পিন্টু থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর একটু নজর করতে আবছা মতন চোখে পড়ল। প্রথমে মনে হয়েছিল কোনো কাকতাড়ুয়া মূর্তি, কেউ দুষ্টুমি করে ওখানে পূতে রেখে গেছে। প্ৰকাণ্ড ঝুড়ির মতো মাথাটা ঝুকে আছে গায়ে। নানা ছবি আঁকা খাটো কামিজ বোধহয় হাওয়ায় দুলছে। কিন্তু না, ওটা একটা লোক, চোরচোট্টা হওয়াই সম্ভব, খুব নিরিবিলি নিশ্চিন্তে খৈনি পিটছে। ফট ফট ফটাস আওয়াজটা সেই জন্যেই।

একটুও ভয় পায়নি তা নয়। কিন্তু ভাবটা চাপা দিতে বেশ জোর গলায় চেচিয়ে উঠল পিন্টু হাই লোকটা! কী করছ ওখানে?

আচমকা হাঁক শুনে খুব চমকে গিয়েছিল লোকটা। তিড়িং করে একপাক ঘুরে উঠে দাঁড়াতেই পিন্টুর হাসি পেয়ে গেল। ও হরি, এ যে পূচকে, এক তালপাতার সেপাই! হাড়িসার লিকপিকে চেহারায় অ্যাত্তোবড়ো পাগড়ি একদম মানায়নি। তার ওপর আবার কাঠবেড়ালির ফুলকো ন্যাজের মতো একজোড়া পালোয়ানী গোঁফ। কোনোরকমে হাঁটুর তলা অবদি নেমেছে একটা ডোরাকাটা অটোখাটো পাজামা। পিন্টুকে হাসতে দেখে লোকটাও চোখ পিটপিট করে হাসতে লাগল বিনয়ের অবতার হয়ে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিজ্ঞাপনে দেখা কুর্নিশ করা মূর্তির মতোই আধভাঙা চিচি গলায় বলল, ও আপুনি খোকাবাবু আসেন!

লোকটা হিন্দুস্থানী কিন্তু ভাঙাচোরা বাংলা বলে। খোকাবাবু বলায় পিন্টুর আত্মসম্মানে একটু চোট লাগল। সে দুধের খোকা নাকি! এবার রীতিমতো ক্লাস সিক্সে উঠেছে। সবুজ সাথী ক্রিকেট ক্লাবে স্পিন বোলার হিসেবে তার নাম হয়েছে। ক্লাবের দাদারা পর্যন্ত তাই আদর করে স্পিনটু বলে। ডাকে, আর এই পুচকে লোকটা তাকে কিনা— ,

ধমকের গলায় পিন্টু বলল, পিন্টুবাবু বলবে!
লোকটা বাধ্য ছেলের মতো পায়ে পায়ে এগিয়ে এল। ঘাড় নেড়ে বলল, হা হা, যা বোলাবেন
হামি বলবে। পিন্টুর্বাবু। বহুৎ আচ্ছা নাম আসে। বহোৎ মিঠা।
পিন্টু বলল, তা তো বুঝলাম। কিন্তু কি মতলব? এখানে কেন?
এই কুছ কামকাজের খোজে।

কাজ খোজার জায়গাই বটে! দেখি দেখি, তোমার বগলে ন্যাকড়ায় জড়ানো ওগুলো কি! সিদ কাঠিফাটি নয় তো?

লজ্জিত ভঙ্গিতে মাথা হেলিয়ে লোকটা বলে, জী হাঁ। টা কেনো বলব। সিদ খাটি ভি আসে! পিন্টু চমকে যায় ওর সত্যবাদিতায়। বলে, অ্যা! তুমি তাহলে চোর? লোকটা এবার প্রতিবাদ জানাল, নেহি পিন্টুবাবু, হামি চৌর না, কামচোর ভি না। মেহন্নত করকে খাই! সাচ্চা আদমি।

পিন্টু মনে মনে বলে, সাচ্চা আদমি না হাতি! কামচোর কথাটার মানে তার ঠিক জানা ছিল না। মুখে বলতে যাচ্ছিল, তাহলে এইসব যন্তর-ফন্তর কেন? কিন্তু বলা হল না, লোকটা বোধহয় তার মনের কথা বুঝতে পেরেই ভাঙা বাংলায় বলল, যন্তর-ফন্তরের কোথা ছেড়ে দিন, বাড়ির কাম তো, কোখন কোন চীজ দরকার হোয় কোন জানে!

পিন্টুর মনে পড়ে গেল তাদের বাড়িতে এখন কাজের লোকের খুব অনটন চলেছে। বহু দিনের পুরোনো লোক বিশুদা খুব বুড়ো হয়ে গিয়েছিল, আর পেরে উঠছিল না। কাজ ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে যাবার পর বাবা অনেক চেষ্টাচরিত্র করে দু-একজনকে যে ধরে আনেননি তা নয়, কিন্তু কেউ বেশিদিন টেকেনি। কেউ এক সপ্তাহ, কেউ এক মাস বড়জোর। মায়ের খুব কষ্ট হচ্ছে, রোজ বাবাকে বলে। কিন্তু এখন নাকি লোক পাওয়া দুষ্কর। চতুর্দিকে এত ছোটছোট কারখানা গজিয়েছে, বাড়ির কাজ ফেলে সবাই সেখানে চলে যায়।

তুমি বাড়ির কাজ ঘরের কাজ করবে?
হা হা জরুর করব।
কী কী কাজ জানো!

সোব। যা বোলবেন সোব ফিনিশ করে দিব। ওরে বাবা, এ যে আবার ইংরিজি-মিংরিজিও বলে। পিন্টু মাথা চুলকে বলে, ইয়ে, বিড়ির কারখানা,

রংকল, তাঁতকল, প্লাস্টিক, প্লাইউড. লোকটা ওকে কথা শেষ করতে দিল না, কভি নেহি, কোখোনো না, আমি ঘরকা আদমি। উ পেলান্টিক-ইলাকি বহোত খতরনাক, ডর লাগে, পিন্টুবাবু। একবার আগ লাগবে তো ব্যস খতম !

বাজিয়ে নিয়ে ভালোই হল। এ যাত্রা এই লোকটা হয়তো টিকেও যেতে পারে। তবে যা পলকা। অবিশ্যি মায়ের যদি পছন্দ হয় তবে। খুশি হয়ে পিন্টু বলল, তা হলে চলো আমাদের বাড়ি। ছুটতে ছুটতে এসে পিন্টু বাড়িতে ঢুকেই বাবার মুখোমুখি পড়ে গেল। বারান্দায় চটি ফটফটিয়ে পায়চারি করার ধরন দেখেই বুঝেছিল বাবা ভীষণ চটেছেন। কিন্তু ওর এখন সাতখুনও মাপ হয়ে যাবার কথা ঘন্টাখানেক দেরি তো কোনো ব্যাপারই নয়। বাবা কিছু বলার আগেই ও হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, বাবা আমি গিন্ধর সিং

কথাটা শেষ করতে পারল না। ওর বাবা রাগে ফেটে পড়লেন, তা তো বটেই। গিদধড় মানে গাধা। তুমি গাধা না হলে কি আর মাথায় সিং গজায়। আমি না। কাজের লোক, নিয়ে এসেছি, ওর সঙ্গে কথা বলুন। অ্যা! কোথায়?

পিন্টুও কেমন ঘাবড়ে গেল। বলল, তাই তো গেল কোথায়? আমার পিছু পিছুই তো বুঝেছি! তোমার মাথায় শুধু সিং-ই গজায়নি, মাথাটিও গেছে। জী হুজুর ? পিন্টুর বাবার পিছন থেকে মিহি খোনা গলায় দ্রুত উত্তর হল, গিরধর লাল সিং হাজির!

পিন্টু তার বাবাকে এরকম চমকাতে কখনো দেখেনি। লোকটার চেহারা দেখে ওঁর মুখ দিয়ে কথা বেরোল না।

কার সঙ্গে কথা বলছ? বলতে বলতে পিন্টুর মা ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে থমকে দাঁড়াল, কী আপদ! এই লোকটা আবার এখানে কি করছে? এ ভূতটাকে তুমি কোথেকে জোটালে! পিন্টুর বাবা বললেন, তোমার লোক।

আমার লোক? পিন্টুর মা আকাশ থেকে পড়ল। পিন্টুও আর দাড়াল না, এই সুযোগে সরে পড়ল। ।

তা গিরিধারী না গিরধর এ বাড়িতে বহাল হয়ে গেল তিন মিনিটের মধ্যেই। শুধু একটা ব্যাপারে ফয়সলা হতে যা এই দেরি টুকুন হল। গিরিধারী নাকি মাইনে নিতে কিছুতেই রাজি হল না। সে শুধু খাবে আর কাজ করবে আর থাকবে। শুধু খাওয়া-থাকার বদলে সর্বক্ষণের কাজের লোক।

সংসারের যাবতীয় কাজ সে একা করবে। এ যুগে ভাবাই যায় না। ওই রোগা-পটকা লোকটা কিন্তু সত্যিই ভেলকি দেখাল। একাই একশো বলে একটা কথা আছে লোকটা৷ যেন তাই। কিন্তু প্রতিটা কাজ যেমন নিখুত তেমনি তাড়াতাড়ি। পাজা পাঁজা বাসন যা অন্য লোকের এক-দেড়ঘণ্টা লেগে যাবার কথা, কুয়োতলা থেকে মেজে আনতে গিরিধারীর পাচ মিনিট লাগে কিনা সন্দেহ। কিন্তু ফাকি নেই। প্রতিটি বাসন-কোসন ঝকঝক করছে, বুঝি মুখ দেখা যায়। ঘরদোর তকতক করছে, এক কণা ধুলো নেই। বিছানাপত্র টানটান, আলনা ফিটফাট, জুতোর পালিশ থেকে আলো ঠিকরোচ্ছে। রান্নাঘরে পা দিয়েই পিন্টুর মা চমকে যায়, উনুনে আঁচ গনগন করছে। ঠাকুরকে ফুলজল দিয়ে এসেই স্তম্ভিত। বাটনা বাটা হয়ে গেছে, একতাল আটা মাখা শেষ ।

বটির আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে দেখেন কুটনো ফুটনো রেডি। তবু এই লোকের হাতে রান্না খেতে প্ৰবৃত্তি হয় না। সেই এক জামা-কাপড়, এক পাগড়ি, ছাড়াছাড়ির বালাই নেই। জন্মে কখনো চান করেছে বলে তো মনে হয় না। মায়ের খুব বাছবিচার কিন্তু বাবা নিচু গলায় সাবধান করে দেন, এসব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে ওকে ঘাটিয়ো না। যদি ছেড়ে পালায়, তুমিই পস্তাবে। তা ঠিক, কাজে-কর্মে লোকটার তুলনা হয় না। দোষের মধ্যে রাক্ষুসে খোরাক আর কুম্ভকর্ণের মতো ঘুম। ভাত পেলে ওর মাথার ঠিক থাকে না। ভেতো বাঙালি না, এ ভেতো হিন্দুস্থানি। তাদের তিনজনের ভাত একলা সাঁটিয়ে দেয়। আর ঘুমোলে ওকে জাগায় কার সাধ্যি। তখন বাড়িসুদ্ধ লোককেই জেগে থাকতে হয়, আর ও বাড়ি কাপিয়ে ঘুমোয়। নাকের দুই ফুটোয় যেন বাঘ-সিংঘি এক সঙ্গে ভর করে তখন। দিন তিনেকে মায়ের অবস্থা কাহিল। বাবার কাছে গিয়ে নালিশ জানাল, এ কি মনুষ্য না আর কিছু?

বাবা হাসি চেপে গভীর হলেন, কেন কি করেছে গিরিধারী: কী করেনি রাতদিন কাজ দাও কাজ দাও করলে আমি কেমন করে সামলাই বলতে পারো ? খানিকক্ষণ চিন্তা করে বাবা বললেন, ঠিক আছে ওকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। ও কতবড় ম্যাজিক জানে দেখছি। বাছাধনের এবার নাভিশ্বাস তুলিয়ে ছাড়ব। গিরিধারী এসে সেলাম করে দাঁড়াল। ওর ওপরে নতুন হুকুম জারি হল। এখন থেকে রোজ সকালে ওকে টাউনশিপের বাজারে যেতে হবে। বাসে-ফাসে না, হেটে যাবে হেটে ফিরবে। শুনে পিছু আঁতকে উঠল। টাউনশিপের বাজার তাদের বাড়ি থেকে পাঁচ মাইলের ওপর। তার মানে রোজ দশ-সাড়ে দশ মাইল ঠেঙিয়ে ওকে বাজার বয়ে নিয়ে আসতে হবে। এটা খুবই অবিচারের কাজ হল, তবে বাবার হুকুম, সে আর কি বলবে।

বাজারে পাঠিয়ে বাবা হাসতে হাসতে মাকে বললেন, এর ফলটা৷ কিন্তু খুব ভালো হল না। লোকটা। আজই পালাচ্ছে, তুমি জেনে রাখো।

একটু ফাক পেয়ে মা বাবার সঙ্গে সুখ-দুঃখের গল্প করছিল। এমন সময় রান্নঘর থেকে মা জীর তলব হল। পিন্টু ঘড়ির দিকে তাকাল। মিনিট পনেরো হল টাকাকড়ি থলে-ফলে বুঝে নিয়েছে, অথচ এখনো পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরতেই পারল না! মা রাগের মাথায় উঠে গেল ওকে ধমকাতে।

নিজের আবিস্কার বলে কিনা কে জানে, গিরিধারীর ওপরে পিন্টুর একটু দুর্বলতাই জন্মে গেছে। বাজারটা কিন্তু ও দারুণ করে, খুব সস্তায়। একই টাকায় বাবার চেয়ে তিনগুণ জিনিস আনে। পিন্টুর মা ফিরে এল প্ৰায় সঙ্গে সঙ্গে। দেখেই বোঝা গেল ভীষণ ভয় পেয়েছে। মুখ কাগজের মতো সাদা, সমস্ত শরীর থরথর করে কাপছে, কথা বলার ক্ষমতা নেই। কী ব্যাপার দেখার জন্যে বাবার পিছু পিছু পিন্টুও ছুটে গেল রান্নাঘরে। এ কী অসম্ভব ব্যাপার! গিরিধারী টাউনশিপের বাজার কখন সেরে এসেছে কে জানে, আনাজপাতি, মাছ কুটে ধুয়ে রেডি করে রেখে গিয়েছে। মনে হতেই পারত ও টাউনশিপে যায়নি, অন্যদিনের মতো ঘরের কাছেই বাজার সেরেছে। কিন্তু না, রসগোল্লার হাঁড়ির মোড়কে টাউনশিপের দোকানের নাম-ঠিকানা ছাপা। গিরিধারীকে দেখতে না পেয়ে যেন বাচা গেল। পিন্টুর বাবা যা বোঝার বুঝে ফেলেছিলেন। একমুহুৰ্তও সময় নষ্ট না করে, ওকে নিয়ে তিনি উর্ধশ্বাসে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তারপরপিন্টুকে ওর মায়ের কাছে রেখে যেন কোথায় বেরলেন। একটু পরেই অনেকগুলো গলার উত্তেজিত কোলাহল শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে পিন্টু দেখল উঠোনে এক বিরাট দঙ্গল। পাড়া ঝেটিয়ে লোকজন এসে গেছে লাঠিসেটা নিয়ে। দুঃখিত পিন্টু বুঝতে পারল গিরিধারীকে আর বাঁচানো যাবে ন! সবাই যে রকম ক্ষেপে উঠেছে তাতে গণধোলাইয়ে ওর হাড়ি দূর হয়ে যাবে আজ। যদি না বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে থাকে।

অনেক খোজাখুজির পর দেখা গেল হতভাগা বাড়ি ছেড়ে পালায়নি। নিজের ঘরে খিল বন্ধ করে লুকিয়ে আছে। বুদ্ধ কোথাকার! এবার মরবে। পিন্টুর ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট হল। জনতা পাগলের মতো ঝাপিয়ে পড়ল বন্ধ দরজার ওপর। সেই চাপ ওই পলকা দরজা বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারল না, ভেঙে পড়ল। সবার কেমন ধাঁধা লাগল। দরজা-জানালা বন্ধ সেই ঘরের মেঝেয় গিরিধারী হুমড়ি খেয়ে মরে পড়ে আছে। ভয়েই হার্ট ফেল করেছে না বিষ খেয়েছে কে জানে!

জানলা-টানলাগুলো খুলে দিতেই সবাই আর এক দফা চমকাল। কোথায় গিরিধারী! মেঝের ওপর ওর পাগড়ি কামিজ আর পাজামা এমনভাবে পড়ে ছিল যে ধাঁধা লেগেছিল। গিরিধারী নেই, সে বোধহয় চিরকালের মতোই ওদের ছেড়ে চলে গেছে।

পরে যখনই ওর কথা উঠত পিন্টুর বাবা মাথা নেড়ে বলতেন, গিরিধারীর আত্মা মুক্তি পেয়েছে। কেউ নিশ্চয় ওর নামে গয়ায় পিন্ডি দিয়েছিল।

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত