সিকান্দার বেগের প্রতিকৃতি

সিকান্দার বেগের প্রতিকৃতি

ট্রেনটা ছোট-বড় পাহাড় আর ঘনসন্নিবিষ্ট কেঁদ, পিয়াল, মহুয়া, দেবদারু আর শাল বনে ঘেরা অজ্ঞাত জঙ্গুলে জায়গাটায় অনিলকে নামিয়ে দিয়ে দু-মিনিটও দাড়াল না। পরন্ত রোদের শেষ আলো তখন সবচেয়ে উচু পাহাড়ের মাথায় গড়িয়ে পড়ছে।

ছোট প্লাটফর্মটায় মাত্র দু-চারটে দেহাতী লোক সর্বাঙ্গে চাদর মুড়ি দিয়ে শ্মশান যাত্রীর মতো মুখ করে বসেছিল। চারদিক নিথর নিস্তব্ধ। সদ্য জ্বলে ওঠা টিমটিমে আলোগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, একটু জোরে হাওয়া বইলেই ওদের অস্তিত্ব একেবারে মুছে যাবে। এমন জায়গায় শখ করে মানুষ বেড়াতে আসে!

জায়গাটার চারদিক তাকিয়ে দেখে হতাশ হয়ে গেল অনিল। কলকাতা থেকে অতনুর আকস্মিক অন্তধান। তার কয়েকদিন পরই তাকে একখানা আর্জেন্ট টেলিগ্রাম করে এখানে টেনে আনার কোনো অর্থ খুঁজে না পেয়ে মনে মনে ও খুব বিরক্ত হয়েই ছিল। অতনু তো জানে অনিল বড় একটা কোথাও যায় না। ওর তো অনিলকে নিতে আসাও উচিত ছিল। ব্যাগটা কাধে ঝুলিয়ে, সুটকেসটা হাতে নিয়ে গেট পেরিয়ে ও সোজা একটা রিকশায় উঠে বসে বলল, মণিকুঠিতে নিয়ে চল। রিকশাওয়ালা একবার ভুরু কুঁচকে ওর মুখের দিকে ভালো করে তাকাল। তারপর কোনো কথা না বলে আঁকাবাকা জংলি পথ ধরে চলতে শুরু করল।

মণিকুঠির কাছে এসে রিকশা থামতেই, বাড়িটার দিকে ভালো করে তাকিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেল অনিল। কী সর্বনাশ? ঘন জঙ্গলের ভেতর এই ভাঙাচোরা পোড়ো বাড়িটার মধ্যে অতনু কী করতে এসেছে! আর্টিস্ট মানুষ। ছবি আঁকার বাতিক আছে। কিন্তু সেজন্যে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায়, জনহীন এমন একটা জীর্ণ বাড়িতে ও কী করতে এসেছে? আর অনিলকেই বা এমন ভাবে টেলিগ্রাম করে টেনে আনল কেন ? রিকশা ভাড়া মিটিয়ে অনিল বাড়ির ভেতর ঢুকল। কোথাও কেউ নেই। চেচিয়ে ডাকল, অতনু, এই অতনু ? তুই কোথায়?

-এসে গেছিস? যাক বাঁচলাম। আয় এ ঘরে আয়। অতনু তাড়াতাড়ি একটা লণ্ঠন হাতে নিয়ে ঘরের ভেতর থেকে বারান্দায় বেরিয়ে এসে খুশি ভরা গলায় ওকে অভ্যর্থনা জানাল।

সাবধানে উঠোনের জঙ্গল পেরিয়ে ভাঙা বারান্দার ওপর উঠে অনিল অতনুর পেছন পেছন সামনের ঘরে ঢুকল। ঘরটা হলঘরের মতো বড়। চেহারা, পলেস্তারা খসা বাইরের মতোই চুন- বালি খসা। ফাটা মেঝে। সারা ঘরময় কেমন একটা স্যাতসেঁতে গন্ধ। হলের দুদিকে দু’খানা তক্তাপোশ। তার ওপর তোশক-চাদর-বালিশ। একপাশে জামাকাপড় রাখার আলনা। জলের কুঁজো-গ্লাস, টেবিল-চেয়ার। টেবিলের ওপর খানকতক বই, সেভিং সেট, আয়না চিরুনি, এটা সেটা টুকটাক জিনিসপত্র।

রাস্তার দিকের জানলার কাছে অতনুর ছবি আঁকার সরঞ্জাম। রং তুলি, ক্যানভাস, ইজেল ইত্যাদি। আরো কিছু কিছু জিনিসপত্র অগোছালো ভাবে এদিক-ওদিক ছড়ানো। হাতের ব্যাগদুটো একপাশে রেখে, হলের চারদিকে তাকিয়ে ব্যাজার মুখে অনিল বলল, যেমন বাড়ির ছিরি, তেমনই ঘরের চেহারা। এটা আমার পিসিমার বাড়ি। বেওয়ারিশ পড়েছিল। তাই এখানে এসে উঠেছি। আর এখানে কেন এলাম? সব বলব। তোকে টেলিগ্রাম করে এমনই আনিনি। আগে ট্রেনের জামাকাপড় ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে নে। বারান্দায় বাথরুমে জল তোলা আছে। বিরজু বাজারে গেছে।

বিরজু দেহাতী হলেও ভালোই রান্না জানে। বাংলাও জানে। বাজার থেকে ফিরে এসেই ও চা খাওয়ালো ওদের। তারপর রাত আটটা বাজতে না বাজতেই আবার ওদের মাংসের ঝোল গরম ভাত আলু ভাতে ঘি সব কিছু যত্ন করে খাইয়ে, টুকিটাকি কাজকর্ম সেরে ঘরে ফেরার জন্যে প্রস্তুত হয়ে অতনুর সামনে এসে দাঁড়াল। অতনু অনুনয় করে বলল, কী বিরজু, আজও বাড়ি যাবে? বিরজ মাথা নাড়তে নাড়তে উত্তর দিল, না দাদাবাবু, আমি থাকব নাই। কাল সকালেই আসব। চা-খাবার করি দিব।

-তবে যাও। মশারি দুটো ভালো করে ফেলে রেখে যেও। অতনু যেন রাগ করেই অন্য দিকে চলে গেল।

অবাক অনিল বলল, সে কি বিরজু, তুমি রাত্রে এ বাড়িতে থাক না ? অতনু একাই থাকে! বিরজু চাপা গলায় বলল, দাদাবাবু, আগে আমি আমার পরিবার, আমরা তো বরাবরই থাকতাম এ বাড়িতে। কিন্তু বড়দাদাবাবু আসার পর আর থাকতে পারলাম নাই।

-থাকতে পারলে না! কেন?

-সে আমি কিছু বলবেক নাই। রাত্তিরেই মালুম হবে। তারপর আরও গলা নামিয়ে বলল, শুনুন ছোটদাদাবাবু, যদি ভালো চান তো কাল সকালেই বড়দাদাবাবুকে নিয়ে কলকাতায় চলে যান। অনিল বিরজুর চোখে-মুখে এক অপরিসীম আতঙ্কের ছায়া দেখতে পেয়ে কিছুটা আন্দাজ করে বলল, কেন ? এই পোড়ো বাড়িটা বুঝি ভূতের বাড়ি ?

-না না দাদাবাবু। বাড়িটা ভাঙাচোরা, জঙ্গলের মধ্যে হলেও আমি তো ইখানে পরিবারকে নিয়ে অনেক বছর আছি। কিন্তু..ওই দাদাবাবু আসছে। আমি যাই। বিরজু চলে যাবার পরই অতনু ফিরে এল। অনিলের চিন্তিত গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

-কী রে? চুপচাপ বারান্দায় দাড়িয়ে কেন ? বিরজু বুঝি তোর কানে মন্তর পড়ে গেল? চল, ঘরের ভেতর চল! বাইরে যা ঠান্ডা!

ঘরে ঢুকেই অতনু দরজায় খিল তুলে দিল। একটা জানলা খোলা ছিল। বাইরে থেকে উত্তরে হাওয়া এসে জলন্ত লণ্ঠনটার পলতেটাকে কাপিয়ে দিচ্ছিল, ফলে কালিপড়া কাচের চিমনির ভেতর স্নান আলোটা দপদপ করছিল। স্থির চোখে সেই আলোর দিকে তাকিয়ে অতনু বলল, জানলাটা বন্ধ করে দিই কী বলিস?

অনিলের সম্মতির অপেক্ষা না রেখেই অতনু জানলাটা বন্ধ করে টেবিলের পাশের চেয়ারটায় বসে পড়ল।

ফেব্রুয়ারির শেষ। শীতটা বেশ জাকিয়েই পড়েছে। অনিল বিছানার মধ্যে সর্বাঙ্গে কম্বল জড়িয়ে বসে প্রশ্ন করল, এবার সোজা সত্যি কথাটা বল দেখি বাপু? এই জঙ্গলের মধ্যে তুমি শখের ছবি আঁকতে এসেছ, বেশ করেছ। কিন্তু আমাকে টেলিগ্রাম করে এমন ভাবে এখানে টেনে আনলে কেন?

অতনু টেবিলের ওপর থেকে সিগারেটের প্যাকেট, দেশলাই টেনে নিয়ে নিজে একটা সিগারেট ধরিয়ে, অনিলকেও একটা ধরিয়ে দিয়ে নিঃশব্দে হাসল। হাসিটা খুব ফ্যাকাশে নিষ্প্রাণ মনে হল অনিলের। কী রে, কথার জবাব দিচ্ছিস না কেন! অনিল ধোয়া উড়িয়ে আবার তাগাদা মারল।
-কাল শুনিস। আজ সারাদিন ট্রেনের ধকল গেছে। কাল সকালে বলব। তবে বলবার মতোও তেমন কিছু ঘটেনি,
-যেটুকু ঘটেছে, তাই বল। এখুনি শুনব। যদি বলি, একা থাকতে ভালো লাগছিল না ?
-বিশ্বাস করব না।

অতনু কেমন যেন নার্ভাস হয়ে পড়ল। তাড়াতাড়ি জবাব দিল, প্লিজ, কাল সব শুনিস। চেয়ার ছেড়ে উঠে অতনু লণ্ঠনটা ঘরের কোণে সরিয়ে রাখল। তারপর মশারি ফেলে নিজের বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। রাত এখন ন’টাও বাজোনি।

পোড়ো বাড়িটার চারপাশের বুনো গাছ-গাছালির জঙ্গল থেকে তক্ষক ডাকছিল। ঝিঝির বিচিত্র ঐকতান ভেসে আসছিল। বাতাসে শুকনো পাতার মর্মরধনি উঠছিল। আর থেকে থেকে শেয়াল খটাসের ছুটোছুটির শব্দ উঠছিল। এসব শব্দই অন্ধকার রাতে স্নায়ু শিথিল করা শরীর-মন হিম করে দেওয়া নিস্তব্ধতা অনিল আগে কখনো অনুভব করেনি। অতনুর মেজাজ ভালো নেই। কথা বলার মুডও নেই। কিন্তু কেন নেই? এ কথা বুঝতে পারল না অনিল। এক অদম্য কৌতুহল নিয়েই ওকে কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ কথা ভেবে ওর ভীষণ রাগ হচ্ছিল।

অতনু রায়। নামকরা চিত্রশিল্পী। বহু নামী আর্ট গ্যারালিতে বহুবার ওর একক চিত্র প্রদর্শনী হয়ে গেছে। কিছুদিন ধরে এক নতুন পদ্ধতিতে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক কালের চিত্রশিল্পীদের মাঝে অতনুর খ্যাতি প্রতিষ্ঠা, অনেক নামী আর্টিস্টেরই ঈর্ষার কারণ। বিশেষ করে পোট্রেটে অতনুর হাত অপূর্ব। দেশবিখ্যাত কয়েকজনের প্রতিকৃতি একে ও পুরস্কারও পেয়েছে।

নতুন জায়গা অচেনা পরিবেশ, একটা অস্বস্তি তো থাকেই। বিছানাটাও অনিলের মনোমতো নয়। তার ওপর দারুণ ঠান্ডা। ঘুম আসছিল না ওর।

লণ্ঠনটা দরজার পাশে ভূষোকালি মেখে মিট মিট করে জলছিল। তাতে ঘরের মাঝে আলোর থেকেও গা ছমছমে অন্ধকারই যেন বেশি। কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করছিল অনিল। ঘুম আসছে না। ইচ্ছে হচ্ছিল অতনুকে ডাকে। কিন্তু অতনু সেই যে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েছে আর ওর কোনো সাড়া নেই। সত্যিই ওর শরীর ভালো নেই, মাথা ধরেছে কি না, কে জানে? নানা চিন্তা করতে করতে নিজের অজান্তেই অনিল ঘুমিয়ে পড়ল।

কতক্ষণ কেটে গেছে, কটা বাজে কে জানে? হঠাৎ একটা খসখসানির শব্দে অনিলের ঘুম ভেঙে গেল। তত্রাচ্ছন্ন অবস্থার মধ্যেই ও টের পেল, হলের ভেতরেই কে যেন অস্থির পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন সশব্দে চোর ঘুরে বেড়ায় না। তা হলে কে? ও কে? বিমূঢ় অনিল চিৎকার করতে চেষ্টা করল। কিন্তু ওর গলা দিয়ে একটা শব্দও বার হল না।

সাহস করে চোখ খুলে শব্দের উৎসস্থলের দিকে তাকাল। কিন্তু কিছুই দেখা গেল না। লণ্ঠনটা কখন নিভে গেছে কে জানে?

মাত্র কয়েক হাত দূরে অতনু শুয়ে আছে। সে কি এই শব্দ শুনতে পাচ্ছে না? অনিলের ইচ্ছে হল বিছানা থেকে নেমে ওকে ধাক্কা দিয়ে টেনে তোলে। কিন্তু তাও সম্ভব হল না। কেননা ভয়ে ওর হাত-পা ঠান্ডা অবশ হয়ে গেছে।

অনিল আবার অন্ধকারের মধ্যে তীক্ষ্ম তীব্র দৃষ্টিতে সেই শব্দের দিকে তাকাল। এবার মনে হল, যেন একটা জমাট বাঁধা অন্ধকার চলন্ত মূর্তির রূপ ধরে ঠিক অতনুর ক্যানভাসের আশেপাশে কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে।

হঠাৎ সেই চলন্ত মুতিটা থমকে দাঁড়াল। তার একখানা হাত শূন্যে উঠল, যেন ও কাউকে ভীষণভাবে আঘাত করবে। যেন ও খুন করতেই চায়। অন্ধকার চোখে সয়ে যাওয়ায় অনিল তার হাতে একটা অস্ত্র দেখতে পেল। ছুরি বা ভোজালি। হাত নামল। পরমুহুর্তেই ফ্যাস করে একটা বিশ্রী আওয়াজ উঠল।

অতনুর বিছানা থেকে সেই মুহুর্তেই জোরালো টর্চের আলো সেই ছায়ামূতিটার ওপর পড়ল। বিস্ফারিত চোখে অনিল দেখল, একটা হিংস্র মুখ। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই সেই ছায়ামূর্তি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল!

অনিলের মুখ দিয়ে একটা ভয়ার্ত আর্তনাদ বেরিয়ে এল। ততক্ষণে অতনু বিছানা ছেড়ে নেমে লণ্ঠনটা জ্বালিয়ে দিয়েছে। সে আলোয় অনিলও যেন এক দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠল।

লঙনটা উচু করে ধরে অতনু ইজেলটার সামনে দাঁড়িয়ে কী যেন দেখছিল। সেই দিকে তাকিয়ে অনিলও থমকে গেল। অতনু হয়তো কাল সারাটা দিন ধরে যে পোট্রেটটা এঁকেছিল, কারও অদৃশ্য নিষ্ঠুর হাত ছুরির আঘাতে সেই ছবিখনাকে ফালা ফালা করে ছিড়ে রেখে গেছে। অতনু এ কী ব্যাপার? ঘরে কে এসেছিল! অনিলের কণ্ঠস্বর ভয়ে আড়ষ্ট।

অতনু ছেড়া ছবিখানার ওপর একখানা তোয়ালে চাপা দিয়ে নিজের বিছানায় এসে বসল। তার মুখ রক্তহীন। চোখের দৃষ্টি উদভ্রান্ত। মুখ ফিরিয়ে মশারির বাইরে বসে থাকা অনিলের ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ও বলল, এই জন্যেই. অনিল তোকে এখানে আসবার জন্যে টেলিগ্রাম করেছিলাম। মন-প্ৰাণ দিয়ে এই পোট্রেটটা নিরিবিলিতে বসে আকব বলেই এই জঙ্গলে পোড়োবাড়িতে এসেছিলাম। কিন্তু কিছুতেই পারছি না,

-ছবি আঁকার জন্যে কলকাতা ছেড়ে এই জঙ্গলে এসেছিস! কেন, এ কাজ তো তোর স্টুডিওতেই করতে পারতিস।

-আমি যে ছবি আকছি, সেটা ওখানে বসে আঁকা সম্ভব হত না। ক্লান্ত ভাবে ও বলল। লণ্ঠনটার আলোয় ঘর কিছুটা আলোকিত। অনিলের সাহস ক্রমে ফিরে আসছিল। বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে ও আবার সেই প্রশ্ন করল, কিন্তু অতনু, দরজা তো বন্ধই আছে। তাহলে হলের ভেতর কে এসেছিল ?

অতনু দু হাতে মুখ ঢেকে চুপ করেই রইল।

-অতনু, এটা এমনই একটা ব্যাপার যা আমি বুঝতে পারছি না। অথচ তুইও মুখ বন্ধ করে আছিস। তবে কি আমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে যার ব্যাখ্যা করা যায় না, এই পোড়ো বাড়িতে তেমনই কিছু একটা আছে?

অতনু মুখ থেকে হাত সরিয়ে অত্যন্ত ক্লান্ত গলায় জবাব দিল, অনিল, রাত দুটো বেজে গেছে। তুই বিশ্বাস কর, এখানে আমি মাত্র ছদিন এসেছি। দিন চার-পাচ পোট্রেটটা আঁকতে শুরু করেছি। কিন্তু প্রথম দুটো রাত ছাড়া বাদ বাকি কদিন একেবারেই ঘুমোতে পারিনি। কাল সকালে তোকে সব দেখাব, সব কিছু খুলে বলব।

পরদিন বেশ বেলা করেই ঘুম থেকে উঠল অনিল। চারদিকে দিনের আলো। রাস্তায় লোকজনের আসা যাওয়া। বিরজু আর তার বৌয়ের উপস্থিতিতে অনিলের মন থেকে রাত্রের বিভীষিকা ক্রমে আবছা হয়ে গেল। বাড়িটাকেও বেশ ভালো লাগল। পুরোনো ভাঙাচোরা হলেও বেশ খোলামেলা। ভেতরটা পরিষ্কার। উঠোনে বিরজু আর তার বৌয়ের যত্ন ও পরিশ্রমে ফুলের গাছ, সুন্দর বাগান তৈরি হয়েছে। কয়েকটা পেয়ারা আর আতা গাছও আছে এক দিকে। বারান্দা থেকে ছোট-বড় ঢেউ তোলা পাহাড় দেখা যায়। ভোরবেলা তার মাথায় প্ৰকাণ্ড সোনার থালার মতো সূর্য উদয় হয়। সামনে যতদূর চোখ যায়, সতেজ সবুজ ছোট-বড় গাছ-গাছালি। গাছের আড়ালে একটা ছোট রুপোলি নদী।

বিরজুর বৌ ঘরের সব কাজ শুরু করল। বিরজু ওদের চা-টোস্ট দিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই শশাকলা, গরম দুধ এনে দিল। খেতে খেতে অতনুকে লক্ষ করছিল অনিল এত ভালো থাওয়া দাওয়া, এত স্বাস্থ্যকর জায়গায় থাকা, তবু ওর চোখের কোণে কালি, শরীর দুর্বল কেন ?

বিরজ বাজার থেকে মাছ আনবার জন্যে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে অতনু অনিলকে সঙ্গে নিয়ে হল ঘরে ঢুকল। ক্যানভাসের ওপরকার তোয়ালেটা সরিয়ে ফেলতেই, কোনো অস্ত্র দিয়ে ফালাফালা করে ছেড়া গত রাতের সেই ছবিটা দিনের আলোয় ওদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল। অনিল অতনুর মুখের দিকে তাকাতেই ও নিঃশব্দে পাশের পুরোনো টেবিলটার ওপর থেকে একখানা ছবি তুলে অনিলকে দেখতে দিল। ছবিটার দিকে তাকিয়েই অনিলের বুকের ভেতর শিরশির করে উঠল। কোনো একজনের এনলার্জ করা প্রোফাইল। কিন্তু এমন কুটিল ক্রুর নিষ্ঠুর মুখ অনিল আগে কখনো দেখেনি। অতনুর আঁকা অনেক খুনি ডাকাত, ঘাতকের ছবি ও দেখেছে কিন্তু এমনটা আর কোনোটা নয়। ছবিটা এতই প্রাণবন্ত, দেখলেই মনে হয় যেন এখনি কথা বলে উঠবে।

কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে অনিলের মুখ কঠিন হয়ে উঠল। সোজাসুজি অতনুর দিকে তাকিয়ে সে প্রশ্ন করল, এটা সেই..সেই লোকটার ছবিটা না? হ্যা, আমি এই ছবিটা আঁকব বলেই এখানে চলে এসেছি। অনিলের মনে ভেসে উঠল কিছুদিন আগেকার সেই ঘটনাটা। একটা পুরোনো বাড়ির হলঘর, দেয়ালে নতুন-পুরোনো নানা ধরনের ছবি টাঙানো। বেশিরভাগই তার পোট্রেট। পাগড়ি পরা, টুপিফেজ, মুকুট পরা, সৎক্ষ কীর্তিমান পুরুষ থেকে শুরু করে, অতি সাধারণ  মানুষের প্রতিকৃতি। ছোট-বড় নানারকম তৈলচিত্র। জমিদার, নবাব, সাঁওতাল দম্পতি— কেউ বাদ নেই তার মধ্যে।

চিত্রশিল্প সম্বন্ধে অনিলের বিশেষ কোনো জ্ঞানই ছিল না। তবুও অতনুর সঙ্গে ওকে যেতে হয়েছিল। ছবিগুলো খুব মনোযোগ দিয়েই দেখছিল অতনু। ছবিগুলো দেখা শেষ করে চলে আসবার সময়ই হঠাৎ এক কোণে অবহেলা উপেক্ষায় টাঙিয়ে রাখা বিবৰ্ণ একখানা ছবির দিকে নজর পড়েছিল অতনুর। ও দাঁড়িয়ে পড়েছিল। ওর সঙ্গে অনিলও থমকে দাঁড়িয়েছিল। তাকিয়ে দেখেছিল সেই ছবিটা। বিকৃত কুৎসিত কুদর্শন একটা মুখের ছবি। অতনুর দিকে তাকিয়ে দেখেছিল সম্মোহিতের মতো অপলক চোখে ও সেই ছবিটার দিকেই তাকিয়ে আছে।

একটু পরেই অতনু সেখান থেকে সরে গিয়ে প্রদর্শনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে কি সব বিষয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেছিল। সেসব কথার মধ্যে প্রথমে অনুনয়-বিনয় পরে তর্কাতর্কিও হয়ে ছিল। অনিল বিরক্ত বিব্রত হয়ে অতনুকে ওখান থেকে একরকম জোর করেই টেনে বার করে নিয়ে এসেছিল। বাড়িতে ফিরে অতনু ছবিটার কথা খুলে বলেছিল। হিংস্র নিষ্ঠুর দর্শন মুখের ছবিটা সিকান্দার বেগের। সিরাজউদ্দৌলাকে যে বন্দী অবস্থায় নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছিল, এই লোকটা সেই মহম্মদ বেগের একমাত্র বংশধর। সিকান্দার বেগও নৃশংস চরিত্রের মানুষ।

একবার কোনো এক চিত্রকরের সঙ্গে পরিচয় হওয়ায় ওর খুব শখ হয় নিজের ছবি আঁকাবার। সেই শখের ফল বড়ই ভয়ঙ্কর হয়েছিল। ছবি শেষ হয়ে যাবার পর সিকান্দার বেগ তার ছবি দেখে এতই ক্ষুদ্ধ হয়েছিল যে সেই চিত্রকরকে হত্যা করেছিল। সেই ছবিখানা নষ্ট করার আগেই সিকান্দার বেগ নিজেও খুন হয়ে যায়। কে যে তাকে খুন করেছিল তা জানা যায়নি। সেই ছবিখানাই এত বছর বাদে বিবর্ণ হয়ে, অনেক হাত বদল হয়ে শেষ পর্যন্ত এই এগজিবিশনে
এসে পৌছেছে।

ছবিটা দেখার পর থেকেই সেটাকে নতুন করে আকবার একটা ভয়ঙ্কর ইচ্ছা অতনুর মনে। কর্মকর্তার কাছ থেকে বেশ মোটা টাকা দিয়ে ছবিটা কিনতেও চেয়েছিল অতনু। প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। তখন অতনু তাকে একটা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দিন পাঁচ-সাতের জন্যে ছবিটাকে ভাড়া করতে চেয়েছিল নিজে আঁকবার জন্যে। কিন্তু তার এ প্রস্তাবও তৎক্ষণাৎ নাকচ হয়ে যায়। ভদ্রলোক কেন যে এমন করলেন সে বিষয়ে ওকে কিছু বলেননি।

পৃথিবীতে এত সুন্দর বিষয়বস্তু, এত জ্ঞানীগুণী মানুষ থাকতে অতনু যে কেন ওই খুনে লোকটার ছবিটার জন্যে পাগল হয়ে উঠেছিল, কে জানে? একেই বলে বাতিক। সেই অনুক্ষণে ছবিটাই আজ এখানে! অনিল এবার প্রশ্ন করুল, ছবিটা তুই কেমন করে পেলি?

আমি ওটা চুরি করেছি। কেমন করে চুরি করেছি নাইবা শুনলি। তারপরই সোজ এখানে পালিয়ে এসেছি। কলকাতায় থাকলে পাছে ধরা পড়ি।

ভেবেছিলাম ছবিটার ডিটেল ওয়ার্কগুলো শেষ করে ওটা আবার যথাস্থানে রেখে আসব। কিন্তু তুই শুনলে অবাক হবি ছবিটা দিনের বেলা আঁকছি আর রাত্রে রোজ এসে কে ওটাকে ছিড়ে নষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছে! আজ বুঝেছি কে অমন করে ছবিটা নষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছিল। অবাক অনিল বলল, কাল রাতে কে এসেছিল ঘরে? সিকান্দার বেগের আত্মা!

অনিলের বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। অতনুর হাত ধরে ও অনুরোধ করল, অতনু, প্লিজ, তুই ওই ছবি আঁকা বন্ধ কর। এত সহজে অতনু রায় হার মানবে না। অতনু উত্তেজিত হয়ে বলল, আমি বুঝেছি, যে আর্টিস্ট সিকান্দার বেগের ওই পোট্রেটটা একে ছিলেন তিনি ওর স্বভাব চরিত্র ওর প্রকৃতি যথাযথ ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। আমি পারব। ওর রক্তলোলুপ খুনি স্বভাব আমি ওর মুখের প্রত্যেকটি রেখায় ফুটিয়ে তুলবই।

-না অতনু না। তোকে আমি একাজ করতে দেব না। তুই তো জানিস, যিনি ওর ওই পোট্রেটটা এঁকেছিলেন, তার কি দশা হয়েছিল। হাসল অতনু, একজন জীবন্ত মানুষ যা করতে পারে, অশরীরীর পক্ষে তা করা একেবারেই অসম্ভব। আমার কাজ পন্ড করে ও আমাকে বারে বারে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু ও অতনু রায়কে চেনে না। ওর ছবি আমি আঁকবই। শুধু তুই, যদি মাত্র দু-তিনটে দিন আমার কাছে থাকিস।

সারাটা দিন অতনু তার ছবি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে রইল। অনেকটা কাজ এগিয়েও গেল। অনিল আসার পর থেকেই ওর মনটা ভালো, তাই বেশ দ্রুত গতিতেই প্রাথমিক কাজগুলো শেষ হল। সারাটা দিন একটানা কাজ করে ও যখন উঠল, তখন ক্যানভাসের বুকে সিকান্দার বেগের চেহারার আদল স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। চোখ দুটো জ্বলন্ত। মুখের রেখায়, নাকের পাশের ভাজে ভাজে, ভুরুর ভঙ্গিতে আর পুরু ঠোটের কুটিলতায় এমনই একটা হিংস্র ভাব ফুটে উঠল যে বেশিক্ষণ আর ওই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না।

অন্য ক’দিনের মতো বিরজু ন টা বাজতে না বাজতেই ওদের রাতের খানা খাইয়ে বাড়ি চলে গেল। দরজা জানলা বন্ধ করে শুতে যাবার আগে সদ্য আঁকা ছবিখানা ইজেল থেকে খুলে অতনু অনিলের বিছানার তলায় লুকিয়ে রেখে দিল। অনিল অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে দেখে। হেসে বলল, তোর ওপর তো সিকান্দার বেগের রাগ নেই। তোকে তাই সন্দেহই করবে না। তাই এখানে রাখলাম।

কিন্তু ও যদি আসল ছবিখানা নষ্ট করে দেয় ? তাহলে?

-তা কখনো করবে না। ক’দিন ধরেই দেখছি তো। নিজের আসল ছবিখানা যেমনই হোক, ও সেটা স্পর্শও করে না।

ভীষণ ভয়েই অনিল কি যেন বলতে গেল..তাকে থামিয়ে অতনু বলল, তোর কোনো ভয় নেই। যতই হোক ও তো রক্তমাংসের কোনো জীব নয়। একটা অশরীরী ছায়া মাত্র। অনিল কাপা গলায় বলল, ফালাফালা করে যে ছবিটাকে ছিড়ে ফেলতে পারে, তাকে কি ঠিক ছায়া শরীর বলা যায় অতনু ?

সেদিন রাত্রেও সেই অশরীরীর উপস্থিতি টের পেল ওরা। টের পেল, সে সারা ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কী যেন খুঁজছে কিন্তু খুজে পাচ্ছে না। দুজনে মড়ার মতো কম্বলমুড়ি দিয়ে পড়ে থাকল। কিছুক্ষণ পর বোধহয় ব্যর্থ হয়েই সেই প্ৰেতাত্মা হলঘর ছেড়ে উধাও হয়ে গেল। ওরা দুজনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচল। আনন্দে অধীর হয়ে অতনু বলল, দেখলি তো, যা বলেছিলাম। বোধহয় ও আর আমাদের জালাবে না।

অনিল বিরক্ত হয়ে জবাব দিল, ওসব জানি না। তোকে কিন্তু আমি আর মাত্র দুটো দিন সময় দিচ্ছি।

তারপর দু’দিন দু’রাত কেটে গেছে। এই দু’রাতেই সিকান্দার বেগের প্রেতাত্মা এসে এদিক-ওদিক হাতড়ে গেছে।

আজকের রাতটাই ওদের শেষ রাত। ক’দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে অতনু সিকান্দার বেগের যে ছবি ক্যানভাসের বুকে ফুটিয়ে তুলেছে সত্যি বলতে কি, সেই ছবির দিকে তাকিয়ে অনিল খুব অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিল। অতনু দারুণ উল্লসিত। কোন দেশের কোন চিত্রশিল্পী, কোন কোন খুনি ঘাতক জল্লাদের ছবি এঁকেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ অনিলকে শুনিয়ে দিল।

শোবার আগে অতনু সযত্নে ছবিখানা নিজের বিছানার মাথার কাছে রাখল। অবাক অনিল জিজ্ঞাসা করল, ব্যাপার কী, ছবিটা আজ তোর বিছানার কাছে রাখছিস ?

-তুই যে ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিস, তাই। অতনুর কথায় অনিল স্বস্তি পেল। সত্যিই ছবিটার দিকে আর তাকানো যাচ্ছে না। রাতের প্রথম প্রহর বেশ শান্তিতেই কাটল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক ক্রমশ নিস্তব্ধ হয়ে এল। হঠাৎ , খনখন শব্দে অনিলের ঘুম ভেঙে গেল। তাকিয়ে দেখল, লণ্ঠনটা নিভে গেছে।

ঘর অন্ধকার। দরজায় ধাক্কাধাকির শব্দের সঙ্গে একটা ঝাপটাঝাটির শব্দও ওর কানে এসে পৌছল। ‘অতনু…অতনু,.’ অনিল চিৎকার করে অতনুকে ডাকতে চেষ্টা করল। কিন্তু ওর গলা দিয়ে একটা আর্ত গোঙানি ছাড়া কোনো শব্দই বের হল না। পরক্ষণেই অতনুর আর্তনাদে বন্ধ ঘরের সীমা ছাড়িয়ে, বাইরের জোৎস্না প্লাবিত অরণ্য প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ল।

ভয়ে আতঙ্কে বিছানার ওপর উঠে বসল অনিল। প্রাণপণ শক্তিতে চেঁচিয়ে উঠল, অতনু, বন্ধ দরজাটা হঠাৎ খুলে গেল। এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে অনিলের সর্বাঙ্গে ঝাপটা মারতেই ও প্রাণভয়ে মরিয়া হয়ে লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। আতঙ্কে-ভয়ে খোলা দরজা দিয়ে প্রাণপণে ছুটতে লাগল।

বিরজু আশেপাশের বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে অচেতন অনিলকে বার করে যখন বাড়ি পৌছল, তখন ভোর হতে আর দেরি নেই। খোলা দরজা দিয়ে হলঘরের ভেতরে ঢুকে সবাই থমকে দাড়িয়ে পড়ল।

সারা ঘর লণ্ডভণ্ড। যেন প্ৰচণ্ড একটা ঝড় বয়ে গেছে। মেঝের ওপর ভাঙা ফ্রেমের চূর্ণবিচূর্ণ কাঠামোটা পড়ে। অতনুর আঁক৷ সিকান্দার বেগের সেই জিঘাংসু রক্তলোলুপ ছবিটা ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘরময় উড়ছে।

মেঝের একধারে লুটিয়ে পড়ে আছে অতনু। ও বোধহয় ওর সৃষ্টিকে বাচাবার শেষ চেষ্টা করেছিল! পারেনি!

ওর হাতের মুঠোর ভেতর ধরা সিকান্দার বেগের সেই আসল ছবিটা দোমড়ানো, মোচড়ানো। সেটাও অক্ষত নেই।

সম্বিং ফিরে পেয়ে অতনু বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকাল অনিলের মুখের দিকে। তারপর ক্লান্ত গলায় বলল, সিকান্দার বেগ তার ছোরা হাতে নিয়েই এসেছিল। ও চায় না ওর ছবি কেউ আকুক। আমিও আর আঁকতে পারব না রে।

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত