ভূতের কবলে

ভূতের কবলে

আমি তখন চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৩য় বর্ষে পড়ছি। পোস্টমর্টেমে কি কি করতে হয় সে বিষয়ে পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার একটা ফোন আসে-বড় কাকা ভীষণ অসুস্থ।আমি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ি।
সন্ধ্যায় রুমমেটকে বলে আমি বাড়ির উদ্দেশে বেড়িয়ে আমার বাড়ি রাজবাড়ি চট্রগ্রাম থেকে অনেক দূরে।রাজবাড়ি শহরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। আমার বাড়ি ছিল শহর থেকে দক্ষিণদিকে ৫০ মাইল দূরে।সেদিন রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। অত রাতে কোন ভ্যান না পাওয়ায় হেঁটেই রওনা দিই। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখলামআমার বাবা একটা গাছের নিচে বসে আছে। আমি বাবাকে দেখে ডাক দিলাম। বাবা আমাকে কিছু বলার আগেই বলল, আমি জানতাম তুমি আসবেই।তাই তোমাকে নিতে আসলাম। বাবা একটা ছাতি দিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে লাগলেন। রাস্তায় আমরা খুব বেশি কথা বলিনি। কেবল, কেমন দিন যাচ্ছে, পড়ালেখার কি অবস্থা, বাড়ির পরিস্থিতি কেমন এগুলা নিয়েই কথা হচ্ছিল। বাড়ির খুব কাছেই আমরা পৌঁছে গেছি। ততঃক্ষণে বৃষ্টি অনেকটাই থেমে গেছে। বাবা আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলল,এগুলো আমার সব জমির দলিল। তোমার কাছে রাখো। আমি একটু কাদের দোকানির বাড়ি থেকে তারাবাতি নিয়ে আসি। আমি বাবাকে জিজ্ঞাস করলাম, এসব কি? দলিল কেন? আর এত রাতে বৃষ্টিতে তুমি দলিল নিয়ে বের হয়েছো। বাড়িতে গেলেই দিতে পারতে। কাদের চাচার বাড়িতে…।বাবা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, আমি যা বলছি তাই কর। তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। তোমার এখন তোমার মার কাছে থাকা দরকার। 

আমি বাড়ি এসে দেখি বড় চাচা সুস্থ্য আছেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার বাবার মারা যাওয়ার কথা বললে তুমি ভেঙ্গে পড়তে।তাই বলি নি। একটু পড়ে মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, সব শেষ হয়ে গেছে, বাবা। তোর বাপ যে আর নেই। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। এতক্ষণ কি হল তাহলে আমার সাথে। বড় কাকা এসে বললেন, সোলেমান(আমার বাবা) মারা যাবার আগে তোমার সাথে খুব কথা বলতে চেয়েছিল। আমি সেদিন পরিস্থিতি ভেবে কাউকে কিছু বলিনি।
পরের দিন সকালে বড় কাকাকে সব ঘটনা খুলে বলি। তিনি আমাকে পাশের গ্রামে এক ফকিরের কাছে নিয়ে যান।আমি জানতে চাচ্ছিলাম সেটা কি বাবার আত্মা ছিল নাকি কোন ভূত? তিনি সব ঘটনা শুনে আমাকে ও বড় কাকাকে নিয়ে সেই রাস্তায় যেতে চাইলেন।আমি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ভূতেরা যখন মানুষের সাথে হাঁটে তখন তাদের পায়ের ছাপ থাকে না। সম্পূর্ণ পা বিহীন অবস্থায় হাঁটাচলা করে। আমরা সেই রাস্তায় যেয়ে দেখলাম সত্যিই কাঁদাতে কেবল আমার পায়ের ছাপটাই আছে! আমার পাশে আর কোনো পায়ের ছাপ নাই! 

আমি বিশ্বাস করি নি। কারণ কাঁদা শুকিয়ে পায়ের ছাপও হয়ত মিলিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ফকির বাবা আরও বলেন, ভূতেরা কিছু উপহার দিলে তা চোখের পলকে উদাও হয়ে যায়। তিনি আমাকে বাবার দেওয়া দলিল দেখাতে বলল। আমিও অবাক হয়ে যাই, সত্যিই তো দলিল কোথায়? আমি অনেক ভেবেও দলিলটি কোথাও পেলাম না।
বড় কাকা বাড়িতে এসে আলমারি থেকে দলিল বের করে আমাকে দেখালেন।
সায়েন্স এর ছাত্র হওয়াতে আমি অবশ্য ভূতে বিশ্বাস করি না।কিন্তু সেদিনের ঘটনার পর কেমন জানি আমি ভূতে ভয় করা শুরু করেছি। এমন কি পোস্টমর্টেম করার সময়ও ভয় পাই!

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত