পাপ্পু ভাইয়ের পাসপোর্ট

পাপ্পু ভাইয়ের পাসপোর্ট

পর্ব এক

পাপ্পু ভাই। আমাদের সবার প্রিয় পাপ্পু ভাই। যিনি ইহজীবনেও দিল্লি না গিয়ে অতি সম্প্রতি দিল্লিকা লাড্ডু খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আপাতত সেই লাড্ডু খেয়ে তিনি বেশ মৌজেই আছেন। তার লাড্ডু খেয়ে পস্তাপস্তির ব্যাপারটা এখনো প্রকাশ্য হয়নি।

পর্ব দুই

বিয়ের পর তিন মাস হয়ে গেলেও এখনো বউয়ের চেহারায় কেমন যেন এক ধরনের বিষণ্নতার দেখা পান পাপ্পু ভাই। তিনি ভাবলেন, ‘এ যুগের মেয়ে বলে কথা। হয়তো হানিমুনে কোথাও নিয়ে যাইনি বলে মনে গোস্বা নিয়ে আছে।’ এই ভাবনা থেকেই তিনি ঠিক করলেন যেনতেন জায়গায় নয়, হানিমুনে একেবারে ভালোবাসার নগরী প্যারিসই যাবেন প্রিয়তম বউকে নিয়ে।

প্রবল উত্তেজনা নিয়ে বউয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। একটু ইতস্তত করছেন। বউ কি রাজি হবে? আর হানিমুন ব্যাপারটা এমন যে, এটা অন্য কাউকে দিয়েও পূরণ করা যায় না! অথবা একা একাও হয় না!

পাপ্পু ভাইয়ের হাবভাব তার বউ তেমন একটা খেয়াল করলেন না। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘ফ্যারিছা যাইতে মন চায়। নিয়া যাবা তুমি আমারে?’

পাপ্পু ভাই একটু ধাক্কা খেলেন যেন। এ কেমনে সম্ভব! যেই বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছেন, সেটাই কিনা তার বউয়ের মুখে! তবে, বউয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা হলেও সন্দেহ দানা বাঁধল তার অন্তরে। হয়তো কোনো কোনো অঞ্চলের মানুষ ‘প’ কে ‘ফ’ বলে ফেলে, কিন্তু শব্দের শেষে আস্ত একটা ‘আ-কার’ও লাগায় বলে তো শোনা যায়নি!

তবুও হানিমুনের ব্যাপার-স্যাপার বলে কথা। চেপে গেলেন তিনি।

বউ আবারও বিড়বিড় করে বললেন, ‘কত্ত দিন ফ্যারিস্যা যাই না…’

পাপ্পু ভাই আদিখ্যেতা দেখিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ বউ, আমিও ভাবছিলাম প্যারিস যাব দুজনে। তার আগে দুজনের পাসপোর্ট করাতে হবে যে।’

‘পাসপোর্ট আবার কী জন্য?’

‘প্যারিস যেতে পাসপোর্ট লাগে, বউ।’

‘কই? এত বছরে কত কতবার গেলুম। কখনো তো পাসপোর্ট-ফাসপোর্ট এসবের কিছুই লাগল না।’

পাপ্পু ভাই ভাবলেন, বউ বোধহয় অনেক আগ থেকেই ঠিক করে রেখেছে, বিয়ের পর বরকে নিয়ে হানিমুনে প্যারিস যাবে। তাই স্বপ্নে বহুবার প্যারিস ঘুরে এসেছে!

তিনি হাসি হাসি মুখ করে বললেন, ‘এতদিন পাসপোর্ট ছাড়া যেতে পারলেও এখন আর পাসপোর্ট যাওয়া যাবে না বউ। পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। তুমি চিন্তা করবা না, আমি অচিরেই পাসপোর্ট করানোর ব্যবস্থা করছি।’

২.

পাপ্পু ভাই হিন্দি ‘জড়ুয়া-টু’ মুভিটা কয়েকবার দেখেছেন। সেখানে ‘পাপ্পু-পাসপোর্ট’ চরিত্রটা তার বেশ ভালো লেগেছে। ‘ইসস, পাপ্পু-পাসপোর্টকে যদি এ দেশেও পাওয়া যেত!’ পাপ্পু ভাই মনে মনে আফসোস করলেন। পারলে গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে কালই প্যারিসের বিমানে চেপে বসেন তিনি! কিন্তু এখানে সেখানে কয়েকটা দিন দৌড়ানোর পরই ভুল ভাঙল তার। গলাকাটা পাসপোর্টের যুগ শেষ। এখন আর হাতে লেখা পাসপোর্টও করা হয় না। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের যুগ চলছে। পাসপোর্ট পেতে তাই পাপ্পু ভাইয়ের হানিমুনের অপেক্ষা আরও বাড়ল।

৩.

পাপ্পু ভাইয়ের পাসপোর্ট রেডি। মোবাইলে মেসেজ পাওয়ার পর থেকে তার আর তর সইছে না। সাত সকালে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সবার আগে পাসপোর্ট সংগ্রহ করলেন। নিজের গুরুত্ব বাড়াতে একটা স্ট্যাটাসও দিয়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে, ‘আমার কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই। আমার পাসপোর্ট একটাই।’

পাপ্পু ভাইয়ের শশুর বাড়ি থেকে অনেক লোকজন এসেছেন। পাপ্পু ভাই বেশ খুশি মনেই কোনো রাখঢাক না রেখে তাদের কাছে তার প্যারিসে হানিমুনের ব্যাপারটা চাউর করছেন। সবার সঙ্গে আড্ডাটাড্ডা দিয়ে তিনি ফেসবুকে ঢোকামাত্রই টাসকি খেলেন যেন। তার স্ট্যাটাসের বিপরীতে মানুষের কত কত আক্রমণাত্মক কথাবার্তা!

একজন লিখেছে, ‘ভাই, চামচামি ছাড়েন। আর কতকাল!’

আরেকজন লিখেছে, ‘হেঃ হেঃ তিনি আর আপনে কী এক হলেন!’

অন্য আরেকজন লিখেছে, ‘ভাই, তিনারটা কোন দেশি আর আপনারটা কোন দেশি?’

পাপ্পু ভাই শত চেষ্টা করেও এই ‘তিনি’র রহস্য উন্মোচন করতে পারলেন না।

এক অদ্ভুত খচখচানি নিয়েই তিনি ব্যবসায়িক কাজে পাশের উপজেলায় গেলেন। ফিরলেন পরদিন। কিন্তু ফেরার পথে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে তার বিস্ময়ের কমতি রইল না। একদল তাকে দেখে মুখ লুকাল। আরেকদল তাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। যারা এত রাখঢাক পছন্দ করে না, তারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে লাগল—

‘ভাই, আপনার পাসপোর্ট এখন অন্যের কাছে কেন?’

‘পাপ্পু ভাই, কী ব্যাপার, পাসপোর্ট আপনার, সেই পাসপোর্টে বিদেশ যায় আরেকজন!’

‘একটা পাসপোর্টও আগলাইয়া রাখতে পারেন না মিয়া! জমা দেওয়ার কী দরকার ছিল!’

‘পাপ্পুরে, তোর চোখের সামনে দিয়া এমনি কইরা বিমান উড়াল দিলো! কী করলিরে তুই!’

একটু সিনিয়র গোছের দু-একজন বলল, ‘পাপ্পু, চিন্তা করিস না। তোরে আমরা এর চাইতেও ভালো পাসপোর্ট এনে দিমু। মন খারাপ করিস না।’

পাপ্পু ভাই শুধু কথাগুলো শুনেই গেলেন। ব্যাখ্যা পেলেন না কোনো। অবশ্য ব্যাখ্যা পেলেন বাড়িতে এসে।

তার অতি আদরের বউ ঘরে নেই। পুরাই হাওয়া!

পাপ্পু ভাই পাগলের মতো এদিক সেদিক খোঁজ লাগালেন। কিন্তু বউয়ের কোনো খোঁজই যে আর মিলে না!

সন্দেহ বাতিকরা বলতে শুরু করল, ‘পাপ্পু, তোর বউয়ের আগে এক প্রেমিক ছিল। তোদের বাসায় সেদিন যে একপাল মেহমান এসেছিল, তাদের মধ্যে সেও ছিল। তোর বউ তার সাথেই ভেগেছে!’

পাপ্পু ভাই অবশ্য এসব কান কথায় কান দিলেন না। ‘গুজবকে চেপে বসতে দেওয়া যাবে না।’ পাপ্পু ভাই নিজেকে বুঝ দিলেন। তার নিজের সঙ্গে যেহেতু এখনো কানটা রয়েছে, তাই মনে কিছুটা হলেও বিশ্বাস রইল, ‘বউ আমার লগে প্যারিস না গিয়া অন্য কোথাও যাইতেই পারে না। এত কষ্ট করে পাসপোর্ট করালাম…’

সেদিন বিকেলে পাপ্পু ভাইয়ের কাছে এক অচেনা নম্বর থেকে কল এলো। রিসিভ করা মাত্রই ওপাশ থেকে শোনা গেল, ‘ওগো, আমি বলছি।’

পাপ্পু ভাই একটু থমকে গেলেন। সেই সঙ্গে আশান্বিতও হয়ে উঠলেন, ‘যাক, তাহলে আর হানিমুন মিস হচ্ছে না। পাসপোর্ট করানোটা জলে যাবে না!’

‘এই শোনো…’ পাপ্পু ভাইয়ের প্রত্যুত্তরের আগেই ওপাশ থেকে শোনা গেল, ‘আমি না আমার পুরাতন প্রেমিকের লগে পালাইয়া আসছি। আমরা এহন ফ্যারিস্যা নগর আছি। জানোই তো এখানেই ওদের বাড়ি। আমি ভালা আছি। তুমি কুনু চিন্তা করো না, কেমন।’

পাপ্পু ভাই কী বলবেন ভেবে পেলেন না। বোধহয় প্যারিসে যাওয়ার পরে খোদ আইফেল টাওয়ারটা তার মাথার উপরে ভেঙে পড়লেও তিনি এতটা অবাক হতেন না।

ওপাশ থেকে আবারও তার প্রিয়তম স্ত্রীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘তুমি চাইলে মাঝে-মইধ্যে এই নম্বরে ফোন দিয়া আমার খোঁজখবর নিতে পারবে। এটা আমার প্রেমিকের নম্বর। তুমি ফোন করলে ও তুমাকে আমার হালহকিকত সম্পর্কে জানাবে।’

‘আচ্ছা।’ এতক্ষণে পাপ্পু ভাইয়ের মুখে কথা ফুটল।

‘আর শোনো, আমি না ভুলে তোমার পাসপোর্টটাও নিয়ে এসেছি!’

‘আমার পাসপোর্ট!’

‘আরে হ্যাঁ। আর বলবা না। এত তাড়াহুড়োর মধ্যে কি আর মাথা ঠিক থাকে। মাঝপথে এসে দেহি আমারটার সাথে তুমারটাও চইল্যা আসছে। প্রথমে ভাবছিলাম, তোমার পাসপোর্টটায় ওর মাথা কাইট্যা লাগাইয়া দিয়া বিয়ের পরে ও আর আমি হানিমুন করতে প্যারিসে চইল্যা যামু। তোমার মুখে শহরটার কথা এত এতবার শুনছি… দেখার বড্ড কৌতূহল জাগছে…। কিন্তু, তুমিই না একদিন কইছিলা, এখন আর মাথাকাটা পাসপোর্টের চল নাই। ওর জন্য তাই কষ্ট কইর্যা একখান নতুন পাসপোর্ট করাইতেই হবে দেখছি। আর, ওই পাসপোর্টটা তো তুমার কুনু কাজেই লাগছে না, তাই এখানে আসার পথে ওটাকে একটা জলায় ফেলে দিয়েছি। আচ্ছা ভালো থেকো। বাই।’

৬.

ফোনে ‘সদ্য সাবেক’ বউয়ের কথাবার্তা শুনে পাপ্পু ভাই পাক্কা তিন মিনিট স্ট্যাচু হয়ে রইলেন। তারপর মুহূর্তের মধ্যেই করণীয় ঠিক করে ফেললেন। এই মুহূর্তে তার কাজ ঠিক দুটি।

এক. ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেওয়া।

দুই. থানায় গিয়ে ডায়েরি করে আসা।

ভাবনা মোতাবেক প্রথমে পাপ্পু ভাই ফেসবুকে ঢুকে লিখলেন, ‘অবশেষে, আমি আমার ওয়ান অ্যান্ড অনলি পাসপোর্ট খানাও অ্যাম্বাসিতে জমা দিয়ে দিলাম। এখন আর আমার কোনো পাসপোর্ট নাই।’

থানায় ঢোকার আগে কী জানি মনে করে পাপ্পু ভাই ফেসবুকে একটিবার ঢু মারলেন। আর অমনি যেন তার আঁতকে ওঠার পালা। চারিদিক থেকে মুহুর্মুহু কমেন্টের আক্রমণ।

‘পাপ্পু, ভালো হইয়া যা। একজন অনাগরিকের সাথে তুই কেন নিজেরে তুলনা দিস। নেতা হইবার মুঞ্চায়, না?’

‘পাপ্পুরে, শেষ পর্যন্ত তোরও পলাতক হইবার খায়েস জাগছে!’

এক ছোটভাই লিখল, ‘পাপ্পু ভাই আপনি কি ইউরোপের কোনো দেশে গিয়ে সেটেলড হওয়ার কথা ভাবছেন? তয় ভাই লন্ডনে যাইয়েন না। প্যারিস যাইতে পারেন।’

আরেকজন লিখছে, ‘ভাই, জলদি আরেকখান পাসপোর্ট করায়া নেন। শিগগিরই আপনার ওটার দরকার হইতে পারে!’

৭.

মুখ কালা করে পাপ্পু ভাই থানায় ঢুকলেন। এতক্ষণে তার গত দুদিনের ‘পাসপোর্ট’ প্রসঙ্গে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বোধগম্য হলো।

‘কী চাই?’ হঠাত্ পাপ্পু ভাইকে চমকে দিয়ে থানার পঞ্চান্ন বছর বয়সী রাশভারী টাইপ দারোগা জিজ্ঞেস করলেন।

‘ইয়ে মানে…’ কিছুটা দ্বিধা নিয়েও পাপ্পু ভাই তার বউয়ের ব্যাপারটা দারোগার কাছে খুলে বললেন।

সব শুনে দারোগা মশাই বললেন, ‘তা এখন আমাকে কী করতে বলছেন? আপনার পাসপোর্ট কিংবা বউ, কোনাটাই যেহেতু হারায়নি, তাই ওগুলো উদ্ধার করাও আমার কাজ নয়।’

‘কী যে করব সেটাই তো বুঝতে পারছি না…।’ পাপ্পু ভাই আবারও দ্বিধাগ্রস্ত।

‘শোনেন মিয়া…’ পান চিবুতে চিবুতে থানার দারোগা সাহেব বললেন, ‘এমনিতেই বউ নিয়া আমি নিজেই বহুত পেরেশানিতে আছি…’

‘আপনিও পেরেশানিতে…?’ এবারে পাপ্পু ভাইয়ের গোমরা মুখ কিছুটা উজ্জ্বল হলো।

‘আর বলবেন না। আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নতুন একটা করাতে দিয়েছি। কিন্তু বউ আমাকে সেই সময় দিলো না। আমার পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই সে একাই দিলো ফুড়ুত!’

‘ভেগে গেছে?’

‘কী বললেন?’ দারোগা মশাই গর্জে উঠলেন যেন।

‘না মানে… তিনি কি একাই হানিমুনে চলে গেছেন?’

‘ওই মিয়া একা একা কি হানিমুন হয়?’ দারোগা মশাই আরও ক্ষেপলেন।

‘ইয়ে মানে… স্যরি স্যার।’ পাপ্পু ভাই ততক্ষণে মিনে বিড়াল।

‘কিসের স্যরি!’ ক্ষেপতে গিয়েও কেন জানি হঠাত্ দারোগা মশাই তার মেজাজ ফিরে পেলেন। খোশ মেজাজে বললেন, ‘আচ্ছা শোনেন—আমাকে দেখে কি সত্যিই মনে হয়?’

‘কী মনে হয়?’ পাপ্পু ভাই এই কথাটা বলতে গিয়েও চুপ করে রইলেন।

দারোগা মশাই পাপ্পু ভাইয়ের প্রত্যুত্তরের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই গদগদ হয়ে বলতে লাগলেন, ‘এখনো আমার হানিমুন করার বয়স আছে? কী আশ্চর্য! আমি তো ভেবেছিলাম এই বয়সে হানিমুনে গেলে পাবলিক না পাগল ঠাউরে বসে! আপনি এসে ভালোই করেছেন। আমি আজই ছুটির দরখাস্ত করব। পারলে কালই ছুটে যাব প্যারিস…!’

‘প্যারিস!’ পাপ্পু ভাই চমকে উঠলেন যেন।

‘হ্যাঁ। আপনার ভাবি তো এখন প্যারিসেই। একটু আগেই না সে আইফেল টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে একটা ছবি দিলো।’ নিজের টেকো মাথায় একটিবার হাত বুলিয়ে ফের বললেন, ‘এক মিনিট, দাঁড়ান, এখনি ওকে একটা মেসেজ দিয়ে দিচ্ছি—হাই জানু, আমি কালই প্যারিস…’

দারোগার বিড়বিড় করে বলা বাকি কথাগুলো পাপ্পু ভাইয়ের আর শোনার ইচ্ছা হলো না। তিনি থানা থেকে বেরিয়ে এলেন। মনে মনে সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেললেন, আবারও পাসপোর্ট করাবেন তিনি। যে করেই হোক পাসপোর্টের সদ্ব্যবহার করতে হবে তাকে। প্রয়োজনে একাই যাবেন তিনি প্যারিসে!

গল্পের বিষয়:
হাস্যরস

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত