ফেসবুক থেকে বউ

ফেসবুক থেকে বউ

আমাদের সম্পর্ক হয় ফেসবুৃকে। মেয়েটির নাম মৌসুমী। সবচেয়ে বড় ফ্যাক্ট হলো মৌসুমী কখনোই আমাকে কে তার ফটো দেয়নি। মৌসুমীর ভয়েচ টাও ছিলো অসাধারণ এবং খুবই সুইট যা শুনলে যে কোনো ছেলে এমনিতেই প্রেমে হাবুডুবু খাবে। আমার ও তাই হলো। এভাবেই চলতে লাগলো আমার ও মৌসুমীর প্রেম। রাতে ফেসবুক চ্যাটিং আর দিনে একটু একটু কথা কথা বলেই যাচ্ছিলো আমাদের দিন। আমি বহুবার মৌসুমীর একটা ফটো দেখার জন্য অনেক রিকুয়েস্ট করি কিন্তু সে একটাই কথা সে কখনো কাউকে তার ফটো দিবেনা। কারন, মৌসুমী এমন একটা ছেলেকে চায় যে তার দেহকে নয়, মনকে ভালোবাসবে। যে তার চেহারাকে নয়, শুধুই তাকেই ভালোবাসবে হঠাৎ আমার ফোনে না পেয়ে মৌসুমী তো রেগে আগুন। আমি ফোনটা হাতে নিতেই দেখি মৌসুমীর ফোন। সাথে সাথেই কল ব্যাক করলাম

আমিঃ হ্যালো,, ডক্তর ম্যাডাম

মৌসুমীঃ কি ব্যাপার? কই ছিলা তুমি? আমি এতগুলা কল দিলাম আর তোমার এখন খবর হলো?

আমিঃ সরি জানপাখি, একটু বাহিরে গেছিলাম। ফোন বাসায় রেখে গেছিলাম তাই ধরতে পারিনি।

মৌসুমীঃ হু হইছে আর বলতে হইবোনা। আর শুনো প্রত্যেকদিন সিটি কলেজ ছুটি হওয়ার আগে তুমি বাইরে যাও কেনো? কারন কি? আমায় রেখে অন্য কারো উপর নজর দিচ্ছো না তো?????

আমিঃ আরে নাহ…. কি যে বলো????????

মৌসুমী ঃ দেখো কিন্তু আমায় রেখে অন্য কারো উপর নজর দিলে খুন করবো তোমায়। বলে দিলাম কিন্তু। তুমি শুধু আমার, আমার হয়ে থাকবা হুম।

আমিঃ আমি তোমার আছি, তোমারি থাকবো।

মৌসুমীঃ হুম মনে থাকে যেনো। বাই পরে কথা বলবো।

এই বলে ফোন রেখে দিলো। মেয়েটা ইতিমধ্যে আমার উপর অন্যরকম একটা অধিকার খাটাতে শিখে গেছে। এভাবে একটু একটু খুনসুটি আর ভালো লাগা মিশ্রিত ঝগড়াঝাঁটির মধ্যদিয়ে আমাদের রিলেশনের প্রায় ৬ মাস কেটে গেলো। আমারা সিদ্ধান্ত নিলাম যেদিন আমাদের রিলেশনের ১ বছর পূর্ণ হবে সেদিন একে অপরের সাথে দেখা করবো। ওকে নিয়ে ভাবনার শেষ নেই , না জানি মৌসুমী দেখতে কেমন? যদিও আমার প্রোফাইলে আমার ফটো ছিলো বাট মৌসুমীর প্রোফাইলে তার কোনো ফটো ছিলোনা। সে কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসে? নাকি শুধু টাইম পাস করে যাচ্ছে? আর আমিই কি সত্যিই কে ভালোবাসি? আর এসব ভেবে ভেবে বার বার ভ্যাবাচ্যাকা খাচ্ছি। অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম যে আমি সত্যিই মৌসুমীকে ভালোবাসি নয়তো কেন মৌসুমীর একটি ম্যাসেজের আশায় আমি বারবার ইনবক্স চেক করবো? কেন একটি কলের আশায় অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবো? মৌসুমী আমার সাথে কথা না বলে একটা দিন ও থাকতে পারে না। যেদিন আমার সাথে কথা না হয় সেদিন যেনো মৌসুমীর পুরো দিনটাই মাটি হয়ে যায়। অপরদিকে আমার ও তাই। একদিন আমি ফোন দিতে পারেনি মৌসুমীকে মৌসুমীর তো চিন্তার কোনো শেষ নেই ছেলেটার কি হলো। আসলে ওইদিন ম্যাস এ বিদ্যুৎ সমস্যা থাকায় ফোন চার্জ দিতে পারেনি। ফোন চালু করতে না করতেই মৌসুমীর ফোনঃ কই ছিলা তুমি?

আমিঃ এইতো ম্যাস…

মৌসুমীঃ ফোন দাওনি ক্যানো?

আমিঃ বিদ্যুৎ ছিলোনা আজ তাই।

মৌসুমীঃ খেয়েছো?

আমিঃ না এখনো খাইনি!!

মৌসুমীঃ তন্ময়ের বাচ্ছা আমি তোমাকে মেরেই ফেলবো। এত্ত অনিয়ম ক্যান তোমার?

আমিঃ এইতো বাবা যাচ্ছি। আর শুনো তুমি চলে আসো। তাহলে আর অনিয়ত হবেনা।

মৌসুমীঃ হুম আমি তো আসবোই, তা না হলে তোমাকে সোঝা করবে কে!!

আমিঃ একটা পাপ্পি দাওনা পাখি।

মৌসুমীঃ না খালি পেটে ওসব খেতে নেই, বদহজম হবে। আগে খেয়ে নাও পরে সব পাবা। আমি রাখলাম খাওয়া শেষ হলে ফোন দিবা আমাকে। আমার এবং মৌসুমীর রিলেশন এক বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র ২ মাস বাকি। এ নিয়ে আমার আনন্দের কোনো শেষ নেই। রাতে ফোন দিলাম মৌসুমী কে….

আমিঃ ওই কি করছো? ঘুমিয়ে গেলা নাকি?

মৌসুমী ঃ ওই ছেলে, এখন তোমার ফোন দেওয়ার ইচ্ছে হলো? তোমার ফোনের অপেক্ষা করতে করতে আমার চোখে তো ঘুম চলে আসছে।

আমিঃ সরি জানপাখি।

মৌসুমীঃ নাহ সরিতে হবেনা। আমি উনার জন্য অপেক্ষা করতে করতে অজ্ঞান। আর উনি আইছে সরি বলতে।

আমিঃ তো কিসে হবে?

মৌসুমীঃ পাপ্পি দাও।

আমিঃ উম্মাহ।

মৌসুমীঃ একটা তে হবেনা, যতক্ষন পর্যন্ত আমার চোখ থেকে ঘুম যাবেনা ততক্ষন পর্যন্ত তোমার দিয়েই যেতে যেতে হবে।

আমিঃ অনেক তো দিলাম। আর কত দিবো? এবার তুমি দাও।

মৌসুমীঃ লাইনে থাকো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

অতঃপর আসলো…..

আমি ঃ আচ্ছা তুমি কি খেতে ভালোবাসো?

মৌসুমীঃ ফুসকা ইত্যাদি।

আমিঃ আচ্ছা তাই?

মৌসুমীঃ আচ্ছা তুমি প্রথম দেখাতে আমার কাছে কি চাইবে?

আমিঃ বেশি কিছুনা। শুধু একটু লিপস্টিক।

মৌসুমীঃ মানে কি? লিপস্টিক দিয়া কি করবা?

আমিঃ লিপস্টিক খাবো।

মৌসুমীঃ ব্যাপার না আমার ব্যাগে অনেক প্রকার লিপস্টিক থাকে যে টা ইচ্ছে করে খেও।

আমিঃ ওয়াক!! ওয়াক!! এইভাবে কেউ লিপস্টিক খায় নাকি?

মৌসুমীঃ ওহ এইবার বুঝছি। খাচ্চোর ছেলে এ তো কিছু থাকতে তোমার লিপস্টিক খাওয়ার ইচ্ছে হলো কেন?

আমিঃ আরো অনেক কিছু খেতে ইচ্ছে করে…

মৌসুমীঃ যেমন?

আমিঃ তোমার…. খাবো।

মৌসুমীঃ যাহ দুষ্ট। লজ্জা সরমের মাথা খেয়েছো নাকি? মুখে কোনো কথাই আটকায় না দেখছি। দিন দিন আরো ফাজিল হয়ে যাচ্ছ আমি শুধু হাসছি কিছু বলছিনা….

মৌসুমীঃ বিয়ের পর কি চাও?

আমিঃ একটু লিপস্টিক। লিপস্টিক খাবো।

মৌসুমীঃ খাটাস ছেলে, খালি লিপস্টিক আর লিপস্টিক। আমিও দেখবো তুমি কত্ত লিপস্টিক খেতে পারো?

আমিঃ তুমি কি চাও বলো?

মৌসুমীঃ আমি শুধু তোমাকে চাই। জানো আমার না খুব ভয় হয়।

আমিঃ কিসের ভয়?

মৌসুমীঃ তোমাকে হারানোর ভয়।

আমিঃ আমিতো আছি তোমার সঙ্গে।

মৌসুমীঃ তবুও ভয় হয়। কখনো ছেড়ে যাবা না তো আমায়?

আমিঃ আরে পাগলি ভয় নেই। আমি কক্ষনো তোমাকে ছেড়ে যাবোনা। মৌসুমী এবং আমার রিলেশন ১ বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। কিন্তু আজ থেকে হঠাৎ করেই মৌসুমীর মোবাইল অফ। কারন কি? মেয়েটার কোনো কিছু হলো না তো। মৌসুমীর কন্টাক্ট নাম্বার ছাড়া যোগাযোগ করার মত আর কিছুই ছিলোনা আমার কাছে। তবুও বারবার ট্রাই করে যাচ্ছি বাট কিছুতেই কিছু হলোনা বারবার শুধু বন্ধ ই পাচ্ছি। এদিকে আমার বাবা তার বন্ধুর মেয়ের সাথে তার বিয়ের কথা পাকাপাকি করে রেখেছে। মেয়ের নাম রিনি তার বাবা মার একমাত্র মেয়ে। রিনির বাবা একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সি ইউ। আমি ও আমার বাবা মার একমাত্র সন্তান।

বিয়ের ব্যাপারে রিনির মত জানতে চাইলে বলে সে রাজি। এদিকে আমার কথা আর কি বলবো, বাবার সম্মানের কথা ভেবে রাজি না হওয়া সত্বেও রাজি হতে হলো। এঙ্গেজমেন্টের দিন আমি একদমি মনমরা হয়ে আছি। ওদিকে রিনি খুব হাসি খুশি এবং প্রফুল্ল। আমার চোখে রিনির চোখ পড়তেই মেয়েটা দুষ্ট একটা হাসি দিয়ে বার বার মুখ ফিরিয়ে নেয়। মহা আনন্দ আর আমার মেঘলা মন নিয়ে শেষ হয়ে গেলো রিনি এবং আমার এঙ্গেজমেন্ট। আজ আমার বিয়ে। অপরদিকে মৌসুমীর সাথে সম্পর্কের একবছর ও পূর্ন হলো আজ। কাল রাত অবধি আমি মৌসুমীর ফোনে কয়েকশ বার ফোন দিয়েছি বাট একটি বারের জন্য ও মৌসুমীকে পেলাম না। জীবনের প্রথমার কোনো মেয়ের প্রেমে পড়লাম। তাকে দেখার আগের মেয়েটি এভাবেই হারিয়ে যাবে ভাবতেও পারেনি। সত্যিই আজ মৌসুমীর জন্য আমার বুকটা হাহাকার করছে। আর চিৎকার করে বলছি মৌসুমী অনেক ভালোবাসি তোমায়। শুধু একটি বার দেখা দাও।

আমি তোমাকে কক্ষনো হারাতে দিবোনা। বরযাত্রী যাওয়ার আগেও আমি কয়েকবার মৌসুমীর ফোনে ট্রাই করলাম বাট কিছুতেই কোনো কিছু হলো না ফোন বন্ধই বলছে। এদিকে মহা ধুমধাম করে রিনিএবং আমার বিয়ের বিয়ের আয়োজন শুরু হলো। সবাই আনন্দিত। হাসিখুশি এবং বেশ প্রফুল্ল। একমাত্র আমার মনের আকাশটাই আজ মেঘলা হয়ে আছে। সে মেঘগুলো নিমিষেই দূর করার জন্য মৌসুমীর হাতের একটু স্পর্শই যথেষ্ট। ওদিকে রিনির আনন্দের তো কোনো শেষ নেই। ও বেশ প্রফুল্ল। গোমরা মুখে বসে আছি। এই অবস্থা দেখে রিনির হাসি যেনো আরো উপচে পড়ছে। ও মুখভরা হাসি নিয়ে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে আমার দিকে আর আমার চোখে চোখ পড়তেই দুষ্ট একটা হাসি নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মেয়েটার এই দুষ্টামি দেখে রাগে আরো ফেটে যাচ্ছিল ইচ্ছে হচ্ছিলো, মেয়েটাকে কষিয়ে ২ টা থাপ্পড় মেরে বাড়ি চলে আসতে। কিন্তু না।।

আমার মনে হলো এতো সুন্দরী একটা মেয়েকে কি করে আঘাত করি? ওর রুপের কাছে তো নিমিষেই তুচ্ছ হয়ে যাবে আমার হাজার বছরের জমানো রাগগুলো। ও যদি একটি বারের জন্য বলতো ও ই আমার মৌসুমী। তাহলে আমি হতাম পৃথিবীর সর্বোচ্চ সুখী মানুষ। বাসর রাতে পাশাপাশি বসে আছি। কারো মুখে নেই কোনো কথা।আমার মুখে নেই এক চিলতে হাসি। মনমরা হয়ে বসে আছে রিনির পাশে। বাহিরে মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিলো। রিনি যেই আমাকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি উঠে চলে গেলাম বারান্দায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগলাম আর মৌসুমীকে ভাবতে লাগলাম। এমনি এক বৃষ্টিময় রাতে হাই হ্যালো দিতে গিয়ে মৌসুমীর সাথে পরিচয়। কিন্তু সেই মৌসুমী আজ কোথায়? সে কি আজ শুনতে পাচ্ছে আমার মনের ভেতর তার জন্য যে বজ্রপাত হচ্ছে? এসব ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল বৃষ্টির পানিতে ঝড়ে পড়লো। কিন্তু বৃষ্টির বড় বড় ফোটার কাছে ছোট ছোট ফোটার চোখের জল নিমিষেই হারিয়ে গেলো। শুধু ভিজে আছে চোখের দুটি কোন।

হঠাৎ আমার চোখে কারো হাতের স্পর্শ পায়। কিন্তু অন্দকারে কাউকেই দেখা যাচ্ছিলোনা। তবে অনুভব করলাম যে এটা নববিবাহিত স্ত্রী রিনি আর কেউ না। রিনি চোখ দুটো তার আলতো হাতে মুচে দিয়ে বললো অনেক হয়েছে আর নয়। এবার রুমে চলো, অনেকপ্রকার লিপস্টিক আছে যত ইচ্ছে খাবে। আজ দেখবো তুমি আমার কত্ত লিপস্টিক খেতে পারো? রিনির কথাশুনে কিছু না বলেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু বুঝে উঠার আগেই রিনি তার মোবাইলের ডিসপ্লে টা আমার মুখোমুখি করে ধরলো। আর বললো দেখোতো এই ফেসবুক আইডি টা চেনো কিনা????? আমি অভাক হয়ে তাকিয়ে আছি রিনি ফোনের স্কিনে!! কি ব্যাপার এটাতো মৌসুমীর ফেসবুক আইডি। পরক্ষনেই রিনিকে কাছেটেনে জড়িয়ে ধরে বল্লাম তার মানে তুমিই মৌসুমী?

মৌসুমীঃ হুম, আমিই মৌসুমী। মৌসুমী ইসলাম রিনি। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে তাকিয়ে আছি পরক্ষনেই মৌসুমী বললো এই মিঃতন্ময় কি দেখছেন এভাবে বৃষ্টি শেষ হয়ে গেছে, এবার রুমে চলেন। আমার লিপস্টিক খাবেন না?? আজ দেখবো আপনি কত্ত লিপস্টিক খেতে পারেন…..

আমিঃ শুধু কি লিপস্টিক খেলেই পেট ভরবে?

মৌসুমীঃ তো আর কি কি খেতে ইচ্ছে করে শুনি?

আমিঃ …..

মৌসুমীঃ যাহ দুষ্ট!! আমার কি লজ্জা লাগবেনা? (বাকিটা ইতিহাস )

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত